Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো পবিত্র খাদ্য

পবিত্র খাদ্য

সারওয়ার সাহেব সেদিন রাতে একটু দেরি করেই বাসায় ফিরেছেন। এসে দেখলেন- সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছে। কেউ এখনও খাবার খায়নি। এমনকি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য নাওয়ালও কিছু খায়নি। সে বলল, বাবা! হাত-মুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি এসো। আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে তো! সারওয়ার সাহেব আদুরে গলায় বললেন- আসছি, মা আমার! তোমরা সবাই বসে পড়ো।

মারইয়াম, তাশফিন ও নাওয়াল প্রতিদিন প্রতিযোগিতা করে- বাবার পাতে কে আগে খাবার তুলে দেবে। মা বললেন- আজ অত প্রতিযোগিতার সময় নেই। আমিই তুলে দিচ্ছি। তোমরা সবাই খাওয়া শুরু করো। খাবার তুলে দিতে দিতে তিনি বললেন- মাছের এ তরকারিটা আজ পাশের বাসা থেকে উপহার এসেছে। সারওয়ার সাহেব বললেন- তারা তো অনেক তাকওয়াবান ও ভালো মানুষ। আমাদেরও উচিত, তাদের জন্য কিছু উপহার পাঠানো।

তাশফিন বললো, বাবা! তুমি তো বলেছিলে- কেউ কিছু দিলে আমরা যেন তা না নিই। এখন তো অন্য কথা বললে!
বাবা বললেন- সেটা অপরিচিত মানুষের ক্ষেত্রে। অথবা যাদের আয়ের উৎস আমাদের জানা নেই। একটি গল্প শোনো তাহলে। একবার উম্মু আবদিল্লাহ (রা) নামে এক মহিলা সাহাবি রাসূল (সা)-এর কাছে দূত মারফত এক পেয়ালা দুধ পাঠালেন। তখন ছিল দীর্ঘ ও প্রচণ্ড গরমের দিন। রাসূল (সা) তার দূতকে ফেরত পাঠালেন। বললেন, গিয়ে জিজ্ঞাসা করো- এই দুধ তুমি কোথায় পেয়েছ? মহিলা সাহাবি বললেন- এটা আমার নিজস্ব ভেড়ির দুধ।
এরপর রাসূল (সা) দূতকে একথা বলে আবার ফেরত পাঠান, গিয়ে জিজ্ঞাসা করো- এই ভেড়ি তুমি কোথায় পেয়েছ?
মহিলা সাহাবী বলেন, নিজের সম্পদ দিয়ে আমি এটি কিনেছি। তারপর রাসূল (সা) ওই দুধ পান করেন। পরদিন উম্মু আবদিল্লাহ (রা) রাসূল (সা) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দীর্ঘ ও প্রচণ্ড গরমের দিন হওয়ায় আমি দুধ দিয়ে একজন দূতকে দু’বার পাঠালাম, আর আপনি তাকে ফেরত পাঠালেন!
রাসূল (সা) বললেন, আমার পূর্ববর্তী রাসূলদের আদেশ দেওয়া হয়েছে- তারা যেন কেবল সে খাবারই গ্রহণ করে, যা পবিত্র এবং কেবল সে কাজই করে যা ন্যায়-নিষ্ঠ। (কিতাবুয যুহ্দ : ইমাম আহমদ)
মারইয়াম বললো, সুবহানাল্লাহ! তাহলে তো আমাদেরও শুধু পবিত্র খাবারই খাওয়া উচিত। বাবা বললেন- অবশ্যই।
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply