Home প্রচ্ছদ রচনা বর্ষা আসে হৃদয় দোলে

বর্ষা আসে হৃদয় দোলে

মাহমুদ হাসান..

বাংলাদেশ সবুজের দেশ। চির সবুজ আর চির সম্ভাবনার দেশ। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এই দেশকে আরো চমৎকার প্রকৃতি উপহার দিয়েছে। আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানও আমাদের সুন্দর আবহাওয়ার এক অংশ। মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এখানে। আমরা সহজেই তা উপলব্ধি করতে পারি।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে রুক্ষ হয়ে ওঠা মেজাজের সাথে কোনোমতে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য জনজীবন একটু মেঘ একটু শীতল বর্ষণের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে। ক্লান্ত হয়ে মানুষ হাঁসফাঁস করে কখন মেঘ ফেড়ে নেমে আসবে মেঘের দুহিতা। কখন কষ্টের চৌহদ্দির দোরগোড়ায় এসে হাজির হবে আষাঢ়ের রূপ, আষাঢ়ের ঘনকালো রূপের উদাসী ভাব। প্রকৃতির সাথে নেচে উঠবে মানুষের তনু-মন। দেখতে দেখতে বৈশাখ যখন কালবৈশাখীর ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয় তখনই আমরা বর্ষার আগমনের দিন গুনতে থাকি। আষাঢ়ের শুরু আজ হলো বলে। আষাঢ় আসে, বর্ষা আসে। সাথে আসে হৃদয়ে নব আনন্দের ফল্গুধারা। প্রকৃতির ফুলে ফেঁপে ওঠা স্নিগ্ধতায় মুগ্ধ হয়ে ওঠা এক আবেশ নিয়ে কাল কাটে। মানুষ শুষ্কতা ও জীর্ণতাকে সঙ্গী করে কিছুদিনের যে বিহারে ছিল ধীরে ধীরে তা কেটে উঠতে শুরু করে। এই বর্ষা মানুষকে নতুন এক আমেজে ভরিয়ে দিতে চায়। পেছনের সময়টাকে পালটে দিয়ে ভুলিয়ে দিয়ে নতুন করে জীবন ভরিয়ে দিতে চায় যেন। বাঁধভাঙা জোয়ারের প্লাবনে ভাসিয়ে দিতে চায় সব কিছু। বর্ষা আসে, মনে আসে রঙ। পালাবদলের সাথে সাথে নেচে ওঠে মন। আর এই মন তো নেচে উঠবেই। কেননা গ্রীষ্মের রৌদ্রদাপানি থেকে হৃদয়কে তৃপ্ত করতে এসেছে যে প্রভাত তা সূচনা করেছে নুতন এক আমেজের। সে এসেছে যে আষাঢ়ের হাত ধরে! সে এসেছে পত্র-পল্লব আর সিক্ততায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতে ঋতু বৈচিত্র্যের হাত ধরে।
বর্ষা মানেই আকাশে মেঘেদের সমারোহ আর সেই সাথে বৃষ্টিÑ কখনও বা টিপ টিপ আবার কখনও অঝোর ধারায়। আমরা এখানে মেঘ ও বর্ষা সম্পর্কে সম্যক জানতে প্রচেষ্টা চালাবো।

মেঘের দেশে যাই
দুরন্ত বালকের মত মেঘ সারাদিন ছুটোছুটি করে বেড়ায় আকাশজুড়ে। সেই মেঘদের বাড়ি কোথায় তা কি তোমরা কেউ জানো? কিংবা মেঘ কী দিয়ে তৈরি? মেঘেদের রং! জানলে তো ভালোই, আর না জানলে এখন জেনে নাও
মেঘ কী
মেঘ কিন্তু আসলে কিছুই না। সে কী! এ কথার কী মানে? মানে হচ্ছে মেঘ দেখা যায় কিন্তু তাকে ধরা বা ছোঁয়া যায় না। কারণ মেঘ হচ্ছে বায়বীয় পদার্থ! রোদের তাপে পৃথিবীর জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। বাষ্প সব সময় ঊর্ধ্বমুখী। মানে হচ্ছে, বাষ্প সব সময় উপরের দিকেই যায়। জলীয়বাষ্পও তাই আকাশের দিকেই উড়ে যায়। আকাশে উড়ে যাওয়া সেইসব জলীয়বাষ্প একসঙ্গে হয়ে দল বাঁধে। সেই দলই হচ্ছে মেঘ। অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলীয়বাষ্প যখন একসঙ্গে হয়ে থাকে তাকেই আমরা মেঘ বলি।
এইসব জলীয়বাষ্পের দল কিন্তু ওজনে একেবারেই হালকা। অবশ্য হালকা না হলে আকাশেই বা কিভাবে উঠতো! আকাশে ভাসতে হলে যে ওজন হতে হয় অত্যন্ত হালকা। এ কারণে এইসব বাষ্পের দলগুলো বাতাসে ভেসে ভেসে ঘুরে বেড়াতে থাকে। বাতাস যেদিকে ধায় ওরাও সেদিকে যায়। আর এই বাষ্পদলের ওড়াউড়িকেই আমরা বলি মেঘেদের ওড়াউড়ি। বুঝেছো?
