Home বিজ্ঞান ও বিশ্ব আফ্রিকার ছাদ বলে যাকে । আল জাবির

আফ্রিকার ছাদ বলে যাকে । আল জাবির

আফ্রিকার ছাদ বলে যাকেআমাদের এই পৃথিবীটা যে সত্যিই সুন্দর তা একটু ভালো করে দেখলেই বোঝা যায়। সেই আদিকাল থেকেই কতোই না অবাক করা আশ্চর্য অদ্ভুত স্থান পৃথিবীতে রয়েছে। এসবের প্রত্যেকটিই মানুষের কাছে আজো বিস্ময়ের। মাউন্ট কিলিমান্জারো তেমনি একটি স্থান। মাউন্ট কিলিমানজারো বা আফ্রিকার ছাদ বা দ্য রুফ টপ অফ আফ্রিকা।
কিলিমানজারো-এর অর্থ উজ্জ্বল পর্বত। কিলিমানজারো আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মুক্ত স্থলপর্বত হিসেবে পরিচিত। এটি একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, যা পূর্ব আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়ার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৯৩৪১ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এর দু’টি শৃঙ্গ ১১ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এবং একটি খাড়া ঢালের মাধ্যমে যুক্ত। শৃঙ্গ দু’টির নাম কিবো এবং মায়োসি। উচ্চতর শৃঙ্গটির নাম কিবো এবং এটি সমুদ্র সমতল থেকে ৫,৮৯৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। মাওয়েসিনামের অপর শৃঙ্গটি হাজারো মিটার উঁচুতে অবস্থিত। যদিও কিলিমানজারো বিষুবরেখার মাত্র ৩ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত, কিবোর জ্বালামুখ সর্বদাই বরফে আবৃত থাকে। তুষারময় শিখরসহ, পর্বতটি সাভানাকে ঘিরে আছে। তবে ১৯১২ সালের তুষারের পরিমাণ বর্তমান সময়ের চেয়ে বেশি ছিল। এখন তুষারের পরিমাণ প্রায় ৮০% কমেছে বলে অনুমান করা হয়। ১৯৬২ সাল থেকে এটি প্রায় ৬২% হিমবাহ হারিয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে। কিলিমানজারো পর্বতের তাপমাত্রা -১৮ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো থাকে। বাতাসের স্বল্পতা দেখা গেলে তাপমাত্রা খুব ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
কিলিমানজারো থেকে ২০০ বছর আগে শেষ আগ্নেয়গিরির ঘটনা ঘটেছিল এবং ৩৬০০০০ বছর আগে কিবোতে শেষ ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছিল। এর পরে এখান থেকে আর কোনো অগ্নুৎপাত হয়নি। সেখান থেকেই সুপ্ত অবস্থায় আছে মাউন্ট কিলিমানজারো।আফ্রিকার ছাদ বলে যাকেকিলিমানজারোর খাড়া ঢালে বেশ কয়েকটি ভিন্ন প্রকৃতির উদ্ভিজ্জ অঞ্চল আছে। ঢালের নিম্ন অংশে কফিও প্ল্যান্টেন চাষ করা হয়। এটি আফ্রিকার সাতটি প্রাকৃতিক বিস্ময়ের অন্যতম একটি হিসেবে গণ্য হয়। কিলিমানজারো, আগ্নেয়গিরির স্তূপ পর্বতটির জাতীয় উদ্যান সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা করে। পর্বতটি বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদকুল ও প্রাণিকুলসহ পরিপূর্ণ। অনেক বিপন্ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এখানে রয়েছে। এখানে প্রায় ১৭৯টি প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে।
অন্যান্য পর্বতে আরোহণ করার মত কিলিমানজারো পর্বতেও পর্বতারোহীরা আরোহণ করেন। প্রায় ২০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ জন লোক প্রতি বছর কিলিমঞ্জারোতে আরোহণ করার চেষ্টা করেন। ১৮৮৯ সালে জার্মান ভূবিজ্ঞানী হান্স মেয়ার এবং অস্ট্রীয় পর্বতারোহী লুডভিগ পুর্টশেলার প্রথম পর্বতটির শীর্ষেত আরোহণে সক্ষম হন। বাংলাদেশের রেশমা নাহার রত্নাও পর্বতারোহী হিসেবে যোগদান করেন।
২০১৭ সালের জুন মাসে কিলিমানজারোতে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয় যা সর্বোচ্চ রেকর্ডপ্রাপ্ত হয়। ২০টি দেশের ৩০ জন মহিলা ফুটবলার খেলে ছিল এই খেলাটি কিলিমঞ্জারোর আগ্নেয়গিরির মাঝে এবং ৯০ মিনিট ধরে।
কিলিমাঞ্জারো নামটি রহস্যে মোড়া। কিলিমাঞ্জারো অঞ্চলটি ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। কিলিমাঞ্জারো ন্যাশনাল পার্ক ৭৫.৫৭৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। ৫,৮৯৫ মিটার উচ্চতায় উপনীত পর্বতের সর্বোচ্চ কেন্দ্রবিন্দুটি, কিলিমানহারোকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত রূপে গড়ে তুলেছে।

SHARE

Leave a Reply