Home আইটি কর্নার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানাবে ইলেকট্রনিক স্কিন -ফজল ফিরোজ

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানাবে ইলেকট্রনিক স্কিন -ফজল ফিরোজ

স্বাস্থ্যই সুখের মূল। স্বাস্থ্য ঠিক তো সবই ঠিক। আর স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর যথাযথভাবে কাজ করা আবশ্যক। এগুলো যদি ঠিক মতো কাজ না করে তবে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন কোথায় কী সমস্যা। কিন্তু এ কাজটা যদি কোনো যন্ত্র করে দেয় এবং তা ঘরে বসেই নিয়মিতভাবে, কেমন হবে বলো তো? হ্যাঁ, তেমনই কিছু হতে যাচ্ছে আগামীতে। সে খবরই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইলেকট্রনিক স্কিনের মাধ্যমেই জেনে নিতে পারবেন। এ ইলেকট্রনিক স্কিন তথা ই-স্কিন শরীরে লাগিয়ে রাখা যাবে। এর মাধ্যমে হৃৎস্পন্দন, ডায়াবেটিসসহ নানা তথ্য দূরে বসেই দেখতে পারবেন চিকিৎসকেরা।

সম্প্রতি জাপানে অত্যন্ত হালকা-পাতলা ই-স্কিন তৈরি করা হয়েছে, যা ওয়াটার স্প্রে ব্যবহার করে বুকের কাছে লাগিয়ে রাখা যাবে। একটা ই-স্কিন এক সপ্তাহ ব্যবহার করা যাবে। এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক টাকাও সমেয়া। তিনি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক। পলিভিনাইল অ্যালকোহল নামক বিশেষ নমনীয় উপাদান ই-স্কিন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে, এতে স্বর্ণের একটি স্তর থাকে। এটি মূলত হৃৎস্পন্দন ও মাংসপেশি নড়াচড়ার বৈদ্যুতিক সঙ্কেত ধরতে সক্ষম পরিধানযোগ্য একটি সেন্সর। ছোট্ট একটি তারহীন ট্রান্সমিটার বুকের কাছে বাঁধা থাকে, যা হৃৎস্পন্দনের তথ্য নিকটস্থ স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে বা ক্লাউডে পাঠায়। বিশেষ সফটওয়্যার সেই তথ্য দৃশ্যমান করে তোলে। চিকিৎসক চাইলে অনেক দূরে বসেও সে তথ্য দেখতে পারেন।

স্মার্ট ওয়াচ ও চশমার মতোই ই-স্কিনকে ধরা হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের পরিধানযোগ্য পণ্য হিসেবে। তবে অন্যান্য পরিধানযোগ্য পণ্যের তুলনায় ই-স্কিন অত্যন্ত পাতলা, হালকা, নমনীয় ও টেকসই। মূলত জাপানের দ্রæত বেড়ে যাওয়া বয়স্ক জনগণের কথা মাথায় রেখে ই-স্কিন নকশা করা হয়েছে। এটি দিয়ে সাধারণত বিভিন্ন ক্রনিক রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, হৃদ‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধের মতো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এ ছাড়া এটি অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করতেও সাহায্য করবে। এটি হাতের পেছনে পরিধান করতে হবে। যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে না, তাদের তথ্য ছবিসহ তুলে ধরা হবে। এতে সাধারণ ইমোজি পাঠিয়ে যোগাযোগের ব্যবস্থাও থাকবে। যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ছাড়াই ই-স্কিন মানুষের বিভিন্ন ধরনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এ ছাড়া স্পোর্টসওয়্যারে অ্যাথলেটদের ফিটনেস মনিটরিংয়ের জন্য ই-স্কিন ব্যবহার করা যাবে। সুতরাং বলাই যায়Ñ ইলেকট্রনিক স্কিন স্বাস্থ্যসেবার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

SHARE

Leave a Reply