Home গল্প প্রতিদিন একটি ভালো কাজ । আহমদ মতিউর রহমান

প্রতিদিন একটি ভালো কাজ । আহমদ মতিউর রহমান

রামপুরা রোড ধরে মৌচাক মালিবাগের দিকে যেতেই পড়ে চৌধুরীপাড়া। চৌধুরীপাড়ার আবার দু’টি নাম, খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া আর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া। দু’টি চৌধুরীপাড়ার মধ্যে সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য হয়তো আছে, কিন্তু সর্বসাধারণের ভাবনায় অতোশতো আর নেই। তারা চৌধুরীপাড়াতেই অভ্যস্ত, তা মালিবাগ না খিলগাঁও অতোটা ভাবার সময় কোথায়? আর বাসের হেলপার কনটাকটরদের কল্যাণে এই জায়গার আরেকটা নাম হয়েছে- আবুল হোটেল। আবুল হোটেল তো একটা হোটেলের নাম, তা আবার স্থানের নাম হয় কী করে? এ রকম প্রশ্ন করা যায় বটে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
চৌধুরীপাড়া না বলে হেলপাররা এ এলাকার নাম বানিয়ে নিয়েছে আবুল হোটেল। হ্যাঁ এখানে এ নামে অনেক দিনের পুরনো একটা খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ আছে বটে। আর তার সাইনবোর্ড দূর থেকে দেখা যায়। চৌধুরীপাড়া বাসস্ট্যান্ডের বাম দিকের রাস্তা দিয়ে সামনে এগোলে ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট। রাস্তার ডান পাশে ছোট একটা খেলার মাঠ ছিল, এখন আর নেই। রাফিদ এই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সেই সাথে এই স্কুলের স্কাউট দলের একজন সদস্য। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ফয়জুর রহমানের নামে এই স্কুল। ফয়জুর রহমান স্যারকে দেখার পর খুব ভালো লেগে যায় রাফিদের। ঠিক তার দাদুর মতো দেখতে। যদিও তার দাদু সুলতান আহমদ সরকার আর বেঁচে নেই। তিনিও নাকি দেশের বাড়িতে একটা স্কুল করেছিলেন, আট দশ বছর চলার পর সেটিও এখন আর নেই। রাফিদ শুনেছে ফয়জুর রহমান স্যার নাকি আগে মতিঝিলে আইডিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যার নাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশে-বিদেশে স্কুলটির ভালো রেজাল্টের কারণে। এক সময়ে সেই স্কুল ছেড়ে আসতে হয়েছে তাকে। এর পর তার অনুসারী শিক্ষক-শিক্ষিকা আর ছেলেমেয়েরা তার নিজের নামেই এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছেন। সেই থেকে এ স্কুল। একই নামে স্কুলের আরো দু’টি শাখা আছে। একটি লালমাটিয়ায় আরেকটি রামপুরার শেষমাথায় মেরাদিয়ায়।
এই স্কুলের মালিবাগ শাখায় ক্লাস ওয়ান মানে স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে পড়ে আসছে রাফিদ। ছয়টি বছর পেরিয়ে সপ্তম বছর চলছে। এই স্কুলে ব্যতিক্রমী একটা নিয়ম আছে। প্রতিটি মুসলিম ছাত্রকে মাথায় টুপি পরতে হয়। আর মেয়েদের মাথায় পরতে হবে ওড়না।

২.

রাফিদের আগের স্কুল মগবাজারের এজি চার্চ স্কুলে অবশ্য এ রকম কোনো নিয়ম ছিল না। সেটা ছিল খ্রিস্টান মিশনারিদের পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে ইংরেজির প্রাধান্য, পাঠদান ও নিয়মকানুনে আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকায় অনেকে আকৃষ্ট হতো এর প্রতি। কঠিন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেখানে নার্সারি ও কেজি ওয়ানে পড়ে এসেছে রাফিদ। এজি চার্চ স্কুলের নিয়মকানুন, একই ক্লাসে দু’জন টিচারের ক্লাস নেয়া আর বছর শেষে দুই শিক্ষিকার সাথে সব ছাত্রছাত্রীর গ্রুপ ছবি রাফিদের কাছে ছিল আকর্ষণীয়। সেই দুই বছরের ছবি আম্মুর কাছে এখনো যতেড়ব রাখা আছে। তবে রাফিদ লাজুক বলে ক্লাসের মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল বেশি। শেখর আর নিশাত ছিল ওই স্কুলে তার সেরা বন্ধু।
একবার হলো কি ছবি তোলার সময় রাফিদের স্থান হলো লিডিয়া গোমেজ নামে এক মেয়ের পাশে। লাজুক রাফিদ তাই ছবি তোলার সময় অন্য দিকে চেয়ে রইল। সেভাবেই উঠলো ছবি। ছবিতে রাফিদকে সরাসরি খুঁজে না পেয়ে তার আম্মু ক্লাস টিচার জেনিফার ম্যাডামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন।
: ছবিতে ছেলেকে পাচ্ছেন না? ওই তো আপনার ছেলে। দেখছেন না বাঁ দিকে তাকিয়ে আছে?
: তাই তো, বলে লজ্জা পান আম্মু।
: আপনার ছেলে খুবই লাজুক। তবে পড়াশুনায় ভালো। আর সত্যি সে ভালো ছেলে।
: সেটা তো আপনাদের চেষ্টারই ফল। বলেন রাফিদের আম্মু। ছেলের প্রশংসা তার ভালোই লাগে। আর ম্যাডাম জেনিফারও খুশি হন রাফিদের মায়ের কথায়। কে না প্রশংসা শুনতে ভালোবাসে। ম্যাডাম জেনিফারের চোখে মুখে চাঞ্চল্য, বয়সও বেশি না। ম্যাডাম ম্যাডাম ভাবটা তার মধ্যে নেই। বাচ্চাদেরকে অল্প সময়ের মধ্যেই আপন করে নিতে পারেন।

প্রতিদিন একটি ভালো কাজ৩.

শেখর আর নিশাতকে ছেড়ে পরের বছর রাফিদকে চলে আসতে হলো অন্য স্কুলে। রাফিদকে তার আব্বু এনে ভর্তি করালেন চৌধুরীপাড়ার এই স্কুলে। রামপুরা থেকে প্রতিদিন মগবাজার ইস্কাটনে যাওয়া আসা কষ্ট। চৌধুরীপাড়া কিছুটা কাছে। আর যেহেতু ফয়জুর রহমান স্যারের প্রতিষ্ঠিত স্কুল- এটা একদিন নাম করবেই – এ ছিল রাফিদের আব্বুর ধারণা। শুধু যে টুপি তা নয় এ স্কুলেরও কিছু বাড়তি বৈশিষ্ট্য আছে। সব ছাত্রের পড়া ধরা, পিছিয়ে পড়াদের অভিভাবক ডেকে পরামর্শ করে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা, দুপুরে জোহরের নামাজ আর বিকেলে আসরের নামাজ নিয়মিত পড়ানো, চুল ছোট রাখা, স্কাউটিং এবং গার্ল গাইডিং, খেলাধুলার আয়োজন এগুলো ছিল বাড়তি আকর্ষণ।
তবে প্রথম প্রথম টুপি ও নামাজ ঝামেলা মনে হতো- এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন বরং টুপি না থাকলেই অস্বস্তি লাগে। ফয়জুর রহমান স্যার বলতেন, মুসলিম ছেলে টুপি পরবে, মেয়ে মাথা ঢাকা ওড়না পরবে এটাই তো স্বাভাবিক। তার মতে এর মধ্যে দিয়ে তার মধ্যে সত্যবাদিতা, নিয়মনিষ্ঠা, বিবেকবোধ জাগ্রত হবে। বড় হয়েও এ অভ্যাস থেকে যাবে। শিক্ষার লক্ষ্য তো এটাই হওয়া উচিত।
হ্যাঁ স্যারের কথাটা সত্যি ভেবে দেখেছে রাফিদ। স্কুলে প্রতিদিনই কারো না কারো পড়ে থাকা বই, জ্যামিতি বক্স, পেন্সিল, ইরেজার এমনকি টুপি সোয়েটার কার্ডিগান জমা পড়তো স্কুলের কমন রুমে নির্ধারিত শিক্ষক বা তার প্রতিনিধির কাছে। আর পরে তা তার আসল মালিককে ফেরত দেয়া হতো। ফয়জুর রহমান স্যার বলতেন স্কুলে একটা কলম পেন্সিল বা বই পেলেও তোমরা ফেরত দেবে, কেউ কারোরটা নেবে না। কেন নেবে? আরেকজনের কোন জিনিস না বলে নেয়াই তো অন্যায়। পাপ। তাই পাওয়া জিনিস প্রতিযোগিতা করে ফেরত দিত ছেলেমেয়েরা। কেউ বাসায় নিত না। আবার কেউ কেউ গতকালের হারানো জিনিস ফেরত পেত। রাফিদ একবার তার হারিয়ে যাওয়া সোয়েটার ফেরত পেয়েছিল।

