Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো রাসূলের (সা) আদর্শে জীবন গড়তে হবে

রাসূলের (সা) আদর্শে জীবন গড়তে হবে

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“(হে নবী) আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।”
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭)

সুপ্রিয় বন্ধুরা, মানবতার মহান বন্ধু আমাদের সকলের প্রিয় নেতা এবং অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন নবীকুল শিরোমণি, সর্বশেষ নবী এবং রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি পৃথিবীতে আগমন করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মানবজাতির সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামিন নিজেই সার্টিফিকেট প্রদান করে বলছেন যে, আমি তাঁকে বিশ্বজাহানের রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। অর্থাৎ তাঁর দেখানো পথ ও পন্থা অনুসরণ করলে মানবজাতি রহমতের অমীয় ধারায় সিক্ত হবে। আর এর প্রমাণ ইসলামের স্বর্ণালী যুগে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। তদ্রƒপ আজকের এ গোলযোগপূর্ণ অশান্তিময় পৃথিবীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদেরকে আল্লাহর রাসূলের (সা) আনীত বেহেশতী বিধান মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং আল হাদিসের কাছে ফিরে যেতে হবে।
আজকের এই দিনে দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাত তথা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের জীবনকে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমরাও সোচ্চার হই এবং পরকালে জান্নাতে স্থান করে নিতে পারি।
প্রিয় বন্ধুরা, রাসূল (সা) হচ্ছেন মহান শিক্ষক। তিনি তাঁর শিক্ষাদানের মাধ্যমে আরবের মরুচারী বেদুঈনদের এমন ভব্য ও সভ্য মানব বানিয়েছিলেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তাঁর প্রিয় সাহাবীদের মর্যাদার কাছে পৃথিবীর কেউ পৌঁছতে পারবে না। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, তাঁর শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাস একমাত্র আল কুরআন। তিনি ছিলেন কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ সর্বোপরি দেশের সর্দার। ছোট বয়সে তিনি হিলফুল ফুজুল গঠন করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন। যুবক বয়সে নবুয়্যত লাভ করে পুরো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন এবং শান্তির মডেল স্থাপন করতে সক্ষম হন।
রাসূল (সা) শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের শিক্ষক নন, বরং সমগ্র মানবজাতির মহান শিক্ষক তিনি। আল্লাহর রহমত হিসেবে তিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন এবং সে রহমতের ফল্গুধারায় বিশ্বŸাসীকে সিক্ত করে আমাদের সামনে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আলোচ্য আয়াতে মহান রব সে বিষয়টিই মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। কুরআনের অন্যত্র আল্লাহপাক বলেন, “তোমাদের জন্য রাসূলের (সা) জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব, আয়াত ২১)
সুতরাং প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী বেশি বেশি পড়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে সেভাবেই গঠন করি এবং আল্লাহর রহমতের ভাগীদার হই।
গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply