Home চিত্র-বিচিত্র মহাপেটুক সাগরদৈত্য -নিলক হাসান

মহাপেটুক সাগরদৈত্য -নিলক হাসান

নীল সমুদ্রে কত বিচিত্র প্রাণীর বাস। এদের সম্পর্কে কতটুকু জানি আমরা! নীলসাগরের সৌন্দর্য আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। কিন্তু এর গভীরের অদ্ভুত রহস্য সম্পর্কে কতটা জানি!
সমুদ্রের গভীরে এক ধরনের মাছ আছে যাকে এক কথায় বলা যায় দুঃস্বপ্ন! সৌভাগ্যের বিষয় যে এরা সমুদ্রের উপরিভাগে থাকে না। না হলে, এদের কাজকর্ম শুধু বিস্মিতই করত না বরং অনেক ক্ষতি করে ফেলত।
মাছটির নাম ব্ল্যাক সোয়ালোয়ার। বাংলায় বলে কৃষ্ণকায় ভক্ষণকারী। বাস করে নর্থ আমেরিকার দিকে সমুদ্রের ১০ হাজার ফুট নিচে! ক্ষুরধার দাঁতওয়ালা মাছটাকে বাঁচতে হয় বড় বড় শিকারি মাছের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে। এমনকি সুযোগ বুঝে ঝাঁক বেঁধে এরা বড় বড় মাছের ওপর হামলাও চালায়।
দ্রুত শিকারিকে সাবাড় করার জন্য প্রাকৃতিকভাবেই এরা হয়েছে মহা পেটুক। পেটের ভেতর ভরে নিতে পারে নিজের ওজনের দশ গুণ বেশি খাবার!
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরা দৈর্ঘ্যে খুবই ছোট। সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য এক ফুটের মতো। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্যরে পরিমাণ হয় ৬-৮ ইঞ্চি। কিন্তু মুখটা এদের প্রকাণ্ড।
বিশাল সব শিকারকে অনায়াসে গিলে ফেলতে পারে। নিজেদের থেকে বিশাল কাউকে চট করে মুখে ঢুকিয়ে ফেলা তো সহজ কথা না। রেজর ব্লেডের মতো ধারালো দাঁত রয়েছে এদের।
একবার শিকার মুখে ঢুকে গেলে আর যেন বেরিয়ে আসতে না পারে, সে জন্য রয়েছে কাঁটাযুক্ত তালু। ছোট্ট দেহের নিচে একটি বেলুনের মতো পেট আছে এদের।
পেটের দৈর্ঘ্যে প্রায় দ্বিগুণ এবং ভরের দিক থেকে নিজের দশগুণ যেকোনো মাছকে এরা আস্ত গিলে ফেলতে পারে! শিকারকে এরা ঠেসে পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে। একেবারে আস্ত আঁটানো চাই!
শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এদের কাজকর্মের ব্যাপারটা আসলে খুব সরল। এরা থাকে আটলান্টিক মহাসাগরের ট্রপিক্যাল এবং সাবট্রপিক্যাল অংশে, সমুদ্রের ব্যাথিপেলাজিক অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে ৩,৩০০ থেকে ১৩,০০০ ফুট নিচে।
এই গভীর পানিতে খুব সহজে শিকার পাওয়ার উপায় নেই। এরা তাই একবারে পুরোটুকু খেয়ে নিয়ে সেটাকে জমিয়ে রেখে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে।
কিন্তু সবসময় ব্যাপারটা এত শান্তিপূর্ণ হয় না এদের জন্য। খাদ্যের পরিমাণ অতিরিক্ত বেশি হলে যথাসময়ে এরা পুরো খাবার হজম করতে পারে না। তখন এই খাবার পচতে শুরু করে, যার ফলে গ্যাস তৈরি হয়।
এই গ্যাস পেটের মধ্যে চাপ দিতে থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে বিস্ফোরিতও হতে দেখা যায় ব্ল্যাক সোয়ালোয়ারকে! অনেক সময় বিস্ফোরণের ফলে ব্ল্যাক সোয়ালোয়ারের মৃতদেহ সমদ্রপৃষ্ঠে ভেসে ওঠে।
২০০৭ সালে তেমনি একটি মৃতদেহ ভেসে উঠেছিল সমুদ্রপৃষ্ঠে। এর পেটে স্নেক ম্যাককেরেল নামে একটি মাছের দেহ পাওয়া গিয়েছিল, যার দৈর্ঘ্য ছিল ৩৪ ইঞ্চি যা নিজের দৈর্ঘ্যরে প্রায় সাড়ে চারগুণ!
এই ভেসে ওঠা মৃতদেহ থেকেই এদের ব্যাপারে যা কিছুটা জানা গিয়েছে। যেমন- এদের ডিমের আকার হয় সাধারণত ১১ মিলিমিটারের মতো। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝে পাওয়া মৃতদেহগুলোর পেটেই কেবল ডিম পাওয়া গেছে। তার মানে, এই সময়টাই তাদের প্রজননের সময়।
এখনও এদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানা বাকি আছে। সাগরের তলদেশের এসব রহস্য বলে শেষ করার মতো নয়। সাগরের বিচিত্রতার রহস্য মহাশূন্যের চেয়ে কম নয়। যতই এর গভীরে যাওয়া হয় ততই বিস্ময়ানুভব সৃষ্টি করে।

SHARE

Leave a Reply