Home কুরআন ও হাদিসের আলো অজুর আলো

অজুর আলো

ইশার সালাতের আজান হয়ে গেছে। দাদু অজু করে এসে ফারিহাকে বললেন, অজু করে এসো। আমরা একসাথে সালাত আদায় করবো। অজুর কথা শুনে ফারিহার মনে হলো, আজ দাদুর কাছে একটা বিষয়ে জানতে চাইবে। ছোটবেলা থেকেই সে দেখে আসছে, অজুর প্রতি দাদু খুবই যত্নশীল। শুধু সালাতের জন্য নয়, সবসময়ই তিনি অজুর সাথে থাকেন। এর কারণ কী?
সালাত শেষ। ফারিহা প্রশ্ন করলো দাদুকে। দাদু মুচকি হেসে বললেন, অজু তো আলোর প্রতীক! আলো? বুঝে এলো না ফারিহার। দাদু এবার বললেন, মহানবী (সা)-এর ভাষায় শোনো। তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে ডাকা হবে। তাদের অজুর অঙ্গগুলো থাকবে উজ্জ্বল। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে তার উজ্জ্বলতা বাড়াতে চায়, সে যেন তা-ই করে। (বুখারি, মুসলিম)।
ফারিহা বললো, সুবহানাল্লাহ। আচ্ছা দাদু, এখানে উজ্জ্বলতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তা কিভাবে? দাদু বললেন, কেউ চাইলে অজুর সীমার চেয়েও বেশি ধুয়ে নিতে পারবে। তখন সেই বাড়তি অংশও আলোকিত হবে! শুধু তা-ই নয়, মহানবী (সা) বলেছেন, মুমিনদের অজুুর জায়গাসমূহে অলঙ্কার পরিয়ে দেয়া হবে। (মুসলিম)।
দাদু বললেন, সাহাবিরা একবার মহানবী (সা)-কে বললো, আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো আসেনি, তাদের আপনি কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেন, আচ্ছা! যদি কালো রঙের ঘোড়ার দলে কোনো লোকের এমন ঘোড়া থাকে, যেগুলোর কপাল ও পা সাদা- তাহলে সে কি তার ঘোড়া চিনতে পারবে না? তারা বললেন, অবশ্যই পারবে। তিনি বললেন, আমার উম্মতরাও অজুর কারণে কিয়ামতের দিন উজ্জ্বলরূপে আসবে। আর আমি তাদের আগেই হাউজে কাউসারে পৌঁছে যাবো। (মুসলিম)।
ফারিহার চোখে মুখেও যেন আশার আলো ঠিকরে পড়ছে। সে ভাবতেও পারেনি অজুর এত ফজিলত। পরম কৌতূহলে সে বলল- দাদু! এ বিষয়ে তুমি আরও যা যা জানো, আমাকে সব বলো। দাদু ফারিহার মাথায় হাত রাখলেন। মমতার পরশ বুলিয়ে বললেন, যে ব্যক্তি খুব সুন্দরভাবে অজু করে, তার দেহ থেকে গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে। এমনকি নখের নিচ থেকেও। (মুসলিম)।
ফারিহা শুধু অবাকই হচ্ছে। ভাবছে, এখন থেকে সে সব সময় অজুর সাথে থাকবে।
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply