Home সায়েন্স ফিকশন লাশ বিষয়ক জটিলতা

লাশ বিষয়ক জটিলতা

মহিউদ্দিন আকবর..

তরুণ বিজ্ঞানী ড. আহমাদ নাদিজের সকাল থেকেই মনটা অস্থির অস্থির লাগছে। সারাটা দিন কেমন একটা ঘোরের মধ্য দিয়ে কেটে গেছে। একটা মমি কিভাবে তার জাতিকে নির্দেশনা দিতে পারে তা তার মগজেই ঢুকছে না। প্রখর মেধার কারণে মাত্র উনিশ বছর বয়সেই এ্যাস্ট্রোনমি বিষয়ে গবেষণায় এমফিল, স্যাটেলাইট বিষয়ক গবেষণায় পিএইচডি এবং টেলিপ্যাথি বিষয়ে গবেষণায় উচ্চতর গবেষণা করে এমডিডিএলভি ডিগ্রি নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়া সুপার ব্রিলিয়ান্ট সেলিব্রেটির অবস্থানে চলে যাওয়া ড. নাদিজের মত বিজ্ঞানীও হিমসীম খেয়ে যাচ্ছেন সামান্য একটা মমি নিয়ে। গত চারদিন তিনি একটানা ল্যাবে কাজ করেও মমিটির কোন কূল কিনারা করতে পারেননি। অথচ সরকার থেকে একমাত্র তার উপরেই ভরসা করা হচ্ছে। তাছাড়া বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এতোটাই স্পর্শকাতর যে, একমাত্র ড. নাদিজে ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাসও করা যায় না। কারণ ড. নাদিজে হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি পুরো ছাত্র জীবনটাই অতিবাহিত করেছেন বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক এবং আদর্শিক আন্দোলনের ছাত্র শক্তির অগ্রভাগে। ছাত্র জীবনেই তিনি জাতীয় নেতৃবৃন্দের কাছে সর্বক্ষেত্রে বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় চলে আসার পর ড. নাদিজেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আহবান করলেও তিনি সে প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তিনি দেশের নিরাপত্তার কথা ভেবে ন্যাশনাল সায়েন্স ল্যাবরেটরির  সেবার মাঝেই নিজেকে নিবেদন করেছেন। নেতৃবৃন্দকে বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে গেলে তার গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আপাতত পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব গ্রহরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হয়েই দেশের সেবায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চান। সবদিক বিবেচনা করে সরকার প্রধান আল্লামা আরবান উস সামা আননেসারী ড. আহমাদ নাদিজের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন।
মহাবিশ্ব রাষ্ট্রপুঞ্জের সবচেয়ে প্রভাবশালী গ্রহরাষ্ট্র পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব বার বার প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। গত বছরও নিকটবর্তী গ্রহরাষ্ট্র জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং থেকে দু’ দু’বার প্রযুক্তিগত হামলার শিকার হয়েছে পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব। ওদের বিজ্ঞানীরা পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর পুরো ডিজিটাল মেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কে জ্যাম লাগিয়ে তথ্য প্রবাহকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলো। কিন্তু পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর বীর সন্তান ড. আহমাদ নাদিজের ক্যারিশমার কাছে মার খেয়ে তারা দ্রুত নিজেদের পাততাঁড়ি গুটিয়ে নেয়। নাহলে ড. আহমাদ নাদিজে এমন ব্যবস্থা করে ফেলেছিলেন যে, আর মাত্র পনের মিনিট সময় পাওয়া গেলে তিনি বরং তানিজিং গ্রহরাষ্ট্রের পুরো স্যাটেলাইট সিস্টেমই অচল করে দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তা আর হয়ে ওঠেনি। জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং এর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খেতানিয়াহুর মমি নাকি ওদেরকে ড. আহমাদ নাদিজের পুরো পরিকল্পনার কথাটা বলে দিয়েছে!
এটা তো অসম্ভব ব্যাপার!! অই বেটা তো মরে কবেই ভূত হয়ে গেছে। ড. নাদিজের অভিমতও তাই, জায়েনিস্টরা মরে আর কি হবে? স্রেফ অভিশপ্ত ভূত। যার কোন অস্তিত্বই নেই। অথচ সেই মড়াচণ্ডা শুটকি লাশই নাকি জায়েনিস্টদেরকে সাবধান করে দিয়েছে। একজন আইডিয়াল বিজ্ঞানী হয়ে ড. আহমাদ নাদিজে কোনোভাবেই একথা মেনে নিতে পারছেন না। তাই তার অস্থিরতারও কোনো শেষ নেই। যে করেই হোক জায়েনিস্টদের এই প্রপাগাণ্ডার একটা সুরাহা তাকে করতেই হবে। প্রয়োজনে জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং এর তথ্যপ্রবাহ থেকে গোপন তথ্যের ভাণ্ডারে হানা দিয়ে দুর্ধর্ষ হ্যাকিং-এর আশ্রয় নিতেও তিনি পিছ পা হবেন না।
কিন্তু সেটাইবা কেমন করে সম্ভব? জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং এর বিজ্ঞানীরাও তো কম সচেতন নয়। তাছাড়া ওদের নেতার মমি নাকি ওদেরকে আগাম তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে! এ রহস্যটাই আগে বের করতে হবে বিজ্ঞানী ড. নাদিজেকে। তার ভাবনারও শেষ নেই। অস্থিরতাও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু হচ্ছে না কোনো কূল কিনারা। মনটাকে একটু হালকা করতে মাত্র এক মিনিটে ড. নাদিজে ন্যাশনাল ল্যাবের পঁচিশ তলা আণ্ডারগ্রাউণ্ড থেকে সুপার ক্যাপসুল চেয়ারে করে উঠে এলেন সোজা দু’শ সত্তর তলা টাওয়ার স্যুটে। সুপার ক্যাপসুল চেয়ার ছেড়ে নেমে দাঁড়ালেন রেডিয়েশন প্রুফ বেলকনিতে।  বেলকনির বুলেট রেজিস্টেন্স ক্রিস্টাল গ্লাসের ভেতর দিয়ে আনমনে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলেন নিঃসীম নীলিমার দিকে। দূরে- বহু দূরে একটা তারা খুব ধীর গতিতে ছুটছে দেখে তার আনমনা ঘোরটা পলকেই কেটে গেলো। তিনি মনযোগের সাথে ছুটে চলা তারাটার গতিবিধি দেখতে লাগলেন। তার কাছে মনে হলো, নিভু নিভু আলো নিয়ে তারাটা ধীরে ধীরে উঠে আসছে পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর আকাশ সীমায়।
ড. নাদিজে প্রথম বারের মত চমকে উঠলেন। তিনি তাড়াতাড়ি পকেট থেকে রাডারিক ফ্রেমটা বের করে চোখে এঁটে নিলেন। এবার তার টেনশান বেড়ে যেতে থাকলো। তার মাথায় এলো- যদি ওটা তারাই হবে তো পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর আকাশ সীমায় উপনীত হলে যে গ্লোব রাষ্ট্রে ধ্বংস অনিবার্য। তাছাড়া ওর আয়তন যদি পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর থেকে সামান্য বড়ও হয় তাহলে তারাটির ধাক্কায় পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব কেবলমাত্র ধূলিকণাতেই পরিণত হবে!
সত্যি সত্যি ড. আহমাদ নাদিজে ভড়কে গেলেন। শরীরে খানিকটা কাঁপুনিও অনুভব করতে লাগলেন। তবু সাহস না হারিয়ে দ্রুত হাতে পকেট থেকে তার নিজেরই আবিষ্কৃত লেন্থরিক্টো মিটার বের করে অনেকটা এ্যান্টেনার মত সেট করে নিলেন চোখে আঁটা রাডারিক ফ্রেমের বাম পাশে। অমনি তার চোখের দৃষ্টি সীমার এক মিটার শূন্যতায় এলইডি টেলিভিশন পর্দার মত বিশাল স্থান নিয়ে ভেসে উঠলো একটা আল্ট্রাভায়োলেট থার্মাল স্ক্রিন। তাতে স্বচ্ছ ডাটা উঠে আসতে লাগলো। ড. নাদিজে দেখলেন, তারাটি এখন পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর ভূমি থেকে মাত্র এক মিলিয়ন কিলোমিটার উপরে আছে।
ড. নাদিজে দ্বিতীয় বারের মত চমকে উঠলেন। তিনি মিলাতে পারছেন না, যদি ওটা তারাই হবে তাহলে এতক্ষণে পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর অস্তিত্ব মহাজাগতিক বলয় থেকে চিরদিনের মত হারিয়ে যাবার কথা। কারণ, একটা গ্লোব থেকে একটা তারকার আয়তন সর্বনিম্ন দু’ কোটিগুণ বড় হবার কথা। ড. নাদিজে খানিকটা আশ্চর্যও হলেন। এত ছোট তারাও হয়! যা কিনা একটা গ্রহের মাত্র এক মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করতে পারে!
কথাটা ভেবেই তৃতীয়বারের মত ড. নাদিজে চমকে উঠলেন। তার শ্বাস প্রশ্বাস যেন ঘন হয়ে আসছে এবং আগের চেয়ে একটু দ্রুত ওঠানামা করছে। হ্যাঁ তিনি পেয়ে গেছেন খেতানিয়াহুর লাশ বিষয়ক জটিলতার রহস্য ভেদের সূত্র। সুতরাং আর একটি মুহূর্তও তিনি অপচয় করতে রাজি নন। রাডারিক ফ্রেমের ডান পাশে সাটানো ডিজিটাল বাটনের দুই এবং তিন নাম্বার বাটন টাচ করে একই সাথে তিনি চলমান তারাটির স্টিল ও মুভি চিত্র তুলতে লেগে গেলেন। ততক্ষণে রাডারিক ফ্রেমের আল্ট্রাভায়োলেট স্ক্রিনে তারাটির গতি নির্ধারক ডাটা আসতে শুরু করেছে। ড. নাদিজে বেশ সাবধানে মনোযোগের সাথে লক্ষ করলেন তারাটি ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ শ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে এবং এখন পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর ভূমি থেকে তার দূরত্ব ০.৯৯,৯৬৫ মিলিয়ন কিলোমিটার। তারাটির গতিপথ পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর ঈশাণ কোণের আকাশে।
তারাটিকে এখন সামান্য উজ্জ্বল দেখা যাচ্ছে। ফলে চতুর্থ বারের মত চমকে উঠলেন তরুণ বিজ্ঞানী ড. আহমাদ নাদিজে। তিনি একটা রহস্যের ভেদ করতে যাচ্ছেন ভেবে খানিকটা মুচকি হাসলেন। আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন তারাটির গতিপ্রকৃতি। টানা প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর মনে মনে একটা স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে এক মিনিটেই নেমে এলেন ল্যাব টাওয়ারের দু’শ পঁচানব্বই তলা আন্ডাগ্রাউন্ড লেভেলে অবস্থিত তার কক্ষে। তাকে দেখে তার সিকিউরিটি ফোর্সের রোবটগুলো ঝনাৎ শব্দ করে স্যালুট ঠুকে নিথর পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো।
সময় নষ্ট না করে ড. নাদিজে তার সংগৃহীত ভিডিও, স্টিল ছবি এবং ডাটাসমূহ নিয়ে গভীর মনোযোগের সাথে গবেষণায় বসে গেলেন। এরই মধ্যে তার একান্ত সহকারী ড. আবদেল মারফিন এসে নীরব সালাম করে একটা চেয়ার টেনে বসলো। ড. নাদিজে তার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাতেই ড. মারফিন মুখ খুললেন, স্যার, আমরা কি চিরকাল শত্র“দের হাতে কেবল মারই খেয়ে যাবো? ওরা তো একের পর এক ঘাপলা লাগিয়েই চলেছে। এখন কী এক নতুন ঝামেলা এসে জুটলো, ওদের মিডিয়াগুলো জোর গলায় বলতে শুরু করেছে ওদের মৃত প্রধানমন্ত্রীর মমি নাকি এখন ওদেরকে সব দিক নির্দেশিকা দিয়ে যাচ্ছে। আর সে মতেই ওরা কাজ করে একের পর এক সাফল্য পেয়ে যাচ্ছে। সুতরাং ওরা এখন এমন এক আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী যে, তা ওদের সার্বিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রধানতম হাতিয়ার। ওদেরকে মোকাবেলা করার মত ক্ষমতা এখন আর মহাজাগতিক গ্রহরাজ্যপুঞ্জের একটি সদস্য দেশেরও নেই।
একটানা কথাগুলো বলে ড. আবদেল মারফিন তীর্যক দৃষ্টি মেলে ড. আহমাদ নাদিজের দিকে তাকালেন। ড. নাদিজে মুচকি হেসে বললেন, আপনি আমার সহকারী হলেও বয়সে আমার অনেক বড়। মহাজগতের অনেক বিষয়ই আমার চেয়ে আপনি ভালো জানেন। অনেক বড় বড় ধকলও সামলেছেন। জায়েনবাদিদের অপকৌশল সম্পর্কেও আপনার ধারণা আছে।
ড. নাদিজের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে ড. মারফিন বলেন, সে স্যার ঠিকই বলেছেন। কিন্তু ওরা তো এখন কেবল তথ্যপ্রযুক্তির উপরে নেই, ওরা আধ্যাত্মিক শক্তিও কাজে লাগাচ্ছে। ওদের মোকাবেলা করতে হলে আমাদেরও একটু…
– না ড. মারফিন। ওরা আসলে কোনো আধ্যাত্ম ভাবনা-চিন্তাকে শ্রদ্ধা করে না। ওরা আজকে নাস্তিকদেরও হার মানিয়েছে। আসলে এটা এখন ওদের একটা অপকৌশল মাত্র। মহাজাগতিক রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্যদের মাঝে বিশেষ করে আইডোলজিকাল গ্লোব রাষ্ট্রগুলোকে মিথ্যার ছত্রছায়ায় বিভ্রান্ত করে নিজেরা প্রভু সেজে থাকার জন্য খেতানিয়াহুর লাশকে কেন্দ্র করে একটা প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা জায়নিস্টদের স্রেফ একটা ধোকাবাজি।
– তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন…
– না কিছু বলতে চাচ্ছি না। চাচ্ছি প্রমাণ করতে। আর এমন প্রমাণ করে দেবো যে, ওরা বাপ বাপ করে পালানোর পথ খুঁজতে থাকবে।
– বলেন কী! তা এমন কোনো সূত্রটুত্র…
– হ্যাঁ, সে কথাই বলছি। আপনি কেবল আমাকে সাহায্য করে যান। আরে সাহেব, ওরা তো ধোকা দিয়ে মানুষকে বোকা বানাতে চাইছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা তো এমন এক মহাগ্রন্থ থেকে নেয়া যে গ্রন্থের শিক্ষার মাঝে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরাই তো জিতবো। তবে সাবধানে এবং নিষ্ঠার সাথে গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে।
– ইয়েস স্যার! আমিও সে কথাই বলছি। তো- এখন আপিনি দেখছি বেশ কিছু এলিমেন্ট নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। এখানে কি কোনো রহস্যের সূত্র লুকিয়ে আছে বলে মনে করছেন?
ড. আবদেল মারফিনের কথায় ড. নাদিজে একটু নড়েচড়ে বসে মুচকি হাসেন। তারপর বলেন, আপনি এসে ভালোই করেছেন। না হলে আপনাকে ডাকতে হত। এসব হঠাৎই সংগ্রহ হয়ে গেলো। আপনাকে সব খুলে বলবো। আপনি আপাতত এই যে একটা তারার ছবি দেখছেন, এই তারার ওপর খুবই সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। এজন্যে আপনাকে সোজা চলে যেতে হবে আমাদের ল্যাবের একদম শীর্ষ স্যুটে। সেখানে বেলকনি থেকে নজরদারি করতে বেশ সুবিধা। এই নিন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। আপনি প্রতি একঘণ্টা পর পর আমাকে আপডেট ডাটাবেজ পাঠাবেন। টানা ছত্রিশ ঘণ্টার ডিউটি। কষ্ট করতে হবে। এজন্যে আমি দুঃখিত।
– না, না। এটা তো আমার দায়িত্ব। আপনি ভাববেন না স্যার। আমি বয়স্ক মানুষ হলেও সব সামলে নিতে পারবো।
– মেনি থ্যাংস। আমারও আপনার ওপর সে আস্থা আছে। তাছাড়া আপনার সার্বক্ষণিক যতœ নিতে এবং প্রয়োজন মেটাতে আমাদের রোবোট্রুপ তো থাকছেই।

দুই.
অবশেষে ভণ্ড জায়েনিস্ট চক্রের মৃত প্রধানমন্ত্রী খেতানিয়াহুর মমি করা লাশের রহস্য উদঘাটন করেছেন ড. আহমাদ নাদিজে। তাদের একটা দাঁত ভাঙা জবাব দেবার আনন্দে পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর ‘আল্লাহ’ খচিত অনিন্দ্য সুন্দর ও পবিত্র জাতীয় পতাকা সর্বত্র পত পত করে উড়ছে। পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব ব্রডকাস্টিং এর কল্যাণে আজ সারা মহাজাগতিক প্লোবাল রাষ্ট্রপুঞ্জ জেনে গেছে জায়নিস্টদের প্রপাগান্ডার ভেদ। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরের রাষ্ট্রগুলোতে ধিক্কার উঠেছে জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং এর বিরুদ্ধে।
সবারই আজ জানা হয়ে গেছে, আসলে পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর আকাশ সীমার বহু দূরে অবস্থানকারী তারাটি ছিলো মূলত জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং এর একটি শক্তিশালী হ্যাকার স্যাটেলাইট ল্যাব। যা পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর ভূখণ্ড থেকে প্রায় এক মিলিয়ন কিলোমিটার দূরের আকাশ সীমায় অবস্থান করেও এখানের গোপন তথ্যপ্রযুক্তি হ্যাক করতে নিয়োজিত ছিলো।
পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর রাষ্ট্রপ্রধানকে ড. আহমাদ নাদিজে জানিয়েছেন, আসলে খেতানিয়াহুর মমি করা লাশ প্রকৃতপক্ষে জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং এর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খেতানিয়াহুর নয়। ওটি স্রেফ একটা ডামি। তবে সেটি ছিলো মহাজগতকে জ্বালাতনকারী জায়নিস্ট ডোম অব তানিজিং নামক রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীনদের তথ্যপ্রযুক্তির মুখ্য শক্তি। ওটি ছিলো মূলত একটি হ্যাকার স্যাটেলাইট ল্যাব নিয়ন্ত্রক কন্ট্রোল বেজ। সেখান থেকে হ্যাকার স্যাটেলাইটের হ্যাক করা চোরাই ডাটাবেজ রিসার্চ করেই জায়নিস্টরা তাদের টার্গেট রাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তিগত গবেষণার সব গোপন তথ্য জেনে নিত। এটা আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ বলে ওরা ওদের মৃত নেতার মমি আদলে রেপ্লিকার অন্তরালে হ্যাকার স্যাটেলাইট ল্যাব নিয়ন্ত্রক কন্ট্রোল বেজ স্থাপন করে। যাতে মহাজাগতিক রাষ্ট্রপুঞ্জও বিভ্রান্ত হয়। আর তার কল্যাণেই ওরা অন্যদের একের পর এক ক্ষতি করে চলেছিলো। বিশেষ করে পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর এযাবত ওরা যে ক্ষতি করেছে, তা অই খেতানিয়াহুর মমি করা লাশের আদলে গড়া হ্যাকার স্যাটেলাইট ল্যাব নিয়ন্ত্রক কন্ট্রোল বেজ এর মাধ্যমেই।
যেহেতু এ ধরনের হ্যাকার স্যাটেলাইট সম্পূর্ণ অবৈধ তাই পিপলস আইডিয়াল রিপাবলিক অব মার্ডিনাল গ্লোব এর বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ কমান্ডো স্টিলথ ইউনিট জায়েনিস্টদের তারা আদলের ল্যাবটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।

SHARE

3 COMMENTS

Leave a Reply