Home ফিচার যেভাবে বদলে গিয়েছিলেন তাঁরা

যেভাবে বদলে গিয়েছিলেন তাঁরা

একেবারে শৈশবে কারো কারো প্রতিভা আপনজনদের কাছে ধরা পড়ে। কেউ কেউ বা অনিশ্চিত পথে হাঁটতে থাকেন। কোথাও যেতে হবে জানেন না, বলে দেওয়ারও কেউ থাকে না। কিন্তু কাকতালীয় কোনো ঘটনা তাদের জীবনকে পাল্টে দেয়, পুরোপুরি অখ্যাত একজন থেকে তারা হয়ে যান বিশ্ববিখ্যাত। হঠাৎ বদলে যাওয়া কয়েকজনকে নিয়েই লিখেছেন হাসান শরীফ

মোহাম্মদ আলী

কাকতালীয় একটি ঘটনায় বদলে যাওয়াদের আদর্শ উদাহরণ বিবেচিত হতে পারেন মুষ্টিযুদ্ধের মহানায়ক মোহাম্মদ আলী। অলিম্পিক স্বর্ণজয়, তিন তিনবার হেডিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হওয়াসহ অসংখ্য কৃতিত্ব স্থাপন করেছেন তিনি। মুষ্টিযুদ্ধেই নয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের একজন। রিংয়ের ভেতরে এবং বাইরে যে নজির গড়েছেন, তা তার আগে বা তার পরে দেখা যায়নি। হয়তো কোনোদিনই দেখা যাবে না। এমনকি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় থাকার সময়েও একজন মানুষ হিসেবে তার মর্যাদা, তার মহাত্ম্য ফুটে উঠত, যার নজির নেই। শোম্যান, বিদ্রোহী, মুসলমান, মানবাধিকার কর্মী, কবি- সব গুণেই তাকে অভিহিত করা যায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে তিনি বিস্ময়কর ব্যক্তি বা মহামানব। বস্তুত তিনি এক সময়ে পরিণত হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষে। এমনকি পৃথিবীর অনেক স্থান- যেখানে মুষ্টিযুদ্ধের কোনই জনপ্রিয়তা নেই, সেখানেও তিনি মুকুটহীন সম্রাট। একজন মুষ্টিযোদ্ধার নামও যদি কেউ জানে, তবে তিনি হলেন মোহাম্মদ আলী।
তার মুষ্টিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে একটি চমৎকার কাহিনী আছে। তিনি ও তার ছোট ভাই রুডলফের শিক্ষা জীবন শুরু হয় একইসঙ্গে। দুই ভাই আমেরিকার ডুভাল জেনারেল হাইস্কুলে ভর্তি হলেন। আলীর বয়স তখন ছিল ১২ বছর আর আলীর ভাইয়ের বয়স ১০ বছর। এ সময় তাদের পিতা ৬০ ডলার দিয়ে একটা সুন্দর বাই সাইকেল কিনে দেন। দুইভাই সাইকেলে চড়ে খুব ফুর্তি করে বেড়াতেন। দুই ভাই পালাক্রমে সাইকেল চালাতেন। ১৯৫৪ সালের ঘটনা। সেপ্টেম্বর মাসের এক সন্ধ্যায় তারা সাইকেলে করে এক প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন। সাইকেলটি রেখেছিলেন বাইরে। কিছুক্ষণ পরে এসে দেখেন, তাদের প্রিয় সাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। দুই ভাই তাতে বেশ দুঃখ পেয়েছিলেন। চোরকে পেটানোর বাসনায় মার্টিন (তিনি মুষ্টিযোদ্ধা প্রশিক্ষকও ছিলেন) নামের এক পুলিশ অফিসার তাকে বললেন, মুষ্টিযুদ্ধ শেখ, তবে তোমার সাইকেল কেউ চুরি করতে সাহস পাবে না। তার কথাতেই আলী মুষ্টিযুদ্ধ শেখায় মনোযোগী হলেন। জন্ম হলো নতুন একজনের। পরের ২৭ বছর রিং মাতিয়ে রাখলেন তিনি।

বিকিলা
সৃষ্টিকর্তা, মহান ব্যক্তিবর্গ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অনেক মন্দির আছে। কিন্তু আদ্দিস আবাবায় সম্ভবত কোনো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের নামে একটি মন্দিরই আছে এবং সেটি কিংবদন্তির ম্যারাথন দৌড়বিদ আবেবে বিকিলার।
ইথিওপিয়ার সাধারণ কোনো মানুষের জন্য সম্রাট হাইলে সেলসির রাজকীয় দেহরক্ষী হতে পারাটাই অত্যন্ত সম্মানের ব্যাপার। কিন্তু বিকিলার উপর্যুপরি দুই ম্যারাথনে অবিস্মরণীয় সাফল্য তাকে অনন্য সাধারণ উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। আর সেইসঙ্গে পরবর্তী দিনগুলোর জন্য অ্যাথলেটদের ‘স্বর্ণখনি’ হিসেবে আফ্রিকার দরজাও খুলে দেন তিনি। তিনি যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন, তার রেশ ধরে দূরপাল্লার দৌড়ে আফ্রিকান দেশগুলো এখনও প্রাধান্য বিস্তার করে আছে।
আবেবে বিকিলা ১৯৩২ সালে আদ্দিসআবাবা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরের জাটো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী তিনি তার শৈশবের বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত করতেন মেষপালকের কাজ করে এবং স্থানীয় বিদ্যা শেখার স্কুলে গিয়ে। ১২ বছর বয়সে তিনি সনাতনধর্মী ‘কেস’ স্কুলের পাঠ সমাপ্ত করেন। ইতোমধ্যে তিনি ‘জেনা’ নামে পরিচিত স্থানীয় একটি খেলায় বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিতে থাকেন। ১৯৫২ সালে তিনি রাজকীয় দেহরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫ সালে বিয়েও করেন। সময়ের পরিক্রমায় তিনি চারটি সন্তানের পিতাও হন।
অর্থাৎ ইথিওপিয়ার উঁচুভূমি থেকে আগত স্বল্প পরিচিত বিকিলার অলিম্পিকে অংশগ্রহণই ছিল স্বপ্নেরও বাইরের ব্যাপার। তারপর তিনি অংশ নিয়েছিলেন অলিম্পিকের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইভেন্ট ম্যারাথনে। এর আগে ম্যারাথনে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র দুইবার। ম্যারাথন নামক দৌড়টির সাথে তার পরিচিতিও তেমন ছিল না আগে। সম্রাটের প্রাসাদের রাজকীয় রক্ষী হলেও তিনি বাস করতেন রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে এক ছোট্ট গ্রামে। প্রতিদিন সকালে কর্তব্য পালনের জন্য খালি পায়ে দৌড়িয়ে তিনি প্রাসাদে আসতেন, সন্ধ্যায় ফিরে যেতেন একইভাবে। কোনো এক ব্যক্তি সময় হিসাব করে দেখলো এই দরিদ্র ও অশিক্ষিত প্রহরীটি প্রতিদিন প্রায় ম্যারাথন দৌড় নামক ইভেন্টটির সমান দূরত্ব অতিক্রম করছে এবং তা হচ্ছে রেকর্ড সময়ে। তখনই তার ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার কথা ওঠে। শুরু হলো নতুন অধ্যায়ের। বিশ্ব দেখা পেল নতুন এক তারকার।

জো লুই
তার গল্পটা অনেক বেশি পরিচিত (যদিও অনেকে বলেন, গল্পটি সত্যি নয়)। এক সময়ে প্রাথমিক স্কুলের পাঠ্যবইতে তার গল্পটি ছিল : এক ছিল ছেলে। খুব গরিব। বেহালা বাজিয়ে ভিক্ষা করত। দুষ্ট ছেলেরা একদিন তার বেহালা ভেঙে ফেলল, তাকেও মার দিল। মার খেয়ে কিন্তু ছেলেটি অন্যদের মতো ভয়ে কুঁকড়ে গেল না, বরং সেদিনই সে প্রতিজ্ঞা করেছিল, আর কোনোদিন সে মার খাবে না, কেউ তার বেহালা ভাঙতে পারবে না। সেদিন থেকেই নরম হাতকে বজ্রমুষ্টিতে পরিণত করার সাধনা শুরু করল। তারপর সেই হলো বিশ্বসেরা মুষ্টিযোদ্ধা। এই গল্পের নায়কই জো লুই। বিশ্বের সেরা মুষ্টিযোদ্ধাদের একজন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত হেভিওয়েট মুষ্টিযুদ্ধের ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় শিরোপা অক্ষুণœ রাখার নায়ক তিনি। তিনি তার ২৫ জন চ্যালেঞ্জারের সবাইকে হারিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়েন। যে কয়েকজন মুষ্টিযোদ্ধা সর্বমহলে প্রশংসিত হন, তিনি তার একজন। জয়ের মাধ্যমে ‘দি ব্ল্যাক বোম্বার’ শ্বেতাঙ্গ আমেরিকায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নায়কে পরিণত হন।
জো লুই আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সুপারস্টার এবং ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তার যুগের শ্রেষ্ঠতম মুষ্টিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হতেন। সে সময় হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নকে স্বাভাবিকভাবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সে হিসেবে তিনি ছিলেন তার আমলের শ্রেষ্ঠমানব।
তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৬৬টি লড়াইয়ের মধ্যে মাত্র তিনটিতে হেরেছেন, এগুলোর দুটি ছিল একেবারে শেষ সময়ে, অবসর থেকে ফিরে আসার পর। ৬৩টি লড়াইতেই তিনি জিতেছেন সেরা নৈপূণ্য প্রদর্শন করে। তিনি ৫৪টি লড়াই এ প্রতিপক্ষকে নক-আউট করার বিশ্বরেকর্ডও গড়েন। তিনি ১১ বছর তার শিরোপা অক্ষুণœ রেখেছিলেন ২৫বার লড়াইয়ে নেমে।
তিনি ছিলেন একজন তুলা চাষীর ছেলে। তার প্রপিতামহ ছিলেন একজন দাস। তবে তার পূর্বপুরুষদের একজন শ্বেতাঙ্গ দাস ব্যবসায়ী ছিলেন। তার বয়স যখন দুই এর নীচে তখন তার পিতা মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার পিতা মারা গেছে একথা শুনে (যদিও তখনও মারা যাননি) তার মাতা আবার বিয়ে করেন। সে সময়ে মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনে বিদ্যমান কঠিন পরিস্থিতি জো লুইকেও মোকাবেলা করতে হয়েছে। ১৯২৪ সালে পরিবারের সঙ্গে তিনি ডেট্রয়েটে যান। সেখানেই তিনি এক সুতার কারখানায় দিনে দেড় ডলার পারিশ্রমিকে কাজ নেন। জোসেফ লুই বারো প্রায়ই স্কুল পালিয়ে ভায়োলিন বাজাতেন এবং উপার্জিত অর্থ মুষ্টিযুদ্ধ শেখার কাজে ব্যয় করতেন। স্কুলমেটদের অনুরোধেই তিনি মুষ্টিযুদ্ধে নেমেছিলেন। কিছু অনুরোধ, একটু প্রতিজ্ঞা- অনেক কিছু বদলে দিতে পারে- লুই তার উদাহরণ।
ইয়েলেনা ইসিনবায়েভা
একসময়ে তাকে বলা হতো নারী সার্গেই বুবকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুবকাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। পোল ভল্টের অবিসংবাদী সম্রাজ্ঞী হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। আকাশই তার শেষ গন্তব্যে পরিণত হয়েছিল।
অথচ রাশিয়ার এই মেয়েটির পোল ভল্টে খেলার কথাই ছিল না।
১৯৮২ সালের ৩ জুন রাশিয়ার ভোলগ্রোদাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন শ্রমিক এবং মা গৃহিনী। বোন ইনার উৎসাহে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে জিমন্যাস্ট হিসেবে খেলাধুলায় আসেন তিনি। কিন্তু সাফল্য পাননি। পরে ১৫ বছরের সময় হঠাৎ করে শরীর বেড়ে গেলে জিমন্যাস্ট হিসেবে সাফল্য পাওয়ার সব রাস্তাই বন্ধ হয়ে যায়। খেলাধুলা ছেড়ে দেওয়াটাই হয়ে পড়তে পারত তার নিয়তি। কিন্তু এই হঠাৎ লম্বা হওয়ায়ই তার জীবন পাল্টে দিল। এই সময়েই তাকে পোলভোল্টে ভাগ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি হয়ে গেলেন সম্রাজ্ঞী। কিছু পরিবর্তন যদি ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে তা থেকে সুবিধা পাওয়া যায় অনেক বেশি।

দিনো জফ
একটি পাহাড়, একজন কর্মনিষ্ঠ, একজন নিখুঁতকর্মী; বিশ্বে সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে ইতালির গোলরক্ষক দিনো জফ অভিহিত করা যায়। তার সম্পর্কিত কিছু তথ্য হলো : তিনি তিনবার বিশ্বকাপ খেলে ১৯৮২ সালে একবার জিতেছেন, জাতীয় দলের হয়ে ১১২টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেছেন এবং ১,১৪২ মিনিট কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৮২ সালে ৪০ বছর বয়সে তিনি বিশ্বকাপ জয় করার মাধ্যমে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ সাফল্যের রেকর্ড গড়েন। প্রতিটি মুহূর্ত তিনি যে পরিশ্রম করেছিলেন, তার ফল তিনি পেয়েছিলেন ভালোভাবেই। আর সেইসঙ্গে পেলে, ম্যারাডোনা, ক্রুয়েফ, বেকেনবাওয়ারের মতো মহান খেলোয়াড়দের সাথে তার তুলনা হয়। যদিও তিনি তাদের সবার ব্যতিক্রম হিসেবে গোলরক্ষক ছিলেন।
অবশ্য একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে তার অন্য কিছু করারও উপায় ছিল না। তার ভাষায় ‘আমি যা কিছু অর্জন করেছি, তা সবই হয়েছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।’ ফুটবলই ইটালির কৃষিজ উত্তর-পূর্ব এলাকার একটি গ্রাম্য বালককে স্থানচ্যুৎ করেছিল; অবশ্য এতে দেশ এবং তিনি নিজেও গর্বিত হয়েছিলেন।
১৪ বছর বয়সে ইন্টার মিলান ও জুভেন্টাসে যোগদানের চেষ্টা চালান। কিন্তু উচ্চতা খাটো হওয়ার অজুহাতে তিনি প্রত্যাখ্যাত হলেন। জফের দাদির কাছে জবাবটা তৈরিই ছিল। তিনি নাতিকে বেশি বেশি ডিম খাওয়াতে লাগলেন। কাজ হলো। দাদির এই অনুপ্রেরণা তাকে পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন পথে নিয়ে গেল। তিনি বাড়লেন ৩৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ লম্বায় ১.৮২ মিটার হলেন। এই মাপের কারো উপর সিরি এ দলটির ভরসা রাখার যৌক্তিকতা ছিল। তার সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নাম লেখানোর কাজ শুরু হলো।

হাবিবুল বাশার
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রালগ্নে যে কয়েকজন ক্রিকেটারের কাঁধে জাতির সম্মান বাঁচানোর দায়িত্ব চেপেছিল এবং তারা সেটা দারুণভাবে পালন করেছেন তাদের অন্যতম হাবিবুল বাশার (সুমন)। আন্তর্জাতিক মহানায়কদের বিচারে তার স্কোরকে বড় কিছু বলা যায় না, তবে দলের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে তুলনা করলে বাশারের স্কোরকে অনেক বড় প্রাপ্তি হিসেবেই অভিহিত করা যায়।
ক্রীড়ামনস্ক পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবে বা কৈশোরে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সম্ভাবনা বলতে গেলে ছিল না। মধ্যবিত্ত পরিবারে সরকারি চাকুরিজীবী পিতার সন্তান হিসেবে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী হয়ে কর্মজীবনে উচ্চতর পদে যোগদানই হতে পারতো সে সময়ের আদর্শ ছেলের কাজ। তবে বিকেলে সময় কাটানোর জন্য খেলতেই হতো, সেটা অবশ্য যেকোনো খেলাই হতে পারত। তার পরও ক্রিকেট না খেলে ফুটবলার হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল তার বেশি। তার বড় ভাইরা ফুটবল খেলতেন এবং ক্রিকেটের তখন তেমন প্রসারও ছিল না। কিন্তু ভবিতব্য ছিল ভিন্ন। এক কাজিনের উৎসাহে তিনি ক্রিকেটে উৎসাহিত হতে থাকেন। এক সময়ে মনে হতে থাকে, তিনি ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটেই ভালো করছেন। বাংলাদেশ পেল একজন তারকাকে।

 

 

SHARE

Leave a Reply