Home গল্প যুলকিফুলের স্বপ্নগুলো তমসুর হোসেন

যুলকিফুলের স্বপ্নগুলো তমসুর হোসেন

ঘুমের মধ্যে যুলকিফুল যে স্বপ্ন দেখে তা হুবহু ফলে যায়। একটুও এদিক ওদিক হয় না। একদিন সে স্বপ্নে তাদের কুত্তাটাকে অ্যাকসিডেন্টে মরে যেতে দেখল। রাস্তায় ছোটাছুটি করছিল কুত্তাটা। এমন সময় একটা দ্রুতগামী কার ওকে পিষে দিয়ে চলে গেল। ব্যথায় ছটফট করে মরে গেল চকড়া নামের কুত্তাটা। সারাদিন সে ক্ষেতের পশু তাড়ায়। রাতে সুপারির বাগান পাহারা দেয়। ওর চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি করা কারও সাধ্য ছিল না। সেই চকড়াকে মরে যেতে দেখে খুব কষ্ট পেল যুলকিফুল। সকালে জেগে সে মাকে অবাক করে দিয়ে বলল,
“মা, চকড়াকে বেঁধে রাখা যায় না?”
“ওকে বেঁধে রাখলে ক্ষেতের পশু তাড়াবে কে। কে পাহারা দেবে অত বড়ো সুপারির বাগান?”
“বাগানে বেঁধে রাখলে তো হয়। চোর দেখলে ও শব্দ করবে।”
“চোর যখন বুঝবে কুকুরটা বন্দি। তখন ওরা যা করার করবে। সুপারির বাদা একটাও গাছে রাখবে না। ”
“ও মরে গেলে কে পাহারা দেবে বাগান। স্বপ্নে দেখলাম ও গাড়িচাপায় মরে গেল।”
“মানুষ স্বপ্নে কত কিছু দেখে। সব কি ফলে যায়। ওসব নিয়ে মাথা খারাপ কর না।”

মা যুলকিফুলের কথা মাথায় নিল না। বাবাকেও বলল না ওর স্বপ্নের কথা। বাবা শুনলে চকড়াকে যে বেঁধে রাখত না এ বিষয়ে যুলকিফুল সুনিশ্চিত। তিন দিনের মধ্যে চকড়া মরে গেল গাড়ির তলায় চাপা পড়ে। ও মরে যাওয়ায় বাবা খুব চিন্তিত হলো। ওকে কুড়িয়ে এনে বাবা বড়ো করে তুলেছে। বাবার সব নির্দেশ ও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। অনেক বড়ো সুপারির বাগানটার ভেতর সারারাত ও দাপিয়ে বেড়ায়। কখনও সে ক্লান্ত হয় না। তন্দ্রা তার দেহে জড়তা ঢালে না। মেশিনের মতো নিরলস সে। বাবাকে সাহায্য করার এমন বিশ^স্ত আর অনুগত কেউ নেই। ওর শোকে বাবা গোসল আহার বাদ দিল। থমথমে শোক নেমে এল বাড়িতে। বাবার এ দশা দেখে মায়ের আফসোসের অন্ত থাকল না। কেন সে যুলকিফুলের কথা গুরুত্ব দিল না এই নিয়ে মা কান্না করতে লাগল। সবাই জেনে গেল বিষয়টা। বাবাও জেনে গেল। কিন্তু তখন করার কিছুই ছিল না।

এবার স্বপ্নের কথা মাকে না বলে বাবাকে বলল যুলকিফুল। মায়ের অবহেলায় চকড়াকে হারাতে হয়েছে। বাবার বিমর্ষ ছবি ওকে কষ্ট দিয়েছে। বাগানের অনেক ক্ষতি হয়েছে এবার। বাজারে সুপারির খুব দাম। বাগানের পরিচর্যায় বাবা অনেক টাকা খরচ করেছে। এবার লাভ হয়নি বাগানে। সুযোগ পেয়ে চোরেরা অনেক সুপারি পেড়ে নিয়ে গেছে। সেজন্য সে বাবাকে বলল, তোমার সাথে কথা বলব বাবা।
“কি কথা বলবে বাপ। বল, আমি মন দিয়ে শুনছি।”
“দক্ষিণের ঘরের পেছনের কাঁঠাল গাছটা দ্রুত কেটে ফেল।”
“এটা কী কথা বলছ সোনা। ওটার ফল যে মিষ্টি। তোমার দাদির হাতে লাগানো গাছ। অনেক পুরনো ফলদার গাছ ওটা।”
“ওসব ভেবে কাজ নেই। ওর শেকড় পচে গেছে। বাতাসে পড়ে যাবে যে কোন সময়।”
“তুমি কেমন করে বুঝলে? গাছটা তো ভালোই আছে।”
“স্বপ্নে দেখেছি ওটা আচমকা পড়ে গিয়ে ঘরটা চুরমার করে দিল।”
“এতদিনের পুরনো গাছ। লোকে বলে ফলের গাছ কাটতে নেই। দেখি কী করা যায়। তোমার দাদি বলেছে ওটাতে যেন সহজে হাত না দেই।”
“দেরি করবে না বাবা। করাতি ডাকলে সব পরিষ্কার হবে তোমার কাছে।”

