Home গল্প লেলিহান শিখা

লেলিহান শিখা

আহমদ মতিউর রহমান..

ছোট্ট ছিমছাম শহর মংডু। এখন মংডু টাউন হয়েছে বটে কিন্তু আগে ছিল  মংডু টাউনশিপ। অর্থাৎ উপশহর। নাফ নদী আর সমুদ্রের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এ শহরÑ শহর বললে কী আসলে এখনো গ্রামের মতোই।
জুন মাস। গ্রীষ্মের খরতাপে তপ্ত হয়ে আছে শহরটি। গাছের ছায়ায় বসেও নিস্তার নেই। তবে বর্ষা আসতে পার বাকি নেইÑ বাকি নেই মৌসুমি বায়ু আসারও। ফলে ঝুম ঝুম বর্ষায় এই গরম কমবে এই আশায় বুক বেঁধে আছে এখানকার মানুষ। আশায় বুক বেঁধে আছে ছোট ওয়াহিদ উশে। ঝম ঝম বৃষ্টির দিন এলে বন্ধুদের সাথে নিয়ে নাফ নদী আর সমুদ্দুরের সৈকতে ঝাঁপাঝাঁপি করবে। রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারের সন্তান ওয়াহিদ। বয়স ১২। পুরো নাম আবদুল ওয়াহিদ উশে। উশে ডাক নাম। এটা স্থানীয় শব্দ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানরা এক দুর্ভাগা জাতি জানে উশে। মুসলিম হওয়ায় তারা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত।
বঞ্চিত হয়েছে তার বাবা-মা, দাদা-দাদী-নারীরাও। তাই তাদের দুঃখের যেন আর শেষ নেই। উদাসীন দৃষ্টিতে চার পাশে তাকাতে তাকাতে ওপরের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে না তাদের।
বাড়ির আঙিনা পার হয়ে একটু গাছগাছালির এলাকা। তার পর কাঁচা সড়ক। আরো একটু এগুলে কাঁচা-পাকা সড়ক। এখানে কয়েকটি বড় বড় গাছ থাকায় জায়গাটা বেশ ছায়াময়। দুপুরের তপ্ত রোদ থেকে বাঁচতে এখানে এসে গাছের নিবিড় ছায়ায় শিশু-কিশোররা বসে থাকে। কয়েক ধরনের গাছ আছেÑ আছে ঝাউবন, প্যারাবন আর কেওড়া ঝোপ, কেয়া ঝোপ।
ওর বাবা মোহাম্মদ রফিক। স্থায়ী কোনো কাজ নেইÑ সমুদ্র তীরে টুক টাক যা কাজ পায় তাই করে। মা আমিনা আক্তার ঘর সামলায়Ñ সামলায় তাদের দুই ভাইকে। ওয়াহিদের ছোট একটা ভাই আছে, তার নাম আব্বাস, মোহাম্মদ আব্বাস মিয়ং। মিয়ং ডাক নাম। ও ছোট বলে বাড়িতেই মায়ের সাথে থাকে, সারাক্ষণ ঘুর ঘুর করে। ছোট হলে কী হবে দুষ্টের হাড্ডি। মাঝে মাঝে বাইরে বের হয়ে হারিয়ে যায়। তখন তাকে খুঁজে আনতে হয় উশেকে আর তার মা আমিনাকে।
মা তখন অনেক দুঃখে নানা কথা বলেন। বলেন, দুষ্টুটাকে নিয়ে আর পারি না। নানা অভিশাপ দেয় মা।
দূর থেকে উশের দাদু মোহাম্মদ মহিদুল বৌমাকে ধমক দেনÑ করোকি করোকি মা, পেটের ছেলেকে এভাবে অভিশাপ দিতে হয়?
মা জিভ কাটেন।
দাদু বেচারারও খুব কষ্ট। জীবনটা কেটে গেল কষ্টে কষ্টেÑ তার ছেলে সন্তান নাতি-পুতিদের সুখ দেখে যেতে পারলেন না। তারপর আবার আকাশের দিকে চোখ। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদÑ আমাদের একটু শান্তি দাও আল্লাহ পরোয়ারদেগার।
বুড়ো মহিদুলের বয়স ষাট পেরিয়ে সত্তর হতে চললো। বার্মা নামে দেশটার কম উত্থান-পতন তো তিনি দেখলেন না। প্রতিবারই একটা বিপর্যয় আসে আর আশায় বুক বাঁধেন মহিদুল।
আগে মাছ ধরার কাজ করতেন। সেটা বাদ দিয়ে হয়েছিলেন সারেং। তাতেও কাজ হলো না। হলেন কাঠের কারখানার শ্রমিক। কিন্তু ন্যায্য মজুরি মেলে না। সবাই ঠকায়। মগ রাখাইন বৌদ্ধরা যা পায় মুসলমান হওয়ায় তার মজুরি ওদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এটা কেমন বিচার?
