Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো বিলাল হোসাইন নূরী

বিলাল হোসাইন নূরী

ইফতার সাজিয়ে বসে আছে সবাই। বেশ গরম পড়ছে, তবুও হৃদয়জুড়ে শীতল অনুভব। সিয়ামের সৌন্দর্য তো এখানেই!
প্রতিদিনই, ইফতারের আগে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়। আজ কথা বলবে সামিয়া। সামিয়া বলল, আমার মনে হচ্ছে জান্নাতের অনাবিল ঘ্রাণে আমাদের ঘরটা মধুময় হয়ে উঠছে! কারণ কী, জানো? মহানবী (সা) বলেছেন, “রমাদান মাস এলে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে করা হয় শিকলবন্দী।” (মুসলিম)। জান্নাতের খোলা দরজা দিয়ে মুমিনের ঘরেই তো রহমত আসবে, না-কি?
আব্বু-আম্মুসহ সবাই তাকিয়ে আছে সামিয়ার দিকে। এত সুন্দর কথা শুনে তারা একটু অবাকই হলেন। তাদের চোখে-মুখে যেন ঝলমল করছে আনন্দরেখা!
আবিদ বলল, আচ্ছা আপু বলো তোÑ জান্নাতের দরজা কয়টি? আমি কিন্তু এর উত্তর জানি! ভুল বললে নিশ্চয়ই ধরা খেয়ে যাবে! সামিয়া বলল, অত পাকনামো করতে হবে না। শোনো, জান্নাতের দরজা আটটি। একেক আমলের জন্য একেক দরজা। তুমি যে আমল করবে, সে আমলের দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন, সিয়াম পালনকারীদের জন্য রয়েছে ‘রাইয়্যান’ দরজা। কারো কারো জন্য আবার জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা, সে দরজা দিয়েই সে প্রবেশ করতে পারবে।
আবিদ বলল, এমন কারো নাম কি জানো- যার জন্য আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে? সামিয়া বলল, একবার আবু বকর (রা) মহানবীর (সা) কাছে জানতে চাইলেন, কাউকে কি সকল দরজা থেকেই ডাকা হবে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ! আমি আশা করছি, তুমিও তাদের একজন’। (বুখারি)। সবাই একসাথে বলে উঠল সুবহানাল্লাহ।
আব্বু বললেন, আচ্ছা মা! বলো তো জান্নাতের দরজাগুলো কেমন হবে? সামিয়া বলল, অনেক প্রশস্ত। চওড়া। হাদিসের ভাষায়, মক্কা ও বাহরাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব অথবা মক্কা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান! (বুখারি)।
ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছে। আম্মু বললেন, চলো- আমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাই। আমাদের জন্য যেন খুলে রাখা হয়, তার প্রতিটি বিলাসবহুল দরজা!

SHARE

Leave a Reply