Home নিয়মিত বিশ্ব সেরার দৌড়ে অনেক এগিয়ে পাকিস্তান

বিশ্ব সেরার দৌড়ে অনেক এগিয়ে পাকিস্তান

মিজানুর রহমান..

বদলে যাওয়া পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কথা এখন একটু বেশি করেই লেখা হচ্ছে দেশ বিদেশের পত্রিকাগুলোতে নিজেদের নামের সাথে লেপ্টে থাকা আনপ্রেডিক্টেবল পদবিটিও এখন আর তেমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল যেখানে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না সেখানে পাকিস্তান হয়ে উঠছে অন্যরকম একটি দল। যে দলকে সমীহ না করে উপায় নেই বিশেষ করে কিছুদিন আগেও নিজেদের মাটিতে বিশ্বসেরা ভারতের মতো দলকে নাকানি চুবানি খাইয়েছে সেই ইংলিশরা টেস্টে ধবল ধোলাই হলো পাকিস্তানের কাছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন নিজেদের মাটিতে বিদেশী দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা ভুলেই গেছে পাকিস্তান। সে কারণে নিজেদের ঘর বানিয়ে ফেলা আরব আমিরাতে রচিত হয়েছে একের পর এক বিজয়গাঁথা, প্রথমবারের মতো ইংলিশদের ভালো করার পর যেন কিছুটা নড়ে চড়ে বসেছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের বর্তমান দলটিকে সেরা বলতে দ্বিধা করছেন না তারা। তবে একটা খারাপ ব্যাপার লক্ষণীয় ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কার টিমবাসের ওপর গুলিবর্ষণের পর নিজভূমে পরবাসী দলটি বিশ্বের নানা প্রান্তে সিরিজ খেলে বেড়িয়েছে। তিন বছর আগের সেই ঘটনার পর থেকে মূলত বদলে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট। নিজের দেশে খেলতে না পারলেও সাফল্যের সোনারোদে অবস্থান করছেন ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ীরা। অনেকেই মনে করতে পারেন বুড়োদের দল বলে পাকিস্তানের সাথে পেরে উঠছে না অনেকেই। কিন্তু অনৈক্যের পাকিস্তান দলকে এক সুতোয় গেঁথে নায়ক বনে গেছেন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। সে কারণেই অনেকটা আত্মবিশ্বাসের সুরে মিসবাহ উল হক বলছেন, বিশ্বের সেরা দল হতে হলে এর চেয়ে ভালো আর কী প্রয়োজন। বিশ্বের এক নম্বর দলকে হোয়াইটওয়াশ করে আমরা বিশ্বক্রিকেটকে এই বার্তা দিয়েছি যে, পাকিস্তান এখন বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি। তাদের আর অগ্রাহ্য করা যাবে না। আমরা বিশ্বসেরাদের মতোই খেলেছি। বর্তমান ও সাবেক অনেক পাকিস্তানির বিশ্বাস এই সাফল্যে তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ক্রিকেটীয় পরাশক্তি হিসেবে তাদের উত্থানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ২০১০ এর আগস্ট মাস থেকে পাকিস্তান শেষটি ছাড়া কোন সিরিজ হারেনি। সে কারণেই মিসবাহর আত্মবিশ্বাসটা একটু বেশি। পাকিস্তান যে অনেক কিছুই করতে পারে সেটা মাঠের চেয়ে অন্য কোন ভালো জায়গা নেই প্রমাণ করার।
২০১০ সালের অক্টোবরে মিসবাহ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পাকিস্তান ১৫ টেস্টের মধ্যে ৯টিতে জিতেছে। হেরেছে মাত্র ১ টিতে এবং ড্র করেছে পাঁচটি ম্যাচ। পাকিস্তান দলের হঠাৎ অজেয় হয়ে ওঠার জন্য মিসবাহ উল হকর নেতৃত্বকেই কারণ হিসেবে মনে করেন অনেকেই। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলঙ্কিত সিরিজের পর থেকে ধীরে ধীরে সামনে এগোতে থাকে। তার প্রমাণ পাওয়া যায় গত বছর বিশ্বকাপে। আফ্রিদির নেতৃত্বে একটা ভাঙাচোরা দল নিয়ে পাকিস্তান উঠে আসে সেমিফাইনালে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ এবং টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় পাকিস্তান। বিশেষ করে বিশ্বসেরা টেস্ট দলকে এমনভাবে হারানোর পর তাদের আত্মবিশ্বাসটা আরো বেড়ে গেছে। মহসীন খান মনে করেন, পাকিস্তান বিশ্বের সেরা দল হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে হয়তো আগামী দিনে বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করবে পাকিস্তান এতে কোনো সন্দেহ নেই।
দশ হাজার রানের এলিট ক্লাবে কুমার সাঙ্গাকারা
বিশ্বের দশম এবং শ্রীলঙ্কার তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দশ হাজার রানের এলিট ক্লাবে নাম লেখালেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। শ্রীলঙ্কার মাটালে জন্ম নেয়া ৩৪ বছর বয়স্ক এই ব্যাটিং নক্ষত্র মাত্র ১১ রান দূরে থেকে ব্যাটিং শুরু করে অনায়াসেই তার এই কীর্তি গড়ে ফেলেন। সাঙ্গাকারা অবশ্য টেস্ট ক্রিকেটেও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। ১০৬ টেস্টে তিনি ৯,৩৪৭ রান করেছেন, ৫৫.৯৭ গড়ে। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস তার ২৮৭। টেস্টে ২৮টি সেঞ্চুরি এবং ৩টি ফিফটি রয়েছে তার। প্রথম শ্রীলঙ্কান হিসেবে এই ক্লাবের সদস্য হন সনাথ জয়সুরিয়া, অবশ্য ৩৩৭ ম্যাচে তিনি দশ হাজার রানে পৌঁছেন। দ্বিতীয় মাহেলা জয়বর্ধনে দশ হাজার রানে পৌঁছতে ম্যাচ খেলেছেন ৩৫৫টি, আর সেখানে সাঙ্গাকারা খেলেছেন মাত্র ৩১৫ ম্যাচ।
টেনিসের নতুন রানী আজারেঙ্কা
মারিয়া শারাপোভার বিপক্ষে রড লেভার অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে বিয়ন্স নোয়েলেসের ফ্রিকাম ড্রেসেস গানটির তালে তালে করিডোরে দুলছিলেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। গানটির একটি লাইন ছিলো এমন “সময় এখন প্রভাবিত করার।” টেনিসের নতুন রানী’ বেলারুশের ২২ বছর বয়সী আজারেঙ্কার সঙ্গে কলিটি দারুণ মিলে যায়। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মেয়েদের জুনিয়র টেনিসের শিরোপা জিতে নেয়ার পাশাপাশি ছোটদের শীর্ষস্থানও দখল করেছিলেন আজারেঙ্কা।
সাত বছর পর সেই ময়দানেই বড়দের শিরোপা জিতে দুই অজি টেনিস কিংবদন্তির পাশে বসলেন তিনি। ক্রিস ও নেইল এবং ইভোনে গোলগং কউলির পর আজারেঙ্কাই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি মেয়েদের টেনিসে জুনিয়র এবং বড়দের দু’টি শিরোপাই জিতেছেন। ইউএস ওপেনেও একই বছর জুনিয়র বিভাগের একক এবং ডাবলসের শিরোপা জেতেন আজারেঙ্কা। শিরোপা স্বাদ পেয়ে তৈরি হলেন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পেশাদারি টেনিস আঙিনায় প্রবেশ করলেন তিনি ।
২০০৫ সালের শুরুর সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে আজারেঙ্কা বলেন, এটা ছিলো বিদ্রƒপাত্মক। কিন্তু বছরের প্রথম গ্রান্ডস্লাম জিতে মৌসুম শুরু প্রসঙ্গে আজারেঙ্কা যেনো তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন। তিনি বলেন, এরচেয়ে ভালোভাবে নতুন বছর শুরুর উপায় নেই। মৌসুমের এখনো নয় মাস বাকি আছে। ক্যারোলিন ওজনিয়াকির কাছ থেকে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নিলেও বেলারুশ কন্যা ঠিকই জানেন কতখানি চাপ সহ্য করতে হবে মুকুট অক্ষুণ রাখার জন্য। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ওপেনের শিরোপা জয় আজারেঙ্কার ক্ষুধা যেন বাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েদের শিরোপা জেতায় আজারেঙ্কা সম্মানসূচক ডাফানে আখুরাস্ট মেমোরিয়াল কাপও জিতেছেন। ট্রফিটির দিকে চেয়ে স্মিত হেসে তিনি বলেন, আমি এখানেই থেমে যেতে চাই না। বড় শিরোপাগুলো জয়ের জন্য আমার অবিচল লক্ষ্য রয়েছে। আমি কোনো সীমানা দেখি না। অবশ্যই আমার ফিটনেস এবং ক্ষমতা বাড়াতে চাই। একজন টেনিস খেলোয়াড়ের তিনটি অবশ্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গতি, শক্তি এবং সক্ষমতা বাড়াতে চান আজারেঙ্কা। ১৯৭৫ সালের পর থেকে মেয়েদের শীর্ষস্থানটি ২০ জনের হাতবদল হয়ে ২১ তম হিসাবে আজারেঙ্কার হাতে উঠলো। তার এ অর্জনের পেছনে গত বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং পরিমিত খাবারই মূল চাবিকাঠি বলে জানিয়েছেন আজারেঙ্কা। ডব্লিউটিএ ট্যুরের সেরা দশের প্রত্যেককে হারিয়েছেন তিনি। এ তালিকায় গ্রান্ডস্লাম জয়ী সেরেনা উইলিয়াম, কিম ক্লাইস্টার্স, ফ্রান্সেসকো শিয়াভনে, সভেলতুলা কুজনেসভা এবং আনা ইভানোভিচের মতো পরিশ্রমই তাকে সত্যিকারের তারকা হিসেবে গড়ে তুলেছে এটি জানিয়ে আজারেঙ্কা বলেন, তার আগে আমি অনেক কিছুই অর্জন করেছি। তবে ধরে রাখতে পারিনি। কিন্তু এখন কেমন করছি তা বুঝতে পারি এবং আরো সহজভাবে তার পুনরাবৃত্তিও করতে পারি। টেনিসের নতুন এ রানী তার নিজ দেশ বেলারুশে পুরুষ এবং মহিলা খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ র‌্যাংকিংধারী খেলোয়াড়। দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যালেকজান্ডার লুকাশেঙ্কা তার এক বিবৃতিতে আজারেঙ্কাকে দেশের গর্ব উল্লেখ করে বলেন, পুরো দেশ দম আটকে বসে ছিলো কোর্টে তোমার লড়াই দেখতে। সবাই তোমার জন্য প্রার্থনা করেছে।

SHARE

Leave a Reply