যুলকিফুলের কথা গুরুত্ব দিলেন বাবা। কুকুরের বিষয়ে ওকে অবহেলা করায় সংসারে বেশ সমস্যা হয়েছে। এবার দেখা যাক ছেলের কথা মতো কাজ করে কী লাভ হয়। করাতিরা গাছ কেটে অবাক হয়ে গেল। সব শেকড় ভেতরে ভেতরে মরে গেছে। অতবড়ো গাছ কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল ভাবলে মাথা বিগড়ে যায়। এই ঘটনায় যুলকিফুল স্বপ্নের মাধ্যমে যে অনেক কিছু জানতে পারে এ কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।

এক বছর বৃষ্টির কারণে আবাদ ভালো হলো না। যুলকিফুলের বাবা উন্নত জাতের ধান লাগানোর জন্য অন্যদের চেয়ে ফলন বেশি হলো। ধান মাড়াইয়ের পর যুলকিফুল বাবাকে বলল কিছু ধান রেখে বাকিটা বিক্রি করে দিতে। সে বাবাকে বুঝালো এবার দেশে আকাল হবে। যার কারণে আইনশৃঙ্খলার দারুণ অবনতি হবে। ক্ষুধার্ত মানুষ জীবন বাঁচানোর তাকিদে দলবেঁধে গৃহস্থের গোলা থেকে ধান লুট করবে। গোলায় ধান না থাকলে তারা কী লুট করবে। যুলকিফুলের কথা অনুযায়ী বাবা ধান বিক্রি করে টাকা ব্যাংকে রাখল। বাকি ধান চাল করে গোপনে লুকিয়ে রাখল মাটির নিচে। কয়েক মাস পর আকাল শুরু হয়ে গেল। বাজারে প্রচুর চালের সঙ্কট দেখা দিলো। বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে জনগণের চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিলো। শুরু হলো গোলযোগ। দলে দলে মানুষ প্রকাশ্য দিবালোকে লুটতরাজ করা আরম্ভ করল। যুলকিফুলের বুদ্ধিমত্তা দেখে হতবাক হলো ওর বাবা। কী করে সে এতকিছুর খবর পায় স্বপ্নের মাধ্যমে- এসব কথা সবাই আলোচনা করতে লাগল।

