Home চিত্র-বিচিত্র গোলাপি ডলফিন । রিয়াজুল ইসলাম

গোলাপি ডলফিন । রিয়াজুল ইসলাম

গোলাপি ডলফিন । রিয়াজুল ইসলামপৃথিবীতে যে পাঁচ প্রজাতির স্বাদুপানির ডলফিন পাওয়া যায়, গোলাপি ডলফিন তাদের মধ্যে অন্যতম।
দক্ষিণ আমেরিকায় আমাজন নদীর স্বাদুপানির বাসিন্দা এই গোলাপি ডলফিন আর বাকি চার প্রজাতির ডলফিনের থেকে আকারে তুলনামূলকভাবে বড়। এরা গোলাপি বর্ণের হলেও সমুদ্রের ডলফিন থেকে আলাদা।
একটি পূর্ণ বয়স্ক ডলফিন ছয় থেকে আট ফুট লম্বা এবং ২০০ থেকে ৩৫০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন হয়। তবে জন্মের পর বাচ্চা ডলফিনের ওজন হয় মাত্র ১ কেজি আর লম্বায় থাকে ৩০ ইঞ্চি।
অন্যান্য স্বাদুপানির ডলফিনের তুলনায় এদের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি প্রখর। আকার-আকৃতিতে এরা অন্য সাত প্রজাতির ডলফিনের চেয়ে বড়। ঘাড়ে বিশেষ ধরনের কশেরুকা থাকায় এরা সহজেই ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁক নিতে পারে। এরা ধনুকের মতো শরীর বাঁকাতে পারে। যেখানে অন্যান্য স্বাদুপানির ডলফিন বিপদাপন্ন বা প্রায় বিলুপ্তির পথে, সেখানে গোলাপি ডলফিন এখন পর্যন্ত মিঠাপানির ডলফিনদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় বিদ্যমান। এরা গোলাপি ডলফিন নামে পরিচিত হলেও এদের গায়ের রঙ হালকা ধূসর বা বাদামিও হয়ে থাকে।
এদের বুদ্ধিমত্তাও অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।
গোলাপি ডলফিন । রিয়াজুল ইসলামগোলাপি ডলফিন সাধারণত কাঁকড়া, ক্যাটফিশ এবং ছোট ছোট নদীর মাছ খেয়ে থাকে। বছরে একবারই এরা বাচ্চা দেয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা প্রায় ৩০ বছর বাঁচে। বাংলাদেশেও দেখা গেছে এই গোলাপি ডলফিন। বঙ্গোপসাগরে ও মোহনায় কালেভদ্রে এদের দেখা মেলে। বন বিভাগ ও বন্য প্রাণী গবেষকদের একটি দল সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে অপূর্ব সুন্দর ওই প্রাণীর দেখা পেয়েছে।
২০০২ সালে প্রথমবারের মতো ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির একটি জরিপে বাংলাদেশে গোলাপি ডলফিনের অস্তিত্বের কথা জানানো হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে বঙ্গোপসাগরে দেখা যায়। কিন্তু সুন্দরবনের সীমানায় এই প্রথমবারের মতো এদের দেখা গেল।
ব্যতিক্রমী গায়ের রং ছাড়া এই ডলফিনের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এর আকৃতি ও ওজন। দূষণ ও নৌযানের যাতায়াত যেখানে বেশি, সেখানে তারা থাকতে পছন্দ করে না। ফলে বঙ্গোপসাগরের অতল অংশ ও মোহনায় এদের মাঝে মধ্যে দেখা যায়।
আমাজনের লোকজন এ ডলফিনকে খুবই পবিত্র বলে বিশ্বাস করে। তারা কখনো গোলাপি ডলফিন মারে না। তারা মনে করে, গোলাপি ডলফিনের চোখে চোখ রেখে তাকালে সারা জীবন দুঃস্বপ্ন দেখতে হবে। তাই তারা ভুলেও কখনো কোনো গোলাপি ডলফিনের চোখের দিকে সরাসরি তাকায় না।

SHARE

Leave a Reply