Home দেশ-মহাদেশ আরব বিশ্বের প্রাচীনতম স্বাধীন দেশ ওমান সালতানাত -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

আরব বিশ্বের প্রাচীনতম স্বাধীন দেশ ওমান সালতানাত -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

ওমান পশ্চিম এশিয়ার আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি দেশ এবং আরব বিশ্বের প্রাচীনতম স্বাধীন রাষ্ট্র। সরকারি নাম ওমান সুলতানাত। কৌশলগতভাবে পারস্য উপসাগরের মুখে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেশটি অবস্থিত। মাসকাট ওমানের রাজধানী এবং বৃহত্তম নগর। এ দেশের স্থল সীমান্তে রয়েছে উত্তর-পশ্চিমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, পশ্চিমে সৌদি আরব ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ইয়েমেন এবং সমুদ্রসীমায় রয়েছে ইরান ও পাকিস্তান। এদেশের উপকূলে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বে আরব সাগর এবং উত্তর-পূর্বে ওমান উপসাগর। ওমানের সবচেয়ে উত্তরে মাদহা ও মুসান্দাম ছিটমহলের স্থল সীমন্তে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং উপকূলীয় সীমান্তে রয়েছে হর্মুজ প্রণালী।
ওমানের আয়তন ৩ লাখ ৯ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার (১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ বর্গমাইল)। জনসংখ্যা ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৩ জন। জাতিগত গ্রুপের মধ্যে রয়েছে আরব, বেলুচি, দক্ষিণ এশীয় (ভারতীয়, পাকিস্তানি, শ্রীলঙ্কান ও বাংলাদেশী) এবং আফ্রিকান। প্রধান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে মুসলিম ৮৫%, খ্রিষ্টান ৬.৫%, হিন্দু ৫.৫% এবং অন্যান্য ২.১%।

আদর্শ আরবি ভাষা ওমানের সরকারি ভাষা। ওমানের আরবিভাষীদের মধ্য দ্বিভাষিকতা বিদ্যমান। আনুষ্ঠানিক ও সরকারি কর্মকাণ্ডে কথ্য ও লিখিত ভাষা হিসেবে আদর্শ আরবি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তায় ভাবের আদান-প্রদানে স্থানীয় আরবি উপভাষাগুলোই বেশি ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় আরবি উপভাষাগুলির মধ্যে আছে ওমানি আরবি ভাষা, উপসাগরীয় আরবি ভাষা এবং জোফারি আরবি ভাষা। অনেক ওমানি আরবি ছাড়াও দ্বিতীয় আরেকটি ভাষায় কথা বলতে পারেন।
আরবি ছাড়াও ওমানের দক্ষিণাংশে অনেকগুলি আধুনিক দক্ষিণী আরবি ভাষা প্রচলিত। এগুলোর মধ্যে আছে জিব্বালি, মেহরি, হার্সুসি ও হবিয়ত ভাষা। এগুলো আরবির মতোই সেমিটীয় ভাষা, কিন্তু আরবি থেকে আলাদা। হর্মুজ প্রণালীর ওপর অবস্থিত পর্বতময় মুসান্দাম উপদ্বীপে শিহু গোত্রের লোকেরা শিহ্হি নামের একটি ইরানীয় ভাষায় কথা বলে। ভাষাটিতে আরবির বড়ো প্রভাব দেখা যায়।

১৯৬০-এর দশকে প্রচুর জানজিবারি লোক পূর্ব আফ্রিকা থেকে ওমানের রাজধানী মাসকাট এবং উপকূলীয় শহর এলাকাগুলোতে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে সোয়াহিলি ভাষা বহুল প্রচলিত।
ওমানে বহু বিদেশীর বাস। এখানকার ৪৮ লাখ লোকের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ লোক ওমানি নাগরিক নন, মূলত ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইরান থেকে আগত বিদেশী কর্মী। এই বিদেশীরা ওমানে ভাষাগত বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করেছেন। দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত ওমানিদের মধ্যে অনেকে বালুচি ভাষায় কথা বলেন। সাম্প্রতিককালে বিদেশ থেকে আগত নতুন কর্মীরা বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ফার্সি ভাষায় কথা বলেন।
ইংরেজি ভাষা ওমানে সবচেয়ে বেশি শেখানো বিদেশী ভাষা। মাধ্যমিক স্তরের পরবর্তী সমস্ত লেখাপড়া ইংরেজিতেই ঘটে। ওমানের বেতার সংস্থার ইংরেজি চ্যানেল আছে। এ ছাড়াও দেশে অনেকগুলো ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে ওমান সুলতানাত একটি শক্তিশালী সা¤্রাজ্য ছিল। পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রভাবের জন্য দেশটিকে পর্তুগিজ সা¤্রাজ্য ও ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে তার চূড়ান্ত পর্যায়ে ওমানী প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ হরমুজ প্রণালীর ওপারে আধুনিককালের ইরান ও পাকিস্তান এবং দক্ষিণে জানজিবার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বিংশ শতাব্দীতে যখন তার ক্ষমতা হ্রাস পায় তখন সুলতানাতটি যুক্তরাজ্যের প্রভাবাধীনে চলে যায়। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পারস্পরিক সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যুক্তরাজ্য বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ওমানের ভৌগোলিক গুরুত্বের স্বীকৃতি দেয়, যা পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরে তার বাণিজ্যিক পথগুলোকে নিরাপদ করে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে তার সা¤্রাজ্যকে সংরক্ষিত করে। ঐতিহাসিকভাবে, মাসকাট পারস্য উপসাগর অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর ছিল। মাসকাট একই সাথে ভারত মহাসাগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।

ওমান সম্পূর্ণরূপে একটি রাজতান্ত্রিক দেশ। সুলতান কাবুস বিন সাঈদ আল সাঈদ ১৯৭০ সাল থেকে ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার চাচাতো ভাই হিশাম বিন তারিক দেশের নতুন নেতা হিসেবে ঘোষিত হন। ওমান জাতিসংঘ, আরব লিগ, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ও ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সদস্য। ২০১০ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি পূর্ববর্তী ৪০ বছরের উন্নয়ন বিবেচনায় ওমানকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এদেশের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে আছে পর্যটন এবং মাছ, খেজুর ও অন্যান্য কৃষি পণ্যের বাণিজ্য। ওমানের প্রমাণিত পেট্রোলিয়াম মজুদের পরিমাণ ৫৫০ কোটি ব্যারেল, যা বিশ্বে ২৫তম বৃহত্তম। পেট্রোলিয়াম ডেভেলপমেন্ট ওমান জ্বালানি তেল উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করে এবং তেল ও গ্যাস মন্ত্রণালয় দেশের গ্যাস ও তেল অবকাঠামোগুলো পরিচালনা করে। ওমানকে উচ্চ আয়ের অর্থনীতি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিশ্ব শান্তি সূচক অনুযায়ী ওমান বিশ্বের ৬৯তম সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। এ দেশের মুদ্রার নাম ওমানি রিয়াল (ওএমআর)। ওমানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেশটির উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে বিস্তৃত আল হাজর পর্বতমালা। ৩০১০ মিটার উঁচু জেবেল শামস এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। সোহার ও মাস্কাটের মধ্যবর্তী স্থানে ওমান উপসাগরের উপকূল ধরে রয়েছে বিস্তৃত সৈকত, যেগুলোতে ডাইভিং, পানির নিচে ডুব দেওয়া এবং ডলফিন ও কচ্ছপদের সাথে খেলার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়াও পক্ষীপ্রিয় মানুষদের জন্যও ওমান জনপ্রিয়। এখানে স্থানীয় প্রায় ৮০ প্রজাতির এবং অতিথি প্রায় আরও ৪০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অতিথি পাখিরা নির্দিষ্ট ঋতুতে ওমানে ফিরে ফিরে আসে। ওমানের মরুভূমির বিশালাকার বালিয়াড়িগুলো ঘুরে দেখতেও অনেকে পছন্দ করেন। ওমানের চুনাপাথরের পাহাড়ি গুহাগুলোও বিখ্যাত। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গুহা মাজলিস আল জিন এখানে অবস্থিত।

এটি মূলত মরুভূমির দেশ, যেখানে সুউচ্চ পর্বতমালার ঠিক পাশেই রয়েছে উজ্জ্বল শুভ্র বালুর সমুদ্রসৈকত। এখানে তথাকথিত সংখ্যালঘু মুসলিম গোত্র ইবাদি জাতির লোকেরা বাস করে। এরা শিয়া ও সুন্নিদের চেয়ে স্বতন্ত্র। বহু শতাব্দী ধরে ওমান ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যের একটি অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ১৭শ থেকে ১৯শ শতক পর্যন্ত এটি একটি ঔপনিবেশিক শক্তি ছিল।
ওমানের রাজনীতি একটি পরম রাজতন্ত্রের কাঠামোয় পরিচালিত হয়। সুলতান হলেন একাধারে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। ওমানের সুলতানরা বংশানুক্রমে ক্ষমতায় আসেন। বর্তমানে হিশাম ইবনে তারিক আস-সাইদ দেশটির সুলতান এবং তাকে সহায়তা করার জন্য একটি মন্ত্রিসভা আছে। ওমানের আইনসভা বা ‘ওমান পরিষদ’ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট : ৭১ সদস্যের উচ্চকক্ষ রাষ্ট্রীয় পরিষদ (মজলিস আদ দৌলাহ) এবং ৮৪ সদস্যের নিম্নকক্ষ পরামর্শ পরিষদ (মজলিস আশ শুরা)।
ওমানের প্রশাসনিক অঞ্চলগুলো ১১টি গভর্নরেটে বিভক্ত। সেগুলো হলো আদ দাখিলিয়াহ, আদ ধাহিরিয়াহ, আল বাতিনাহ উত্তর, আল বাতিনাহ দক্ষিণ, আল বুরাইমি, আল উস্তা, আশ শারকিইয়াহ উত্তর, আশ শারকিইয়াহ দক্ষিণ, জোফার, মাসকাট ও মুসানদাম। গভর্নরেটগুলো আবার ৬০টি উইলিইয়াতে বিভক্ত।

ওমান আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব চতুর্থাংশে অবস্থিত। ওমানের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকা মরুভূমি, ১৫% পর্বত এবং মাত্র ৩% উপকূলীয় সমভূমি। বেশির ভাগ লোকালয় সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত। ওমান উপসাগর, আরব সাগর এবং আর রাব আল খালি মরুভূমি ওমানকে বাকি সব দেশ থেকে পৃথক করে রেখেছে।
ওমানের পুরুষরা সাধারণত নিজেদের কাঁধ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত দীর্ঘ হাতাসহ এক প্রকার জামা পরিধান করে যাকে ডিশডশা বা বাংলায় জুব্বা বলা হয়। নারীরা সবাই মাথা থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত সব অঙ্গ ঢাকা কালো কাপড়ের আবাইয়া বা বোরকা পরিধান করে।
সমুদ্রগামী দেশ হওয়ায় ওমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলো ধাও (পাল তোলা নৌকা)। এই নৌবহরগুলো শত শত বছর ধরে আরব উপদ্বীপ, ভারত এবং পূর্ব আফ্রিকা বরাবর ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রকৃতপক্ষে, ওমানি ধাও প্রাচীনতম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অষ্টম শতাব্দীতে চীন পৌঁছেছিল। আধুনিক দিনের ব্যবহারে এই ধাওগুলো বাণিজ্য, পর্যটন এবং মাছ ধরার লক্ষ্যে কাজ করে এবং ওমানের উপকূলরেখার পাশেই এগুলোকে দেখা যায়।
পারস্য উপসাগরের অবশিষ্ট অঞ্চলের মতো ওমানেও সাধারণভাবে সবচেয়ে গরম আবহাওয়া বিরাজ করে। রাজধানী মাসকাটে এবং ওমানের উত্তরাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা থাকে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ওমানে খুব অল্প বৃষ্টিপাত হয়। মাসকাটে গড় বার্ষিক তাপমাত্রার পরিমাণ ১০০ মিলিমিটার। এখানে বেশির ভাগ বৃষ্টিপাত জানুয়ারি মাসে হয়ে থাকে। দক্ষিণে সালালাহের কাছে জোফার পার্বত্য এলাকায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করে এবং ভারত মহাসাগরের মৌসুমি বায়ুর কারণে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে গ্রীষ্মকালীন বাতাস ঠাণ্ডা আর্দ্রতায় সম্পৃক্ত থাকে এবং ঘন কুয়াশা বিরাজ করে। সালালাহ রেঞ্জে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। উত্তর ওমানের তুলনায় এখানকার আবহাওয়া ঠাণ্ডা।
পার্বত্য এলাকাগুলোতে অধিকতর বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং জাবাল আখদারের উচ্চতর অংশে বার্ষিক বৃষ্টিপাত সম্ভবত ৪০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে যায়। পার্বত্য এলাকাগুলো কম তাপমাত্রার কারণে কয়েক বছরের মধ্যে একবার করে তুষারে ঢেকে যায়। উপকূলে বিশেষ করে মাসিরাহ দ্বীপের কাছে কিছু অংশে কখনও কখনও বছরে আদৌ বৃষ্টিপাত হয় না। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবহাওয়া সাধারণত খুবই গরম থাকে এবং গরম মৌসুমে তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়।

