Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো আকাশ কাঁদে, জমিন কাঁদে

আকাশ কাঁদে, জমিন কাঁদে

ফজর সালাতের পর কুরআন তিলাওয়াত করছেন বাবা। মিষ্টি কণ্ঠে ঝরে পড়ছে সুমধুর সুর। সতেজ সকালের শীতল পরিবেশে সে সুর যেন ফেরদাউসের সুরভি নিয়ে এসেছে। প্রতিদিনই এমন হয়। আর ইলহাম নীরবে উপভোগ করে কুরআনের মুজিজা।

তিলাওয়াত করতে করতে বাবা হঠাৎ একই আয়াত বারবার পড়ছেন। এরপর তিনি তাফসিরের কিতাব খুললেন। এদিকে ইলহামের কৌতূহল বেড়েই চলছে। বাবার পড়াশোনা শেষ হলে ইলহাম বলল- বাবা! তুমি কী খুঁজছিলে? বাবা মুচকি হেসে বললেন, চমৎকার একটি বিষয় জানলাম আজ! যে আয়াতটি আমাকে চমকে দিয়েছে, তা হলো- সমুদ্রে নিমজ্জিত ফেরাউন বাহিনীর ব্যাপারে আল্লাহ বলেন- “আকাশ ও জমিন তাদের জন্য কাঁদেনি। আর তাদের একটু অবসরও দেওয়া হয়নি।” (আদ-দুখান : ২৯) মনে হলো, আকাশ-জমিনও তাহলে কারো কারো জন্য কাঁদে! তাদের মৃত্যুর পর ব্যথিত হয়! আর এর উত্তরই খুঁজছিলাম আমি!

– দারুণ বিষয় তো বাবা! তারা কারা? আমারও জানতে ইচ্ছে করছে।
– মুমিন যখন ভালো আমল করে, তখন তা আকাশে উঠে যায়। তার মৃত্যুর পর কোনো আমল আর আকাশে পৌঁছে না। সে বিরহে আকাশ তখন কেঁদে ওঠে! আর যে জমিনে সে ইবাদাত করত, সে জমিনও তার শোকে কেঁদে ওঠে। সুবহানাল্লাহ!

ইলহামও বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ! তাহলে তো সে বড়ই সৌভাগ্যবান, যার মৃত্যুতে আকাশ কাঁদে, জমিন কাঁদে!

– অবশ্যই। এ কারণেই আল্লাহ ফেরাউন ও তার বাহিনীর ব্যাপারে বলেছেন, তাদের জন্য আকাশ-জমিন কাঁদেনি। কারণ, তাদের এমন কোনো ভালো আমল ছিল না, যা আকাশে পৌঁছত, আর জমিনও তাদের ইবাদাতের ছোঁয়া পায়নি। মুমিনের বিষয়টা একেবারেই আলাদা! মহানবী (সা) বলেছেন, “মুমিন কোথাও অপরিচিত মুসাফিরের মতো মৃত্যুবরণ করে না। মুমিন যেখানেই মারা যাক, সেখানে তার জন্য কাঁদার কেউ না থাকলেও আকাশ কাঁদে, জমিন কাঁদে! এরপর মহানবী (সা) ওপরের আয়াতটি তিলাওয়াত করেন এবং বলেন, কাফিরদের জন্য এ দু’টি কাঁদে না!” (তাবারি)

ইলহামের চোখ দু’টি ভিজে উঠল! বলল, বাবা! আমিও এমন মু’মিন হতে চাই, যার জন্য আকাশ কাঁদে, জমিন কাঁদে! বাবা বললেন, আমিন।

SHARE

Leave a Reply