Home বিজ্ঞান থ্রি-জি ফোর-জি রহস্য

থ্রি-জি ফোর-জি রহস্য

সাকিব রায়হান..

হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, হাই-স্পিডের জন্য থ্রিজি নাকি ফোরজি প্রয়োজন? এটা ঠিক যে, যত সংখ্যা বাড়বে তত স্পিড বাড়বে। কিন্তু খুব দুর্ভাগ্যের কথা হচ্ছে, আমরা যখন থ্রিজি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে করতে কয়েক বছর পার করে ফেলেছি, ততক্ষণে সেই প্রযুক্তিটি পুরনো হয়ে এখন ফোরজির পথে পৃথিবী পা বাড়িয়েছে।
প্রথমেই জানি, ‘জি’ এর মানেটা আসলে কী? ‘জি’ মানে জেনারেশন বা প্রজন্ম। মোবাইল প্রযুক্তির প্রজন্ম যা মোবাইল ফোন এবং এর নেটওয়ার্কে ইনস্টল করা হয়ে থাকে। প্রতিটি নতুন ‘জি’-এর জন্য নতুন একটি ফোন কিনতে হবে আর নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে ব্যয়বহুল আপগ্রেডের। প্রথম দু’টির একটি ছিল অ্যানালগ সেল ফোন (ওয়ান জি বা প্রথম প্রজন্ম) এবং অপরটি ডিজিটাল ফোন (টুজি বা দ্বিতীয় প্রজন্ম) এর জন্য। বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কগুলো এখনও টুজি।
সাধারণ একজন মানুষের কাছে থ্রিজি এবং ফোরজি মোবাইল প্রযুক্তি রহস্যময় দু’টি শব্দ। বর্তমান সময়ে বাজারে থ্রিজি এবং ফোরজি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটে ভরে যাচ্ছে। যদি এগুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারণা না থাকে, তাহলে এগুলো কিনতে গিয়ে শুধু টাকা নষ্ট হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক, অথবা থ্রিজি চালু হয় ২০০৩ সালে। সে সময় এর সুসঙ্গত সর্বনিম্ন ইন্টারনেটের গতি ছিল ১৪৪ কিলো-বিট/সেকেন্ড। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, এর মধ্য দিয়েই ‘মোবাইল ব্রডব্যান্ড’ চালু হবে। কিন্তু বর্তমানে নানা ধরনের থ্রিজি চালু রয়েছে এবং এই ‘থ্রিজি’ সংযোগ মানে ইন্টারনেট গতি ৪০০ কেবিপিএস থেকে এর চাইতে দশগুণ বেশিও হতে পারে। সাধারণত নতুন প্রজন্ম নিয়ে আসে নতুন বেজ প্রযুক্তি, প্রতি ব্যবহারকারী হিসেবে নেটওয়ার্কের আরও বেশি তথ্য ধারণক্ষমতা এবং আরও ভালো ভয়েস পাঠানোর সুবিধা। সে হিসেবে ফোরজি মানে আরো দ্রুতগতিসমপন্ন বলে অনুমান করা যায়। কিন্তু ফোরজি নামধারী প্রযুক্তির শুধু যে অভাব নেই তা নয়, নানাভাবে এই প্রযুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আর তাই ফোরজি টার্মটি হয়ে পড়েছে প্রায় অর্থহীন।
মান নির্ধারণের সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ফোরজি নামকরণের একটা নির্দিষ্ট মাপকাঠি তৈরি করে দেয়ার প্রচেষ্টা করেছে, কিন্তু বারবার তা উপেক্ষা করায় শেষ পর্যন্ত আইটিইউ ফোরজি প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়। আইটিইউ বলছে ফোরজি বা চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি বলতে আসলে একক কোনোও প্রযুক্তি নেই। তিনটি উপায়ে এই ফোরজি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলো হলো এইচএসপিএ+ ২১/৪২, ওয়াইম্যাক্স এবং এলটিই। যদিও কিছু মানুষ এলটিইকেই শুধু চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি বলে মনে করে থাকেন।
তবে একটা নিয়ম সবাই মানতে চেষ্টা করে সেটি হচ্ছে, নতুন প্রজন্মটিকে অবশ্যই আগের প্রজন্মের গতি অপেক্ষা দ্রুত হতে হবে। অবশ্য এই নিয়ম শুধু মোবাইল পরিচালকদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ধরা যাক, আমরা সবাই জানি সিটিসেল দেয় সিডিএমএ সুবিধা। এরা যদি ওয়াইম্যাক্স ফোরজি চালু করে তাহলে তা অবশ্যই তাদের সিডিএমএ থ্রিজির চাইতে বেশি গতিসমপন্ন হবে। কিন্তু গ্রামীণফোনের থ্রিজি এইচএসপিএ সংযোগ বাংলালিংক বা রবির (যদি থাকত) ফোরজি এলটিই-এর চেয়ে দ্রুতগতির হতে পারে। অর্থাৎ মোবাইল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি যদি তার তরঙ্গ পরিবর্তন করে তাহলে সে আগের চেয়ে গতিশীল হলেও প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে গতিশীল হবে তা কিন্তু বলা যাবে না। তাই ফোরজি এলেই আমরা ব্রডব্যান্ডের গতিতে ভেসে যাব ভাবা ঠিক নয়। এটা পুরোটাই নির্ভর করবে সেই অপারেটর কীভাবে তার নেটওয়ার্ক বসাচ্ছে এবং কতটুকু সেবা তারা আসলেই দিতে চায়। এর সঙ্গে খরচের বিষয়টিও জড়িত।
ফোরজি প্রযুক্তি মূলত মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। ফোরজির মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ফিং, ভিডিও কনফারেন্স, গান-ভিডিও ইত্যাদি ডাউনলোড করাসহ ইন্টারনেটে বিভিন্ন কনটেম্লট দেখা সবকিছুই আগের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে করা সম্ভব। টুজি এবং থ্রিজি’র ধারাবাহিকতায় এসেছে এই ফোরজি। আশা করা হচ্ছে, থ্রিজি সার্ভিসের চেয়ে ফোরজি পাঁচ গুণ বেশি দ্রুতগতিসমপন্ন হবে এবং ফোরজির মাধ্যমে হাই-ডেফিনিশন মোবাইল টিভি এবং ভিডিও কনফারেন্সসহ আরও অনেক চমকপ্রদ সুবিধা পাওয়া যাবে।
অনেকে হয়তো এই লেখা পড়ে একটু ভড়কে যাবে যে, আসলে আমাদের কোন্ পথে যাওয়া উচিত? উত্তর খুব সহজ, আমার অপারেটর আমাকে যে পথে নিয়ে যাবে আমাকে সে পথেই যেতে হবে। তারপরও কথা আছে, আমার আসলে প্রয়োজন কোন্টি এবং কতটুকু তা আগে নির্ধারণ করতে হবে। তারপর প্রয়োজন হলে ইচ্ছামত অপারেটরদের সুবিধা অনুযায়ী নিজের প্লান পরিবর্তন করা যাবে।

SHARE

2 COMMENTS

  1. থ্রিজি তে তো দেখলাম স্পিড 400kb/ps থেকে ১০ গুণ বেশি । তার মানে সর্বোচ্চ 40mb/ps পর্যন্ত । তাহলে জাপানে সর্বোচ্চ 1.5 GB স্পিড পাওয়া সম্ভব হচ্ছে কিভাবে ????

Leave a Reply