Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতা

স্কুল থেকে ফিরেই মাহী বিছানায় ধপাস করে শুয়ে পড়ল। মন ভীষণ খারাপ। কারো সাথে কথা বলার মতো অবস্থাও যেন নেই তার। থাকবেই বা কী করে। তার জন্মই যেন হয়েছে পরাজিত হওয়ার জন্য। মনে মনে সে ভাবে, তার নাম মাহী না হয়ে ‘হারু’ হলেই বরং ভালো হতো। কারণ সে সব জায়গায়ই হেরে যায়। যেমন, ক্লাসে সে সবসময়ই দ্বিতীয় হয়। অথচ সাবিরকে পেছনে ফেলে প্রথম হওয়ার জন্য কত চেষ্টাই না করেছে সে। কিন্তু সফল হয়নি! এ নিয়ে তার কষ্টের শেষ নেই। আর আজও সে একটা গো-হারা হেরেছে। স্কুলের একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কোনো পুরস্কারের জন্যই মনোনীত হয়নি সে।
মাহীর বাবা এক অদ্ভুত মানুষ! ছেলের কোনো ধরনের ব্যর্থতায় বিচলিত নন তিনি। অন্য বাবারা যখন সন্তানদের ব্যর্থতায় শাসন কিংবা উৎসাহ প্রদানে তৎপর; মাহীর বাবা তখন হেসেই উড়িয়ে দেন সবকিছু। তিনি প্রায়ই বলেন, ‘পরীক্ষায় প্রথম হওয়াই সফলতা নয়, সফলতা হচ্ছে মানুষ হওয়ার মধ্যে। তুমি দ্বিতীয়, তৃতীয় হয়ে কিংবা ফেল করেও সফল হতে পারো, যদি তোমার ভেতরে প্রবল জ্ঞানপিপাসা ও অকৃত্রিম স্বপ্ন থাকে!’ এসব দার্শনিক কথাবার্তা কখনো ভালো লাগে, আবার কখনো বিরক্তিকর মনে হয় মাহীর কাছে।
মাহী যখন শুয়ে শুয়ে এসব ভাবছে, তখনই বাবা এসে তাকে ডাক দিলেন। বাবাকে জড়িয়ে সে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলল। সব শুনে বাবা বললেন, চলো আমরা অন্যরকম একটি প্রতিযোগিতার সাথে পরিচিত হই, যে প্রতিযোগিতায় আমাদের জিততেই হবে। এই বলে তিনি কম্পিউটারে চালু করে দিলেন বাংলা অর্থসহ সুললিত কুরআন তিলাওয়াত। মাহী মনোযোগ দিয়ে শুনছে- “নিশ্চয়ই সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা থাকবে প্রাচুর্যের মধ্যে। তারা সুসজ্জিত আসনে বসে সবকিছু অবলোকন করবে। হে রাসূল সা:! আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন। তাদেরকে ছিপিআঁটা বোতল থেকে বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে, যার মোহর হবে কস্তুরি। আর যারা প্রতিযোগিতা করে, তাদের উচিত এ বিষয়েই প্রতিযোগিতা করা।” (সূরা মুতাফফিফিন : ২২-২৬)
বাবা বললেন, পৃথিবীতে যদি আমরা ভালো কাজ করে যেতে পারি, তাহলে জান্নাতে রয়েছে আমাদের জন্য অতুলনীয় পুরস্কার। আল্লাহ এখানে সেই পুরস্কার পাওয়ার জন্যই ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করতে বলেছেন। সুতরাং পৃথিবীর কোনো প্রতিযোগিতায় হেরে গেলেও মুমিনের দুঃখ থাকতে পারে না।
মাহীর অশ্রুভেজা চোখে আনন্দের আলো জ্বলে উঠল। বসন্তের মৃদু বাতাস যেন বুকের ভেতরটা ছুঁয়ে গেল তার।

বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

3 COMMENTS

  1. অসাধারন হয়েছে।
    অাল্লাহ অামাকে এই প্রতিযোগীতার প্রতিযোগী করেন।

  2. প্রথমত বলবো এটা ছোট গল্প, আর একরকম অণুগল্পের মতোই..বাক্যবিন্যাস শুরু থেকে বেশ সাবলিল হলেও শেষের দিকে লেখক গুলিয়ে ফেলেছেন..কুরআনের আয়াতের মর্মার্থ এত কম বাক্যে ব্যাখ্যা করা যায় না,লেখক যেহেতু মূলত আয়াতটির উপরে ভিত্তি করেই গল্পটি লিখেছেন তাই উচিত ছিল বাক্য বিন্যাস,ভাষা শৈলী আরেকটু গভীর করা..তাছাড়া খুব দ্রুত গল্পটি শেষ হওয়ায় ঘটনাপ্রবাহে অপূর্ণতা লক্ষ্য করলাম..নামকরণ যথার্থ হয়েছে,শুভকামনা রইলো

Leave a Reply to Rafiqul Islam Cancel reply