Home ক্যারিয়ার গাইড লাইন মোরা বড় হেত চাই এ টু জেড

মোরা বড় হেত চাই এ টু জেড

আহসান হাবীব ইমরোজ…
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সুপ্রিয় বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছো। যদিও দিনকে দিন ভাল থাকা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। তবু রাসূল (সা)- এর শেখানো কথা ‘আলহামদুলিল্লাহ আ’লা কুল্লি হাল’। অর্থাৎ সর্বদা ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে; এ জন্য রাসূল (সা)-এর শেখানো সুন্নত অনুযায়ী আমাদের অবস্থানের নিচে যারা তাদের দিকে তাকাতে হবে এমনকি তাদের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আচ্ছা ভালো কথা; প্রিয় বন্ধু, তোমার কি মনে পড়ে সর্বশেষ কবে তুমি একজন রিকশাওয়ালাকে সালাম দিয়েছো?
আজ ২৪ আষাঢ়, ১৪১৯ (ও বাবা)! তোমাদের চোখে কেমন তির্যক প্রশ্ন। ‘হঠাৎ বাংলা সাল কেন?’ কারণ আজকাল যে কাউকে তারিখ জিজ্ঞেস করলে আলবৎ বুলেটের গতিতে ঈসায়ী ক্যালেন্ডারের তারিখ বলে দেবে। তুমি যদি বলো আরে ভাই বা বোন, আমি কি আপনাকে ঈসায়ি তারিখ জিজ্ঞেস করেছি নাকি? আচ্ছা বলুনতো আজকে বাংলা সালের কত তারিখ? দেখবে তার চেহারাটা তখন কী আকৃতি নেয়; আমের মতো? ডাবের মতো, নাকি জাতীয় ফল কাঁঠালের মতো, বলা কঠিন। তবে ভাগ্যিস জ্যামিতির প্রতিষ্ঠাতা জ্ঞানের নগরী আলেকজান্দ্রিয়ার ইউক্লিড মারা গেছেন ২৩ শ’ বছর আগে।  বেঁচে থাকলে তিনিও ভিমরি খেতেন, এই ভেবে ‘আচ্ছা- চেহারাটা জ্যামিতির কোন ফরমে ফেলা যায়, নিশ্চিত বলতেন, ‘ধ্যাৎ! মিলাতে পারছি না।’
আমরা অবশ্যই সবাই আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার হিসেবে ঈসায়ি তারিখ মনে রাখবো, তার মানে কি এই, যে নিজ দেশের বাংলা সাল কিংবা ধর্মীয় হিজরি সাল ভুলে যাব? আমরা আজ জাতীয় কৃষ্টি-কালচার সব হারিয়ে পাতিকাক, দাড়কাকের মতো সবাই কোকিলের পুচ্ছ লাগাতে ব্যস্ত।
সেই সকাল থেকেই লিখবো লিখবো করছি কিন্তু লেখা; সে যে আর হয়ে উঠছে না। ঈগল-টাচ কিবোর্ডে এন্তার ঠুকাঠুকি করছি কিন্তু কেন যেন তাল উঠছে না। বরাবর ছাদের নিচেই বাস। সারাদিন তাতানো গরমতো নয় যেন লাগাতার আগুনে চিমটি। আর বিদ্যুতের অবিরত টুক-পলানি খেলা সেতো যেন জাতীয় খেলা হতে যাচ্ছে। যদিও বাজি ধরলে দেখা যাবে আমাদের দেশের  কিশোরেরা এমনকি জনসাধারণ ৫০% দেশের জাতীয় খেলার সঠিক নাম বলতে পারবে না। তোমরা কষ্ট নেবে না, আমি কিন্তু বাজিটা ধরবো না কারণ আমার নিজেরওতো কষ্ট লাগবে, সে যাক্। উস পিস করেই প্রায় সারাটা দিন কাটলো।
মাগরিবের সুললিত আজান শুনে মসজিদে যাচ্ছি। প্রায় ২ ডজন দেশী চ্যানেলের ভেতর হাতেগোনা ৩-৪টা মাগরিবের আজান শোনায়। বাকিরা ঐ সময় গানের অনুষ্ঠান (সাথে ব্যান্ড বা নাচও থাকতে পারে) করতে ভালোবাসে। আজানের মোকাবেলায় গান, ছেলে  ভোলানোর বেশ মোক্ষম অস্ত্র বৈকী! কোন এক কৃতী ছাত্রী সংবর্ধনায় কৃতীদের জিজ্ঞেস করেছিলামÑ এক সময় মেয়েরা তুলনামূলকভাবে ভালো রেজাল্ট করতো কিন্তু আজকাল ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ফলাফল ভালো হচ্ছে না, কেন বলোতো? এমন হোঁচট খাওয়া প্রশ্নে তারা এ ওর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলোÑ অবস্থা বেগতিক। বাধ্য হয়ে নিজেই মুখ খুললামÑ দু’টি কারণ, এক. মোবাইল ফোন, দুই. ভারতীয় নাটক। আমাদের আজ নজরুল, ফররুখ, কায়কোবাদ কিংবা সিরাজীর মত কবিরা নেই। নেই  ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ আর সৈয়দ আলী আহসানের মতো দার্শনিক, চিন্তাবিদ। তার চাইতেও কষ্টের কথা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের মতো বরেণ্য মানুষ তৈরির কোন আয়োজনও দেখা যাচ্ছে না। তাই ইসলামী সংস্কৃতি ও চেতনা আজকে ভয়াবহ হুমকির মুখে।
টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজের আমাদের সবার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ছিলেন এসপি দেব (শিব প্রসাদ দেব)। স্বমহিমায় তিনি সারাদেশেই ছিলেন খ্যাতিমান। জানি না আর কেউ দিয়েছে কি-না, আমরা কিন্তু আমাদের ছোট্ট স্কুল লাইটহাউস  ল্যাব. স্কুল অ্যান্ড কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল শাখার পক্ষ থেকে তাকে মরণোত্তর সম্মাননা দিয়েছিলাম। তার একান্ত আলোচনায় তিনি একদিন বলেছিলেন, ‘আজান হচ্ছে আমার শোনা শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত’।
আমাদের নিকটেই ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামের বিখ্যাত মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী (১৮৫৭-১৯৫১) জন্ম নেন। সাহিত্য জগতে যিনি কায়কোবাদ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলার এক নবজাগরণের কবি ছিলেন। তার পূর্ব-পুরুষ হাফিজউল্লাহ আল কোরায়শী আরবি ও ফারসি ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। সম্রাট শাহজাহানের শাসনকালে তিনি ছিলেন দিল্লি জামে মসজিদের ইমাম। যদিও কায়কোবাদের ছোট দুই ভাই আব্দুল খালেক সাবডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও আবদুল বারী ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালের হাউস সার্জন ছিলেন। কিন্তু তার উচ্চশিক্ষা  লাভ হয়নি। ডাক বিভাগে স্বল্প বেতনের চাকরিতে তার কর্মজীবন অতিবাহিত হয়েছে।  তার প্রাণ আকুল করা বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে ‘আযান’। চলো না বন্ধুরা, ধুলায় জীর্ণ পুরনো বই ঘেঁটে তার সেই প্রাণছুঁয়ে যাওয়া কবিতাটি একটু নিজের হৃদয়চক্ষু দিয়ে পড়ে নিই। কবিতাটি এখানে উদ্ধৃত করতে গিয়ে পড়লাম মহা ফ্যাসাদে; কতটুকু দেয়া যায়? কোনটুকু দেবো? ইত্যাদি। অবশেষে ভাবলাম ২৭ লাইনের কবিতার সবটুকুই দেব, যে যাই ভাবে ভাবুক।
“কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।/মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর/আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।/কি মধুর আযানের ধ্বনি!/আমি তো পাগল হয়ে সে মধুর তানে,/কি যে এক আকর্ষণে, ছুটে যাই মুগ্ধমনে/কি নিশীথে, কি দিবসে মসজিদের পানে।/হৃদয়ের তারে তারে, প্রাণের শোণিত-ধারে,/কি যে এক ঢেউ ওঠে ভক্তির তুফানে-/কত সুধা আছে সেই মধুর আযানে।/নদী ও পাখির গানে তারই প্রতিধ্বনি।/ভ্রমরের গুণ-গানে সেই সুর আসে কানে/কি এক আবেশে মুগ্ধ নিখিল ধরণী।/ভূধরে, সাগরে জলে নির্ঝরণী কলকলে,/আমি যেন শুনি সেই আযানের ধ্বনি।/আহা যবে সেই সুর সুমধুর স্বরে,/ভাসে দূরে সায়াহ্নের নিথর অম্বরে,/প্রাণ করে আনচান, কি মধুর সে আযান,/তারি প্রতিধ্বনি শুনি আত্মার ভিতরে।/নীরব নিঝুম ধরা, বিশ্বে যেন সবই মরা,/এতটুকু শব্দ যবে নাহি কোন স্থানে,/মুয়াযযিন উচ্চৈঃস্বরে দাঁড়ায়ে মিনার ‘পরে/কি সুধা ছড়িয়ে দেয় উষার আযানে!/জাগাইতে মোহমুদ্ধ মানব সন্তানে/আহা কি মধুর ওই আযানের ধ্বনি।/মর্মে মর্মে সেই সুর বাজিল কি সমধুর/আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী”।
একদিন হুন্ডা স্যরি মোটরসাইকেলের (সবাই মোটরসাইকেলকে হুন্ডা বলে অথচ এটি মোটরসাইকেল তৈরির একটি কোম্পানি মাত্র। এ ছাড়াও কাওয়াসাকি, ইয়ামাহা, সুজুকি কত কোম্পানির মোটরসাইকেল আছে। যাক হুন্ডার গল্পটা তোমাদের কাজে লাগতে পারে তাই বলছি।
সোচিরো হুন্ডা, হ্যাঁ জাপানিজ একটি ছেলে।  তার জন্ম ১৯০৬ সালে যে সময় তার মা মিকা ছিলেন একজন তাঁতী আর পিতা গিহাই ছিলেন একজন কামার। তার একটি সাইকেল মেরামতের  দোকান ছিল এবং সে পিতার কাজে সহযোগিতা করতো। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই সে রাজধানী টোকিওর উদ্দেশে বাড়ি ত্যাগ করে। ৬ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রিপিয়ারিংয়ের কাজ শেখে। অতঃপর বাড়ি এসে ১৯৩৭ সালে টয়োটা কোম্পানিকে সাপ্লাই দেয়ার জন্য পিস্টন রিং তৈরির দু’টি প্লান্ট তৈরি করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ১৯৪৪ সালে মার্কিন বিমানের বোমা বিস্ফোরণে একটি এবং ১৯৪৫ সালে ভূমিকম্পে আরেকটি প্লান্ট ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধ শেষে ৪ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন দিয়ে টয়োটা কোম্পানির একটি অংশ কিনে নিয়ে হুন্ডা টেকনিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর ১৯৪৮ সাল থেকে নিয়মিত  মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করেন যার নাম দেন হুন্ডা। বর্তমানে তার কোম্পানি প্রতি বছর ১ কোটি ৪০ লাখ হুন্ডার ইঞ্জিন তৈরি করে এবং বিশ্বের মোট মোটরসাইকেলের চাহিদার ২৭% পূর্ণ করে। হুন্ডা  মোটরসাইকেলের এই ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে মানুষ সকল  মোটরসাইকেলকেই হুন্ডা নামেই ডাকে।)  পিঠে চড়ে টাঙ্গাইল আদর্শ বিদ্যালয়ে যাচ্ছি। পাইলট সাইফুজ্জামান কল্লোল, একজন ভালো চালক হিসেবে বিখ্যাত। মেইন রোড থেকে সাবালিয়া রোডের দিকে মোড় নিচ্ছি হঠাৎ ক্বক-করে-ক্বক, মোরগের ডাক। কী ব্যাপার এ ডাক এলো কোথা থেকে? ইশারা দিয়ে  মোটরসাইকেল থামালাম। হায়! ঠিক কত দিন পর মোরগের ডাক শুনলাম মনে করতে পারছি না। কিন্তু না আতিপাতি করে তাকিয়েও কোন মোরগ-মুরগি কিচ্ছু দেখলাম না। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাবলাম কারও মোবাইলের রিংটোন হবে। ডিজিটাল মোরগের ডাক, আর কী। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ যখন নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র তখন তার ইচ্ছে হলো বাংলাদেশের বৃষ্টি ও ব্যাঙের ডাক শুনতে। যেই ভাবা সেই কাজ তার ছোট ভাই উন্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব তার জন্য সেটি টেপ রেকর্ড করে পাঠিয়েছিলেন। এখনই মনে হয় ঝিঁঝিঁ পোকা, মোরগ, ব্যাঙসহ নানাবিধ পাখি-পতঙ্গের ডাক ইউটিউবে রেকর্ড করে রাখা দরকার নইলে এগুলো ডাইনোসরের মতো চিরতরে হারিয়ে যাবে। আর ডিজিটাল প্রভাবে প্রকৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহও কমে যাচ্ছে। সেদিন পাশের রুম থেকেই কিচেন রুমের ফুটন্ত কড়াইয়ে ছ্যাৎ-ছ্যাৎ আওয়াজ শুনলাম। সাথে মিষ্টি তাল পাকা সুঘ্রাণ। অভিজ্ঞ কান ও নাক ব্রেইনের ১০০ বিলিয়নের  ভেতর সংশ্লিষ্ট নিউরনে বার্তা পাঠিয়ে দিলো। ছেলে ফারাবীকে বললাম,  আব্বু দেখ, আম্মু যেন কী রান্না করছে? তার কচি নাক ও কান সে অনুভূতি পায়নি এমন না। কিন্তু নির্লিপ্তভাবে বিছানায় শোয়া অবস্থায় বাম কাত হয়ে সে তার হাতের রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে অন্য চ্যানেলে চলে গেল। কিচেন রুমের আওয়াজ বা ঘ্রাণ তার  ভেতর আগ্রহ সৃষ্টি করলো না। অথচ সেই ছোট্টবেলায় পিঠা বানানোর সময় গভীর রাতে আমাদের ডাকেনি বলে কী কান্নাই না কেঁদেছি। সে দিনগুলো খুব খুব মনে পড়ে। আজ ছেলে মেয়েদের আকর্ষণের ক্ষেত্র পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। আজকের কিশোররা যদি নিজেদের পরিমণ্ডলের দিকে তাকায় এবং ৭৫ বা ১০০ বছর আগের কবিতাগুলো পড়ে তাইলেই সেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবে। ১৯০৩ সালে জন্ম নেয়া কবি জসীমউদ্দীন ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা লিখতেন। তিনি যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখনই এন্ট্রান্স (এসএসসি সমমানের) টেকস্ট বাংলা বইয়ে তার কবিতা স্থান পেয়েছে। তার লেখা নিমন্ত্রণ কবিতাটি হয়তো চতুর্থ শ্রেণীতে তোমরা পড়েছো, যেটি প্রায় ৭৫-৮০ বছর আগে লেখা। কিন্তু তাতে আমাদের গ্রামবাংলা এবং সে সময়কার শৈশব, কৈশোরের প্রকৃতির চমৎকার বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
নিমন্ত্রণ
জসীমউদ্দীন
তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁঁয়/গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;/মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি/মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,/মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভায়ের স্নেহের ছায়,/তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়।/ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,/কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া।/ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী,/পারের খবর টানাটানি করি-/বিনাসূতি মালা গাঁথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;/বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তীরের হিয়া।/তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে- নরম ঘাসের পাতে,/চুম্বন রাখি অম্বরখানিরে মেজে লয়ো নিরালাতে।/তেলাকুচ-লতা গলায় পরিয়া/মেঠো ফুলে নিও আঁচল ভরিয়া,/হেথায় সেথায় ভাব করো তুমি বুনো পাখিদের সাথে,/তোমার পায়ের রঙখানি তুমি দেখিবে তাদের পাতে।/গাছের ছায়ায় বনের লতায়,/মোর শিশুকাল, লুকায়েছে হায়!
সেই চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আজকের শিশু, কিশোররা নির্মমভাবে বঞ্চিত। প্রকৃতি আনে প্রভুর স্মরণ আর প্রভু-প্রকৃতির সমন্বয়ে আসে প্রজ্ঞা। আর এই প্রজ্ঞাই দিতে পারে প্রযুক্তি আর প্রবৃদ্ধি।
বন্ধুরা, আজ শেষ করার আগে তোমাদের সাথে এক মজার বন্ধুর পরিচয় করিয়ে দেব। তাকে নিয়ে বিশ্বের সেরা মিডিয়াতে হইচই। এনডিটিভির সৌজন্য বাংলাদেশের প্রথম আলো পত্রিকাতে ১৫ ফেব্র“য়ারি-২০১২ একটি ফিচার ছাপে সেটি তোমাদের জন্য তুলে ধরছি। শিরোনাম ছিলÑ
‘৯ বছরে গ্রাজুয়েট, ১৪ বছরে লেখক”
মার্কিন বিস্ময় বালক মোশে কাই ক্যাবালিন। মাত্র আট বছর বয়সে কলেজে ভর্তি হয়েছিল সে। আর নয় বছরে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে চারদিকে হইচই ফেলে দিয়েছিল। ১৪ বছর বয়সী ক্যাবালিন এবার আত্মপ্রকাশ করেছে লেখক হিসেবে। লিখেছে ‘উই ক্যান ডু’ নামের বইটি।
‘মেধাবী’ শব্দটিতে বরাবরই আপত্তি রয়েছে ক্যাবালিনের। মেধা নয়, কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী এই বালক। আর এর মাধ্যমেই সাফল্য লাভ করা সম্ভব বলে মনে করে সে। এর প্রমাণও মিলেছে হাতে নাতে।
মাত্র আট বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস কমিউনিটি কলেজে ভর্তি হয়েছিল ক্যাবালিন। নয় বছর বয়সে সে লাভ করে স্নাতক ডিগ্রি। তার গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (জিপিএ) ছিল ৪।
এখন তার বয়স ১৪ বছর। এ বছরই ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লসএঞ্জেলেস থেকে আরেকটি ডিগ্রি অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এই বিস্ময় বালক। ১০০ পৃষ্ঠার গ্রন্থ ‘ইউ ক্যান ডু’তে ক্যাবালিন কীভাবে দৃঢ়চিত্তে তার লক্ষ্যে পৌঁছেছে তার বর্ণনা আছে। শিশু-কিশোররা কীভাবে তার মতো দ্রুত সাফল্য লাভ করতে পারবে সে বিষয়েও দিক নির্দেশনা রয়েছে এতে। ক্যাবালিনের বিশ্বাস বইটি পড়ে পাঠকরা জানতে পারবে মেধা বলে আসলে কিছু নেই, সবকিছুই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।
ক্যাবালিন জ্যাকি চ্যানের সিনেমার খুব ভক্ত। তবুও সপ্তাহে চার ঘণ্টা টিভি দেখাতে নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে সে। (মানে প্রতিদিন ৩৪ মিনিট ২৯ সেকেন্ড মাত্র) ।
আজকের মতো বিদায়, আল্লাহ হাফিজ।

SHARE

Leave a Reply