৪.

স্কুলে স্কাউট ক্লাস থাকলে একটু বসে থাকতে হতো। অথবা কোন কোন দিন সকাল সকাল এসে পড়তে হতো। কত কী শিখেছে রাফিদ স্কাউটিং- এ এসে। দড়ির নানা রকম গিঁট দেয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, আগুন লাগলে করণীয়, অগ্নিনির্বাপণ, ভূমিকম্প হলে করণীয় এগুলো এখন সব তার জানা। স্কাউট টিচার শফিক স্যার ছিলেন সবার প্রতি খুবই আন্তরিক। সবার দিকে তার নজর। রাফিদের সঙ্গে তার সম্পর্কটা ছিল সবার থেকে আলাদা। কথা হচ্ছিল একদিন স্কাউটিং ক্লাস শেষে।
কথাচ্ছলে রাফিদ বললো,
: স্যার আমার এক মামা আছে জয়নাল মামা, আপনার মতো দেখতে।
: তাই নাকি? শফিক স্যার অবাক হলেন।
: তাই তো মাঝে মাঝে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকি।
: তাহলে তুমি আজ থেকে আমার ভাগ্নে। আমি তোমার মামা হতে দোষ কী।
: তাই হবে স্যার।
: স্যার না, বলো মামা।
: ঠিক ঠিক। মামা মামা।

প্রতিদিন একটি ভালো কাজ৫.

