Home বিজ্ঞান ২০২০ সালের মধ্যে মনুষ্য স্পেস স্টেশন!

২০২০ সালের মধ্যে মনুষ্য স্পেস স্টেশন!

সাকিব রায়হান..

২০০০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মহাকাশের ওপর তিনটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে চীন। এর শেষটি প্রকাশিত হলো সম্প্রতি। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগামীতে তারা চাঁদে নভোচারী পাঠাতে চায়। এ জন্য অচিরেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে চাঁদে রোবট পাঠিয়ে গবেষণার কাজ এরই মধ্যে করছে চীন। যে প্রকল্পের আওতায় এই কাজ চলছে তার নাম ‘চায়না লুনার এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রাম’। এই প্রকল্পের লোগোতে মানুষের পায়ের ছাপ রয়েছে। সেটা দেখে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক মহাকাশ বিশেষজ্ঞ মরিস জোনস বলছেন, এই পায়ের ছাপ দিয়েই চীন বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কত দূর।
এরই মধ্যে চীন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে তারা ২০২০ সালের মধ্যে একটা মনুষ্য স্পেস স্টেশন নির্মাণ করতে চায়। তবে শুধু ঘোষণাই নয়, সেটা যে তারা সম্ভব করে তুলবে তার একটা আভাস দিয়েছে গত বছরের নভেম্বরে। সে সময় প্রথমবারের মতো পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার উপরে দু’টি মহাকাশযানের সফল ‘ডকিং’ করায় চীন। তারও আগে ২০০৩ সালে মহাকাশে নভোচারী পাঠিয়েছিল চীন। সেটা ছিল আমেরিকা ও রাশিয়ার পর তৃতীয় কোনো দেশের সফলতা।
এছাড়া আমেরিকা যেমন তার ‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম জিপিএস’র মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর ওপর নজর রাখে চীনও তেমন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে গত বছর। যার নাম ‘বাইডু স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম’। আপাতত এটা এশিয়ার ওপর নজর রাখছে। ২০২০ সালের মধ্যে পুরো পৃথিবীটাই এর আওতায় আনতে চায় চীন। ফ্রান্সের এক মহাকাশ বিশেষজ্ঞ ইসাবেল সোর্বস-ভের্গার বলছেন, এক্ষেত্রে ইউরোপের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন। তিনি বলছেন, এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সামরিক বাহিনীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চীন যদি সফলভাবে পুরো পৃথিবীটাকে আয়ত্বে আনতে পারে, তাহলে তারা মহাকাশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সমান অবস্থায় চলে যেতে পারবে বলে মনে করেন ভের্গার।
চীন সবসময় বলে এসেছে, মহাকাশ নিয়ে তাদের যত গবেষণা তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা মহাকাশে কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না। সাম্প্রতিক পরিকল্পনা প্রকাশের সময়ও এ কথাটা আবারও বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের এই মনোভাব যে আসলে কতটা সত্য, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের। তার কারণও আছে। ২০০৯ সালে চীনের বিমান বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছিলেন, মহাকাশে সামরিকীকরণ অবশ্যম্ভাবী এবং এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সঙ্গে সঙ্গেই তার এই বক্তব্য চীন সরকারের নয় বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও। এরও আগে চীন ২০০৭ সালে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট, মানে কৃত্রিম উপগ্রহবিরোধী যন্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার মহাকাশ বিশেষজ্ঞ জোনস্থও মনে করেন, মহাকাশ গবেষণা পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। কেননা আজকাল সামরিক যোগাযোগের অনেকটা হয় মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এছাড়া মহাশূন্যে যে গোয়েন্দা স্যাটেলাইটগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেগুলোও এই প্রযুক্তিরই অবদান। সুতরাং চীনও এর ব্যতিক্রম নয়। পরবর্তী প্রজন্মের রকেটও তৈরি করছে চীন। ‘লংমার্চ-৫’ নামের এই রকেট ২৫ টন পর্যন্ত ভর বহন করতে সক্ষম হবে। ইউরোপের ‘আরিয়েন-৫’ রকেট ২০ টন পর্যন্ত ভর বহন করতে পারে।
এসব দেখেশুনে ফ্রান্সের বিশেষজ্ঞ ভের্গারের মন্তব্য, যেভাবেই হোক মহাকাশ গবেষণায় চীন একটা সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে, যেখানে গেলে সবাই তাদের সমীহ করবে।

SHARE

Leave a Reply