ওমানের ঐতিহ্যবাহী খাবার বৈচিত্র্যময় এবং বহু সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত। ওমানিরা দিনের প্রধান খাবার খায় দুপুরে এবং রাতে হালকা খাবার খায়। ‘আরসিয়া’ ওমানিদের একটি উৎসবের খাবার। চালের গুঁড়া ও গোশত (কখনও কখনও মুরগি) দিয়ে এই খাবার তৈরি করা হয়। আরেকটি জনপ্রিয় উৎসবের খাবার হলো শুওয়া। গোশতের তৈরি এই খাবারটি মাটির নিচের মাটির চুলায় খুব ধীরে (কখনও কখনও দু’দিন ধরে) রান্না করা হয়। ফলে গোশত খুবই নরম হয়ে যায়। রান্নার আগে গোশতের ওপর মসলা ও ভেষজ ছিটিয়ে দেওয়া হয় বিধায় এটা খুবই সুস্বাদু হয়। প্রধান খাবারের সাথে মাছও ব্যবহার করা হয় এবং কিংফিশ হলো এক্ষেত্রে জনপ্রিয় উপাদান। মাশুয়াই হলো শিকে ঝলসানো একটি আস্ত কিংফিশ দিয়ে তৈরি খাবার যা লেবু ভাত দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
রুখাল হলো পাতলা গোল রুটি যা তালপাতার আগুনে ছ্যাঁকা হয়। এটা যেকোনো সময়ের খাবারে খাওয়া হয়, সাধারণত সকালে ওমানি মধু দিয়ে এবং রাতে তরকারি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। মুরগি, মাছ এবং ছাগল-ভেড়ার গোশত নিয়মিত সব খাবারে ব্যবহার করা হয়। ওমানি হালুয়া খুবই জনপ্রিয় একটি মিষ্টি। নানা রকম বাদাম ও চিনি দিয়ে এই হালুয়া তৈরি করা হয়। বহু ভিন্ন স্বাদ ও ঘ্রাণের হালুয়া আছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো কালো হালুয়া (আদি) ও সাফরন হালুয়া। হালুয়া ওমানি আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে গণ্য এবং তা কফির সাথে পরিবেশন করা হয়।
ওমানের জনপ্রিয় খেলার মধ্যে রয়েছে ধাও (পাল তোলা নৌকা) প্রতিযোগিতা, ঘৌড়দোড় প্রতিযোগিতা, উট দৌড় প্রতিযোগিতা, ষাঁড়ের লড়াই ও বাজপাখির সাহায্যে শিকার প্রতিযোগিতা। ফুটবল, বাস্কেটবল, ওয়াটারস্কিং ও স্যান্ডবোডিংও তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা খেলাধুলা।

SHARE

Leave a Reply