Home প্রচ্ছদ রচনা নদীমাতৃক বাংলাদেশে বর্ষাই হলো প্রাণ -মামুন মাহফুজ

নদীমাতৃক বাংলাদেশে বর্ষাই হলো প্রাণ -মামুন মাহফুজ

চৈত্রের খরতাপে শুকিয়ে যাওয়া নদীর বাটে যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে তখন প্রাণ ফিরে পায় নদীমাতৃক বাংলাদেশ। দু’কূল ছাপিয়ে কুলকুল করে বয়ে যাওয়া বানের স্রোতে ভেসে চলে যৌবনের কলতান। বর্ষায় বাংলার প্রকৃতিতে কতো শত ফুল ফোটে! কদম কেয়ার কথাতো না বললেই নয়। এ ছাড়া কামিনী, জুঁই, টগর, বেলি, চাঁপাফুলের সৌরভে সুরভিত হয় প্রকৃতি। বর্ষায় উৎপাদন হয় বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট। আউশধানের মৌসুম এটা। চালকুমড়া, ঝিঙা, করলা, ঢেঁড়স, বরবটি কতো রকমের তরকারির দেখা মেলে এই সময়।
সচল ও সজল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের নদীপথ। যাতায়াতেও অনেক সুবিধা হয়। নৌপথে স্বল্পব্যয়ে পণ্য পরিবহন সহজ হয়।
অনেক রকমের ফল পাওয়া যায় বর্ষাকালে। আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, ডেউয়া, চালতা, লটকন, তাল এরকম জনপ্রিয় রস-টসটসে ফলগুলো কিন্তু বর্ষাকালে পাওয়া যায়। তাই বলাই বাহুল্য এই বর্ষা মহান রবের শ্রেষ্ঠ দান।
‘আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মতো। অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম। অতঃপর আমি তা দিয়ে তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি। তোমাদের জন্য এতে প্রচুর ফল আছে এবং তোমরা তা থেকে আহার করে থাক। এবং ঐ বৃক্ষ সৃষ্টি করেছি, যা সিনাই পর্বতে জন্মায় এবং আহারকারীদের জন্য তৈল ও তরকারি উৎপন্ন করে।’ (সূরা মুমিনুন : আয়াত ১৮-২০)
এ থেকে আমরা জানতে পারি বৃষ্টি হলো আমাদের রিজিকের অন্যতম উৎস। জমিনে বৃষ্টিপাত হয়, তার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন হয়। আর সেই ফসলাদি খেয়ে আমরা বেঁচে থাকি।
এ ছাড়াও কিন্তু বর্ষার অনেক রূপময় দিক আছে, যা শিশু কিশোর, যুবা কিংবা বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষকেই আকৃষ্ট করে, আন্দোলিত করে।

কবির ভাষায়-
বৃষ্টি মানে হারানো এক আকাশ খুঁজে পাওয়া
ধন্য জীবন, ধন্য মাগো জন্ম কবি বেশে
আমরা সবাই কদম গাছে আষাঢ় ফোটা নদী
ভেজা শালিক, জন্ম নেব আবারও এই দেশে।

বাংলা ভাষার শক্তিমান কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কবিতা চর্চা হয়েছে বলা যায় বর্ষা আর বসন্ত নিয়ে। বর্ষা তাই শুধু প্রকৃতির প্রাণময় ঋতুই নয় বরং মানুষ ও প্রাণিজগতেরও প্রাণ।
“ঝম ঝমা ঝম বৃষ্টি পড়ে, গাঁয়ে ঢোকে জল,
বাসায় ভিজে পাখিরা সব, করছে কোলাহল।
বৃষ্টি পড়ে মুষলধারে,
মেঘ জমেছে আকাশপারে,
সকাল বিকাল অঝোর ধারায়, বৃষ্টি ঝরে অবিরল,
সকাল হতে আজিকে দেখি, নেমেছে বৃষ্টি বাদল।”

বৃষ্টিবাদল দিনে শিশু-কিশোরের দলও যেন গাঁয়ের উপচেপড়া পুকুরের জল। কিছুতেই বাঁধ মানে না। শোনে না মানা বাবা-মার। কেউ ফুটবল হাতে, কেউ মাছধরার পোলো হাতে, কেউবা ক্রিকেটের ব্যাট হাতে নিয়ে চুপটি করে বেরিয়ে পড়ে ঘর থেকে। জালহাতে কিশোরের দল বিলে-ঝিলে চলে যায় মাছ ধরতে। তারপর সারাবেলা নিখোঁজ থেকে কাচমাচু করে ভিজে চুপচুপ কিংবা কাদামাখামাখি করে ফিরে আসে ঘরে। যদিও সন্তানদের ফিরে আসায় চোখে আনন্দের ঝিলিক খেলা করে বাবা-মার, কিন্তু কপট রাগের ধমকে চাপা দিয়ে বলে- ‘যা এক্ষুনি, পরিষ্কার হয়ে গরম কাপড় পর। ঠাণ্ডা লাগলে খবর আছে।’

কে শোনে কার বারণ! শিশুরা উঠোনবাড়িতে কিংবা শহুরে বাড়িগুলোর ছাদে নাচানাচি করে। ব্যাঙ ডাকে সারারাত। এই প্রাণ-মাতানো দৃশ্য মেলে বর্ষায়। তাই বর্ষা নিয়ে কবিদের নিরন্তর ব্যস্ততা, কাব্যকথা।
“সকাল হতেই নেমেছে বৃষ্টি, আজকে সারাবেলা,
আকাশ জুড়ে কালো মেঘের, লুকোচুরি খেলা।
বৃষ্টির ধারা ঝরিছে অঝোরে,
নদী খেত মাঠ, জলে আছে ভরে,
বেড়ার ধারে, রাঙিগাই এক, বৃষ্টিতে ভিজে একেলা।
বাছুরীর কাছে নিয়ে এসো তারে, নিয়ে এসো এই বেলা।”

কী চমৎকার বর্ষা-দৃশ্য এঁকেছেন কবি। ছবির মতো সাজানো যেন। আকাশে কালো মেঘ, বৃষ্টির ফোঁটা, নদীর টইটম্বুর অবস্থা, খেত উপচানো বৃষ্টির ধারা, বাড়ির আঙ্গিনায় গাভীটি বাঁধা। চোখ বুজেও যেন দৃশ্যটি ভেসে ওঠে মানসপটে।

ছোটবেলায় আমাদের সবারই যে ছড়াটি মনের গহিনে গাঁথা ছিল সেটি হলো-
“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নদেয় এলো বান”

কিন্তু কে লিখেছে এই ছড়া? অথচ আমাদের মা-খালাদের কণ্ঠে কণ্ঠে আজ অবধি এসে পৌঁছেছে সেই ছড়াগানটি। আমরা যেমন আমাদের ছোটবেলায় শুনেছি, তেমনি আমাদের মা-খালা দাদী-নানীরাও শুনেছেন তাদের ছোটবেলায়। এভাবে কত যুগ আগে যে এই ছড়ার সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়েছে কে জানে?
“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নদেয় এলো বান”

শিব ঠাকুরের বিয়ে হবে
তিন কন্যে দান।

এক কন্যে রাঁধেন বাড়েন
এক কন্যে খান
আরেক কন্যে গোস্বা করে
বাপের বাড়ি যান।”

কবি রবীন্দ্রনাথও নিশ্চয়ই ছড়াটি তার ছোটবেলায় শুনেছেন। তিনি নিজেও এ নিয়ে কবিতা লিখেছেন।
“দিনের আলো নিবে এল সুয্যি ডোবে ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে, রঙের উপর রঙ।
মন্দিরেতে কাঁসর ঘণ্টা বাজল ঠঙ্ ঠঙ্।
ও পারেতে বিষ্টি এল ঝাপসা গাছপালা।
এ পারেতে মেঘের মাথায় একশো মানিক জ্বালা।
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলেবেলার গান –
বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।”
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসংখ্য কবিতা আছে আষাঢ় এবং বর্ষা নিয়ে। বর্ষার মুহূর্তটি কবি বর্ণনা করেছেন এভাবে-
“তখনো অস্ত যায়নি সূর্য, সহসা হইল শুরু
অম্বরে ঘন ডম্বরু-ধ্বনি গুরুগুরু গুরুগুরু!
আকাশে আকাশে বাজিছে এ কোন ইন্দ্রের আগমনী?
শুনি, অম্বুদ-কম্বু-নিনাদে ঘন বৃত্তহিত-ধ্বনি।
বাজে চিক্কুর-হ্রেষা-হর্ষণ মেঘ-মন্দুরা-মাঝে,
সাজিল প্রথম আষাঢ় আজিকে প্রলয়ঙ্কর সাজে।”

ইংরেজ-শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট এই জাতির প্রিয় কবি, বর্ষাকে তার স্বদেশী আন্দোলনের উপমা হিসেবে, জাগরণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মেঘের গর্জনের মতো গর্জে ওঠার তীব্র প্রেরণা জুগিয়েছেন।
“আজি আষাঢ়ের বজ্র-গর্ভ নবীন নীরদ-সম
গরজি উঠুক, হে স্বদেশ, তব মন্ত্র নবীনতম!
আনো খরতর প্রাণদা বন্যা, আনো পশ্চিমি হাওয়া-
টানি লয়ে যাও কঠোর সমুখে, ভোলাও পিছনে চাওয়া।”

জাতীয় কবির এই জাতীয়তাবোধ শোষণের বিরুদ্ধে আজও আমাদের জেগে ওঠার প্রেরণা দেয় বজ্রনিনাদে। সকল অন্যায় জুলুমকে মুখ বুজে সহ্য না করে মেঘের মতো গর্জন করতে বলে।
তাই বর্ষা শুধু প্রাণ ও প্রকৃতির অপরূপ রূপভোগের ঋতুই নয় বরং বর্ষা আমাদের জাতীয় চেতনারও ঋতু।
বর্ষাকাল আমাদের প্রকৃতির জন্য অপরিহার্য এক ঋতু। বর্ষা হলে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো ভরে যায়, ভরে যায় গাঁয়ের পুকুর ডোবা-নালা-খাল-বিল, ঝিলের মতো সকল জলাধার। ভরা নদীতে প্রাণ ফিরে পায় শত প্রকার মাছ ও জলজপ্রাণী। বৃষ্টির পানিতে চাষাবাদ হয়। শস্যশ্যামল হয়ে ওঠে আমাদের ক্ষেতখামার, কৃষিজমি। বৃষ্টি না হলে খরায় বিবর্ণ হয়ে যায় আমাদের ফসলি ক্ষেত। হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি।
তাই বর্ষা শুধু কবি-সাহিত্যিকদের নয় বরং প্রকৃতির চাষিকবি, জীবিকাসন্ধানী মানুষেরও অন্যতম প্রিয় ঋতু।
বৃষ্টির অপরিহার্যতা অনুধাবন করে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন।
বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে সুপেয় পানীয়ের বড় উৎস। বিচিত্র জৈবব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি সচল রাখতে ও কৃষি সেচব্যবস্থা সচল রাখতে বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। তাই মানুষ কিন্তু এখন কৃত্রিমভাবেও বৃষ্টিপাতের সূচনা করতে চেষ্টারত।
কৃত্রিম বৃষ্টির কথা প্রথম ভেবেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট শায়েফার। তিনি বাতাসের জলীয় বাষ্পকে জমাট বাঁধিয়ে মেঘ বানাতে ব্যবহার করেছিলেন জমাটবাঁধা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের টুকরা (ড্রাই আইস: উৎু ওপব)। তিনি বার্কশায়ার পাহাড়ের কাছে ড্রাই আইস ছুড়ে দিয়ে তুলোর মতো মেঘ বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তাকেই কৃত্রিম মেঘের জনক বলা হয়ে থাকে।
কৃত্রিম বৃষ্টি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশার বাণী নিয়ে এসেছে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে চীন। চীনের উত্তর অংশে বৃষ্টিপাত সাধারণত খুব কম হয়। পানির অন্যান্য উৎসগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ খারাপ। তাই কৃত্রিম বৃষ্টি কাজে লাগিয়ে তারা ইচ্ছামতো বৃষ্টি ঝরিয়ে নদ-নদীর পানি ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে বৃষ্টিমুক্ত রাখতেও কাজে লাগানো হয় এই কৃত্রিম বৃষ্টির পদ্ধতি।
কিন্তু কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে কি না, তা এখনও সন্দেহের অতীত নয়। বেইজিংয়ের প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো অভিযোগ এনেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় তাদের বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প টেনে নেওয়া হচ্ছে। যথেচ্ছ কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের এই ব্যবস্থা বৈশ্বিক উষ্ণায়ণও ঘটাতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
তাই অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য এই কৃত্রিম বৃষ্টির চেয়ে প্রাকৃতিক বৃষ্টির ধারা চালু রাখতে প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো করে বাঁচতে দিতে হবে। উষ্ণায়ণ কমিয়ে আনতে হবে।

আর প্রাকৃতিক বৃষ্টির জন্য আমাদেরকে অবশ্যই মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রার্থনা করতে হবে। হাদিসে কুদসিতে আছে আল্লাহ বলেছেন, যদি আল্লাহর বিধিবিধান সঠিকভাবে মেনে চলা হয় তাহলে মানুষের জন্য উপকারী বৃষ্টি দেবেন তিনি।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যদি আমার বিধান যথাযথ মেনে চলত, তবে আমি তাদের রাতের বেলায় বৃষ্টি দিতাম আর সকাল বেলায় সূর্য (আলো) দিতাম এবং কখনও তাদের বজ্রপাতের আওয়াজ শুনাতাম না।’ (মুসনাদে আহমদ)

আবার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই আকাশে মেঘ ও বিদ্যুৎ চমকানো দেখলে এবং গর্জন শুনলে পেরেশান হয়ে যেতেন। মেঘের গর্জনের সময় তিনি কথাবার্তা ছেড়ে দিতেন। মেঘের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ থাকতে তাসবিহ এবং দোয়া পাঠ করতেন।
প্রিয়নবী এ দোয়া পড়তেন-
“আল্লাহুম্মা হাওয়াইলানা ওয়া লা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল ঝিবালি ওয়াল উঝামি ওয়াজ জিরাবি ওয়াল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজারি।”
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ কর। আমাদের ওপরে করিও না। হে আল্লাহ! টিলা, পাহাড়, উচ্চভূমি, মালভূমি, উপত্যকা এবং বনাঞ্চলে বৃষ্টি বর্ষণ কর।’ (বুখারি)

কিন্তু এই বৃষ্টির পানি যদি যথাযথভাবে কাজে লাগানো না যায় তাহলে তার ক্ষতিও সইতে হয় আমাদের। যেমন নগরায়ণের ফলে, ডোবা-নালা ভরাটের ফলে, জলাধার দখলের ফলে বৃষ্টির পানি সরার জায়গা না পেলে রাস্তাঘাট ডুবে যায়, নদীখননের অভাবে পলিজমা নদীতে ঠাঁই না পেয়ে বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় কৃষকের ক্ষেত। পয়ঃনিষ্কাশনের অভাবে শহরের রাস্তাগুলো নদীর মতো জলাশয়ে পরিণত হয়। তাই বর্ষার আগেই নদীখনন, পয়ঃনিষ্কাশন করা জরুরি, ডোবা-নালা ভরাট রোধ করা উচিত। তবেই বর্ষার উপকারিতা যথাযথ পেতে পারি আমরা।

SHARE

Leave a Reply