প্রতিবাদ করেছেন অনেক। যুবক বয়সে একজন তাগড়া জোয়ান প্রতিবাদী ছিলেন মহিদুল। ওতে তেমন কাজ হতো নাÑ পাওয়া যেত লাঞ্ছনা গঞ্জনা।
তবুও মুখ বুজে থাকার পাত্র নন মহিদুলÑ প্রতিবাদ করতেন।
১৯৮২ সালে একবার বড় রকমের ঝড়-ঝাপ্টা এলো। কী এক ছুতানাতায় রাখাইন আর রোহিঙ্গায় বেধে গেল গোলমাল। কাঠের চালানের সঙ্গে রেঙ্গুনে গিয়ে আটক পড়ে গেলেন মহিদুল। এক টানা ৬ মাস আর বাড়ি ফেরা হয়নি। সেনাবাহিনীর লোকেরা ধরে নিয়ে রাস্তা নির্মাণ আর ফসল কাটার কাজে লাগিয়ে দিয়েছে। তার ছেলেমেয়ে বৌ-পরিবার ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছে। তিনি তা জানতেও পারেননি।
মোহাম্মদ রফিক তখন ছোট শিশু। আরো দুই ভাইবোন আর মাকে নিয়ে প্রতিবেশী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাম্পানে করে নাফ নদী আর সাগর পাড়ি দিয়ে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশের টেকনাফে। সেই এক দুঃখের দিন গেছে তাদের। কয়েক বছর পর সৌভাগ্যবশত তারা মংডুতে ফিরেছে বটে আগের কিছুই আর পায়নি। সব নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। পাঁচ বছর পর পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পেরেছিলেন মহিদুল। মনে আছে, যেই দিনটি তার সবচেয়ে আনন্দের দিন, ঈদের দিনের চেয়েও যেন বেশি।
সেসব দুঃখ ব্যথা ভুলতেই বসেছিলেন মহিদুল। কিন্তু না, আবার যেন একটু বিপর্যয়ের তুফানের আলামত পাচ্ছেন মহিদুল। আশপাশের লোকজনের ফিসফিসানিতে তাইতো মনে হচ্ছে। ছোটরা ভয় পাবে ছেলে রফিক আর পুত্রবধূ আমিনা চিন্তিত হয়ে পড়বে বলে কিছু বলেননি।
কপালে চিন্তার রেখা দেখে একদিন আমিনা বলেই ফেললো, আব্বা, আপনার মুখটা শুকনা কেন, কী চিন্তা করেন আপনে? চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক বাংলায় কথা বলে রোহিঙ্গারা। তারা মূলত বাংলাভাষী। আরাকান এক সময় পৃথক স্বাধীন রাজ্য ছিলÑ আরাকান আর চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ছিল একই রাজ্যভুক্ত। আরাকানের রাজসভায় বাংলা চর্চা ছিল একটা গৌরবজনক পর্যায়।
বৌমার কথায় থতমত খেলেন মহিদুল।
: না, না, বৌমা কী চিন্তা করবো কও। বয়স হইছে নাÑ নানান চিন্তা এমনিতে আইসা পড়ে। না না, আব্বা, কী জানি লুকাইতেছেন। আপনার মুখ দেখলে আমি বুঝতে পারি।
আমিনা নাছোড় বান্দা।
: উশে, মিয়ং ওরা গেছে কই? ওদের চোখে চোখে রাখবা। সময়ডা বালা না।
: উশে মক্তব থিকা আইছে, ওই যে, গাছতলায় গেছে। মিয়ং এই এ হানেই আছিল। কী অইছে আব্বা কন না?
: কী আর হইব মা। ও গুলানের গতি ভালো ঠেকতেছে না। কোথায় জানি কী হইছে। ওগুলান আবার তেড়িবেড়ি শুরু করছে।
গা শিউরে ওঠে আমিনার। তার শ্বশুরের কথার ওগুলান হচ্ছে রাখাইন মগ। এরা আশপাশেই প্রতিবেশীর ভান ধরে থাকে। দাদা, কাকা, মামা, ভাই, যাই ডাকা হোক না কেন মুসলমানের বিনাশ করতে তারা একাট্টা।
উয়ং শি কাকা কতবার তাদের বাড়িতে এসেছে, বসেছে। রফিক তাকে কাকা বলতে অজ্ঞান কিন্তু তাতে কাজ হয়েছে কী! সেবার অকারণে কি অত্যাচারই না করলো পাশের বাড়ির হাসানের পরিবারকে। হাসানও তো তাকে কাকা বলতে অজ্ঞান ছিল।
উয়ং শি এতটা ভয়ঙ্কর হবে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতো না রফিক আর আমিনা। কী তুচ্ছ একটা ঘটনায় হাসানের কোলের ছেলেটাকে আছাড় মেরে উঠানে ফেলে ঘর থেকে সহায় সম্পদ লুট করে নিল উয়ং শি আর তার লোকেরা। হাসানের ছেলেটা কাতরে কাতরে কয়েক দিন বেঁচেছিলÑ তার পর সব শেষ। পুত্রশোকে হাসানের বৌ পাগল হয়ে গেছে। তাতে কি মন গলেছে প্রতিবেশী উয়ং শির? না তা মনে হয় না।
উয়ং শি রাখাইনদের উঠতি নেতা। মং শিং, জিয়ং শিয়েন, তিয়েন নাং তার চেলা। এরা দিনভর রোহিঙ্গাদের সর্বনাশ করার তালে থাকে।
শ্বশুরের কথায় অজানা আশঙ্কায় চিন্তিত হয় আমিনা। শ্বশুর আর বেশি কিছু বলতে চান না বলে আর কিছু জানতে চাইলো না। ছেলের খোঁজে চললো গাছতলার দিকে।
মং শি আমিনার স্বামীর সমবয়স্ক। তাদের গ্রামেরই এক প্রান্তে বাড়ি। রফিকের সঙ্গে তাদের বাড়িতে এসেছে অনেক দিন। ওয়াহিদ উশে আর আব্বাস মিয়ং আমিনার দুই ছেলে মং কাকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মং কাকা ওদের এটা ওটা কিনে দেয়, খুব আদর করে।
কিন্তু এর পরও মংয়ের গতিবিধি ভালো লাগে না আমিনার। স্বামীকে এ কথা বলেছেও। স্বামী গায়ে মাখেনি।
: আরে দুর, মং আমার পুরনো বন্ধু। দেখো না তোমার ছেলেদের কী আদর করে।
: তা করে। কিন্তু আমার ভালো ঠেকতেছে না, ডর করে।
: ডরাইলে চলবো? বাঁচতে তো অইব। আল্লাহর নাম নেও। কিচ্ছু অইবো না।
: আব্বায় কী কয় শুনছেন?
: কই না তো, আমারে তো কিছু কয় নাই।
: জিগান নাই, তাই কয় নাই। জিগায়া দেহেন।
: আচ্ছা জিগামু।
দুই.
৫ কোটির বেশি মানুষের দেশ মিয়ানমার। জনসংখ্যা একবারে তো কম নয়। এর আয়তন ৬ লাখ ৭৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বা দুই লাখ ৬১ হাজার বর্গমাইল। কত বড় একটা দেশ। এখানে আছে নানা ধর্মের, নানা জাতের মানুষ। তবে বৌদ্ধ রাখাইনরা সংখ্যায় বেশি। এর বাইরে আছে কারেন, শান, মোন রোহিঙ্গা, চীন, কাচিন এ ছোট ছোট কয়েকটি জনগোষ্ঠী।
রোহিঙ্গা মুসলমানের সংখ্যা হবে আট লাখ। এদের বাস প্রধানত সাবেক আরাকান বর্তমান রাখাইন প্রদেশে। এখানে শতকরা ২৫ ভাগ জনসংখ্যা রোহিঙ্গা। এত বড় একটা দেশে মাত্র আট লাখ মুসলিম, তা-ও সহ্য হয় না এখানকার শাসকদের। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে ওয়াহিদ উশে। এত বড় একটা দেশের কতটুকুইবা তারাÑ তবু ওদের সহ্য হয় না। অথচ ওরা কত না নিরীহ ও শান্তিপ্রিয়।
বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমার বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। এখানকার শাসকেরা আছে নিজেদের মতো করে। কাউকেই অধিকার দিতে রাজি নয় তারা। আগে দেশটার নাম ছিল বার্মা, এখন হয়েছে মিয়ানমার। রাজধানীর নাম ছিল রেঙ্গুন, এখন হয়েছে ইয়াঙ্গুন। তবে এখন আর এটি রাজধানী নয়। রাজধানী সরিয়ে নেয়া হয়েছে নে পি তাওয়ে। আস্তে আস্তে সব কিছু বদলে ফেলে দিন দিন আরো রূদ্রমূর্তি ধারণ করছে এখানকার শাসকেরা। অং সান সু চির দল গণতন্ত্র চাইলেও সেটাও দিতে রাজি নয়। ১৯৯০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েও সু চির দল ক্ষমতা পায়নি। তবে দুই বছর হয় হাওয়া একটু একটু করে পাল্টাচ্ছে। গণতন্ত্রের বাতাস একটু একটু করে লাগতে শুরু করেছে মিয়ানমারে। সু চিকে মুক্তি দিয়েছে, তিনি নির্বাচনে পাস করে এমপি হয়েছেন। আশায় বুক বেঁধে ছিল রোহিঙ্গারা। তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার যদি ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে গেল। পরিস্থিতি ভালো তো হচ্ছেই না, চারদিক থেকে কেবল খারাপ খবর আসছে।
শুধু মংডু নয়, বুচিডং আর প্রদেশের রাজধানী আকিয়াবেও শান্তিতে নেই রোহিঙ্গারা। অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, হত্যা তাদের নিত্যসঙ্গী। আকিয়াব আর বুচিডংয়ে থাকা ওদের আত্মীয়স্বজনেরা ভালো নেই খবর পেয়েছেন উশের বাবা। সবারই এ নিয়ে দুশ্চিন্তা। রাখাইনরা আকিয়ার নামটাও সহ্য করতে পারছে না। এর নাম বদলে ফেলেছে। নাম দিয়েছে সিত্রেউ। না শুনতেও ভালো শোনায় না নামটা। সামনের দিনগুলো কেমন যাবে এ দুর্ভাবনায় আচ্ছন্ন হয় কিশোর ওয়াহিদ উশের মন। এখন তার লেখাপড়া আর খেলাধুলা করে সময় কাটানোর কথা, সে কি না ভাবছে ভবিষ্যতের কথা। ছোট্ট ভাইটির কথা, বাবা মা আর বুড়ো দাদুর কথা।
উশের দুঃখের শেষ নেই। ভাল স্কুল ড্রেস পরে স্কুলে যাওয়া তো হয়ই না, দর্শনীয় স্থানগুলোতে দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়াও হয় না। অথচ এমনটা হওয়ার তো কথা ছিল না।
আরাকান তো একমাত্র তাদেরই ভূখণ্ড ছিল। রাখাইনরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে মাত্র। দীর্ঘদিনের আরাকান নামটাও মুছে ফেলেছে মিয়ানমার সরকার। অথচ শত শত বছর ধরে আছে এই নাম। আরাকান নামটার ওপর কেমন যেন মায়া পড়ে গেছে তার। এখন তার নতুন নাম দেয়া হয়েছে রাখাইন। অথচ এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। আট লাখ রোহিঙ্গার বাসভূমি আরাকান। অথচ তারা ফুৎকারে মিশিয়ে দিতে চায়। এর চেয়ে দুঃখের কী হতে পারে।

তিন.
গাছতলায় আরো কয়েকটি ছেলেমেয়ের সঙ্গে খেলছিল উশে। একটু আগে মক্তব থেকে ফিরেছে সে। মংডুর স্টেট হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ নেই রোহিঙ্গা শিশুদের। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তাই এই স্কুলে যাওয়া হয় না উশের। দুঃখী উশে লেখাপড়া থেকেও বঞ্চিত। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সমান অধিকার নেই, নেই নাগরিকত্ব। স্কুলে পড়ার অধিকার তো পরের কথা। তাই মক্তবে পড়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। মক্তবে পড়ানো হয় আরবি, বাংলা, বার্মিজ ভাষা। মুসলিম পরিচয়ের জন্য আরবি প্রয়োজন। তারা তো বাংলা ভাষাভাষী। তাই বাংলা পড়তেই হয়। মিয়ানমার বা বার্মার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য জানতে হয় বর্মি ভাষা। মক্তবের পাশাপাশি একজন শিক্ষক আলাদা করে পড়ান তাদের।
উশের স্বপ্ন ছিল মংডুর স্টেট স্কুলে পড়ার। ওই স্কুলের ছেলেমেয়েরা কাঁধে-পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে হলুদ কমলায় মেশানো রঙের ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যায়, দেখতে খুব ভাল লাগে। ভাল লাগলে কী হবে তাদের, ভাগ্যে তো আর তা হবে না। মক্তবের পাঠ শেষে সাহিদ মাস্টারের বাড়ি। সেখান থেকে পাঠ শেষে এ সময়ই বাড়ি ফেরে উশে। জামা কাপড় ছেড়ে একটু ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য এসেছে গাছতলায়। উশের ছোট ভাইকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে হাজির তার মা আমিনা।
: মিয়ংকে দেখছিস উশে। এখানে কী করছিস?