যুলকিফুল একদিন নানুর বাড়ি বেড়াতে গেল মায়ের সাথে। নদীর ধারে বিশাল এক মাঠের কাছে নানুর বাড়ি। সেই মাঠে ফলেছে নানান রকমের ফসল। সারাদিন নানু কিষাণের সাথে ফসলের যত্ন করে। যুলকিফুলের সাথে কথা বলার একটুও সময় পায় না। ওর কত সাধ নানুর কাছে মজার মজার গল্প শুনবে। বিকেলে গাঁয়ের বাজারে যাবে নানুর হাত ধরে। কিন্তু তার সে সাধ পূরণ হয় না। মাঠ থেকে পরিশ্রান্ত হয়ে এসে নানু কখন বাজারে যায় যুলকিফুল টেরই পায় না। অনেক রাতে নানু বাজার থেকে সবজি বিক্রি করে এসে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ে। যুলকিফুলের একটা মামা আছে। সে সারাদিন মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়ায়। বই নিয়ে স্কুলে যায় না। বাবাকেও মাঠের কাজে সাহায্য করে না। মামা অনেক বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে। একটু খাবার পেটে গেলে মামা লাপাত্তা হয়ে যায়। বিষয়টা যুলকিফুলের কাছে খুব খারাপ লাগল। সকালে নানু খেতে বসেছে। যুলকিফুল তার কাছে গিয়ে বসল। ওকে দেখে নানু প্রশ্ন করল,
“কেমন আছ যুলকিফুল? এসো ভাত খাই।”
“তুমি খাও। আমি পরে খাব। তার চেয়ে বলো আমি কদিন থেকে আছি তোমার বাড়িতে?”
“কদিন। ঠিক মনে নেই। ধর চার কি পাঁচদিন।”
“আজ জিজ্ঞেস করছ কেমন আছি। এতদিন কী করেছ?”
“ভাবলাম আছো ত। কথা বলার দিন কি শেষ হয়ে গেল?”
“আমি তো আজই বাড়ি চলে যাব। সে সুযোগ তুমি আর পাবে না।”
“কী আজব কথা বলছ। অনেক দিনে এসেছ ঘুরে বেড়াও। সবার সাথে পরিচয় হও। তারপর যাবে।”
“কোথায় ঘুরব। আর কার সাথে পরিচয় হব। আমার সব জানা হয়ে গেছে।”
“বেশত কথা বলা শিখেছ?”
“নানু এসব বাদ দাও। এই জমি থাকবে না। নদী সব গিলে খাবে। শহরে একটু জমি কেন। ছেলেটা পান বিক্রি করে খাবে।”
“কী বলছ। এই সোনার জমি বিক্রি করব?”
“না করো ভালো। একদিন মাথায় হাত দিয়ে কাঁদবে। ওই নদীটা তোমার সর্বনাশ করবে।”
যুলকিফুলের কথা শুনে নানু বেশ ভাবনায় পড়ে গেল। সে শুনেছে যুলকিফুল যা বলে তা একদিন ফলে যায়। বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে যে নদীটা বয়ে যাচ্ছে তার ক্ষতি সম্পর্কে সে কোনদিন চিন্তা করেনি। অতটুকু বালক এত বাস্তব বিষয় নিয়ে সুচিন্তিত কথা বলে কী করে। মাঠে না গিয়ে নানু যুলকিফুলকে নিয়ে নদীর পাড়ে যায়। নানু-নাতি নদীর পাড় ধরে হাঁটে। পাড়ের একটা গাছের তলে বসে নানু বলে,
“নানুভাই, এখানে বসে গল্প করি।”
“আমারও মন চাইছে পাড়ে বসে নদীর ঢেউ দেখতে। এত সুন্দর নদী অথচ বর্ষাকালে কত ভয়ঙ্কর হয়।”
“শহরে জমি কেনার কথা কী যেন বললে। অমন করে কেন বললে! নদী কি বাড়িঘর ভেঙে নেবে?”
“বেশিদিন লাগবে না। এখনই সাবধান হয়ে যাও। আমার কথা মন দিয়ে শোন।”
“নদীর পাশের জমি কেউ ভালো দাম দিতে চায় না।”
“ভেঙে গেলে সেটুকুও তো পাবে না। তখন কী করবে?”
“সেই কথা ভাবছি। বিষয়টা আমি আগেও ভেবেছি। তোমার কথায় আমার হুঁশ হলো।”
“বাড়িটা রেখে সব জমি বিক্রি করে দাও। যারা কিনবে তারাও ঠকবে। তবে কিছু জমি জেগে উঠবে বছর কয়েকের মধ্যে।”
“তখন না হয় আবাদ করে পুষিয়ে নেব। জমিগুলো থাক না। বাবার সম্পত্তি বিক্রি করতে খারাপ লাগে।”
“তোমার ছেলের ব্যবসায় সুমতি হবে। চাষে ওর মন বসবে না। বাজারের পাশে জমি কিনে মুদির দোকান দাও। দেখবে ভাগ্য বদলে যাবে। বুড়ো বয়সে দোকানে বসে সময় কাটাবে।”

নানু বুঝতে পারল যুলকিফুলের কথায় যুক্তি আছে। নদীর পাড়ের জমির প্রতি বছর একটা না একটা সমস্যায় ফসলের ক্ষতি হয়। আর যদি নদীতে সব জমি চলে যায় তাহলে মাথায় হাত দিয়ে বসতে হবে। বাচ্চা ছেলে হলে কী হবে ওর কথা প্রবীণ লোকের মতো বাস্তব। কিছু জমি বিক্রি করে নানু শহরের লাগে ভাগে একটা বাজারের পাশে জমি কিনল। যাতে বাড়িও হবে ব্যবসাও করা যাবে। জমি কেনার পর বাউণ্ডুলে ছেলেটাকে একটা দোকান ধরিয়ে দিল নানু। দোকান পেয়ে ছেলেটার খুশির অন্ত থাকল না। সামান্য তহবিল নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও অল্পদিনের মধ্যে সে নড়বড়ে দোকানটাকে মালমাত্তা দিয়ে ভরপুর করে তুলল। তা দেখে নানু খুশিতে আটখানা হয়ে গেল। ওই দিকে নদীটা বাগাড় দিয়ে নানুর অনেক জমি নষ্ট করে ফেলল। নানুর বাড়িটা নদীর পেটে চলে গেলে সে সবাইকে নিয়ে শহরে চলে গেল।

