Home বিজ্ঞান ও বিশ্ব গিরিখাত -মনির হোসাইন

গিরিখাত -মনির হোসাইন

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সুন্দর গিরিখাত। এটি বিখ্যাত এর সৌন্দর্য, সৃষ্টি রহস্য এবং বৈচিত্র্যের জন্য। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নামটি এসেছে ঙহমঃঁঢ়য়ধ থেকে যার অর্থ বৃহৎ গিরিপথ। আধুনিক মানুষের নজরে এটি নিয়ে আসেন ফ্রান্সিস্কো করোনাডো। ষোড়শ শতাব্দীতে। তারপর দু’জন পুরোহিত ফ্রান্সিস্কো ডোমিংয়েজ এবং ডি এস্কালান্ট বিশ্বের কাছের তুলে ধরেন ১৭৭৬ সালে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের উত্তরাংশে অবস্থিত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। বিশাল এই গিরিখাত প্রায় দৈর্ঘ্যে ২৭৭ মাইল, প্রস্থে সর্বোচ্চ ১৮ মাইল এবং সর্বোচ্চ গভীরতা এক মাইলেরও অধিক।
প্রায় ২০০ শত কোটি বছরের পৃথিবীর সাক্ষী এই গিরিপথ। একে উলটো পর্বতও বলা হয় এর আকৃতি এবং গভীরতার কারণে। প্রকৃতির এক অসামান্য বিস্ময়, নান্দনিক, বৈচিত্র্যময় স্থান।

রঙবেরঙের পাহাড়, পাহাড়ে আবার বিভিন্ন পাথর স্তরের দাগ। গিরিপথের বুক চিরে বয়ে চলেছে কলোরাডো নদী। আর তার তীরে আছে ১৭০০ এর অধিক প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩০ এর বেশি প্রজাতির প্রাণী। পাহাড়, সমতল, মরু বা বরফের ছোয়া সবকিছু মিলিয়ে এই গিরিখাতটিকে সম্পূর্ণ করেছে।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নর্থ রিম এবং সাউথ রিম। নর্থ রিম দর্শনার্থীদের জন্য সবসময় খোলা থাকে। নর্থ রিম বেশি দুর্গম এবং শীতে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আবার ভৌগোলিক দিক দিয়ে নর্থ রিমের পাহাড়গুলো বেশি উঁচু গড়ে ৮০০০ ফিট। ফলে ঠান্ডাও বেশি। কিন্তু বৃষ্টিপাত দুই অংশেই লক্ষণীয়।
কীভাবে তৈরি হলো এই গিরিখাত তা নিয়ে অনেক মতবাদ আছে তবে একেবারে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো বিজ্ঞান দিতে পারেনি। প্রায় ২০০ কোটি বছরের ইতিহাসের সাক্ষী এই গিরিখাত।

গিরিখাতের মাঝে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা কলোরাডো নদী গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সৃষ্টির প্রধান কারণ। এই নদীর স্রোত এবং ভূমিক্ষয়ের প্রবাহে বর্তমান রূপ দিয়েছে। প্রায় ১৭ মিলিয়ন বছর ধরে বয়ে চলেছে কলোরাডো নদী যা বিজ্ঞানীদের পৃথিবীর বয়স সম্পর্কে আবারও ভাবিয়ে তোলে।
কলোরাডো নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এখনকার কলোরাডো নদী পূর্বের থেকে ৬ কিমি দূর দিয়ে বয়েছে, শুধু তাই নয় আগেকার গতিপথ এর একদম বিপরীতে বয়েছে এ নদী। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে নদীর বয়ে আনা পলি, সেই পলি থেকে হওয়া পাথর এবং ভূমিকম্পসহ অন্যান্য নিয়ামক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক ছিল এর খাড়াভাবে নেমে যাওয়া, প্রতি এক কিলোমিটারে নেমে গেছে প্রায় ৩.৫ মিটার, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নদী ২৭০০ মিটার উঁচু। মিসিসিপি নদী মাত্র ৩.৫ সেন্টিমিটার নেমেছে। কম খাড়াভাবে নেমে যাওয়াতেই মিসিসিপি বা অন্য বড়ো নদী একটি করে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন তৈরি করতে পারেনি।
আজও কলোরাডো নদী হাফ মিলিয়ন টন পলি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে এই খরস্রোতের কারণে। এছাড়া বৃষ্টি, বাতাস, ভূমিকম্পের ফলে অদ্ভুত সুন্দর পাহাড়গুলো তৈরি হচ্ছে আরও নতুন রূপে। যা প্রতিনিয়ত সবাইকে আকর্ষণ করছে।

SHARE

Leave a Reply