Home বিশেষ রচনা শিশুশ্রম এবং শ্রমনীতি

শিশুশ্রম এবং শ্রমনীতি

সা’দত সিদ্দিক…
১লা মে। শ্রমিক দিবস। প্রতি বছর সারাবিশ্বে দিবসটি পালিত হয়।
এ দিবসের পেছনে রয়েছে এক লম্বা ইতিহাস।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদেরকে ১০ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা এমনকি ১৬ ঘণ্টা, ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত খাটানো হতো।
কাজের যেমন সুনির্দিষ্ট সময় ছিল না, তেমনি ছিল না ছুটির দিন এবং চাকরির স্থায়িত্ব ও মজুরিসহ সকল বিষয় ছিল মালিকের ইচ্ছাধীন বিষয়। সরকারও ছিল মালিকের স্বার্থের পুতুল।
নির্যাতনমুখী ও অমানবিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্যাতিত শ্রমিক শ্রেণী ১৮২০ সাল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে মিটিং মিছিল শুরু করে। ১৮৬২-৬৩ সালে গড়ে ওঠে ট্রেড ইউনিয়ন। বহু আন্দোলনের বিনিময়ে কাজের সময় ১০ ঘণ্টা স্বীকৃত হলেও তা মানা হত না। এমনকি আমেরিকার আইনসভা ১৮৬৮ সালে ‘আট ঘণ্টার কাজ’ বলে একটি আইনও পাশ করে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে, ১৮৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকেরা একযোগে সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করে। তাদের দাবি ছিল তাদের কাজের সময়সীমা হবে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা।
আবার ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় নতুন ঘটনা। সেখানেও শ্রমিকেরা একযোগে ধর্মঘট পালন করার দিন ঠিক করে। দিনটি ছিল ১ মে। ঐদিন বড় বড় শহরগুলোতে জড় হতে থাকে হাজার হাজার শ্রমিক। তাদের দাবি- ‘৮ ঘণ্টা কর্মদিবস’। তাদের শ্লোগান- ‘৮ ঘণ্টার শ্রম, ৮ ঘণ্টার ঘুম এবং ৮ ঘণ্টার বিনোদন।’ সব কিছুই শ্রমিকের ন্যায্য দাবি।
যাই হোক, এ ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত শ্রমিক হত্যা পর্যন্ত গড়ায়। দেখা যায় ৬৫ জন পুলিশ আহত হয়, এর মধ্যে ৭ জন পরে মারা যায়। আর শ্রমিকদের ৪ জন মারা যায়, আহত হয় ২০০ এরও বেশি।
এরপরের ঘটনা আরও দুঃখজনক। ঐ ঘটনার হামলাকারীদের আজও সনাক্ত করা যায়নি। কিন্তু পুলিশ ৮ জন শ্রমিককে আটক করে। বিচার হয়। কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও প্রাণদণ্ড দেয়। এক সাথে ফাঁসির মালা গলায় পরে নেন আলবার্ট পারসন, আগস্ট স্পাইস, জর্জ এনগেল এবং ফিসার। আর ফাঁসির দিনটি ছিল ১১ নভেম্বর, ১৯৮৭। ফাঁসির সময় স্পাইস চিৎকার করে শেষ উক্তি করেনÑ ‘আজ হয়তো তোমরা আমাদের কণ্ঠ রোধ করছো, কিন্তু একদিন আমাদের নীরবতাই হবে অধিক শক্তিশালী।’
এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৯ সালে প্যারিসে সমাজবাদীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সর্বোচ্চ কাজের সময় ৮ ঘণ্টা নির্ধারণের দাবিতে ১৮৯০ সালের ১ মে বিক্ষোভের প্রস্তাব পাস করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, চিলি, পেরুসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেদিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে মে দিবসের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই মে দিবস শ্রমিকদের দিবস, শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও শ্রমিক দিবস পালিত হয় ১ মে।
এ ঐতিহাসিক শ্রমিক দিবস প্রতি বছর পালিত হলেও আজও চোখের সামনে প্রতিদিন দেখা মেলে শ্রমিক নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা। ৮ ঘণ্টা তো দূরের কথা ২৪ ঘণ্টা কাজ করানোর ঘটনা ঢাকা শহরে অহরহ ঘটছে। আইনের নানা ফাঁক-ফোকরে বেশি লাভের প্রতিশ্রুতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে। নিম্নমানের বেতন আর উচ্চমানের কাজ বেশ জুতসই হচ্ছে কলে-কারখানায়। শিশু-বৃদ্ধ শ্রমিক যেমন নিয়োগ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তেমনি কম মানের কাজের জন্য এ ধরনের শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে নামমাত্র পারিশ্রমিক। কাজে যেমন বিশ্রামের ব্যবস্থা নেই তেমনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তো রয়েছেই। বোনাস-ইনক্রিমেন্ট তো দূরের কথা নিয়মিত মাসের বেতন মাসে দেয়া হয় এ রকম প্রতিষ্ঠান হাতে গোনা। ঢাকা শহরে বেতন ভাতা আদায়ের জন্য প্রতিদিন কোনো না কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
ট্যানারীসহ বেশির ভাগ শিল্পাঞ্চলে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের পরিবর্তে প্রচলিত শ্রম আইন ভঙ্গ করে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। অসংগঠিত সেক্টরের বেশির ভাগ শিল্পে শ্রমিকদের কোনো নিয়োগপত্র নেই, নেই কোনো প্রচলিত ছুটি, নির্দিষ্ট বেতন-ভাতা এমনকি চাকরির নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তাও নেই।
বিশেষ করে শ্রমবাজারে শিশুদের অবস্থা আরও অমানবিক। আইএলও’র হিসাব অনুসারে পৃথিবীতে শ্রমে নিযুক্ত রয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৬০ লাখ শিশু। এদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ৭ কোটি ৩০ লাখ। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই রয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখ শিশুশ্রমিক। বিশ্বের প্রতি ৬ জন শিশুর মধ্যে একজন শিশুশ্রমে নিযুক্ত। দাসত্ব, বন্ধক, যৌন নিপীড়ন, সশস্ত্র সঙ্ঘাত প্রভৃতি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা সংখ্যায় তিন-চতুর্থাংশ। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম, পাচার, সন্ত্রাস, নির্যাতন প্রভৃতি কারণে প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার শিশুকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের অনেকে পরিচিত হয় টোকাই, ছিন্নমূল কিংবা পথশিশু নামে। নেই তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা। আজ এই পাটাতনে তো কাল রাস্তায় পিঠ ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে পড়া।
শিশুশ্রমের ওপর শ্রম মন্ত্রণালয়ের জরিপ দেখলে বোঝা যায় সরকারি হিসেবেই শিশুদের ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে রয়েছে মোট ৪ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার শিশু। এর মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ শ্রমের সাথে জড়িত। যার সংখ্যা ৭৪ লাখ ২৩ হাজার। শিশুশ্রমের মধ্যে ছেলের সংখ্যা ৫৪ লাখ ৭১ হাজার এবং মেয়ে শিশুর সংখ্যা ১৯ লাখ ৫২ হাজার। মোট শিশুর ৬ শতাংশ স্বীকৃত ক্ষেত্রে (ঝুঁকিপূর্ণ নয়) জড়িত আর ৮৯ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এক জরিপে দেখা যায় ৫৭ শতাংশ শিশুশ্রম দিচ্ছে কেবল খাদ্যের বিনিময়ে, তাদের কোনো পারিশ্রমিক দেয়া হচ্ছে না। ২৩.৭ শতাংশ শিশুকে মজুরি দেয়া হয় যার পরিমাণও শিশু আইনের তুলনায় খুবই নগণ্য।
দেশে সবচেয়ে নির্মম ও বিধি বহির্ভুত অমানবিকভাবে শ্রম নির্যাতন চালানো হয় নারী ও শিশু শ্রমিকদের ওপর। গার্মেন্টস, বিড়ি, লেদমেশিন, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে ইট-পাথর ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নারী ও শিশুশ্রমিক নিয়োজিত করা হয়ে থাকে। কিন্তু তারা শ্রমের যথাযথ মজুরি পায় না।
বিশ্ব শ্রম সংস্থা (International Labour Organisation) শিশুশ্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। বরং শিশুশ্রম বেড়েই চলছে। রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিড়ি কারখানায় কাজ করে শিশুশ্রমিকরা। শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য এ কাজ অত্যন্ত মারাত্মক হলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা এ কাজ করে থাকে। ঢাকার লালবাগসহ দেশের অন্যান্য স্থানে কাঁচশিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প ফ্যাক্টরিগুলোতে নিয়োজিত রয়েছে শিশুশ্রমিক। ইট-পাথর ভাঙার কাজ, ময়লা কুড়ানো, শহর ও শহরতলীর পান-বিড়ির দোকানে, সিগন্যাল মোড়ে ফুল বিক্রি, লেদ মেশিন, ঝালাই দোকান আর গাড়ি মেরামতির গ্যারেজগুলোতে ব্যাপকভাবে শিশুশ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে। ঐ শিশুরা গরিব বলে মালিকরা তাদের কাজ দেয় না বরং শিশুশ্রমিক অত্যন্ত সস্তা, অল্প মজুরিতে অনেক বেশি কাজ আদায় করা যায়, হাজারো নির্যাতন করলেও তারা প্রতিবাদের সাহস পায় না বলেই মালিকরা শিশুশ্রমিকদের নিয়োগ দান করে। বিড়ি ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন কারখানায় শিশুশ্রমিক নিয়োগের ফলে অতি অল্প বয়সেই তারা বিভিন্ন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়।
শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও অন্যায়ের প্রতিবাদের একমাত্র মাধ্যম ট্রেড ইউনিয়নগুলো আজ সুবিধাবাদী, সন্ত্রাসী ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধীরাই দখল করে নিয়েছে। জাতীয় স্বার্থবিরোধী দেশী বিদেশী বিভিন্ন মহলের উস্কানী ও মদদে তারা দাবি আদায়ের আন্দোলনের নামে শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সুচিন্তিতভাবে ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের বিপুল লোকসানের জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ডই দায়ী। ফলে চিন্তাশীল দেশদরদি ও সহজ সরল শ্রমিকরা প্রতিবাদ ও অধিকার আদায়ের কোনো প্লাটফর্ম বা মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছে না।
মানুষ হিসেবে শ্রমিক ও মালিক পরস্পর ভাই ভাই। ‘শ্রমিক’ ও ‘মালিক’- কেউ-ই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। শ্রমিক যেমন নিষ্ঠার সাথে কাজ করবে তেমনি মালিক তার পারিশ্রমিক ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ করতে বাধ্য, নতুবা মহান পরাক্রমশালীর দরবারে তাকেও জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আর তার বিচার হবে কঠোর- এই হল ইসলামের শিক্ষা।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেনÑ ‘প্রত্যেকের জন্য তাদের কাজের আনুপাতিক মর্যাদা আছে এবং তোমাদের প্রতিপালক তাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন।’ (সূরা আনআম : ১৩২) শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেনÑ ‘যারা তোমাদের কাজ করে জীবিকা উপার্জন করে সে শ্রমিক তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। কাজেই যাদের কাছে এমন লোক রয়েছে তাদেরকে যেন সে তাই খেতে দেয় যা সে নিজে খায়। তাদের ক্ষমতার বাইরে কোনো কাজ করতে যেন তাকে বাধ্য না করা হয়।’ তিনি (সা) আরও বলেছেনÑ ‘শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করার সময় তার মজুরি ঠিক করে নাও।’ অন্য হাদিসে বলা হয়েছেÑ ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ সুতরাং কাজের সময় নির্ধারণ ও অতিরিক্ত কাজ না চাপানো, মজুরি বা বেতন স্কেল নির্ধারণ ও যথাসময়ে তার পারিশ্রমিক প্রদান ইসলামী শ্রমনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
“দুনিয়ার মজদুর এক হও”- শ্লোগানসর্বস্ব সমাজতন্ত্রের বাধ্যতামূলক শ্রমদান এখানে যেমন অনুপস্থিত, তেমনি পুঁজিবাদের মালিকের অবমাননাকর শর্ত ও লাগামহীন শোষণও এখানে নেই। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ শাহ্ মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান ইসলামী শ্রমনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে সন্নিবেশন করেছেন-

  •  উদ্যোক্তা বা শিল্প মালিক শ্রমিক ভাই ভাই মনে করবে;
  •   মৌলিক মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও মালিক উভয়ের মান সমান হবে;
  •   কাজে নিযুক্তির পূর্বে শ্রমিকের সাথে যথারীতি চুক্তি হবে এবং তা যথাসময়ে পালিত হতে হবে;
  •   শ্রমিকের অসাধ্য কাজ তার উপর চাপানো যাবে না;
  •   শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, শক্তি ও সজীবতা বজায় রাখার জন্যে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয়ের নিচে মজুরি নির্ধারিত হবে না;
  •   উৎপন্ন দ্রব্যের অংশবিশেষ অথবা লভ্যাংশের নির্দিষ্ট অংশ শ্রমিকদের দান করতে হবে;
  •   পেশা বা কাজ নির্বাচনের ও মজুরির পরিমাণ বা হার নির্ধারণ সম্পর্কে দর-দস্তর করার পূর্ণ স্বাধীনতা শ্রমিকের থাকবে;
  •   অনিবার্য কারণ বা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত ঘটনার প্রেক্ষিতে কাজে কোনো ত্র“টি-বিচ্যুতি ঘটলে শ্রমিকের প্রতি নির্যাতনমূলক আচরণ করা চলবে না;
  •    মালিকপক্ষ দুর্ঘটনা ও ক্ষয়-ক্ষতি এড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে;
  •    কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের অসহায় করে ছেড়ে দেওয়া চলবে না, অক্ষম ও বৃদ্ধ হয়ে পড়লে তাদের জন্যে উপযুক্ত ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে;
  •     পেশা পরিবর্তনের অধিকার শ্রমিকের থাকবে;
  •     পরিবার গঠনেরও অধিকার তার থাকবে;
  •     স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের অধিকার থাকবে;
  •    স্থানান্তরে গমনের অধিকার থাকবে শ্রমিকের; এবং
  •    স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসার উপযুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এ নীতিমালা মেনে চললে শুধু শ্রমিকই লাভবান হবে তা নয়, বরং তাতে শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টির কোনো অবকাশই থাকে না। তাছাড়া সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা প্রতিষ্ঠান বা শিল্পের ক্রমাগত উন্নতি সাধন করে। যার ফলে জাতির সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে থাকে।
শুধু দিবস পালন নয়, ইসলামী নীতিমালার আলোকে শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করতে পারলেই শ্রমিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। আর শ্রমিক মালিক ভেদাভেদ ভেঙে নতুন বিশ্বাসের সূত্রপাত হবে। শিশুরা শ্রমিক নয়, বরং ধনীদের পৃষ্ঠপোশকতায় এগিয়ে যাবে অনেক দূর। ফুলের মতো বিকশিত হবে প্রতিটি শিশু।

SHARE

Leave a Reply