এবার আষাঢ়ের শুরুতে আকাশে ঘন মেঘের সমাগম দেখা দিলো। দমকা বাতাসে ভেজা হাওয়ার ঝাপটা আসতে লাগল। এমন আবহাওয়ায় রাতে স্বপ্ন দেখল যুলকিফুল। সে দেখল অবিরাম ভারী বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। গাঁয়ের পাশের নামমাত্র নদীটা প্রবল স্রােতে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। হাহাকার পড়ে গেছে সারাটা গ্রামে। কোথাও একটু শুকনো জায়গা নেই যে মানুষ সেখানে দাঁড়াবে। চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি, গাছপালা এবং খাদ্যশস্য। একখানা নৌকা নেই যা দিয়ে উদ্ধার করা যায় জীবন ও সম্পদ। ঘুম ভেঙে গেলে যুলকিফুল গভীর চিন্তায় ডুবে গেল। ওকে চিন্তিত হয়ে বসে থাকতে দেখে মা জিজ্ঞেস করল-
“কী ভাবছ যুলকিফুল। শরীর খারাপ নাকি তোমার।”
“না মা। একটা কথা ভেবে আমার খুব চিন্তা হচ্ছে।”
“কী কথা বলত আমি শুনি।”
“আব্বুকেও ডাকো। দু’জনে শুনবে কথাটা।”
“আমাকে বললে হয় না। তোমার আব্বুকেও লাগবে?”
“খুব জরুরি কথা। তুমি আব্বুকেও ডাকো।”

আব্বু এলে স্বপ্নের কথা খুলে বলল যুলকিফুল। এবার যে মারাত্মক বন্যা হবে তার আভাস সে পেয়েছে। সব শুনে আব্বু অনেক চিন্তায় পড়ল। মন ভারি করে আব্বু বলল-
“বন্যা হলে আমার কী করার আছে। সবার যা হবে আমারও তাই হবে।”
“না আব্বু। এবারে অনেক বড়ো বন্যা হবে। সেজন্য সতর্ক হতে হবে সবাইকে। বড়ো বড়ো নৌকা তৈরি করতে হবে যাতে লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। সবাইকে ডেকে পরামর্শ করতে হবে। বেশি সময় হাতে নেই। এবার আকাশ আগাম নামবে। বৃষ্টি শুরু হলে আর থামবে না। তখন করার কিছু থাকবে না। যা ব্যবস্থা তা এখনই গ্রহণ করতে হবে। তুমি একটা জরুরি পরামর্শ সভার ব্যবস্থা করো।”

যুলকিফুলের স্বপ্নের কথা সবাইকে বলল আব্বু। রাতে ওদের আঙিনায় গ্রামের লোকেরা এ বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য জমায়েত হলো। এলাকার গণ্যমান্য লোকেরাও উপস্থিত হলো সেখানে। অনেক আলোচনা শেষে দশখানা নৌকা তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। প্রতিটি মহল্লায় একটি করে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের পাশাপাশি একটি জরুরি তহবিল গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হলো।
আষাঢ়ের শেষে অবিশ্রাম বৃষ্টিপাত শুরু হলো। থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে গেল চারদিক। পানি দেখে যুলকিফুলের ব্যস্ততা শুরু হলো। স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে নৌকায় চড়ে সে এলাকার খোঁজখবর নিতে লাগল। গ্রামের লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সে তৎপর হয়ে উঠল। দিনরাত পরিশ্রম করে বিপদ আসার আগেই সে সব কাজ গুছিয়ে ফেলল। সবার মনে আনন্দ আর ধরে না। যুলকিফুলের কথায় বিশ্বাস রেখে একজোট হয়ে কাজ করে তারা শঙ্কামুক্ত হওয়ায় মাবুদকে ধন্যবাদ জানাল। এই ঘটনা সম্পর্কে পত্রিকায় খবর বেরুল। তা দেখে প্রশাসনের লোকজন এলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। তারা একটি ছোট্ট ছেলের স্বপ্নের মাধ্যমে আগাম জানার ক্ষমতা দেখে তাজ্জব হলো।

SHARE

Leave a Reply