Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদীসের আলো

হাদীসের আলো

রোজা আল্লাহর জন্য, তিনিই এর প্রতিদান

হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, বনি আদমের প্রত্যেকটি আমল তার নিজের জন্য, রোজা ব্যতীত। কারণ তা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান। আর রোজা হচ্ছে গুনাহ থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ। অতএব তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে সে যেন বাজে কথা না বলে, চেঁচামেচি না করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে তাহলে তার বলা উচিত ‘আমি রোজাদার’। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

বন্ধুরা, হযরত আবু হুরাইরা (রা) প্রখ্যাত সাহাবী। তাঁর আসল নাম আবদুর রহমান ইবনে সখর আদ দাওসি। দাওস তার গোত্রের নাম। হিজরি সপ্তম বছর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এ সাহাবী ৫ হাজার ৩৭৪টি হাদিস বর্ণনা করেন। হযরত ওমর (রা) তাঁকে বাহরাইনের শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন। আহলে সুফফার অন্যতম এ সদস্য ৫৭ হিজরিতে ৭৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণিত হাদিসটি হাদিসে কুদসি, যাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, মানবসন্তানের প্রত্যেকটি কাজ তার নিজের জন্য কিন্তু রোজা তার ব্যতিক্রম। কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন, ‘‘রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান।” অর্থাৎ সুুবহে সাদেক উদয় হওয়ার পূর্ব থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে যাবতীয় পানাহার ও আরও কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা শুধুমাত্র আল্লাহর নির্দেশে হওয়ায় আল্লাহ রোজাদার ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্টিচিত্তে এ ঘোষণা দেন। রোজা ইসলামের মূলভিত্তিসমূহের অন্যতম। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ। মানুষ তার স্বাভাবিক জীবন যাপনে শয়তান কর্তৃক প্ররোচিত হয়ে বা স্বপ্রণোদিত হয়ে অপরাধে জড়াতে চাইলে রোজা তাকে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে হেফাজত করে। রোজাদার ব্যক্তি যখনই কোনো বাজে কথা, বাজে কাজ, ঝগড়া-ঝাটি করতে চায় তখন তার রোজা তাকে এসব অপরাধ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। কারণ রোজাদারকে বলেই দেয়া আছে যে, কেউ যদি ঝগড়া, বাজে কথা-আচরণ ইত্যাদি করতে চায় তবে সে যেন বলে দেয় যে আমি রোজাদার। আমি ঝগড়া, বাজে কথা, কাজ ইত্যাদিতে জড়াতে পারব না।
রোজাদারের সম্মান, মর্যাদা এত বেশি হওয়ার কারণ হলো, মানুষ তার স্বাভাবিক চাহিদা যেমন খাবার, পানীয় অন্যান্য মানবীয় চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করে শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করেই। আল্লাহ দেখতে চান অত্যন্ত কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বান্দা তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী বৈধ কতিপয় কাজ না করে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর এতে আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি অনেকগুলো শারীরিক মানবিক উপকার সাধিত হয়।
বন্ধুরা, এসো আমরা রাসূল (সা)-এর নির্দেশিত পদ্ধতিতে রোজা পালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদেরকে যথাযথভাবে রোজা পালনের তৌফিক দিন আমিন।
গ্রন্থনায় : মিজানুর রহমান

SHARE

Leave a Reply