: না আম্মা, মিয়ং এখানে আসেনি।
: গেল কোথায়, বাড়িতেও তো নেই, কোথায় গেল ছেলেটা। আমিনা শঙ্কিত হন।
: আচ্ছা খুঁজে দেখছি। এবার মিয়ংকে খুঁজতে বের হয় উশে।
সারা দুপুর আব্বাস মিয়ংকে খুঁজে পাওয়া গেল না। কতই বয়সÑ ছয়, সাত বছর। এতটুকু একটা বাচ্চা কোথায় যাবে? সবারই প্রশ্ন
সন্ধ্যা নাগাদ আরো ৫-৬টি মুসলিম শিশুর নাম উঠে এলো নিখোঁজ তালিকায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো মংডুর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলটাতে। ততক্ষণে ঘরে ঘরে কান্নার রোল শুরু হয়েছে। সবার আশঙ্কা ওদের মেরে ফেলা হয়নি তো! কারা যমদূতের মতো এসে নিয়ে গেল আব্বাস, হামিদ, মিশাল, ওসমান আর রবিনকে?
থম থমে পরিস্থিতিতে সন্ধ্যা নামলো।
রাত ৮টার দিকে খোঁজ পাওয়া গেল মিয়ং আর উসমানদের। তবে জীবিত নেই কেউ।
কারা যেন গলাটিপে খুন করে এক সঙ্গে দাড়ি দিয়ে বেঁধে দূর পাহাড়ের এক ঢালে লাশগুলো ফেলে রেখেছে।
হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো আমিনা। তার প্রশ্নÑ কী তার অপরাধ? কে তার কোলের শিশুটাকে এভাবে নিয়ে গিয়ে খুন করলো। এই বলেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল আমিনা। শোকে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে বুড়ো মহিদুল। চোখে বর্ষার মতো অশ্রুধারা। তার আশঙ্কাই সত্যি হলো।

চার.
দাদুর বুকে মুখ লুকিয়ে অঝোরে কাঁদছে উশে। ছোট ভাইটাকে এভাবে হারাবে কখনো ভাবেনি। এদিকে রফিকের কোনো দেখা নেই। কোথায় গেল সে। আস্তে আস্তে রাতেই জানাজানি হয়ে গেল মং শি আর তার দল চকোলেটের লোভ দেখিয়ে শিশুদেরকে দূরে নিয়ে খুন করেছে। কতটা ভয়ঙ্কর হলে মানুষ এটা পারে। ভয়ে শিউরে উঠলো উশের অন্তর। মং কাকা না ওদেরকে কত আদর করতেন?
রাত ১০টা নাগাদ ঝড়ের বেগে বাড়ি ফেরে রফিক। এসেই আশপাশের সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলে আবার বেরিয়ে যায়। এ প্রস্তুতি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নয়। কী দিয়ে লড়াই করবে তারা দা-বটি ছাড়া তো কোনো অস্ত্র নেই! আর রাখাইনরা নিয়ে আসবে পিস্তল, কাটারাইফেল। তাদের সাথে থাকবে সরকারি বাহিনী। রোহিঙ্গারা সংঘবদ্ধ বটে কিন্তু অস্ত্র বাদে লড়াই করবে কী দিয়ে? অতএব জীবন বাঁচাতে হলে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হবে। তারই প্রস্তুতি প্রয়োজন।
রফিক খবর পেয়েছে রাখাইনরা ভয়ঙ্কর আক্রাশে হানা দেবে গভীর রাতে। ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে। কী অপরাধ তাদের? মুসলমানরা নাকি কোনো এক রাখাইনকে মেরে ফেলেছে। সবাই জানে এটা একটা অজুহাত। মুসলমানরা এ কাজ করতেই পারে না। কেননা এর পরিণাম তারা জানে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ও সম্পদ দখল করতে এটা একটা বাহানা মাত্র, এটা রোহিঙ্গারা সবাই বোঝে। একটি গ্রুপ লড়াই করে শহীদ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রফিক সে দলে যেতে পারছে না। কারণ আর কিছু দিনের মধ্যে তার ঘর আলো করে একটি ফুটফুটে শিশু আসবে আমিনার কোলে। অনাগত সেই শিশুর কথা ভেবে আমিনাকে অন্তত নিরাপদ স্থানে নেয়া দরকার। এ কারণে তার পিছু হটা। তা না হলে শহীদি কাফেলায় সেও নাম লেখাতো।
এখন মধ্যরাত। ঝিরঝির হাওয়া বইছে। এখনকার হাওয়া অনেকটা শীতল। এই মধ্যরাতেও জেগে আছে কিশোর উশে। প্রাণের তাগিদে জেগে থাকতে হচ্ছে। মুহূর্তের ভেতর কয়েকটি মশাল নিয়ে হইহই করে হামলে পড়লো। কয়েকজন রাখাইন। রাত বলে মুখে কোনো কাপড় বা মুখোশ নেই। ততক্ষণে আমিনা পৌঁছে গেছে সাগর পাড়ে। অন্ধকারের মধ্যে উশে তার মং কাকাকে চিনতে পারলো। দেখতে দেখতে মং কাকার লোকেরা তাদের বসতঘর ও অন্য ঘরটাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছ। আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে।
এদের এ অবস্থা দেখে উশে দূরে একটা ঝোপের আড়ালে লুকালো। একবার তার ইচ্ছে হলো মং কাকাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে মাং কাকা আপনি? আপনি আমাদের ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছেন?
তার পর মনে হলো, চিনতে পারলে তার ছোট ভাইয়ের মতো তাকেও মেরে ফেলবে। অনেক কষ্টে ঝোপঝাড়ের ফাঁকে গিয়ে নাফ নদীর তীরে সাম্পানের কাছে পৌঁছলো উশে। হামলা থেকে বাঁচতে যে যার মতো পালিয়েছে।
নাফ নদীর তীরে কয়েকটি সাম্পান। এগুলোতে ২০-২৫ জন করে উঠে বসেছে। অন্ধকারে কারো চেহারাই বোঝা যাচ্ছে না। ভোর হওয়ার আগেই তাদের ছেড়ে যেতে হবে এই অঞ্চলÑ আপন ঠিকানা, নিজ বাড়িঘর। যেতে হবে অজানা গন্তব্যে।

পাঁচ.
উন্মত্ত হায়েনার মতো হিংস্র পশুর দল হামলে পড়েছে মংডুর দক্ষিণ পাড়ায়। নেতৃত্বে উশের সেই প্রিয় মং কাকা। দেখতে দেখতে রফিক, হাসান, শিহাব, মোতালেব, লেদু সবার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে উন্মত্ত রাখাইনেরা। এর আগে চালিয়েছে লুটপাট। মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। কে তাদের মানুষ বলবে, কে?
মোহাম্মদ রফিকের অনেক সখের বানানো একটি কাঠের সিন্ধুক কয়েকজনে ঘর থেকে তুলে এনে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করলো।
আরেকজন রাখাইন হাতের শাবল দিয়ে সিন্ধুকের তালা ভেঙে ফেললো। তার উদ্দেশ্য ভেতরে অর্থকড়ি থাকলে লুটে নেয়া। না কিছুই পাওয়া গেল না, একটা কাঁচা টাকার জালি ছাড়া।
: হারমাজাদা! সব টাকা পয়সা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ভেগেছে। দাঁত কিড়মিড় করে রফিকের উদ্দেশে এ কথা বলে উঠলো সেই হার্মাদ রাখাইন।
দূরে জ্বলন্ত আগুনের আলোতে তার চেহারা দেখা গেল বদখত, ভয়ঙ্কর।
: শালা! তুমি মনে করেছ, মাল কড়ি রেখে যাবে তোমার দোস্তরা।
আরাকানের রাখাইনরা বাংলা ভালোই বোঝে এবং বলতেও পারে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা বাংলায় কথা বলে বটে কিন্তু নিজেরা তেমন একটা বলে না।
মং শি আতিপাতি করে খুঁজেও রফিক আমিনা বা উশেকে খুঁজে পেল না। অন্তত আমিনাকে পেয়ে যাবে এ আশায় এখানে ওখানে ঘুর ঘুর করে খুঁজলো। এতদিন ভাবি বলতে অজ্ঞান ছিল আজ এসেছিল অন্য নেশায়
: রফিকের বৌটা ভাগল কী করে রে ভারী শরীর নিয়ে? মং প্রশ্ন করে উদেকে।
: হ, হেরা তোমার লাইগা বইয়া থাকবÑ জবাব দেয় উদে।
এতক্ষণে রক্ত চড়ে গেছে মং শির মাথায়। হাতে রামদাটা নিয়ে সামনে যা পায় কোপাতে থাকে সে।
রফিকের পুবের ছোট ঘরটায় আগুন দেয়া হয়নি। ভাঙাচোরা ঘর আগুনে পুড়লেই কী না পুড়লেই কী। এ ঘরের তো কিছু নেই। এখানে থাকে জ্বালানি কাঠ আর তুষ-ছাই।
ওখানে একটা আবছায়া মত দেখে নড়ে চড়ে উঠলো মং শি। চড়া গলায় জানতে চাইলো,
কে ওখানে? কে?
না কোনো উত্তর এলো না।
খড় বিচালির গাদায় ভয়ে জড়ো সড়ো হয়ে আছে বুড়ো মহিদুল। উশের দাদু। সবাই পালালেও সে পালাতে পারেনি। বুড়ো মানুষ, আগের মত দৌড়ানোর শক্তি তার নেই। আর বড় কথা নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে যাবেই বা কেন? মরলে নিজের ভিটেতেই মরবে। সে তো জন্মের পর থেকে মরেই আছে, তার আর মরার ভয় কী?
মং শির কথা শুনে বাঁশপাতার মতো কাঁপতে থাকে বৃদ্ধ।
মং শিও নাছোড়বান্দা। তার পিশাচের মতো চোখ ভুল দেখেনিÑ ওখানে কেউ না কেউ আছে। অন্ধকারে জামা ধরে টেনে হিড় হিড় করে জ্বলন্ত ঘরের সামনে এনে মহিদুলকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে মং শি। বুড়ো ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নেতিয়ে পড়ে।
: ও তুমি! শালা রফিক্কার বাপ।
পুড়ে যাওয়া ঘরের আগুনের আবছায়া আলোয় মহিদুলকে চিনতে পেরে অবাক হয় মং।
মহিদুলের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ, মনে বেঁচে থাকার আকুতি। থর থর করে কাঁপছে, আর দর দর করে ঘাম ঝরছে শরীর থেকে। তবে মুখে কিছুই বলতে পারছে না।
মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল আগেই। এবার বুড়ো মহিদুলের বুজে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাসি হেসে হাতের রামদাটা ফেলে অন্য একটা ভোজালি হাতে নেয় মং শি। মুহূর্তেই তা বসিয়ে দেয় বুড়োর বুকে। ফিনকি দিয়ে বের হয় তাজা রক্ত। এত দিনের চেনা জানা নিকট প্রতিবেশী আদুরে ডাক মহিদ কাকা কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
একদিকে মহিদুলের নিথর দেহ পড়ে আছে, অন্য দিকে ঘরের বেড়া তখনো জ্বলছে। পুড়ে ছাই হতে আর বেশি বাকি নেই। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করেছে সব কিছু।

ছয়.
গভীর রাত। নাফ নদীর তীরে তিনটি সাম্পান বাঁধা। এর প্রতিটিতে ২৫-৩০ জন করে রোহিঙ্গা শিশু, নারী-পুরুষ উঠে বসেছেন। প্রাণ বাঁচাতে ছেড়ে যেতে হবে বাড়িঘর, জন্ম ভিটা। রাখাইন হার্মাদগুলো বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে ওদের খুঁজতে নদীর ঘাটেও আসতে পারে। একজন বয়স্ক লোক হাঁক দিলো,
বেশিক্ষণ দেরি করণ যাইবো না। নাও ছাড়ি দিতে হইবো।
আরেক জন বললো, ঠিক আছে, ঠিক আছে। আর কেউ আসছে না, কে এসেছে, কে আসেনিÑ সেটা দেখার আর সময় নেই। এক সময় তিনটি সাম্পানই ছেড়ে দিলো। তাদের লক্ষ্য সেন্টমার্টিন অথবা শাহপরীর দ্বীপ। ওখানে গেলে অন্তত প্রাণভরে নিশ্বাস নেয়া যাবে, কেউ প্রাণে মারবে না।
মাঝখানের নৌকাটিতে রফিকের পরিবার। পরিবার বলতে তার বৌ আর ছেলে। বুড়ো বাপ আসেনি, আসতে পারেনি। তার চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে আমিনা ও উশে।
রফিক তাদের সান্ত্বনা দেয় এই বলে, হয়তো অন্য কোনো নৌকায় আছে। চিন্তা কইরো না। সত্যি ঘটনা তাদেরও জানা নেই। নাফ নদী পেরিয়ে তাদের নৌকা এবার পড়লো সাগরে। প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে এগুনো কঠিন। তবু জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চলাচ্ছে মাল্লারা। এর মাঝে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। ছাতা আর ত্রিপল মেলে ধরেও বাঁচা যাচ্ছে না।
সাগর পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ বরাবর পৌঁছতেই সার্চ লাইটের আলো চোখ ধাঁধিয়ে দিল সবার। সামনে তাদের সাম্পান আগলে দাঁড়ালো দু’টি গান বোট। বাংলাদেশের কোস্ট গার্ড আর বিজিবি পথ আগলে দাঁড়ালো।
ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে আমিনার।
ও আল্লাহ! বাঘের মুখ থেকে বেঁচে এলাম। এখন কি কুমিরে খাবে?
না কোনা রকমেই যেতে দেবো না। প্রয়োজন হলে গুলি করা হবে। হ্যান্ডমাইকে জানালো বাহিনীর লোকেরা।
হায় আল্লাহ! প্রতিটি সাম্পানে কান্নার রোল উঠলো। এই কান্নায় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলেও মন গলছে না বাহিনীর লোকদের।
তাহলে কি এ নৌকায় ভাসতে ভাসতে জীবন যাবে তাদের?
না আর ভাবতে পারে না রফিক। কত আশা করে না তারা এসেছিল অন্তত হার্মাদগুলোর হাত থেকে প্রাণটা বাঁচানো যাবে। এখন এ কোন অবস্থায় এসে পড়লো!
তিন দিন ধরে তিনটি নৌযান সাগরে ভাসছে। একে একে তাদের খাবার দাবার ফুরিয়ে আসছে। এখানে আশ্রয় না পেলে পেছনে ফিরে গিয়ে যমদূতদের পাল্লায় পড়লে আর কাউকে আস্ত রাখবে না। এই কষ্টের মধ্যেও আনন্দের একটা ঝিলিক দেখা গেল একটি সাম্পানে। আমিনার ছেলে হয়েছে। উশে এত বেদনার মধ্যেও খুব খুশি। আল্লাহ তার হারানো ভাই মিয়ংকে আবার দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন অন্য পরিচয়ে। হাসানের বৌ মিষ্টি খাওয়ানোর বায়না ধরলো রফিকের কাছে। দু’মুঠো চিঁড়েই জোটে না এখানে, মিষ্টি আসবে কেত্থেকে, বুঝতে পারে না রফিক। তবে বলে, মিষ্টি খাওয়াবো ভাবি, সময় হলে খাওয়াবো। সবার দৃষ্টি এখন আমিনা আর শিশুটির দিকে। না খেয়ে না খেয়ে আমিনা বেশ কাহিল হয়ে গেছে। এখন শিশুসহ ওকে বাঁচানোই দায়।
ভোরের আলো ফুটতে আর দেরি নেই। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ও কিছুটা কমে এসেছে। এই শিশুটির জন্যই ওদের বেঁচে থাকতে হবে। আজ যে করেই হোক কোস্টাগার্ডদের পা জড়িয়ে ধরে হলেও একটু আশ্রয় ভিক্ষা করতে হবে। মনে মনে ভাবলো রফিক। এই নবজাতকের মুখের দিকে তাকিয়ে তারা আর না করতে পারবে না। কেননা মানুষ তো মানুষেরই জন্য। তর তর করে এগোতে থাকে সাম্পান। আশায় বুক বাঁধে সবাই।

[এই গল্পের সব চরিত্রই কাল্পনিক। তবে মিয়ানমারের আরাকানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সঙ্গে মিল রয়েছে। তথ্য ও উপাত্ত ইতিহাস থেকে গৃহীত।]

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply