Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো জান্নাতের বৃক্ষ

জান্নাতের বৃক্ষ

প্রতিদিনের মতো, ফজরের পর দাদার হাত ধরে আজও বেরিয়ে পড়েছে হাস্সান। ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে চারদিকে। হাস্সানের মন যেন দুলে উঠছে পালতোলা নায়ের মতো। দাদা হাস্সানের আঙুল ধরে হাঁটছেন আর গুনগুন করে কী যেন বলছেন। হাস্সান জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমি বলছি- ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহাম্দিহি’। আর এ দোয়া কেউ একবার পড়লে জান্নাতে তার জন্য একটি খেজুর বৃক্ষ রোপণ করা হয়! (তিরমিজি)। সাথে সাথে হাস্সানও পড়ে নিলো। তারপর বলল, আচ্ছা দাদা! জান্নাতে আর কী কী বৃক্ষ আছে?

দাদা বললেন, জান্নাতে আছে আঙুর, ডালিম, কুল, কদলিসহ নানা ধরনের বৃক্ষ। মহানবী (সা) বলেছেন, জান্নাতে যে বৃক্ষ থাকবে, তার কাণ্ড হবে স্বর্ণের! (তিরমিজি)।

কিছু বৃক্ষ হবে ছায়াদার। আল্লাহ বলেছেন, ‘ডানদিকের লোকজন থাকবে সম্প্রসারিত ছায়ায়।’ (সূরা ওয়াকিয়া : ৩০)। এ ছায়া এতটাই সম্প্রসারিত যে, ‘কোনো ঘোড়সওয়ার একশ বছর ঘোড়া হাঁকালেও তার ছায়া শেষ হবে না।’ (বুখারি)। যে বৃক্ষ থেকে জান্নাতবাসীদের বস্ত্র তৈরি হবে, তার নাম ‘তুবা’। মহানবী (সা) বলেছেন, তুবা জান্নাতের একটি বৃক্ষ। যার বিস্তৃতি একশ বছরের পথ। এর মোচা থেকে জান্নাতবাসীদের বস্ত্র তৈরি হবে’। (আহমদ)।

জান্নাতের আরেকটি বৃক্ষ রয়েছে, যার নাম ‘সিদরাতুল মুনতাহা’। সীমান্তের কুলবৃক্ষ। এ বৃক্ষের কাছেই মহানবী (সা) জিবরিলকে তার নিজের আকৃতিতে দেখেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল। সীমান্তের কুলবৃক্ষের কাছেঅ’ (সূরা নাজম : ১৩)। বিভিন্ন রং বৃক্ষটিকে তখন আচ্ছাদিত করে রেখেছিল। এ বৃক্ষের ফল, পাথরের কলসির ন্যায়। পাতা, হাতির কানের মতো।

সব শুনে হাস্সান বলল, সুবহানাল্লাহ। দাদা মুচকি হেসে বললেন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবারকেও জান্নাতের রোপণকৃত বৃক্ষ বলা হয়! (তিরমিজি)। চলো, আমরা বেশি বেশি এগুলো পাঠ করি। আর ফুলে-ফলে সুশোভিত জান্নাতের অপরূপ বৃক্ষরাজির মালিক হয়ে যাই!

– বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply