Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো চাঁদ ভাঙার মুজিজা

চাঁদ ভাঙার মুজিজা

পূর্ণিমা রাত। রূপা রূপা আলোয় ঝলমল করছে পৃথিবী। চারদিক কী শীতল, মোলায়েম! শানবাঁধানো পুকুরঘাটে বসে দাদার সাথে গল্প করছে ইসহাক। দাদা বললেন- দেখো দেখো, পুকুরের পানিতে যেন গলে গলে পড়ছে জোছনার শরবত! মহান আল্লাহর কী অপরূপ সৃষ্টি এ চাঁদ! চাঁদ হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী।
ইসহাক বলল, দাদা! অন্য সময় চাঁদকে পূর্ণরূপে দেখা যায় না, পূর্ণিমা রাতে দেখা যায় কেন?
দাদা বললেন- পৃথিবীর যে পাশে সূর্য অবস্থিত, চাঁদ যখন তার ঠিক বিপরীত পাশে অবস্থান করে, তখনই এমন ঘটনা ঘটে। পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান চাঁদ এ সময় সূর্যের আলোয় পূর্ণভাবে আলোকিত হয়ে ওঠে। ফলে, আমরা তাকে গোলাকাররূপে দেখতে পাই। জানো, এই চাঁদ একদিন দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল? ইসহাক বলল- দুই ভাগ! কীভাবে সম্ভব?
দাদা বললেন- তাহলে শোনো। মহানবী (সা) তখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন। মুশরিকরা তার কাছে নবুয়তের নিদর্শন দেখতে চাইল। ঝলমলে জোছনার রাতে আল্লাহ চাঁদকে দুইভাগ করে দেখালেন। যার একভাগ ছিল হেরা পাহাড়ের সামনে, অন্যভাগ চলে গেল তার পেছনে। মহানবী (সা) উপস্থিত সবাইকে বললেন, দেখ এবং সাক্ষ্য দাও! এরপর চাঁদ পুনরায় আগের মতো হয়ে গেল। (বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি)। এ ছিল মহানবী (সা)-এর অনন্য এক মুজিজা। ইসহাক বলল, সুবহানাল্লাহ। আচ্ছা দাদা! এরপর কি তারা ঈমান এনেছিল?
দাদা বললেন- না! বরং তারা মহানবী (সা)-কে বলল ‘জাদুকর’। তারা এ কথাও বলল- মুহাম্মদ জাদুকর হলেও, সে তো সারা পৃথিবীর মানুষকে জাদু করতে পারবে না। এরপর তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লোকদের কাছে জানতে চাইল- এমন দৃশ্য তারা দেখেছে কি-না। তারা সবাই বলল- চাঁদকে তারা দুই ভাগ অবস্থায় দেখেছে! পবিত্র কুরআনেও এ বিষয়ে কথা এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে। আর তারা কোনো নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত জাদু। তারা সত্যকে অস্বীকার করে এবং নিজেদের কামনা-বাসনার অনুসরণ করে। প্রতিটি বিষয়েরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে।” (সূরা আল-কামার : ১-৩)।
ইসহাক বলল, তাহলে কতই না হতভাগা ছিল তারা! আচ্ছা দাদা! মহানবী (সা)-এর এমন আর কী কী মুজিজা ছিল? দাদা বললেন- হিজরতের সময় তিনি একমুঠো মাটি নিক্ষেপ করলে শত্রুদের দৃষ্টিশক্তি রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। খাইবারের যুদ্ধে আলী (রা)-এর অসুস্থ চোখ সুস্থ হয়ে উঠেছিল মহানবী (সা)-এর মুখের লালায়। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় অল্প খাবারও অধিক লোক পেট ভরে খেতে পারত। এরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে। অন্য একদিন সব বলব, ইনশাআল্লাহ। চলো এবার ঘরে ফিরি।
ইসহাক বলল, চলো তাহলে।
– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply