Home নিবন্ধ শিশুসাহিত্য বিকাশে শিশু-কিশোর পত্রিকা -সাকী মাহবুব

শিশুসাহিত্য বিকাশে শিশু-কিশোর পত্রিকা -সাকী মাহবুব

জন্মের পর থেকেই একটি শিশু বিস্ময়ভরা ডাগর চোখে পৃথিবীর চারদিকে দৃষ্টিপাত করে। চারদিকের আলো, ছায়া, পাখির কলকাকলি, মানুষ, বিচিত্র প্রাণিজগত প্রতিটি বস্তুর দিকে শিশু কৌতূহলভরা দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। সব কিছুর অর্থ ও রহস্য সে উদঘাটন করতে চায়। এ রকম একটি সংবেদনশীল পর্যায়ে শিশুর সুষম বিকাশে শিশুপত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণেই শিশুপত্রিকা প্রকাশের ব্রতী হয়েছেন অনেক সচেতন মানুষ। শিশুপ্রেমিক অনেক ব্যক্তিদের পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিশুপত্রিকার অগ্রগতি ও উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছেন।

শিশুসাহিত্য কী? শিশুসাহিত্যের সংজ্ঞা নিয়ে নানাজন নানা রকম অভিমত প্রদান করেছেন। তাদের অধিকাংশই ছোটদের জন্য লেখা সাহিত্যকে ‘শিশুসাহিত্য’ নামে অভিহিত করেছেন।
ড. মহুয়া ভট্টাচার্য গোস্বামীর মতে, যে সমস্ত লেখা পড়ে শিশু ও কিশোররা আনন্দ পায়, জাগতিক শিক্ষা পায় এবং মানসিক পরিপূর্ণতা লাভ করে, তা সামগ্রিকভাবে শিশুকিশোর সাহিত্য সংজ্ঞায় নিরূপিত হতে পারে।
বাংলা পিডিয়া অনলাইন সংস্করণের তথ্য মতে, শিশুসাহিত্য হলো শিশুদের উপযোগী সাহিত্য।
সাধারণত ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মনস্তত্ত্ব বিবেচনায় রেখে এ সাহিত্য রচনা করা হয়। এই বয়স সীমার ছেলেমেয়েদের শিক্ষামূলক অথচ মনোরঞ্জক গল্প, ছড়া, কবিতা, উপন্যাস ইত্যাদিকেই সাধারণভাবে শিশুসাহিত্য বলে।
কেউ কেউ বলেছেন, সাহিত্যের যে অংশ বা শাখা শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য রচিত সেটাই শিশুসাহিত্য।
আবার অনেকেই বলেন, সহজ সরল ভাষায় হাস্যরস ও অনুভূতি প্রকাশের জন্য শিশুদের নিয়ে যে সাহিত্য রচিত হয় সাধারণত তাকে বলা হয় শিশুসাহিত্য।
কেউবা শিশুদের জন্যে রচিত সমুদয় সাহিত্যকে শিশুসাহিত্য বলে অভিহিত করেছেন।
শিশুসাহিত্য গবেষকদের নানা মতকে আমরা যদি বিশ্লেষণ করি, তাহলে এই ধারণায় উপনীত হওয়া যায় যে, শিশুসাহিত্য হলো ছোটদের এক রঙিন জগৎ। তাদের মনে বিশুদ্ধ আনন্দরস সঞ্চারের জন্য যে সাহিত্য রচনা করা হয়। যে রচনা পড়ে ছোটরা মজা পায়, আনন্দ পায়, পরিতৃপ্ত হয়। তাকে তারা সহজেই অন্তর দিয়ে গ্রহণ করে নেয়।
শিশুসাহিত্য বিকাশে
শিশুপত্রিকা