মেরাদিয়া শাখায় স্কুলের তিন দিনের স্কাউট ক্যাম্প সবে শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে দুই রাত তিন দিন মেরাদিয়ায় তাঁবু টাঙিয়ে থাকতে হয়েছে স্কুলের তিন শাখার স্কাউটদেরকে। রাফিদও থেকেছে।
এত দিন বাড়ির বাইরে থাকবে ছেলে রাফিদের আম্মার এ নিয়ে কী টেনশন। রীতিমতো ভাবনায় পড়েন তিনি। রাফিদের আব্বু অবশ্য তেমন গা করেননি। কারণ স্কাউটিং স্কুলজীবনে তারও করা আছে। সকালে পিটি প্যারেড, প্রতিযোগিতা, তাঁবু জলসা, পিরামিড তৈরি এগুলো সব তার জানা। আর রামপুরা থেকে মেরাদিয়া তো বেশি দূরেও নয়। কী আর হবে! মাঝের দিন অভিভাকরা চাইলে ছেলেদের দেখে আসতে পারেন এমন অপশন রাখা হলো। উদ্বোধনী আর সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াতও দেয়া হলো অভিভাবকদের। এবার খুশি রাফিদের আম্মা। কাকে কাকে নিয়ে যাবেন সেই দলও গোছানো হয়ে গেছে।
শনিবার। মেরাদিয়া স্কাউট ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ভালোই কাটলো রাফিদের। স্কুলের রুমে রুমে অনেকের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। তাঁবু টাঙানো হয়েছে কয়েকটা। রাফিদের স্থান হয়েছে তাঁবুতে। এতে সে খুশি। কারণ আগে আর কখনো তাঁবুতে থাকা হয়নি।
প্রথম দিন গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। তার পর কয়েকটি পর্ব। প্রতিটি গ্রুপের আলাদা আলাদা তাঁবু বা রুম। সুন্দর সুন্দর তার নাম। যার যার তাঁবু যে যত পরিপাটি রাখতে পারে, আছে এরও প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার। পর্বের মধ্যে আছে শপথ গ্রহণ, কোরআন তেলাওয়াত, স্কাউটিংয়ের নানা খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা, বিভিনড়ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ, গল্প বলার আসর, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, অভিনয়, গান, শারীরিক কসরত, পিরামিড তৈরি আর শেষ দিনে তাঁবু জলসা বা ক্যাম্প ফায়ার। আগুন জ্বালিয়ে উৎসব করা, আগে বলা আইটেমগুলোর কিছু কিছু রিপিট করা, মজার অনুষ্ঠান করা আর খাওয়া দাওয়া করা।
দ্বিতীয় রাতে রাফিদের ডিউটি পড়লো রাতের অর্ধেক সময় ক্যাম্প পাহারাদার গ্রুপে থাকা। আগে একটি গ্রুপ দায়িত্ব শেষ করে ঘুমাতে গেলে তাদের গ্রুপ ভোর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবে। রাহাত বলছিল, মেরাদিয়া নির্জন এলাকা নির্ঘাত ভূত দেখবি তোরা। লম্বা লম্বা পায়ে হেঁটে বেড়াবে।
: আর। জানতে চাইলো রাফিদ। গা ছমছম করে উঠলো বটে। বুঝতে দিলো না। আব্বু বলেছেন ভূতটুত কিছু নেই। এগুলো বানানো কখা। মনে সাহস রাখলেই হলো।
: আর কি বল না।
: আর দেখবি সাদা কাপড় পরা মহিলা ওই তালগাছের নিচে দাঁড়িয়ে।
: ভূত বলে কিছু আছে নাকি। সব মনের ভুল দেখা। আর অযথা ভয় পাওয়া। জবাবে বলেছিল রাফিদ।
একটু ভয় ভয় করছিল বটে। তবু তেমন কিছু চোখে পড়েনি। শনিবার দুপুরে আম্মু এলেন দেখতে। এলেন রিফাতের আম্মু সহ আরো কয়েকজন।
: মনে হলো কত দিন পর তোমাকে দেখলাম। খেয়েছ? ঘুমিয়েছ ঠিক মতো।আম্মু জানতে চাইলেন।
: খাওয়ার কোন অভাব নেই আম্মু। আর ঘুম? আধারাত পাহারার ডিউটিতে কেটেছে আজ। তবু খারাপ লাগছে না।
আগের দিন তো ভালোই কেটেছে। এতটুকু বড় হয়েছে দাদু নানুর বাড়ি ছাড়া কোথাও থাকেনি রাফিদ। বাড়ির বাইরে অচেনা জায়গায় এই প্রথম তিন দিন কাটানো। তাই শত শঙ্কা ছিল আম্মার মনে। ছেলেকে স্বাভাবিক পেয়ে শঙ্কা উধাও হয়ে গেল।
শফিক স্যার এসে বাকি প্রোগ্রাম আর তাঁবু জলসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন ছেলেদের। আর রাফিদের আম্মাকে সুন্দর করে সালাম দিয়ে মুচকি হেসে হাসি দিয়ে অন্যদিকে চলে গেলেন।

৬.

রোববার তাঁবু জলসার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সব অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার পর যে যার বাসায় ফিরলো। স্কাউটিং এর মাঝে একটি কথা গেঁথে গেছে রাফিদের মনে। বাংলাদেশ স্কাউটসের একজন সেরা অফিসার মনজুর সাহেব এসে বলে গেলেন কয়েকটি কথা। সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ যার যার ধর্ম মতো পালন করতে হবে। অসত্য কথা বলা যাবে না, সততার পরিচয় দিতে হবে সবসময়। আর প্রতিদিন একজন অচেনা মানুষের উপকার করতে হবে। এই কথাটা খুব মনে ধরলো রাফিদের।
: এটা এমন কোন কাজ হলো? ক্লাসমেট শাওনকে বললো রাফিদ। ভাবছি কি করবো।
: যতটুকু পারিস ততটুকুই করবি। তবে মামা-কাকা-আত্মীয়দের উপকার করলে মনে হয় হবে না।
: ধুর। এটা না হয় বুঝলাম। কিন্তু করবোটা কী? কিভাবে।
: সেটা সময় মতো করে নিতে হবে। সবজান্তার মতো বললো শাওন। সত্যি বলতে এ ব্যাপারে তারও ধারণা নেই। রাফিদ একদিন একটা লোককে মাথায় বোঝা তুলে দিতে সহায়তা করেছে। এটা কি উপকারের মধ্যে পড়বে? তার জানা নেই।
একদিন স্কুল ছুটির পর ক্ষুধার্ত একটা লোককে খাওয়ার জন্য টিফিনের আর রিকশাভাড়ার পয়সা থেকে কুড়ি টাকা দিয়েছে? কুড়ি টাকায় কি লোকটার খাওয়া হবে? তবু অচেনা লোকটা খুব খুশি হয়েছিল।
আজ রোববার। রাস্তায় বেশ ভিড়। রাফিদের স্কুল ডে শিফট বলে সকালে বের হতে হয় না। তবে ভর দুপুরেও চৌধুরীপাড়ায় জ্যাম লেগে আছে। এখন তাকে স্কুলে পৌঁছে দিতে আব্বু বা আম্মুকে আসতে হয় না। প্রতিবেশী একই স্কুলের অন্য ক্লাসের ছাত্র শিহাবকে নিয়ে রিকশায় করে স্কুলে চলে আসে রাফিদ।
জ্যাম সহজে ছুটবে বলে মনে হয় না। রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। তাই পেট্রোলপাম্পের সামনে আবুল হোটেলের একটু আগেই নেমে পড়লো দু’জন। একটু এগুতেই দেখা গেল এক বৃদ্ধা রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে। মনে হয় ওপারে যাবে। কিন্তু গাড়ির ক্রমাগত আগমনের কারণে পারছেন না। শিহাবের চোখে পড়লো প্রথম। দেখেছো রাফিদ, আটকে পড়েছেন বৃদ্ধা। রাস্তা পার হতে পারছেন না।
: তাই তো। রাফিদ ভাবলো এইতো সুযোগ। বুড়ি দাদিকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করলে তো আজ আমার একটা ভালো কাজ হয়ে গেল। উপকারও করা হলো কোন অপরিচিত জনের।
: তুমি একটু দাঁড়াও। শিহাবকে থামিয়ে এগিয়ে গেল রাফিদ।
: রাস্তা পার হবেন দাদি?
: কে রে আমাকে দাদি বলে ডাকলি? তৌফিক নাকি?
: না আমি রাফিদ। আসুন আমার সঙ্গে।
সামনে পেয়ে গেল একজন ট্রাফিক পুলিশ। তার সহযোগিতা চাইতেই তিনিও হাত উঁচু করে যানবাহন থামিয়ে দিলেন। বৃদ্ধাকে রাস্তার ওপারে রেখে শিহাবকে ধরলো রাফিদ। মনে মনে প্রশান্তি আজ একটা ভালো কাজ তো করা হলো।
পা চালাও, স্কুলের গেট বন্ধ হতে মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। তাড়া লাগালো শিহাব। দু’জনেই এগুলো বামের রাস্তায় স্কুলের পথে।

SHARE

Leave a Reply