Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

মুসলমানদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত
“আর তোমরা আল্লাহতাআলার ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না, আর মাতা-পিতার সাথে সদয়-সদ্ব্যবহার কর, আর কাছের আত্মীয়দের সাথেও সদ্ব্যবহার কর, এতিম ও মিসকিনদের সাথেও সদ্ব্যবহার কর, নিকটবর্তী প্রতিবেশীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর ও দূরবর্তী প্রতিবেশীদের সাথেও সদ্ব্যবহার কর, একই মজলিসের সাথী, মুসাফির ও দাস-দাসীদের সাথেও সদ্ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক-গর্বিতজনকে পছন্দ করেন না।”(সুরা আন্ নিসা, আয়াত : ৩৬)

সুপ্রিয় বন্ধুরা,
একজন মুসলমান হিসেবে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগি করা এটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সৃষ্টিকর্তার গোলামির পর আলোচ্য আয়াতে যে ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হয়েছে তা হলো- পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির পর সর্বপ্রথম অধিকার হলো পিতা-মাতার। কারণ এ পৃথিবীতে পিতা-মাতা ছাড়া আমাদের আগমন অকল্পনীয়। আমাদের আগমনের পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন যারা তারা হলেন পিতা-মাতা। সুতরাং আল্লাহর ইবাদতের পর পিতা-মাতার হকই সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয়পর্যায়ে যাদের হক তারা হলেন নিকটাত্মীয়স্বজন। তৃতীয়পর্যায়ে এতিম-মিসকিনদের। চতুর্থপর্যায়ে নিকটবর্তী প্রতিবেশীদের। পঞ্চমপর্যায়ে সহকর্মীদের। ষষ্ঠপর্যায়ে মুসাফির এবং সপ্তমপর্যায়ে গোলাম বা বাঁদিদের। এভাবে আল্লাহর ইবাদতের পরে প্রতিটি স্তরেই গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও গুরুত্ব। শুধু পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয়স্বজন নয়, প্রতিবেশী, সহকর্মীদের সাথেও সৎ আচরণ করতে হবে। তাদের বড় কোন সহযোগিতা করতে না পারলেও অন্তত তাদের জন্য দোয়া করা বা কল্যাণ কামনা করা দরকার। তাদেরকে অনিষ্টতার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা দরকার। একজন মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই হিসেবে এমন আচরণই করা উচিত।
মুসলমানদের আচরণ কেমন হবে এ সম্পর্কে আল্লাহপাকের আরো ঘোষণা হচ্ছে- আল্লাহ সবার সাথে ন্যায় ও সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছেন এবং নির্দেশ দিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করার জন্য। এতে সামর্থ্যানুযায়ী আত্মীয়-আপনজনদের কায়িক ও আর্থিক সেবা-যত্ন করা, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা এবং তাদের খবরা-খবর নেয়াও অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাপারে একখানা হাদিসের উদ্ধৃতি প্রণিধানযোগ্য-রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, সদকার মাল সাধারণ গরিব-মিসকিনকে দান করলে তাতে তো শুধু সদকার সওয়াবই পাওয়া যায়, অথচ তা যদি নিজের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়-আপনজনকে দান করা হয়, তাহলে তাতে দু’টি সওয়াব পাওয়া যায়। একটি হলো সদকার সওয়াব এবং অন্যটি আত্মীয়তার হক আদায় করার সওয়াব।
প্রিয় বন্ধুরা, এসো গর্ব অহঙ্কার থেকে বিরত থেকে আমরা সকলের সাথে সদ্ব্যবহার করি।

গ্রন্থনায় : আবদুল কুদ্দুস মাখন

SHARE

Leave a Reply