Home প্রচ্ছদ রচনা যেসব পাখির উড়তে মানা । রিয়াজুল ইসলাম

যেসব পাখির উড়তে মানা । রিয়াজুল ইসলাম

যেসব পাখির উড়তে মানা । রিয়াজুল ইসলামআকাশে দোয়েল, শালিক, কাক দেখে যেমন আমরা পাখির উড্ডয়ন ক্ষমতায় বিস্মিত হয়েছি, তেমনি এমন কিছু পাখির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যারা একদমই উড়তে পারে না। উড়তে না পারার অভাবটুকু পূরণ করতে তারা বেছে নিয়েছে অভিনব সব অভিযোজন।
পাখিদের দেহের হাড় বেশ ফাঁপা এবং বায়ু দ্বারা পূর্ণ হয়। এই গুণকে কাজে লাগিয়ে এরা আকাশে উড়তে পারে। উড্ডয়ন করার ক্ষমতা পাখিদের জন্য খুব দরকারি একটি বৈশিষ্ট্য।
উড়তে পারার ক্ষমতা পাখির জন্য দরকারি হলেও, এর জন্য পাখির প্রচুর পরিমাণ শক্তি খরচ করতে হয়। এর ফলে উড়তে পারা পাখিদের দেহের আকার ক্ষুদ্র হয়ে থাকে।
কিন্তু যেসব পাখি উড়তে পারে না, তারা এই শক্তি দেহে জমা রেখে ডাঙায় বেঁচে থাকার কাজে খরচ করে। পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ৬০ প্রজাতির উড়তে না পারা পাখিদের অনেকেই বৈরী পরিবেশে খাদ্যস্বল্পতার মাঝে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। উড়তে না পারা পাখিদের তালিকায় রয়েছে- পেঙ্গুইন, উটপাখি, ইমু, ওয়েকা, ক্যাসোওয়ারিস, স্টিমার হাঁস, রিয়াস, গ্রেবেস প্রভৃতি পাখি।

অস্ট্রিচ
অস্ট্রিচ

অস্ট্রিচ
অস্ট্রিচ শুধু উড়তে না পারা নয়, বরং সকল পাখির সর্দার মানা হয় শক্তিশালী অস্ট্রিচ বা উট পাখিকে। এই বিশালদেহী উটপাখির ডিম পৃথিবীর বৃহত্তম। যার ওজন ৩ পাউন্ড। উড়তে না পারা এই পাখিদের প্রধান প্রতিরক্ষা অস্ত্র এদের পা। এই শক্ত পায়ের সাহায্যে এরা বেশ দ্রুত দৌড়াতে পারে। এদের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৭৩ কিলোমিটার। শত্রুর মুখোমুখি হলে এরা পায়ের সাহায্যে আঘাত করতে পারে। উটপাখির প্রধান বাসস্থান আফ্রিকা। আফ্রিকার উন্মুক্ত ভূমিতে এরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে খুব অল্প সংখ্যক উটপাখি পাওয়া যায়।

পেঙ্গুইন
পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইন
অ্যান্টার্কটিকার শীতল পরিবেশে বসবাস করা সাঁতার কাটা পাখি পেঙ্গুইন। প্রায় ১৮ প্রজাতির পেঙ্গুইন রয়েছে এবং এদের কেউই উড়তে পারে না। তবে এদের পাখা রয়েছে যা সাঁতার কাটার জন্য মোক্ষম অঙ্গ হিসেবে কাজে দেয়। একটি পেঙ্গুইন তার জীবনের বড় একটা সময় সাঁতার কেটে কাটিয়ে দেয়।
অ্যান্টার্কটিকা ছাড়াও এরা গ্যালাপাগোস দ্বীপাঞ্চলে বসবাস করে। এরা লম্বায় মাত্র ৪ ফুটের মতো হয়।
সরু এবং ক্ষুদ্র পায়ের সাহায্যে এরা বেশ নান্দনিকভাবে হেঁটে বেড়ায়। এরা মাছ, ক্রিল এবং স্কুইডজাতীয় প্রাণীর ওপর জীবনধারণের জন্য নির্ভরশীল।