এখন জেনে নাও মেঘ সম্পর্কে আরো অনেক মজার মজার তথ্য।
মেঘের রং
একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। ঘন নীল আকাশ। কাশফুলের মতো সাদা সাদা মেঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে আকাশে। আচ্ছা মেঘের রং কী? জিজ্ঞেস করা হলে নির্ঘাত সবাই একবাক্যে বলে ফেলবে ‘সাদা’। আসলে কিন্তু তা না। বিশ্বাস হচ্ছে না? কী বললে? ‘ওই তো দেখা যাচ্ছে মেঘের রং সাদা?’ না বন্ধু, মেঘের রং আসলে সাদা নয়। শুধু তাই না, সাদা তো নয়ই, এমনকি মেঘের সত্যিকারের কোনো রঙই নেই! আগেই তো বলেছি মেঘ হচ্ছে ছোট্ট ছোট্ট পানির কণা। পানির কি কোনো রং আছে? নেই। তাহলে মেঘের রং থাকবে কী করে! যেহেতু পানির কোনো রং নেই, সেহেতু মেঘেরও কোনো রং নেই। তারপরও মেঘ সাদা দেখা যায় এ বিষয়টা সত্যি। এর পেছনেও কারণ আছে। কারণটা হচ্ছে- মেঘের কোনো রং নেই মানে মেঘ হচ্ছে স্বচ্ছ। তাই এর ভেতর দিয়ে আলো চলাচল করতে বা বিচ্ছুরিত হতে পারে। এই মেঘের গায়ে সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হয়ে সাদা রং তৈরি করে। আর যখন বৃষ্টি-বাদলা হয় তখন আবার মেঘের রং দেখা যায় কালচে, মানে কালো আরকি!। এর পেছনেও কারণ আছে। উফ্, ভাবছো আবারো কারণ! আসলেও সব কিছুর পেছনেই যে কারণ থাকে! যাকগে যা বলছিলাম, সেটা হচ্ছে মেঘে যখন জলকণার পরিমাণ বেড়ে যায় বা কণাগুলোতে পানির পরিমাণ বেড়ে যায় তখনই এগুলো ধীরে ধীরে ভারী হয়ে ওঠে। বাতাসে এরা তখন একটু শ্লথ মানে ঢিলেঢালা গতিতে ভেসে বেড়ায়। সে সময় অনেক মেঘ একসঙ্গে জোড়া বেঁধে উড়ে উড়ে যায়। তখন এক মেঘের রং অন্য মেঘের গায়ে প্রতিফলিত হয়। মানে এক মেঘের গায়ে অন্য মেঘের ছায়া পড়ে। সে সময় সব মেঘ মিলে যে পুরু স্তর তৈরি করে তা ভেদ করতে পারে না রোদের আলো। তাতেই ছায়ার কারণে মেঘের রং হয়ে যায় কালো। আবার নানান কারণে মেঘ গায়ে হালকা নীল, গাঢ় নীলসহ আরো নানা বিচিত্র রং ধারণ করে থাকে। ওগুলোকে তাহলে আমরা মেঘের নানা রঙের জামাও বলতে পারি, কী বলো!
নানান রকম মেঘ
মেঘের মধ্যে স্তর হিসাবে একেক মেঘকে একেক ভাগে ভাগ করা হয়। আকাশের নানা স্তরে মেঘ ভেসে বেড়ায়। এইসব স্তর ভেদে মেঘেদের নানা স্তরের নানা নাম রয়েছে। মেঘের প্রকারভেদ প্রথম করেন ফরাসি প্রকৃতিবিদ জাঁ লামার্ক ১৮০১ সালে। তবে ইংরেজ বিজ্ঞানী লিউক হাওয়ার্ড ১৮০৩ সালে উচ্চতা অনুযায়ী মেঘের তিনটি শ্রেণীবিভাগ করেনÑ ওপরের মেঘ, মধ্য আকাশের মেঘ এবং নিচের মেঘ।
যে মেঘেরা মাটি থেকে সাড়ে ছয় হাজার ফুট ওপরে উড়ে বেড়ায়, তারা হচ্ছে নিচের স্তরের মেঘ। এদের নাম স্ট্রেটাস। এই মেঘেদের রঙ একেবারে সাদা। দেখতে অনেকটা পেঁজা তুলোর মত দেখায়। প্রকৃতি যখন শান্তশিষ্ট থাকে তখন এই মেঘেদের দেখা যায় আকাশের একেবারে নিচের স্তরে। নির্মল আকাশে এই স্ট্রেটাস স্তরের মেঘ ভেসে বেড়ায়। তবে এদের ওজন একটু বেশি, যে কারণে এরা আর ওপরে ভেসে থাকতে পারে না। এই স্তরের মেঘকে আবার রং, প্রকৃতির হিসাবে নানান ভাগে ভাগ করা হয়। এইসব ভাগেরও আবার নানা নাম রয়েছে। ভাবছো কত্তো ভাগ! তাতো বটেই, আবার দেখ না, কি অদ্ভুত অদ্ভুত সব নাম। কাজেই পড়ার সময় একটু সাবধানে পড়ো। স্ট্রেটাস স্তরের মেঘদের মধ্যে রয়েছে স্ট্রাটাস, স্ট্রাটোকিউমুলাস, নিমবো স্ট্রটাসসহ আরো নানা নামের মেঘ। এই স্তরের মেঘ থেকেই মূলত বৃষ্টি ঝরে। এই স্তরের মেঘে জলীয়বাষ্প থাকে বেশি পরিমাণে, যে কারণে এরা একটু ঘর্ষণেই ঝরে পড়ে। এই পুরু মেঘ সূর্যকেও ঢেকে ফেলে পুরোপুরি। স্ট্রাটোকিউমুলাস মেঘের রং ধূসর অথবা সাদা। আবার কখনো ধূসর-সাদায় মেশানো। কখনো কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি। এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয় যে মেঘ থেকে, সেটা হচ্ছে স্ট্রাটাস।
মধ্য আকাশের মেঘদের বাড়ি সাড়ে ছয় হাজার থেকে ২৩ হাজার ফুট বা দুই হাজার থেকে ছয় হাজার মিটার উচ্চতায়। এদের নাম হচ্ছে অল্টো। এরা স্ট্রেটাস মেঘের চেয়ে অপেক্ষাকৃত হালকা ওজনের। মূলত এরা আকাশের মধ্য স্তর জুড়ে থাকে। মেরু অঞ্চলের কাছে এবং শীতের সময় এই মেঘেরা বেশ নিচু হয়ে চলাচল করে। বিষুব রেখায় এবং গরমকালে এদের চলাচল বেশ উঁচু দিয়ে- একেবারে ওপরের মেঘদের সীমানা বরাবর। আর এই অল্টো মেঘরাই রোদের তাপ থেকে পৃথিবীকে কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রাখে। এই স্তরের মেঘের মধ্যে রয়েছে অল্টোস্ট্রাটাস, অল্টোকিউমুলাস; নানা নামের মেঘ। অল্টোকিউমুলাস মেঘের রং সাদা, ধূসর অথবা সাদা-ধূসর মেলানো। আকার সাধারণত গোল। কখনো রোল করা রুটির মতো। আবার কখনো ছড়ানো। আর অল্টোস্ট্রাটাস মেঘেরা ছাইরঙা অথবা নীলাভ। এরাই এক জায়গায় জমাট বেঁধে আকাশের কিছু অংশ, আবার কখনো পুরো আকাশ ঢেকে রাখে। এই মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, এই মেঘ শীতপ্রধান দেশে তুষারপাতও ঘটায়।
আর সবচেয়ে উপরের স্তরের মেঘ হচ্ছে সাররাস। এরা ভেসে বেড়ায় মাটি থেকে আঠারো হাজার ফুট উপরের আকাশে। এই স্তরের মেঘ অত্যন্ত হালকা আর অতিরিক্ত ঠাণ্ডা। এরা হচ্ছে শ্বেত বরফের মতো শুভ্র সাদা রঙের। এরা মূলত আবহাওয়ার সামঞ্জস্য নিয়ন্ত্রণ করে। এদের যখন তুমি দেখতে পাবে, তখন নিশ্চিত বুঝে নেবে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়ার কোনো পরিবর্তন আসছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এদের রং পালটে যায়। ওই দুই সময় এরা কখনো হলুদ, কখনো লাল আবার কখনো হয়ে যায় গোলাপি। এই স্তরের মেঘের মধ্যে রয়েছে সাররাস, সিরোস্ট্রাটাস, সিরোকুমুলাসসহ নানা ধরনের মেঘ।
এছাড়াও আরো বেশ কিছু বিশেষ ধরনের মেঘ রয়েছে। এই সব মেঘ নানা কারণে নানা স্তরে তৈরি হয়ে থাকে। এই মেঘেদের মধ্যে রয়েছে মাম্মাটাস, লেন্টিকুলার, ফগ, কন্ট্রাইলস, কুমুলোনিমকাসসহ আরো নানান জাতের মেঘ। এদের সৃষ্টি যেমন নানা কারণে হয়ে থাকে, তেমনি এদের কাজকর্মও নানান ধরনের। এইসব নানা রকমের মেঘই মাঝে মাঝে আমাদের চোখে ধরা পড়ে। যেগুলোর মধ্যে কোনোটা দেখতে হয় হাতির মতো, কোনোটা আবার ঘোড়ার মতো কিংবা আরো বিচিত্র ধরনের! আর একটি কথা জানলে আরো বেশি অবাক হবে, তা হচ্ছে আন্তর্জাতিক একটা মেঘনীতি আছে। ওই মেঘনীতি অনুসারে পৃথিবীতে মেঘ আছে ৯২ রকমের।
এমন নানা ধরনের মেঘ আমাদের মাথার ওপরে নিত্য উড়ে বেড়ায়। যে জানালা দিয়ে তাকিয়ে মেঘ দেখে প্রতিনিয়ত আপ্লুত হতে, জানতে কি মেঘের এতো কাহিনী। না জানলেও অবশ্য ক্ষতি নেই, এবার তো জেনে গেলে। শুধু মেঘ না, আমাদের চারপাশে প্রকৃতির সব উপাদানের পেছনেই এমন নানা মজার ঘটনা জড়িয়ে আছে। যাই হোক, এতদিন তো মেঘ দেখেছো মেঘের আদ্যোপান্ত না জেনে, এবার তো জানলে। এখনই একবার চট করে জানালা দিয়ে বা বারান্দায় গিয়ে আকাশে হাওয়ার পাল তুলে ভেসে বেড়ানো মেঘগুলোকে দেখে এসো তো। কী! না জেনে মেঘ দেখার অনুভূতি আর এখনকার অনুভূতির মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছো?
অন্য আকাশের মেঘ
সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহের আকাশেই মেঘ আছে। আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহের আকাশের মেঘ অনেক উঁচুতে থাকে। পুরু এসব মেঘ হচ্ছে পানির বরফ। মঙ্গলের গোলাপি আকাশে নীল মেঘ ঘুরে বেড়ায়- আমাদের পৃথিবীর নীল আকাশে যেমন গোলাপি মেঘ ঘুরে বেড়ায়।
শুক্র গ্রহের মেঘের উপাদান হচ্ছে সালফিউরিক এসিড। বৃহস্পতি আর শনির মেঘের বাইরের আস্তরণ অ্যামোনিয়ার, মধ্যস্তর অ্যামোনিয়াম সালফাইডের আর ভেতরের স্তরে পানি। ইউরেনাস ও নেপচুনের আবহাওয়ার কর্তৃত্ব করে মিথেন মেঘ।

বৃষ্টি দোলায় মন
আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস মিলে বর্ষাকাল। বর্ষার মূল উপস্থিতি আষাঢ়ের মধ্যে দিয়ে হলেও বাস্তবে আমরা আষাঢ়ের আগে থেকেই বর্ষার ঘনঘটা দেখতে পাই। জীবনের ঘনকালো মেঘে বর্ষাও তার রঙ বদল করে। প্রকৃতির পটপরিবর্তন আনে বৈচিত্র্যময়তা। কোথাও একভাবে সে স্থির থাকে না। জীবনের ডালিতে সিক্ততার আবেশ বুলিয়ে সে দিয়ে যায় আশার আলো। আমরা তাই তো ক্ষণিক দুঃখ, কষ্টকে দূরে সরিয়ে মেতে উঠি বাদলের বারিধারায়। আকাশ মানে না সেখানে কোনো বাধা। মানে না কোনো শৃঙ্খলাময় কিংবা পরিমিত ধারার শৃঙ্খলা। সে অবিরাম বর্ষণে বর্ষণে সব কিছু ভাসিয়ে তৃপ্ত হয়, ক্লান্ত হয় তবু ক্ষান্ত হয় না। কিন্তু তারপরও আমরা সেই আষাঢ়ের অপেক্ষায় থাকি- কখন হৃদয় মন নাচিয়ে বৃষ্টি নেমে আসবে জীবনধারায়।
মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে
মেঘ থেকেই যে বৃষ্টি ঝরে তাতো নিশ্চয়ই তোমরা জানো। কিন্তু কেন ঝরে তা কি জানো? মেঘ ছোট ছোট জলকণা দিয়ে তৈরি তাতো বলেছিই। সেই ছোট ছোট জলকণাগুলো একত্রিত হয়ে যখন বাতাসে ঘুরে বেড়ায় তখন বাতাসে ভেসে বেড়ানো নানা ধরনের বস্তুর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। আর এই সংঘর্ষে জলকণাগুলো উত্তপ্ত হতে থাকে। সেই সঙ্গে বাতাসে বাষ্প বেড়ে গেলে জলকণাগুলো ভারীও হতে থাকে। এভাবে এক সময় তারা এতটাই ভারী হয়ে পড়ে যে আর আকাশে ভেসে থাকতে পারে না। এভাবে উত্তপ্ত এবং ভারী হয়ে গেলে জলকণা বাষ্প থেকে আবার আগের রূপে মানে পানিতে রূপান্তরিত হয়। ঠিক তখনই আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ে মাটিতে। জলকণার বাষ্প থেকে পানি হয়ে ঝরে পড়াকেই আমরা বলি বৃষ্টি।
বৃষ্টিপাতের মাত্রা
বৃষ্টিপাত মাপার ক্ষেত্রে বৃষ্টির ধারাকে মিলিলিটারে গণনা করা হয়। তারপর স্কেল অনুযায়ী পরিমাপ করে হালকা, ভারী, অতি ভারী ও চরম বৃষ্টিপাতের হিসাব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ঘণ্টায় ০.২৫ মিলিমিটার থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে হালকা, ৪ মিলিমিটার থেকে ১৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে ভারী, ১৬ মিলিমিটার থেকে ৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী এবং ৫০ মিলিমিটারের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে চরম বৃষ্টি আখ্যা দেয়া হয়।
প্রকৃতিতে বৃষ্টির প্রভাব
আষাঢ় মাস বর্ষা শুরুর মাস। অধিক বৃষ্টিপাতে প্লাবিত হয় দেশÑ দেশের নদ-নদী, নালা, খাল, বিল। রুক্ষতা থেকে কোমল কমনীয় হয়ে ওঠে মাটি। মৃত্তিকা ভালোবাসার মায়া সৃষ্টি করে বুকে টেনে নেয় মানুষকে। সে মানুষকে উপহার দেয় উর্বরা প্রকৃতি। উর্বর সৃষ্টিশীলতা। বীজ বুনে দিলে অঙ্কুরিত হয়ে ওঠে ফসলের মাঠ। হৃদয় মন ভরে তোলে কৃষকের। প্রকৃতি সবুজ হয়ে ওঠে গ্রীষ্মের শুষ্কতা থেকে। কে বলে কিছুদিন আগে মাটির বুক জুড়ে বেদনা ছিল। অথচ কোথাও তো আজ সে বেদনা দেখা যাচ্ছে না। বরং ভরা প্লাবনে উল্টো অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের জীবনে এতে দুর্ভোগ নেমে আসে। এতেই যেন খুশি সে। বর্ষার দিনে অবিরাম বৃষ্টির ধারা কারোর মনকেই তো আর স্থির থাকতে দেয় না।
বাংলার বর্ষা বাংলাকে নব যৌবন এনে দেয়। ফুল-ফসলে ভরে তোলে প্রতিটি জনপন। ভরে তোলে মানুষের মন। মানুষও স্বপ্নরঙের তুলি টানে প্রকৃতির বুকে। মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি অফুরন্ত টানে আনন্দের জোয়ারে ভাসে আমাদের এই সবুজ দেশ। রঙিন হয়ে ওঠা আবেশ জুড়ে আসে হৃদয় মন। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ধূসর পথ ধরে ক্রমাগত সবুজের। কদম, কেয়া, কামিনী, জুঁই আর গন্ধরাজের মাতাল সৌরভে প্রকৃতি আবিষ্ট হয়ে পড়ে। বর্ষায় ফোটা ফুলে থাকে একটা ঝাঁঝালো গন্ধ। নাহলে রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যেও ফুলের সৌরভ আমাদের নাকে আসবে কী করে? তার রুক্ষতার ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসে দেমাগী অহং। খুব সন্তপর্ণে লুকিয়ে ছিল সে এতদিন নিজেকে মেলে ধরার জন্য। আজ সুযোগ বুঝেই স্বরূপে আবির্ভূত হতে একটুও কুণ্ঠিত নয় সে।
খাল-বিলের থই থই পানিতে হেলেঞ্চা ও কলমিলতা ভেসে থাকে। ভেসে ওঠে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। পেয়ারা, আনারস, বাতাবি লেবুÑ এসব বর্ষার ফল। ইলিশ মাছেরও মওসুম শুরু হয় এ সময়। ঘরে ঘরে ইলিশ আর খিচুরি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। ঝাঁক বেঁধে বক উড়ে বেড়ায় বর্ষার কালো আকাশে। কানায় কানায় পূর্ণ জলাশয়ের পাশে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে বকেরাÑ মাছ, সাপ, ব্যাঙ, পোকামাকড়, কেঁচো এসবের আশায়। এছাড়া বর্ষায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয় ময়ূর। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে রঙবেরঙের পেখম তুলে কর্কশ শব্দে নাচতে থাকে ময়ূর।
বর্ষাকে আমরা যেন একটু বেশি ভালোবাসি। আমাদের সাথে আমাদের এই প্রকৃতির টান অবশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মানুষ আশা খোঁজে, স্বপ্ন দেখেÑ যা খুঁজতে চায় তাকে কোনো কিছুর মধ্যে যেন পেয়ে দেখতে চায়। ঠিক তেমনি সে তার পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুন করে তুলে আনতে চায় জীবনকে। ফুলের সৌরভে সাজাতে চায় তার জীবন। সে খুঁজে ফেরে যে জিনিস তা যেন পেয়ে যায় বর্ষার মধ্যে। বাদলের অঝোর বর্ষণে নেমে আসে প্রশান্তি, সেখানে সে আশ্রয় নেয় পরম স্নিগ্ধ কোনো এক সুরেলা আবেশের। এই আবেশ যেন আর কিছু নয়, তা আষাঢ়ের প্রথম সন্ধ্যার রূপালী বর্ষণের ধারার। এই বর্ষণধারাই তো হয় আরেক আকাক্সিক্ষত বিষয়। মনের  ভেতর চাপ চাপ যে আবেশের মেঘ চাপা ছিল তা তো কিছুতেই আর সরানো যায় না। ঠিক সেই চাপকে ভারমুক্ত করে নেমে আসে বৃষ্টি। হৃদয় আকাশ থেকে তার বদ্ধ কপাট খুলে দিলে হুড়মুড় করে নেমে আসে অফুরন্ত আনন্দ। এটাকে বরণ করে সুন্দর হয়ে ওঠে বাংলার মাঠঘাট, বন-বনানী তেপান্তর। নিরবচ্ছিন্ন হয়ে ওঠে আকাশ আর মাটির বন্ধন। কে বলে কিছু আগেও সে রুক্ষ প্রকৃতির কোনো এক কষ্টের আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে ছিল! সে খুঁজে ফিরছিল মুক্ত ও প্রশান্তময় কোনো কিছু। কিছু আগেই তার হাঁসফাঁস ওঠা দেহ ক্লান্তির মধ্যে ডুবে ছিল। জ্যৈষ্ঠের আমন্ত্রণের দ্রুত সাড়া দিয়ে এসেছে আষাঢ়Ñ হৃদয় নেচেছে আবার পেখম মেলা।
বর্ষার ব্যাপ্তি
বর্ষা কেবল আষাঢ় আর শ্রাবণ এই দু’মাসই থাকে না। একেবারে শীত আসার আগ পর্যন্ত বর্ষা থাকে। কেননা, আমাদের ঋতুবৈচিত্র্য এখন আর নেই বললেই চলে। প্রকৃতপক্ষে বৈশাখের শেষ থেকে শুরু করে কার্তিকের প্রথম দিক পর্যন্ত চলে বর্ষার দাপুটে বিচরণ। শরৎ আর হেমন্ত এখন বর্ষার সামান্য পরিবর্তিত রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এ বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প বয়ে আনে। আর এ কারণেই বর্ষার আকাশ থাকে মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টিও ঝরে অনেক। আমাদের দেশে বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তার শতকরা আশি ভাগ হয় বর্ষাকালে।
এবার এসো অন্য রকম কিছু বৃষ্টির কথা জেনে নিই।
অ্যাসিড বৃষ্টি : অ্যাসিড বৃষ্টি (অপরফ ৎধরহ) এক ধরনের বায়ু দূষণ, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কারখানা এবং অন্যান্য উৎস থেকে সৃষ্ট বায়ুুবাহিত অ্যাসিডের কণা পৃথিবীর দূরবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে। অ্যাসিড বৃষ্টির ক্ষয়কারী ধর্ম পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল ইত্যাদির দহনের ফলে সৃষ্ট সালফার ডাই-অক্সাইড (ঝঙ২) এবং নাইট্রোজেনের (ঘ) বিভিন্ন অক্সাইড বাতাসের জলীয়বাষ্প ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সাথে মিলে সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য দূষণকারী পদার্থ সৃষ্টি করে। এই অ্যাসিডীয় দূষণকারী পদার্থগুলো বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে পৌঁছে এবং বাতাসের মাধ্যমে শত শত মাইল দূরে চলে যায়। পরিশেষে এগুলি বৃষ্টি, তুষার বা কুয়াশার আকারে, এমনকি অদৃশ্য অবস্থায় শুষ্ক আকারেও মাটিতে নেমে আসে।
পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর আমেরিকা, জাপান, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপে অ্যাসিড বৃষ্টি বহু ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটিতে গাছের পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়, গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, হ্রদ ও জলাশয়কে মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর বসবাসের অযোগ্য করে তোলে। শহরাঞ্চলে অ্যাসিড বৃষ্টি দালানকোঠার স্বাভাবিক ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের সাথে মিলে অ্যাসিড-বাষ্প নগরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে। ধোঁয়াশা সেবন করে শহরের মানুষের ফুসফুস আক্রান্ত হয় এবং আয়ু কমে যায়।
কৃত্রিম বৃষ্টিপাত : বৃষ্টিপাতের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটিকে মানবনিয়ন্ত্রিত পন্থায় করাকেই বলা হচ্ছে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত। কৃত্রিম বৃষ্টিপাতে কখনও পুরো প্রক্রিয়াটি, কখনও তার আংশিক (জলীয়বাষ্পকে মেঘে রূপান্তর) নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রথমে দ্রুতগতির বড় পাখা দিয়ে কোনো জলক্ষেত্রের পানিকে বাষ্পীভূত করা হয়। হালকা সেই বাষ্প উপরে উঠে গিয়ে বাতাসের ধূলিকণার সাথে মিশে জমাট বাঁধে। তবে এই জমাট বাঁধানোর ব্যাপারটিও কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সিলভার আয়োডাইডের কণা ছুঁড়ে দিয়ে। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি জলীয়বাষ্পকে জমানোর জন্য বন্দুক কিংবা রকেট ব্যবহার করে ভূমি থেকে উপরের দিকে কিংবা বিমান ব্যবহার করে আকাশ থেকে ভূমির দিকে সিলভার আয়োডাইডের কণা ছড়িয়ে দেয়া হয়। উষ্ণ অঞ্চলে এ কাজে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড। এভাবে জমাটবদ্ধ জলীয়বাষ্প বা মেঘ যখন ভারী হয়ে যাবে, তখন ওই স্থানে ঝরে পড়বে মেঘ, হবে বৃষ্টি। কৃত্রিম বৃষ্টির এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ।
কৃত্রিম বৃষ্টির কথা প্রথম ভেবেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট শায়েফার। তিনি বাতাসের জলীয়বাষ্পকে জমাট বাঁধিয়ে মেঘ বানাতে ব্যবহার করেছিলেন জমাটবাঁধা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের টুকরা (ড্রাই আইস – উৎু ওপব)। তিনি বার্কশায়ার পাহাড়ের কাছে ড্রাই আইস ছুড়ে দিয়ে তুলোর মতো মেঘ বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তাঁকেই কৃত্রিম মেঘের জনক বলা হয়ে থাকে।
কৃত্রিম বৃষ্টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশার বাণী নিয়ে এসেছে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে চীন। চীনের উত্তর অংশে বৃষ্টিপাত সাধারণত খুব কম হয়। পানির অন্যান্য উৎসগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ খারাপ। তাই কৃত্রিম বৃষ্টি কাজে লাগিয়ে তারা ইচ্ছামতো বৃষ্টি ঝরিয়ে নদ-নদীর পানি ১৩% পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে বৃষ্টিমুক্ত রাখতেও কাজে লাগানো হয় এই কৃত্রিম বৃষ্টির পদ্ধতি। কিন্তু কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে কি না, তা এখনও সন্দেহের অতীত নয়। বেইজিংয়ের প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো অভিযোগ এনেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় তাদের বাতাস থেকে জলীয়বাষ্প টেনে নেয়া হচ্ছে। যথেচ্ছ কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের এই ব্যবস্থা বৈশ্বিক উষ্ণায়নও ঘটাতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
