Home সেরা স্কুল রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঈর্ষনীয় সাফল্যের ধারক

রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঈর্ষনীয় সাফল্যের ধারক

বাংলাদেশের একটি অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠও। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বেশ ঈর্ষনীয়।
প্রতিষ্ঠা : ১৯৭৭ সালে ব্রিগেডিয়ার এম. এ লতিফ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন রংপুর ক্যান্টনমেন্টের উত্তর জোনের কমান্ডার। সেনানিবাসের অফিসারদের সন্তানাদি এবং স্থানীয় অন্যান্য ছেলেমেয়েদের শিক্ষার কথা চিন্তা করেই তিনি এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন।
প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য : রংপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় জ্ঞানের সর্বশেষ বিষয়াবলি, তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে সজাগ, যোগ্য ও পারদর্শী করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। এই ভিশনকে সামনে রেখেই তার পথচলা অব্যাহত আছে।
সেকশন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। তখন নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত খোলা হয়। ১৯৮০ সালে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আর কলেজ শেকসনটি চালু হয় ১৯৮১ সাল থেকে।
শিক্ষাকার্যক্রম : মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বা এসএসসিতে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রথম অংশগ্রহণ করে ১৯৮২ সালে। অল্প সময়ের মধ্যেই এর এসএসসির ফলাফলে ঈর্ষনীয় সফলতা অর্জিত হয়। শিক্ষার্থীরা প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৯৮৩ সালে। ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ১৯৯১ সালে ‘দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর’ নামে এর একটি ইংরেজি শাখাও খোলা হয়। এখন এটি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাদান করছে। ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) কোর্সের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে আদর্শ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে। আর উত্তরোত্তর এর সকল শাখা সাফল্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সে কারণেই ২০১২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে এর স্কুল শাখাটি দিনাজপুর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকারের গৌরব অর্জন করেছে।
খেলাধুলা : খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের দেহ-মন সুস্থ ও নির্মল রাখতে একান্ত প্রয়োজনীয়। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিব স্কুল অ্যান্ড কলেজ উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক স্পোর্টসের আয়োজন করে থাকে। সকল শিক্ষার্থীকে এ সময় তিনটি হাউজে ভাগ করা হয়। হাউজগুলোÑ পদ্মা হাউজ, যমুনা হাউজ ও তিস্তা হাউজ নামে পরিচিত। এইসব হাউজের শিক্ষার্থী ও অ্যাথলেটরা প্রতি বছর বিভিন্ন আন্তঃহাউজ ইভেন্টে অংশ নিয়ে থাকে। ইভেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ
১. বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ২. আন্তঃহাউজ ফুটবল প্রতিযোগিতা, ৩. আন্তঃহাউজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, ৪. আন্তঃহাউজ বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা, ৫. আন্তঃহাউজ হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা, ৬. আন্তঃহাউজ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা, ৭. আন্তঃহাউ টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা, ৮. আন্তঃহাউজ ক্যারম প্রতিযোগিতা, ৯. আন্তঃহাউজ স্ক্র্যাবল প্রতিযোগিতা, ১০. আন্তঃহাউজ দাবা প্রতিযোগিতা।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড : বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় দিবসকে উপলক্ষ করে সারা বছরই এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলতে থাকে। এই জন্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেই মনোরম মঞ্চ সাজিয়ে জমকালো আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য একটি মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মিলাদ মাহফিল বা ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিষ্ঠানের মসজিদটি ব্যবহৃত হয়। প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপী ‘আন্তঃহাউজ সাংস্কৃতিক সপ্তাহ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যাতে শিক্ষকমণ্ডলীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে থাকে। তখন যেসব সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হয় তারমধ্যে রয়েছে পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, বাংলা ও ইংরেজি বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, গল্পবলা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রঙিন দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করা হয় যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে।
সহায়ক কার্যক্রম : সৃষ্টিশীলতা এবং মননশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহায়ক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। যেমনÑ বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কেরাত ও না’তে রাসূল (সা) প্রতিযোগিতা, কলা ও বিজ্ঞান মেলা, রচনা ও হ্যান্ড রাইটিং প্রতিযোগিতা, ক্লাব কার্যক্রম ইত্যাদি।
অন্যান্য কার্যক্রম : এছাড়া রয়েছে শিক্ষা সফর, নবাগত সংবর্ধনা প্রভৃতি।
সর্বশেষ ফলাফল : ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডের সেরাদের সেরা স্থান অর্জন করেছে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ২৭২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অধ্যক্ষের বাণী : রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল মো: রশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এবারের ফলাফলে আমরা খুব আনন্দিত। নিয়মিত মডেল টেস্ট ও নিয়ম-শৃঙ্খলার কারণে এ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতাও ছিল।’
গ্রন্থনা : রাফিউল ইসলাম

SHARE

Leave a Reply