ক্যাসোওয়ারিস
ক্যাসোওয়ারিস

ক্যাসোওয়ারিস
ক্যাসোওয়ারিস পাখি একটু দস্যিধরনের। পাপুয়া নিউগিনি অঞ্চলে বাস করা এই পাখি তার গুণ্ডামির জন্য বিখ্যাত। এরা উড়তে না পারলেও অন্যান্য পাখিদের ভয়ে উড়িয়ে দিতে ভালোবাসে। এরা শিকারি পশু এবং শত্রুর দিকে ক্ষিপ্রগতিতে আক্রমণ করে এবং কর্কশ কণ্ঠে চিৎকার করতে থাকে। এদের গোপন অস্ত্র হিসেবে রয়েছে প্রায় ৪ ইঞ্চি লম্বা ধারালো নখর। এই নখরের সাহায্যে এরা বড় আকারের প্রাণী, এমনকি মানুষকেও মেরে ফেলতে পারে।
এই ভয়ঙ্কর পাখি সর্বভুক বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে।
ফলমূল, লতাপাতার বাইরে পোকামাকড় খেয়ে এরা জীবনধারণ করে। ওজন এবং আকারের বিচারে এদের অবস্থান উটপাখির ঠিক পরে।
এরা স্থলে বেশ দাপটের সাথে পদচারণা করে। যদি ডাঙায় বসেই রাজত্ব করা যায়, তাহলে আর আকাশে উড়ে বেড়ানোর প্রয়োজন কী?

কিউই
কিউই

কিউই
পাঁচটি ভিন্ন প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত কিউই পাখির জাত। দেখতে বেশ নাদুসনুদুস এই পাখির প্রধান বাসস্থল নিউজিল্যান্ড। এই পাখির নামের সাথে মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয়দের কিউই নামে ডাকা হয়ে থাকে।
এদের লুকানো পাখা রয়েছে, যেখানে চুলের মতো বেশ হালকা পালক রয়েছে। কিউইদের নাসারন্ধ্রের অবস্থান এদের সরু ঠোঁটের শীর্ষে।
পর্যটকদের কাছে কিউই পাখি এক অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। এর কারণ, এরা দেখতে বেশ আদুরে হয়ে থাকে। কিউই পাখির ডিম তুলনামূলক ছোট হলেও, দেহের বিচারে এরা সবচেয়ে বড় ডিম পাড়ার বিশ্বরেকর্ড দখলে রেখেছে।

স্টিমার হাঁস
স্টিমার হাঁস

স্টিমার হাঁস
জানা যায়, চার প্রজাতির স্টিমার হাঁসের মধ্যে তিন প্রজাতি উড়তে পারে না। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, চতুর্থ প্রজাতির উড়ন্ত স্টিমার হাঁসদের মধ্যে অনেক পুরুষ উড়তে পারে না। এর প্রধান কারণ অতিরিক্ত ওজন বা ওভারওয়েট! ল্যাটিন আমেরিকার না উড়তে পারা এই হাঁসদের নামের সাথে যুক্ত আছে জলযান স্টিমারের নাম। এর কারণ, এরা যখন পানি দিয়ে দ্রুত ছুটে যায়, তখন এরা স্টিমারের মতো পানি ছিটিয়ে দেয়।
এরা দেখতে হাঁসের মতো নিরীহ হলেও বাস্তবে খুবই আগ্রাসী স্বভাবের হয়ে থাকে। নিজের জায়গা ভাগাভাগি নিয়ে এরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে মেতে ওঠে। এরা লড়াইয়ে নিজের আকারের চেয়ে বড় যেকোনো পাখিকে হত্যা করতে পারে।
এই পাখিগুলো আকর্ষণীয় হলেও ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে, ইউনেস্কো থেকে এসব পাখিকে বিপন্ন চিহ্নিত করে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের সচেতনতার অভাবে এদের সংখ্যা দিনের পর দিন কমেই চলেছে। তাই এদের রক্ষায় আমাদের দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

SHARE

Leave a Reply