উল্কাবৃষ্টি : রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় নক্ষত্রের মতো ছোট উজ্জ্বল বস্তু পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে দেখা যায় আর তাই হলো উল্কাবৃষ্টি। রাতের আকাশে তারা গুনতে যেমন মজার তেমনি মজার উল্কাবৃষ্টি দেখা। মেঘহীন রাতের আকাশে আমরা হঠাৎ উল্কাপাত দেখি। ঝাঁকে ঝাঁকে, দলে দলে উল্কা যখন পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে তখন তাকে উল্কাবৃষ্টি বা উল্কাঝড় বলে। দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতি উৎসবে মেতেছে। উল্কাপাতের ঘটনাকে বলা হয় “ইটা আ্যকুয়ারাইডস”। প্রতি বছর সাধারণত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই উল্কাঝড়ের দেখা পাওয়া যায়। পৃথিবীর সব জায়গায় সমানভাবে এটি দেখা যায় না। উত্তর গোলার্ধের লোকজন প্রতি ঘণ্টায় ১০টি উল্কাপাত আর দক্ষিণ গোলার্ধের লোকজন প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি উল্কাপাত দেখতে পারে। বিষুবরেখার নিকট এলাকার লোকজন গোধূলির সময় দেখতে পারে। তারা সূর্যোদয়ের ৩ ঘণ্টা আগেই উল্কাবৃষ্টি দেখতে পারে। উল্কাবৃষ্টি দেখার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সন্ধ্যা ও ভোররাত।
শিলাবৃষ্টি : ঘরে বসে শিলাবৃষ্টি দেখা অনেকের কাছেই অনেক মজার। তবে মজার আর অদ্ভুত হলেও শিলাবৃষ্টি বেশ ভয়ঙ্করও বটে। গড়ে একটা শিলার ব্যাস হয় ৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটারের মধ্যে। শিলাবৃষ্টিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ঐধরষ ংঃড়ৎস’। যদিও এটাকে ঠিক ঝড় বলা যায় না, এটা আসলে বজ্রবৃষ্টির মতো বড় কোনো ঝড়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আসলে শিলাবৃষ্টি তৈরিই হয় ঝড়ের মেঘ থেকে। শিলাবৃষ্টি যে মেঘ থেকে তৈরি হয় তাকে বলে ‘ঈঁসঁষড়হরসনঁং পষড়ঁফং’। যুক্তরাজ্যের কলোরেডোতে এর বাসিন্দারা রীতিমতো শিলাবৃষ্টির একটা ঋতুই পায়, যাকে ‘ঐধরষ ংঃড়ৎস ংবধংড়হ’ বলে, যা প্রায় মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয়!
সাধারণত শিলাবৃষ্টির স্থায়িত্ব ১৫ মিনিটের বেশি হয় না। এর থেকে বেশি সময় ধরে শিলাবৃষ্টি হওয়ার রেকর্ড খুবই কম। পুরো পৃথিবীর আবহাওয়া অধিদপ্তরগুলোর সূত্রে, কোনো শিলার ব্যাস যদি ন্যূনতম ৩-৪ ইঞ্চি না হয়, শীতপ্রধান দেশগুলোর তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে শিলাবৃষ্টি বেশি হয়।
ঝড়ো আর সঙ্কটপূর্ণ আবহাওয়াতে যখন শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ উপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন শিলা তৈরি হয়। যখন ‘পড়হাবপঃরাব পবষষ’ তৈরি হয়, তখন উষ্ণ বায়ু উপরের দিকে উঠতে থাকে, আর শীতল বায়ু নিচের দিকে নামতে থাকে। পড়হাবপঃরড়হ পবষষ প্রবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে হয়, যখন তরল অথবা গ্যাসীয় পদার্থের ঘনত্বে পার্থক্য দেখা দেয়। যখন নির্দিষ্ট প্রবাহীকে তাপ প্রয়োগ করা হয়, এর আয়তন বেড়ে যায় এবং ঘনত্ব হ্রাস পেতে থাকে এবং ওই আয়তনের তরলের প্লবতা এর আশপাশ অঞ্চলের প্রবাহীর তুলনায় বেড়ে যায়। তখন শীতলতর ও কম ঘন প্রবাহী, উষ্ণ ও ঘন প্রবাহীর নিম্ন অঞ্চলে আশ্রয় নেয় এবং একে উপরের দিকে উঠার জন্য বল প্রয়োগ করে। গতীয় এ প্রক্রিয়াকেই বলে পড়হাবপঃরড়হ এবং চলমান প্রবাহী পদার্থটিকে বলে পড়হাবপঃরড়হ পবষষ. যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ খুব শীতল পানির উৎস পাওয়া যায়, তখন মেঘে বরফ জমতে থাকে ওই শীতল পানির দানা আর শীতল বায়ুর সংমিশ্রণে। ঊর্ধ্বমুখী বায়ু এমন একটা অবস্থানে পৌঁছায় যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে চলে যায়, অর্থাৎ যেখানে পানি বরফ হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ঊর্ধ্বমুখী বায়ুতে সৃষ্ট বরফ খণ্ডগুলো ওই বায়ুর প্রবাহ থেকে ছুটে গিয়ে নিচের দিকে পড়তে থাকে। এই ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর উপরে উঠে যাওয়ার পরে বরফ কণা সৃষ্টি হয়ে নিম্নগামী হওয়ার প্রক্রিয়া পুনঃ পুনঃ চলতে থাকে এবং বরফ কণার উপর বারবার আস্তরণ জমা হয়ে তা বরফ খণ্ডের আকার নেয়। এই ঊর্ধ্বমুখী বাতাসের কিন্তু বেশ ভালোই গতি থাকতে হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই গতি ৬০ মাইল/ঘণ্টাও হতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, আমরা যদি একটা শিলাখণ্ডকে অর্ধেক করে কেটে নিতে পারি, তাহলে এর ভেতরকার কেন্দ্রীভূত স্তরগুলো আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। যখন শিলা ঊর্ধ্বাকাশ থেকে পতিত হতে থাকে, তখন এটি পতনশীল অবস্থায় কিছুটা গলে যায়, আর এমন তাপমাত্রায় এটা গলে যার কারণে এটা আবার ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর সাথে উপরে উঠে যায়। সুতরাং, এর থেকেই বোঝা যায় যে খুব বড় আকারের শিলাখণ্ড আসলে অনেক বারের পুনঃ প্রক্রিয়ার ফসল। এই শিলাখণ্ডগুলো বৃষ্টির পানির কণা বা মেঘকে আশ্রয় করে এবং যখন এগুলো ক্রমশ ভারী হয়ে ওঠে এবং ঊর্ধ্বগামী বায়ু আর এতটা ভারী কণা বহন করতে পারে না, তখন তা বৃষ্টির সাথে ভূমিতে পতিত হতে থাকে। যাকে আমরা শিলাবৃষ্টি হিসেবে দেখতে পাই।
মাছ বৃষ্টি : ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মরু শহর লাজামানুতে বৃষ্টির সাথে আকাশ থেকে মাছ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বিরল ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীরা হতভম্ব হয়ে যায়। তাদের মধ্যে অনেকে এটাকে আরও বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস মনে করে আরও ভীত হয়ে পড়ে।
এরকম ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে বৃষ্টির সাথে মাছ পড়ার বা মাছ বৃষ্টির যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলি হচ্ছেÑ ১৮৬১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরে, ১৯০০ সালের ১৫ মে আইসল্যান্ডে, ২০০৯ সালের ২৪ অক্টোবর ভারতে, ১৯৪৭ সালের ২৩ অক্টোবর লুসিয়ানায়।
এছাড়া ১৮৯৪ সালে ইংল্যান্ডে জেলিফিস বৃষ্টি, ২০০৭ সালের ১১ জুলাই লুসিয়ানায় কীট বৃষ্টি আর একই বছরের ৬ এপ্রিলে আর্জেন্টিনায় মাকড়সা বৃষ্টি হয়।
ব্যাঙ-বৃষ্টি : তোমরা সবাই টর্নেডোর কথা শুনেছ। টর্নেডো সবসময়ই ক্ষতিকর হয়ে থাকে। সেই টর্নেডো যদি কোনো বাড়ি উড়িয়ে না নিয়ে একটা আস্ত পুকুর বা জলাশয়ের পানি উড়িয়ে নিয়ে যায়? ভাবছো, পানিই তো বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়বে। উঁহু, ব্যাপারটা এত্তো সোজা নয়। কেন? আরে, সেই পুকুরে বুঝি মাছ নেই, ব্যাঙ নেই? এখন সেই মাছ আর ব্যাঙ কোথায় যাবে? বৃষ্টির সাথে যদি ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করতে করতে ব্যাঙও ঝরতে থাকে, সে কি আর ভালো লাগবে? হ্যাঁ, এমন ঘটনাও কিন্তু ঘটেছে। ইউরোপিয়ান দেশ সার্বিয়ার এক ছোট্ট শহরে একবার এরকম ব্যাঙ-বৃষ্টি হয়েছিল। আর তাই নিয়ে মানুষের মনে কতো রকমের জল্পনা! কেউ বলতে লাগল এটা কারো অভিশাপের ফল, কেউ বলতে লাগল আকাশে বোধহয় ব্যাঙ বহন করছিল এমন কোনো প্লেনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। কিন্তু আসলে যে কী হয়েছিল, সে তো বুঝতেই পারছো। কোনো এক টর্নেডোতে উড়িয়ে নেয়া ব্যাঙ সার্বিয়াতে বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়েছিল। কী বিচ্ছিরি ব্যাপার! ২০০৯ সালের জুনে জাপানেও ব্যাঙ-বৃষ্টি হয়েছিল।

বিদ্যুৎ চমক ও বজ্রপাত
সাধারণত বৃষ্টির সময়ই বিদ্যুৎ ঝলকানি বা বিদ্যুৎ চমকাতে দেখা যায়। কোনো কোনো সময় এর পরপরই বজ্রপাত হয়। বজ্র তৈরি হতে খুব কম সময় লাগে, ১/২ সেকেন্ডই যথেষ্ট। এই সময়ের মধ্যেই বজ্রের ঝলক চারপাশের বাতাসকে সূর্যপৃষ্ঠের পাঁচগুন বেশি উত্তপ্ত করে তোলে। চারপাশের বাতাস প্রসারিত হয় ও কাঁপতে শুরু করে, তৈরি করে প্রচণ্ড শব্দ। আর শব্দের গতি আলোর গতির থেকে কম হওয়ার কারণে বজ্রপাতের কিছু পরে আমরা শব্দ শুনতে পাই।
যখন ঝড় হয় তখন মেঘের ভেতরের বাতাস ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে ওপর-নিচে ওঠানামা করে। এ সময় বৃষ্টির ফোটাগুলো শিলায় পরিণত হয়ে ঋণাত্মক ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং মেঘের নিচের স্তরে চলে আসে। ফলে মেঘের নিম্নস্তর ঋণাত্মক চার্জ ধারণ করে। আর মাটির ধনাত্মক চার্জ যখন এই ঋণাত্মক চার্জকে আকর্ষণ করে, তখনি হয় বজ্রপাত।
মেঘের নিচের অংশ ঋণাত্মক চার্জ বহন করে, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠে থাকে ধনাত্মক চার্জ। বাড়িঘড়, নৌকার মাস্তুল, মানুষ, পাহাড়ের চুড়া ও বড় বৃক্ষগুলোও ধনাত্মক চার্জ বহন করে। তখনই আঁকাবাঁকা শাখাযুক্ত ঋণাত্মক চার্জের একটি স্তর মেঘ থেকে নিচের দিকে নেমে আসে। শাখাগুলো অদৃশ্য থাকে এবং একেকটি লম্বায় ১৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। ঋণাত্মক চার্জের স্তম্ভটা যখন কোনো চার্জবাহী বস্তু বা প্রাণীর ১৫০ ফুটের মধ্যে আসে তখন ধনাত্মক চার্জবাহী স্তম্ভ ওপরের দিকে উঠতে থাকে। দুই চার্জ মিলিত হওয়ায় তৈরি হয় পথ। নিচের বস্তু কিংবা প্রাণী থেকে বিদ্যুতের একটি প্রবাহ নতুন তৈরি হওয়া এই পথ দিয়ে প্রচণ্ড বেগে উপরের দিকে উঠে যায়। ঊর্ধ্বমুখী এই বিদ্যুৎ প্রবাহ উজ্জ্বল আলোসহ ফিরতি একটা বিদ্যুৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে, যা আমাদের কাছে বজ্রপাত নামে পরিচিত।
তিন রকম বজ্রপাত আছেÑ ১. বল বজ্রপাত, ২. মেঘ বজ্রপাত ও ৩. মাকড়সা বজ্রপাত। মাটিতে স্বাভাবিক একটি বজ্রপাত পড়ে বল বজ্রপাতের উদ্ভব হয়। বল বজ্র সাধারণত লাল, কমলা কিংবা হলুদ রঙের হয়ে থাকে। অল্প কিছুটা সময় মাটির উপরে ভেসে থেকে কিংবা এদিক-ওদিক ইতস্তত ছোটাছুটি করে এটা অদৃশ্য হয়ে যাবে অথবা জোরে একটা শব্দ করে ফেটে যাবে। মেঘ বজ্র কখনো ভূ-পৃষ্ঠে আঘাত হানে না। আর মাকড়সা বজ্রের আলোর ঝলকানি আকাশের গায়ে ৯০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
বজ্র এক জায়গায় ২ বার আঘাত হানতে পারে। যেমন নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ওপর প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ বার বজ্রপাত হয়।

সাতটি রঙের রঙধনু
বিজ্ঞানীরা বলেন, যখন পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলে পানিবিন্দু পড়ে তখন বিভিন্ন রং আমাদের চোখে এসে ধরা পড়ে। এই রংগুলো আমরা দেখি কোথায়? আকাশে। একসাথে অনেক রং ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে থাকে বলেই তাকে আমরা রংধনু বলে ডাকি। তবে আকাশে সবসময়ই রংধনু দেখা যায় না। আমাদের দেশে আমরা সাধারণত বৃষ্টির পরেই বেশির ভাগ সময় রংধনু দেখি। কারণ তখন আকাশে পানির বিন্দুর এক প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়। মেঘের জলকণা যখন চিকচিক করে তখন সেই জলকণাই আমাদের চোখে রংধনু তৈরি করে। আকাশে অনেক জলকণা থাকে। সেই জলকণার উপর সূর্যের আলো পড়লেই রংধনুর সৃষ্টি হয়।
রংধনুর আকার কেমন? আমরা একে রংধনু বলে ডাকি কেন? অনেকগুলো রং রয়েছে আর তা ধনুকের মতো বাঁকানো তাই তার নাম রংধনু। রংধনু অনেক সময় অর্ধগোলাকার দেখায়। এই গোলকের মধ্যে থাকে নানা রং। এর বাইরের দিকে থাকে লাল আর ভেতরে থাকে বেগুনি রং, অন্য রংগুলো থাকে মাঝখানে। আসলে রংধনুর যে রং থাকে তাকে আমরা সাতটি রঙের সমাহার বলি। কারণ দূর থেকে আমরা তার সাতটি রঙই সহজেই দেখতে পাই। বাংলায় এর নাম বেনিআসহকলা। মানে হলোÑ বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল রং। তবে বৃষ্টির পর কেবল পানির ফোঁটাই নয়, যদি কুয়াশা কিংবা শিশিরও ভেসে থাকে তাহলেও আকাশে রংধনু দেখা যায়।
যেভাবে দেখা যায় : যখন পানির ফোঁটা আকাশ থেকে পড়ে এবং আকাশে সূর্যের হাসি দেখা যায় তখন সূর্যের সাথে সাথে রংধনুও হেসে ওঠে। সে সময় মাটির সাথে যে কেউই যদি কৌণিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে সেই তখন রংধনু দেখতে পায়। তবে সবচেয়ে ভালোভাবে আকাশে রংধনু তখনই দেখা যায় যখন বৃষ্টি ঝড় শেষ হয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি চলে যাচ্ছে এমন সময়ে আকাশের অর্ধেক অংশে সূর্য থাকে, সে সময় সূর্য যে দিকটাতে রয়েছে সে দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে তাকালে এক উজ্জ্বল রংধনুর দেখা পাওয়া যায়। আর যদি সবসময় রংধনু দেখতে চাও তাহলে কোনো ঝরণা বা জলপ্রপাতের কাছে চলে যাও। সেখানেও রংধনুর দেখা মিলবে। এছাড়া যে দিন আকাশ থাকে পরিষ্কার, তার সঙ্গে থাকে ঝলমলে সূর্য, সেদিনও সূর্যকিরণের দিকে পানির ফোঁটা ছেড়ে দিয়ে নিজে নিজেই রংধনু বানাতে পারবে। আরেকটা জিনিস জানিয়ে রাখি, রংধনু যেমন সূর্যের আলোতে দেখা যায় তেমনি চাঁদের আলোতেও তাদের দেখা মিলতে পারে। তবে চাঁদের আলোয় তাদের দেখা পাওয়াটা কিন্তু বেশ ভাগ্যেরই ব্যাপার। যেদিন চাঁদের আলোয় পৃথিবী ভরে যায়, সেদিন চাঁদের আকাশে রংধনুর সৃষ্টি হয়। যেহেতু কম আলোতে মানুষ অল্পই দেখতে পায় তাই চাঁদের আলোয় যে রংধনু হয় তা মানুষ দেখতে পায় না।
আর একটি বিষয়Ñ আকাশে গোলাকার অনেক রঙের রিং দেখা গেলে তাকে ‘গ্লোরি’ বলে। তবে ‘গ্লোরি’ আকারে রংধনুর চেয়েও ছোট হয়। এটি ৫ ডিগ্রি থেকে ২০ ডিগ্রি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সুন্দরভাবে রংধনু দেখার জন্য যে পরিবেশ লাগে সেই অবস্থায় (যেমন রংধনুর পেছনে কালো মেঘ) রংধনুর পিছনে আরেকটি বাঁকানো অংশ দেখা যায়। একে দ্বিতীয় রংধনুও বলে। কিন্তু নীল আকাশে দ্বিতীয় রংধনুর দেখা খুব কম সময়ই মেলে।

পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে বর্ষাকালের সেই তীব্রতা আজ বেশি দেখা যায় না। তারপরও আমরা বর্ষাকে, অঝোর ধারায় ঝরে পড়া বাদলকে কামনা করি, হৃদয়-মন দিয়ে উপভোগ করি। বর্ষার রূপ, রস, সৌন্দর্য অন্য কিছু দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। এ কারণে প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ুর ক্ষয়িত রূপকে, তার প্রকৃত রূপকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।

SHARE

Leave a Reply