Home সাক্ষাৎকার আমি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কাউকে ভয় পাই না -ড. মোহাম্মদ মুরসি

আমি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কাউকে ভয় পাই না -ড. মোহাম্মদ মুরসি

এই জয়ের পর আপনার অনুভূকি কী?
মোহাম্মদ মুরসি : আল্লাহকে ধন্যবাদ যে তিনি মিসরের জনগণকে সঠিক, স্বাধীন এবং গণতন্ত্রের পথে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি মিসরের সংবিধান ও আইনকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা করব এবং এ দেশের মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করব।
তাহরির স্কয়ারে গণ-আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই আজকের এই বিজয়Ñ আপনি কি একমত?
মোহাম্মদ মুরসি : হ্যাঁ, এটা ঠিক। আসলে মিসরের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরশাসনের অধীনে থেকে বাক স্বাধীনতা একেবারেই হারিয়ে ফেলেছিল। তারা শোষণ ও নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ চাচ্ছিল। এটা তারই বিস্ফোরণ বলবো আমি। একটা অভ্যুত্থান হয়েছে এখানে। অভ্যুত্থান এখনও চলছে। গণ-আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে আইনের মাধ্যমে অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে।
আপনার সামনে তো অনেক চ্যালেঞ্জ। কিভাবে শুরু করবেন ভাবছেন?
মোহাম্মদ মুরসি : মিসরে এই প্রথম মুক্ত ও অবাধ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলো। এরপরও সেনাবাহিনী তাদের প্রভাব বজায় রেখেছে ষোলআনা। ফলে আমাকে তো অবশ্যই শুরু থেকেই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুঝতে হবে। মিসরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার বিরোধ নেই। কারণ সেনাবাহিনী জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই জনগণের জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়, এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে। আর প্রথম পদক্ষেপটা তো সবাই দেখেছেন। আমি তাহরির স্কয়ারে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার জনতার সামনে তাদের জয়ে অংশীদার হতে গিয়েছিলাম। তারাঘোষণা দিয়েছে, সামরিক কাউন্সিল বাতিল করে দেওয়া সংসদ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না। আমি সামরিক বাহিনীর ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জ সাহসের সঙ্গেই গ্রহণ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র মিসরের সেনাবাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। দেশটির অর্থনৈতিক প্রাণসঞ্চারও মার্কিন সাহায্যের ওপরই এখনও পর্যন্ত নির্ভর করে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব।
দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আপনার পরিকল্পনা কী?
মোহাম্মদ মুরসি : দেখুন, সবেমাত্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছি। একটু তো সময় লাগবেই। এ নিয়ে আমার বিশেষ পরিকল্পনা আছে। সব তো আর আপনাদের সামনে প্রকাশ করে দিতে পারি না। দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী ধারায় প্রতিষ্ঠিত করার চ্যালেঞ্জ আমার সামনে আছে আমি স্বীকার করি।
নির্বাচনের প্রচারণায় ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত করা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের কথা বলেছিলেন।
মোহাম্মদ মুরসি : আমার নির্বাচনী ওয়াদা যে কথার কথা নয় এটি প্রমাণের জন্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে উপদেষ্টা বা ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগের ব্যাপারে মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খ্রিস্টানরা নির্বাচনে আমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকের পক্ষে ভোট দেয়। এতদসত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী ঘোষণার পর ভাষণে আমি একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি। মন্ত্রিপরিষদে, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদে বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী ও ইসলামী ব্রাদারহুডের সমালোচক উদারনৈতিক, বাম ও মধ্যপন্থী নেতাদেরও স্থান দেয়া হবে। সংখ্যালঘু অধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার ও সভা-সমাবেশের অধিকারসহ জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা প্রশ্নে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।
ইসরাইলের সঙ্গে মিসরের নতুন কোনো কৌশল প্রণয়নের করবেন না আগের চুক্তিই বহাল রাখা হবে?
মোহাম্মদ মুরসি : ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের কৌশল হলো সমতাভিত্তিক কারণ আমরা কোনো ক্ষেত্রেই তাদের চেয়ে দুর্বল নই। আর আমরা ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবোÑ কারণ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করব। তবে এসব বিষয় গভর্নমেন্ট বডি এবং মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত। কারণ আমি নিজ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।
আপনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কিছু আগেই মিসরের পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কোন্ দৃষ্টিতে দেখছেন?
মোহাম্মদ মুরসি : প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন ইসলামপন্থি প্রার্থীকে ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে। মজলিস-ই-শা’ব (সংসদ) ভেঙে দেওয়া হয়েছে আমাকে লক্ষ্য করেই। জেনারেলরা যখন বুঝতে পারলেন আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি তখন তারা নিজেদের স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। মিলিটারি কাউন্সিল সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয়। আর আমরা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করে দেওয়া সাংবিধানিক ঘোষণাকেও প্রত্যাখ্যান করছি।
ইরানের সাথে আপনার সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে?
মোহাম্মদ মুরসি : কায়রো এবং তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ক এ অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করবে। অবশ্য মন্ত্রিসভা ও সরকারি কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এসবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমি নিজে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ইরান ও মিসরের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন আমার অন্যতম লক্ষ্য।
সবশেষে আমাদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কী?
মোহাম্মদ মুরসি : আমি দেশের সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হতে চাই। জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমার শরীরে কোনো বুলেট প্রুফ জ্যাকেট নেই। আমি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। আপনারা আমার জন্য দোয়া করেবেন।
সূত্র : ইন্টারনেট

SHARE

Leave a Reply