শিশুসাহিত্য বিকাশে শিশুপত্রিকার ভূমিকা সম্পর্কে বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক শরীফ আবদুল গোফরান তার ‘আধুনিক বাংলা শিশুসাহিত্যের বিকাশ ও মুসলিম লেখকদের ভূমিকা’ প্রবন্ধে যে জ্ঞানগর্ভ মন্তব্য করেছেন গভীর শ্রদ্ধার সাথে তা পাঠকদের সম্মুখে কিঞ্চিৎ তুলে ধরতে চাই।’ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজকের বাংলাদেশ পর্যন্ত অজস্র শিশুপত্রিকার প্রকাশ ঘটেছে। আর এসব পত্রিকাকে কেন্দ্র করে বাঙালি মুসলমানদের সংস্কৃতি বিকাশে শিশুসাহিত্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। সেকালে হিন্দুদের সম্পাদিত পত্রিকায় মুসলিম লেখকদের রচনা প্রকাশ ছিল খুবই সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত। স্বকীয় চিন্তা-ভাবনার কথা স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করার কোন উপায় ছিল না সে পত্রিকায়। ফলে মুসলিম লেখকরা নিজেদের মনমতো পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনার প্রয়োজন প্রকটভাবে অনুভব করেন। আর এরই ফলে সেকালে হিন্দু শিশুপত্রিকার পাশাপাশি মুসলিম সম্পাদিত কয়েকটি সুন্দর মনোলোভা চিত্তাকর্ষক যুগোপযোগী শিশুপত্রিকা ও পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই প্রথম শিশুসাহিত্য সৃষ্টির পথপরিক্রমা শুরু হয়। মুসলমান লেখক-লেখিকাবৃন্দ যেসব মুসলিম শিশুপত্রিকার পৃষ্ঠায় সেকালে শিশুসাহিত্য সৃষ্টির সুযোগ লাভ করেন তাদের মধ্যে একে ফজলুল হক সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘বালক’ (১৯০১) ‘মাসিক উৎসাহ’ (১৯১৩), ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘আঙুর’ (১৯২০), শাখাওয়াত হোসেন সম্পাদিত মাসিক ‘মকতব’ (১৯২৭), আফজাল উল হক সম্পাদিত ‘জমজম’ (১৯৩০), মোহাম্মাদ নাসির উদ্দীন সম্পাদিত ‘শিশু সওগাত’ একই বছর ওহাব সিদ্দিকীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘গুলবাগিচা’। মুহাম্মদ শফীউল্লাহ সম্পাদিত ‘ফুলঝুরি’ (১৯৩৮), ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয় ‘প্রভাতী’, সম্পাদক ছিলেন মৌলভী রজীউর রহমান (পরে শাহেদ আলী), একই বছর এমাদউদ্দীন আহমদের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘মাসিক সবুজ পতাকা’ প্রভৃতি।
১৯৪৭ সাল থেকে অর্থাৎ পাকিস্তান রাষ্ট্রগঠনের পর মুসলিম শিশুসাহিত্যের আকাশে কালোমেঘের ঘনঘটা অনেকটা কেটে যায়। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে অসংখ্য শিশুপত্রিকার প্রকাশ ঘটে। এ পত্রিকাগুলোর সারিতে পাওয়া যায় ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত ‘মাসিক প্রতিভা’, ‘মাসিক বিদ্যুৎ’, ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত ‘মাসিক মুকুল’, ‘মাসিক ঝংকার’, ‘মাসিক মিনার’, ‘মাসিক আজান’, ‘পাক্ষিক নতুন আলো’। ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয় মাসিক ‘দ্যুতি’, ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয় মাসিক ‘হুল্লোড়’, ১৯৫২ সালে ‘মাসিক সবুজ নিশান’, ১৯৫৪ সালে ‘মাসিক শাহীন’, ‘পাক্ষিক সেতারা’, ১৯৫৬ সালে ‘মাসিক বর্ণালী’, ‘মাসিক কিশোর সাহিত্য’ ১৯৫৭ সালে ‘মাসিক সবুজ সেনা’, ১৯৫৯ সালে ‘পাক্ষিক কিশলয়’, ১৯৬০ সালে ‘ষাণ¥াসিক ফুলকি’, ১৯৬৪ সালে ‘মাসিক নবারুণ’ (সিলেট), ‘মাসিক সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’, ‘মাসিক টরেটক্কা’, ১৯৬৫ সালে ‘দ্বিমাসিক পূরবী’, ‘মাসিক কচি ও কাঁচা’, ‘মাসিক বিজ্ঞানের জয়যাত্রা’, ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘টাপুরটুপুর’, ১৯৬৭ সালে ত্রৈমাসিক ‘জ্ঞান বিজ্ঞান’, ১৯৭০ সালে ‘মাসিক নবারুণ’, ‘মাসিক কিচির মিচির’, ‘মাসিক কলকণ্ঠ’, ‘মাসিক সাম্পান’ প্রভৃতি পত্রিকা।
ক্যালেন্ডারের পাতায় তখন ১৯৭১ সাল। আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। পাকিস্তানের কলোনি হতে সবেমাত্র মুক্ত হয়েছি। নতুন দেশ, নতুন স্বপ্নে আমাদের শিশুসাহিত্যও সৃষ্টি সুখের উল্লাসে আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যায়। নতুন সাজে, নতুন আঙিকে শিশুসাহিত্যের প্রতিটি শাখা সজীবতায় ভরে ওঠে। বাঁধভাঙা ঢেউয়ের মতো শিশুসাহিত্য ছড়িয়ে পড়ে শহর, বন্দর, নগরে। ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের প্রতিটি প্রান্তে প্রান্তে। শিশুপত্রিকার জোয়ার সৃষ্টি হয়। এসব পত্রিকার মধ্য উল্লেখযোগ্য হলো:

নবারুণ : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা দফতর থেকে প্রকাশিত একটি সচিত্র কিশোর মাসিক পত্রিকা। পত্রিকাটি ১৯৭০ সালে যাত্রা শুরু করলেও দেশ স্বাধীনের পরে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যায়। পত্রিকাটিতে কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ ও নানাবিধ ফিচার থাকে। পত্রিকাটিতে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি বিভাগ নির্ধারিত রয়েছে। এতে শিশু-কিশোরদের রচনা প্রকাশিত হয়।

সবুজ পাতা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত একটি মাসিক পত্রিকা। শিশু-কিশোরদের মাঝে ইসলামের মৌলিক আদল ও শিক্ষা পৌঁছানো, নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সত্যিকার চেহারা তাদের কাছে তুলে ধরা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও সাহিত্যের সঙ্গে তাদের পরিচয় করানো, দেশ ও দশের প্রতি তাদের কর্তব্যবোধ জাগিয়ে তোলা, তাদের মনে আদর্শ মান্ষু হওয়ার আগ্রহ বাড়ানো এবং জ্ঞান স্পৃহার প্রতি আগ্রহী করে তোলা সবুজ পাতা পত্রিকার উদ্দেশ্য।

শিশু : বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত সচিত্র মাসিক পত্রিকা। শিশু-কিশোর লেখকদের রচনা সমৃদ্ধ ‘কচি হাতের কলম থেকে’ এই পত্রিকার একটি আকর্ষণীয় বিভাগ। গুণে মানে সমৃদ্ধ পত্রিকাটিতে অপেক্ষাকৃত অল্প বয়সের শিশুদের উপযোগী লেখা প্রকাশিত হয়ে থাকে।

ধান শালিকের দেশ : ধান শালিকের দেশ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত একটি সচিত্র শিশু-কিশোর ত্রৈমাসিক পত্রিকা। এখানে শিশু-কিশোরদের উপযোগী লেখা প্রকাশ করা হয়।

ফুলকুঁড়ি : বেসরকারি উদ্যোগে প্রকাশিত একটি সচিত্র শিশু-কিশোর মাসিক। এই পত্রিকাটি বাংলাদেশে মুসলিম শিশুসাহিত্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। ফুলকুঁড়ি একটি ব্যতিক্রমধর্মী পত্রিকা। গুণে এবং মানে এর অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। সব ধরনের লেখা এবং সব লেখকদের লেখা এ পত্রিকায় ছাপা হয়। শিশুসাহিত্য বিকাশে এখন পর্যন্ত এ পত্রিকাটি যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে।

টইটম্বুর : বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের আর্ট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিল্পী সবিহ উল আলমের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মরহুমা সেলিনা সবিহ-এর সম্পাদনায় যাত্রা শুরু করে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে।

নতুন কিশোরকণ্ঠ : খ্যাতিমান কবি ও জনপ্রিয় কথাশিল্পী মোশাররফ হোসেন খানের সম্পাদনায় প্রকাশিত শিশু-কিশোরদের উপযোগী একটি নান্দনিক পত্রিকা। শিশু-কিশোরদের সাহিত্য বিকাশে এ পত্রিকাটি নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। যতটুকু জানা যায়, প্রচার সংখ্যার দিক থেকে এই পত্রিকাটি বাংলাদেশে সবার শীর্ষে। ইতোমধ্যে এ পত্রিকাটি শিশু-কিশোরদের মন কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
কিশোর পাতা : বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীর সহধর্মিণী অধ্যাপিকা চেমন আরার সম্পাদনায় প্রকাশিত শিশু-কিশোরদের উপযোগী একটি মনোরম পত্রিকা। ছড়া, কবিতা, গল্প, সায়েন্স ফিকশন, প্রবন্ধ, ধাঁধাসহ নানামুখী কিশোরদের উপযোগী লেখামালা ছাপিয়ে শিশুসাহিত্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

কিশোর জগৎ : বেসরকারি উদ্যোগে প্রকাশিত মোখতার আহমেদ সম্পাদিত একটি সচিত্র কিশোর পত্রিকা। শিশুসাহিত্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে।

শিশু কিশোর দ্বীন দুনিয়া : বন্দর নগর চট্টগ্রাম থেকে বায়তুশ শরফের পীর মাওলানা মোহাম্মাদ কুতুব উদ্দীনের পৃষ্ঠপোষকতায়, মুহাম্মদ জাফর উল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৯৮ সাল থেকে শিশু-কিশোরদের মাঝে ইসলামি তাহজিব, তমদ্দুন, কৃষ্টি কালচার জাগ্রত করার মানসে শিশু-কিশোর দ্বীন দুনিয়া প্রকাশিত হয়ে আসছে।

সায়েন্স ওয়ার্ল্ড : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক আমাদের শিশু-কিশোরদের আগ্রহ ও চর্চা যে দিনদিন বাড়ছে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ মাসিক ‘সায়েন্স ওয়ার্ল্ড’। পত্রিকাটি শিশু-কিশোরদের মাসিক পত্রিকা হিসেবে না হলেও শিশু-কিশোরদের মনের খোরাক রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের মধ্যে পত্রিকাটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

এ ছাড়াও মঈন মুরসালিন সম্পাদিত মাসিক ‘কানামাছি’, আনিসুল হক সম্পাদিত ‘কিশোর আলো’, আহমদ মতিউর রহমান সম্পাদিত ‘জিলেপি’, এমরান চৌধুরী সম্পাদিত ‘আলোর পাতা’, মুকুল আনোয়ার সম্পাদিত ‘মাসিক টুনটুনি’, ফজলুল মল্লিক সম্পাদিত ‘আজ আমাদের ছুটি’, আল জাবিরী সম্পাদিত ‘আমাদের শিশু কিশোর’ ও এখলাস উদ্দিন সম্পাদিত ‘টাপুরটুপুর’ পত্রিকাগুলো শিশুসাহিত্য বিকাশে বড় রকমের কাজ করে যাচ্ছে। অনাগত ভবিষ্যতে এ ধারা আরো ফুলে ফলে বিকশিত হবে।

শিশুসাহিত্য বিকাশে
দৈনিক পত্রিকার ভূমিকা
শিশুসাহিত্য বিকাশে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোর অবদানও কম নয়। প্রায় প্রতিটি দৈনিক পত্রিকায় শিশুদের জন্য সপ্তাহে একটি বিভাগ নির্ধারিত থাকে। এ বিভাগে শিশুতোষ রচনা, গল্প, কবিতা, ছড়া, কার্টুন, প্রকাশিত হয়। দৈনিক ইত্তেফাকে ‘কচিকাঁচার মেলা’, দৈনিক সংগ্রামে ‘নীল সবুজের ঢেউ’, প্রথম আলোতে ‘গোল্লা ছুট’, যুগান্তরে ‘আলোর নাচন’, সংবাদে ‘খেলাঘর’, দৈনিক খবরে ‘শাপলা দোয়েল’, দৈনিক ইনকিলাবে ‘সোনালী আসর’, দৈনিক জনতায় ‘কচি কণ্ঠের আসর’, দৈনিক নয়া দিগন্তে ‘আগডুম বাগডুম’ ইত্যাদি নামে দৈনিক পত্রিকাগুলোতে শিশুদের জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে। আমাদের দেশের বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের রচিত ছড়া, কবিতা, গল্প এবং শিশু- কিশোরদের রচিত লেখাও এতে যতেœর সাথে ছাপা হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, শিশুসাহিত্য বিকাশে শিশুপত্রিকার প্রকাশনার ধারা অব্যাহত রাখা ও তা আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিকসহ সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। হ্রাসকৃত মূল্যে কাগজ ও অন্যান্য প্রকাশনা সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলে এ দেশে আরো উন্নতমানের শিশুপত্রিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের মহানায়ক। দেশ গড়ার কারিগর। তাই শিশুদের সুস্থ বিকাশ ও সুষম মনের অধিকারী হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগে তারা ব্যর্থ হবে।

SHARE

Leave a Reply