Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো কেউ ছোট নয়

কেউ ছোট নয়

সেদিন বিকেলে, ছোটভাই ইরফানের সাথে তারেক হাসানও খেলার মাঠে গিয়েছিল। সারা মাঠজুড়ে ঘাসের গালিচা। একদিকে সবুজের মায়া, অন্যদিকে নরম রোদের ঝিকিমিকি। সাথে আছে বাসন্তী হাওয়া। ভীষণ ভালো-লাগায় মনটা হয়ে উঠেছিল ভালোবাসাময়!
ইরফানের কিছু সহপাঠী-বন্ধুও এসেছে মাঠে। তারেক ভাবল, তাদের সাথে ভাব জমানোর এই তো সময়!
তাদের নিয়ে মাঠের এক কোণে, ঘাসের ওপর বসে পড়ল সে। এই কথা, সেই কথার বাঁকে বাঁকে তারেক তাদের শোনাতে লাগল নানা রঙের গল্প। জীবন গড়ার সোনালি উপদেশ। সবাই এতটাই মুগ্ধ, খেলার কথাই ভুলে গেল শেষে!
হঠাৎ ইরফানের চোখ গেল মাঠের অন্য প্রান্তে। খিলখিল করে হেসে উঠল সে। সবার মনোযোগ এখন সেদিকেই। হেসে উঠল অন্যরাও। তারেকও তাকাল। দেখল, একটা ছেলে- যার এক হাত নেই কিন্তু অন্য হাতে সে বোলিং করছে। ইরফান ও তার বন্ধুদের কাছে এ দৃশ্যটাই হাস্যকর মনে হয়েছে। ভাবখানা এমন, ওর আবার খেলা কিসের!
তারেক আবার কথা শুরু করল। বলল, ওই ছেলেটাকে নিয়ে আমরা হাসছি কেন? সে-তো চেষ্টা করছে, নিজের দুর্বলতাকে জয় করার। সবার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার। আচ্ছা, সে-কি আমাদের প্রেরণার উৎস হতে পারে না? একবার মহানবী (সা) প্রভাবশালী কুরাইশ নেতাদের সাথে বৈঠক করছিলেন। এমন সময় একজন অন্ধ সাহাবি তার কাছে এলে তিনি একটু ভ্রু কুঁচকালেন। ওই সাহাবির প্রতি তার অবজ্ঞা ছিল না, কমতি ছিল না ভালোবাসারও। তবুও, আল্লাহ তায়ালা বিষয়টা পছন্দ করলেন না। আয়াত নাজিল করে বললেন, “সে ভ্রু কুঁচকাল এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো। কারণ, তার কাছে অন্ধ লোকটি এসেছিল। তুমি কিভাবে জানবে, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো!” (সূরা আবাসা : ১-৩)।
তারেক বলল, দেখো, আল্লাহ তার রাসূলকেও কত কঠিনভাবে বলেছেন। অথচ, তিনি কোনো ভুল করেননি। আর আমরা যেটা করেছি, তা-তো রীতিমতো অন্যায়! জেনে রাখো, মানুষ সম্মানিত হয় তাকওয়ার মাধ্যমে, অন্য কিছুতে নয়।
ইরফান বলল, আজ থেকে আমরা কাউকেই ছোট ভাববো না। তার বন্ধুরাও সুর মেলালো একসাথে।
– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply