Home বিজ্ঞান ও বিশ্ব বিপজ্জনক পর্যটন স্থান । আল জাবির

বিপজ্জনক পর্যটন স্থান । আল জাবির

বিপজ্জনক পর্যটন স্থান । আল জাবিরমানুষ তার জানার পরিসর যত বাড়িয়েছে ততই বেড়েছে পৃথিবীর রহস্যের সীমানা। নিত্য-নতুন রহস্যের জালে পৃথিবী যেন নিজেকে জড়িয়ে রেখেছে। অজানাকে জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষা থেকেই সামনে এসেছে বহু রহস্য।
তুর্কিমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাত থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রাম আছে, যার নাম হচ্ছে দারভাযা। সাদামাটা এই গ্রামটিতে বাস করে তেকে উপজাতির প্রায় ৩০০ জন মানুষ। এই গ্রামে গেলে দেখা যাবে হিম করা এক দৃশ্য।
বিশাল একটি গর্ত যার ভেতরে জ্বলছে গনগনে আগুন! আরও আশ্চর্যজনক বিষয় গোলাকার এই গর্তের ব্যাস হল প্রায় ৭০ ফিট! তেকে উপজাতির লোকেরা এই জায়গাটিকে খুব ভয় পায়। তারা জায়গাটিকে শুধু এড়িয়ে চলে তা না, তারা এর নাম দিয়েছে নরকের দরজা।
দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা এই নরকের দরজা প্রাকৃতিক কোনো গর্ত নয়। ১৯৭১ সালের আগেও এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। আর দশটা মরুভূমির মতো এটিও কাকারুম মরুভূমির একটা অংশ ছিল। এটা কোন প্রাকৃতিক গর্ত নয়। এটা মূলত ছিল একটি গ্যাস ক্ষেত্র। এই স্থানের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ এই ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে।
প্রথমে তারা মনে করেছিল এটি একটি তেলক্ষেত্র তাই ড্রিলিং মেশিন দিয়ে তেল উত্তোলনের জন্য সেখানে তারা ক্যাম্প স্থাপন করে।
তেল উত্তোলনের প্রচেষ্টায় কাজ করার সময় দুর্ঘটনাক্রমে সেখানকার মাটি ধসে পড়ে। পুরো ড্রিলিং রিগসহ সবকিছু চলে যায় মাটির নিচে। মারা যায় অনেক লোক। আর সৃষ্টি হয় আগুনে ভরা বিশাল গর্ত।
বিশাল সেই গর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস। পরিবেশে বিষাক্ত গ্যাস প্রতিরোধ করার জন্য ভূতত্ত্ববিদরা তখন গ্যাস ওঠার মুখটি জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের ধারণা ছিল এখানে সীমিত পরিমাণ গ্যাস থাকতে পারে। কিছুক্ষণ আগুন জ্বালিয়ে রাখলে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে এবং আবার তারা কাজ শুরু করতে পারবে।
বিপজ্জনক পর্যটন স্থান । আল জাবিরকিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে এটি সেই ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এখনও জ্বলছে। ৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে, এখনও আগুন জ্বলছে।
রাতের বেলা আগুনের শিখাগুলো বেশস্পষ্ট হয়। প্রায় ২.৫ বর্গমাইল দূর থেকে এর আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। সে সময় দূর থেকে এই দৃশ্য ভয়ঙ্কর সুন্দর লাগে। এই গর্তের কাছাকাছি আগুনের উত্তাপ এত বেশি থাকে যে সেখানে কেউ পাঁচ মিনিটের বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।
২০১০ সালের এপ্রিলে তুর্কমেনিস্তানের রাষ্ট্রপতি গ্যাসক্ষেত্রটি পরিদর্শন করে এটি বন্ধের কথা বলেন।
তিনি বলেন তা না হলে ওই এলাকার অন্যন্য প্রকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে তুর্কমেনিস্তান তার প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে। বর্তমান ৭৫ মিলিয়ন কিউবিক মিটার থেকে গ্যাস উত্তোলন করে ভারত, রাশিয়া, চীন, ইরান ও পশ্চিম ইউরোপে পরবর্তী ২০ বছর তারা রপ্তানি করার চিন্তা করছে।
এই জায়গাটি একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই নরকের দরজা দেখতে আসেন। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের অধিক পর্যটক সেখানে পরিদর্শন করেছেন। উইল কিপিং নামের ৫৭ বছর বয়সী এক স্কট-নাগরিক পর্যটক হিসেবে প্রথম সেখানে ভ্রমণ করেন। এখানে ঘুরতে আসা মানুষরাও এই নামের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
ভ্রমণবিলাসী মানুষদের জন্য এটি একটি বিস্ময়কর দৃশ্য।

SHARE

Leave a Reply