Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো শীতল সালাতের ঘ্রাণ

শীতল সালাতের ঘ্রাণ

বাইরে রোদ। দুপুরের কড়া রোদ ভেঙেই মামা এসে পৌঁছলেন। শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। সোফায় শরীর এলিয়ে দিতেই আখতার দৌড়ে এসে বলল- মামা! কত দিন পর এলে! মামা হেসে বললেন- হ্যাঁ, বহুদিন পর এলাম বলেই তো তুমি এত খুশি হতে পেরেছো। এমন সময় আজান ভেসে এলো। জোহরের আজান। মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ ভারী মিষ্টি। মামা চোখ বন্ধ করে ফেললেন। আজান শেষ হওয়ার পর বললেন- আহ্! মনটা শীতল হয়ে গেল। আখতারকে বললেন- চলো, মসজিদে যাই। আখতার বলল- মামা, তুমি যাও। আমি আসছি।
জোহরের সালাম ফেরানোর পর মামা দেখলেন, আখতার পুরো জামায়াত পায়নি। তিনি সুন্নাত পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এবার সালাম ফিরিয়ে দেখলেন, আখতার মসজিদে নেই! বাসায় এসে বললেন- আখতার! তুমি সুন্নাত পড়োনি? সে বলল- হ্যাঁ, পড়েছি তো! মামা বললেন তুমি দেরি করে মসজিদে গিয়েছ। এরপর তাড়াহুড়ো করে সালাত আদায় করে আগেভাগে চলে এসেছ!
আখতার মাথা নিচু করে চুপ করে থাকল।
মামা বললেন- আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কী বলেছেন, শোনো-
“দুর্ভোগ সেসব সালাত আদায়কারীর, যারা নিজেদের সালাতের ব্যাপারে উদাসীন”
(সূরা আল-মাউন : ৪-৫)।
যারা যথাসময়ে সালাত আদায় করে না, তারাও এই উদাসীনদের দলেই!
এবার একটি হাদিস শোনো। একবার এক লোক মসজিদে সালাত আদায় শেষে মহানবী (সা)-কে সালাম করল। মহানবী (সা) সালামের জবাব দিয়ে বললেন- যাও, আবার সালাত আদায় করো। কারণ, তুমি তো সালাত আদায় করোনি! লোকটি আবার আগের মতো সালাত আদায় করল এবং এসে মহানবী (সা)-কে সালাম করল। মহানবী (সা) বললেন- যাও, আবার সালাত আদায় করো। কারণ, তুমি তো সালাত আদায় করোনি! এভাবে তিনবার তাকে ফিরিয়ে দেয়ার পর সে বলল- যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ! আমি তো এরচেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। মহানবী (সা) বললেন- তুমি যখন সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবির বলবে। তারপর কুরআন থেকে যা তোমার জন্য সহজ, তা পড়বে। তারপর রুকুতে যাবে- এমনকি প্রশান্তভাবে রুকু করতে থাকবে। এরপর উঠবে, সোজাভাবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে। তারপর সিজদা করবে- এমনকি প্রশান্তভাবে সিজদা করতে থাকবে। এরপর উঠে বসবে এবং সোজাভাবে বসে থাকবে। তোমার পুরো সালাতই এভাবে আদায় করবে। (বুখারি ও মুসলিম)
তুমিও যদি এভাবে সালাত আদায় করতে পারো, দেখবে তোমার মন সুশীতল ও সুরভিত হয়ে উঠবে!
আখতার বলল- মামা! আমাকে তো এভাবে কেউ বলেনি কখনো। এখন থেকে আমি যথাসময়েই মসজিদে যাবো এবং ধীরে ধীরেই সালাত আদায় করব ইনশাআল্লাহ।
মামা বললেন- আল্লাহ তাওফিক দিন।

SHARE

Leave a Reply