Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো শাস্তি

শাস্তি

মারজানা এখন খুব ভালোভাবেই কুরআন পড়তে পারে। আম্মুর কাছেই তার কুরআন শেখার হাতেখড়ি। মারজানা মাঝে মধ্যে বলে- আল্লাহকে ধন্যবাদ! তিনি আমাকে একজন কুরআনপ্রেমী আম্মু দিয়েছেন। আম্মু তখন তার কপালে চুমু এঁকে দেন পরম মমতায়। এ মমতা যেন আকাশের পথ বেয়ে ফেরদাউস থেকে নেমে আসে ঝরনার মতো, বহতা নদীর মতো!
আম্মু মারজানাকে আগেই বলেছিলেন- কুরআন পড়া শেখা হলে অবশ্যই এর তরজমা শিখতে হবে। তা না হলে কুরআনের আলো হৃদয়ে পৌঁছবে কীভাবে? মারজানা তাই কুরআনের আরবি থেকে বাংলা অনুবাদ বুঝে বুঝে পড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে। সূরা বাকারার এ আয়াতে এসে মারজানার মনে একটি প্রশ্ন জাগলো- “যারা কুফরি করেছে, আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না-ই করুন- তাদের জন্য উভয়ই সমান। তারা ঈমান আনবে না। আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কান মোহর করে দিয়েছেন। তাদের চোখের ওপর রয়েছে আবরণ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা আল বাকারা : ৭)। মারজানা বললো, আম্মু! আল্লাহই তো মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আবার তিনিই কেন তাদের কঠিন শাস্তি দেবেন? তিনি তো রহিম ও রহমান!

আম্মু বললেন- হজরত মূসা (আ)-এর মনেও এমন প্রশ্ন জেগেছিল। তিনি বলেছিলেন- হে আমার প্রতিপালক! আপনি সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন। আবার আপনিই তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন ও শাস্তি দেবেন?
আল্লাহ বললেন- এরা সবাই আমার সৃষ্টি। তুমি একটি কাজ করো- বীজ বোনো। মূসা (আ) বীজ বুনলেন। আল্লাহ বললেন- তাতে পানি দাও। মূসা (আ) পানি দিলেন। এরপর আল্লাহ বললেন- ফসল কাটো। মূসা (আ) ফসল কেটে নিলেন।
আল্লাহ বললেন- মূসা! তোমার ফসল কী করেছো?
মূসা (আ) বললেন- কেটেছি এবং তুলে নিয়েছি।
আল্লাহ বললেন- ফসলের কোন অংশ ফেলে দিয়েছো?
মূসা (আ) বললেন- যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। অথবা যা আমার প্রয়োজন নেই।
আল্লাহ বললেন- অনুরূপভাবে আমিও কেবল তাকেই শাস্তি দেবো- যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। অথবা যাকে আমার প্রয়োজন নেই! (কিতাবুয যুহদ : ইমাম আহমাদ)
আম্মু বললেন- বুঝতে পেরেছ? নিজেকে আল্লাহর কাছে প্রয়োজনীয় করে তুলতে হবে তার আনুগত্যের মাধ্যমে। তা না হলে তুমি-আমিও হতে পারি ফেলে দেওয়া ফসলের মতো অকল্যাণকর! মারজানা বললো- ধন্যবাদ আম্মু। যখনই আমি কোনো আয়াত বুঝতে পারব না, তখনই তোমার কাছে ছুটে আসব। আম্মু বললেন- আল্লাহ তাওফিক দিন।

SHARE

Leave a Reply