Home খেলার চমক ঈদ স্পেশাল -আবু আবদুল্লাহ

ঈদ স্পেশাল -আবু আবদুল্লাহ

ঈদ মুসলিম বিশে^র সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব। ঈদ এলেই ছুটির আমেজ;কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের সূচির সাথে মেলাতে গিয়ে কখনো কখনো এর ব্যত্যয় ঘটে খেলোয়াড়দের জন্য। তখন ছুটি বাদ দিয়ে তাদের ছুটতে হয় মাঠে এমনকি ঈদের দিনেও মাঠে নামতে হয়। এই লেখায় তোমাদের জানাবো ঈদ ও রমজানে ক্রীড়া জগতের সাথে সম্পর্কিত কিছু ঘটনা-

মাঠেই ইফতার
রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ ফুটবল বিশ^কাপের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হয় রমজান চলাকালেই। বিশ^কাপের প্রস্তুতি পর্বে তিউনিসিয়ার একটি প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল পর্তুগালের বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হয় রাশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেলে। ম্যাচে রোজা রেখেই মাঠে নামেন তিউনিসিয়ার ফুটবলাররা। ম্যাচ চলাকালেই যেহেতু ইফতারের সময় হয়ে যায়, সে জন্য তারা নেয় এক অভিনব পন্থা।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই মাঠে শুয়ে পড়েন তিউনিসিয়ান গোলরক্ষক মুয়াজ হাসান। এসময় দেখা যায় দলের চিকিৎসকরা মুয়াজের কাছে ছুটে যায়। আর অন্য খেলোয়াড়রা দ্রুত চলে আসেন ডাগআউটের কাছে। টিম ম্যানেজমেন্টের লোকদের কাছ থেকে নিয়ে খেজুর আর পানি খেতে দেখা যায় তাদের। ম্যাচের পর জানা যায় এর রহস্য। সেদিন তিউনিসিয়ার সব ফুটবলার মাঠে নেমেছিলেন রোজা রেখেই। আর ম্যাচের ওই মুহূর্তটিতে তারা সেরেছিলেন ইফতার। এ ঘটনায় সারা মুসলিম বিশ^ তিউনিসিয়া ফুটবল দলকে বাহবা দিয়েছিল তাদের ধর্মীয় অনুভূতির জন্য।

ঈদের দিনে ম্যাচ
২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই বিশ^কাপ ফুটবল আসর শুরু হয়েছিল ১৪ জুন। পরদিন ১৫ জুন রাশিয়ায় উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ওই দিন মাঠে নামতে হয় তিনটি মুসলিম দেশকে। রাশিয়া যেহেতু মুসলিমপ্রধান দেশ নয়, তাই ঈদের দিন সরকারি ছুটির কোন বিধান নেই। যে কারণে ঈদের আনন্দ উদযাপন বাদ দিয়ে মাঠে নামতে হয় মিসর, ইরান ও মরক্কোকে। মিসরের ফুটবলাররা সেদিন একজন স্থানীয় ইমামকে দাওয়াত করে টিম হোটেলের কনফারেন্স রুমে আদায় করেছিলেন ঈদের নামাজ।
ঈদের দিন এ গ্রুপের ম্যাচে মিসরের প্রতিপক্ষ ছিল উরুগুয়ে। আর বি গ্রুপের ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয় মরক্কো ও ইরান।দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ^কাপে সুযোগ পেয়ে ইকাতেরিনবার্গে প্রথম ম্যাচেই দারুণ খেলছিল মিসর। দলের সেরা তারকাকে ছাড়াই কাভানি, সুয়ারেজদের ভালোভাবেই রুখে দিচ্ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল মিসর।অবশ্য শেষটা সুন্দর হয়নি। ম্যাচের একেবারে শেষ সময়ে (৮৯ মিনিট) দুর্দান্ত এক হেডে মিসরের জালে বল পাঠান উরুগুয়ের হোসে মারিয়া গিমেনেজ। যার ফলে ১-০ গোলে পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মিসরীয় ফুটবলারদের।
অবশ্য ইরানের ফুটবলাররা সেদিন ঈদের আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ পেয়েছিল। সেটিও অবশ্য মরক্কোর নিজেদের ভুলে। সেন্ট পিটার্সবার্গেম্যাচটিও সমান তালে খেলেছিল উভয় দেশ, কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণে এগিয়ে ছিল মরক্কোই। মনে হচ্ছিল কেউ কাউকে হারাতে পারবে না এবং উভয় দলই পয়েন্টের পাশাপাশি ঈদের খুশিটাও ভাগ করে নেবে। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয়! পুরো ৯০ মিনিট গোলশূন্য শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে নিজেদের জালে বল জড়ান মরক্কোর ডিফেন্ডার আজিজ বুহাদৌজ। বামপ্রান্ত দিয়ে করা ইরানের একটি ফ্রি কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে বুহাদৌজের হেড জড়ায় নিজেদের জালে। এর কয়েক সেকেন্ড পরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি। শেষ পর্যন্ত তেহরানেই নামে আনন্দের মিছিল।
ঈদ, জন্মদিন, বিশ^কাপ

ঈদের দিনে বিশ^কাপের ম্যাচ, আবার সেই দিনটিই যদি হয় কোন খেলোয়াড়ের জন্মদিন তাহলে সেটি যে কারো জীবনে স্মরণীয় দিন হয়ে থাকতে বাধ্য।
২০১৮ ফুটবল বিশ^কাপে ২৮ বছর পর মিসর সুযোগ পেয়েছিল। দলটির সেরা তারকা মোহাম্মাদ সালাহ ছিলেন তাদের এই সাফল্যের মূল কারিগর। সেবার মিসর প্রথম যেদিন বিশ^কাপে খেলতে নেমেছিল সেটি ছিল ঈদের দিন, আবার সেই দিনটিতেই ছিল মোহাম্মাদ সালাহর জন্মদিন।

সব কিছু মিলিয়ে তাই দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন লিভারপুল এফসির হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু¯্রষ্টা সব সময় সবার সব ইচ্ছে পূরণ করেন না। এমন খুশির উপলক্ষ পেয়েও সেদিন মাঠে নামতে পারেননি বিশ^কাপের আগ মুহূর্তে কাঁধের ইনজুরিতে পড়া মোহাম্মাদ সালাহ।
সাইড লাইনে বসেই তাকে দেখতে হয়েছে সতীর্থদের পরাজয়। ঈদ, জন্মদিন আর জীবনে প্রথমবার বিশ^কাপের মাঠে নামার মঞ্চ পেয়েও তাতে কারিশমা দেখাতে পারেননি এই মিসরীয় জাদুকর। ঈদ আর জন্মদিনের আনন্দও তাই উদযাপন করা হয়নি তার সেবার।
টাইগারদের বিলেতি ঈদ
২০১৯ ওয়ানডে বিশ^কাপে বাংলাদেশের খেলা শুরু হয়েছিল রমজান মাসের মাঝেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বেশ কয়েকজন টাইগার ক্রিকেটার রোজা রেখেই খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচে প্রোটিয়াদের ২১ রানে হারিয়ে বিশ^কাপ যাত্রায় শুভসূচনা করে বাংলাদেশ। নিউজিল্যাান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই এসে যায় ঈদুল ফিতর। বিদেশের মাটিতে পরিবারকে ছেড়ে ঈদ উদযাপনের কষ্ট সেবার তারা কিছুটা হলেও ভুলতে পেরেছিল দুই দিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর আনন্দে।
আইসিসির তত্ত্বাবধানে কড়া নিরাপত্তায় লন্ডন সেন্ট্রাল মস্কে নামাজ পড়তে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজেমেন্টের সদস্যরা। বিকেলে অল্প সময়ের জন্য ঘুরতেও বের হয়েছিলেন অনেকে। ঈদের দিন ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ খাবার-দাবারেরও আয়োজন করা হয়েছিল আইসিসির পক্ষ থেকে। হোটেলের বাইরে তারা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

আয়ারল্যান্ডে ঈদ ওয়ার্ল্ড কাপ
আয়ারল্যান্ডে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ঈদ ওয়ার্ল্ডকাপ নামের একটি টুর্নামেন্ট। নামে ওয়ার্ল্ডকাপ হলেও এটি আসলে একটি প্রীতি টুর্নামেন্ট। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ক্যাটাগরিতে ২০১৩ সাল থেকে ঈদ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্টটি। আয়ারল্যান্ডের মুসলিম কমিউনিটি এর আয়োজক। বিশে^র বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এতে অংশ নেয়। এমনকি অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও দেখা মেলে এই টুর্নামেন্টে। ঈদ উপলক্ষে সবার মাঝে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন।
ফুটবল খেলা ছাড়াও বিভিন্ন আয়োজন থাকে রাজধানী ডাবলিনের এই আয়োজনে। এই উৎসব থেকে সংগৃহীত অর্থ বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে মানবতার কল্যাণে ব্যয় করা হয়।

SHARE

Leave a Reply