Home সায়েন্স ফিকশন রবিনের গ্রহযাত্রা

রবিনের গ্রহযাত্রা

জাফর আহমেদ..

সারা বছর পদার্থ বিজ্ঞানে প্রাইভেট পড়েছে রবিন। অথচ আজকের ফলাফলে দেখা গেল সে তাতে ফেল করেছে। তাই সিদ্ধান্ত নিলো সে বাড়িতে আজ যাবে না। বাড়িতে গিয়ে কী জবাব দেবে?
রাস্তা দিয়ে একাকী রাতে হাঁটছিল আর শুধু চিন্তা করছিল। হঠাৎ তার দৃষ্টি গেল আকাশের দিকে। সে দেখল একটা তারা আকাশ থেকে ছিটকে ভূমিতে পড়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, ঠিক তাই। পড়ে গেল ভূমিতে। সে ভাবল উল্কাপতন হতে পারে।
‘অতসব বুঝি না। আগে গিয়ে দেখি ব্যাপারটা কী।’
এক ছুটে রবিন ঘটনাস্থলে চলে গেল। দেখল বালুর মত কী যেন চিকচিক করছে। কাছে যেতেই ঐ বস্তুগুলো তার পুরো শরীর আবৃত করে ফেলল। সে ভয় পেয়ে গেল। রবিন বুঝতে পারল তার শরীরে এখন চামড়া নেই। কী আছে তা-ও সে জানে না। কয়টা বেজেছে, তা দেখার জন্য পকেটে হাত দিতেই বুঝতে পারল পকেটে ঘড়ি নেই। শুধু বিদ্যালয়ের সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নিয়ে আসা ছোট সিলিন্ডার দু’টি ছিল। রবিন আকাশের দিকে তাকিয়ে চিন্তা করতে লাগল কোনো দিন যদি সৌরজগতের কোনো একটি গ্রহে যেতে পারতাম, কত না ভালো হতো! এ কথা চিন্তা করার সাথে সাথে সে ওপরের দিকে উঠে যেতে লাগল। সে চিৎকার করতে লাগল, আমি কোথায় যাচ্ছি? হায়, আমি কোথায় যাচ্ছি!
কিছুক্ষণ পর রবিন শান্ত হলো। সে বুঝতে পারল, তার শরীরে এমন কিছু আছে যা তার ইচ্ছা পূরণ করতে সক্ষম। রবিন এমন একটা জায়গায় পৌঁছল, যেখানে বালু আর পাথর ছাড়া কিছু নেই। এই জগতে কোনো প্রাণী আছে কি না তা দেখার জন্য সে একটা পাথরের আড়ালে চুপটি মেরে বসে থাকল কিন্তু একি! এবার ঘটে গেল আরেকটি অবাক কাণ্ড! রবিন দেখল তার চারপাশে সাপ। তাকে ঘিরে ফেলল। এবার বুঝি তার নিস্তার নেই। ক্রমে ক্রমে সাপগুলো ছোবল তুলে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। সে কী করবে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ রবিন প্যান্টের পকেটে হাত দিলো। পকেট থেকে একটা সিলিন্ডার বের করল। সিলিন্ডারের ওপর লেখা ছিল ঐ২পড়৩, রবিনের মনে পড়ে গেল চন্দন স্যারের কথা। স্যার বলেছেন, এই অ্যাসিডটি সাপের শত্রু। তাই দেরি না করে রবিন সিলিন্ডার খুলে অ্যাসিড সাপের দিকে ছুড়ে মারল। একটি সাপের গায়ে পড়েছে। সাপটি পুড়ে গেল। অপরগুলো ভয়ে পালিয়ে গেল। এ পর্যায়ে রবিনের রক্ষা হলো। আরও কিছুক্ষণ সে গ্রহটিতে অবস্থান করে সব কিছু ভালোভাবে দেখে নিলো। এরপর রবিন অন্য গ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
কিছুক্ষণ পর অন্য একটি গ্রহে নামল রবিন। ঐ গ্রহে গিয়েই সে কিছু অদ্ভুত প্রাণী দেখল। ঠিক মানুষেরই মতো, তবে পার্থক্য হলো ঐ প্রাণীগুলোর কান ও চোখ কিছুই নেই। শুধু লম্বা লম্বা নাক আছে। তারা নিঃশ্বাস নিতে নিতে এগিয়ে আসছে। রবিন বুঝতে পারল প্রাণীগুলো গন্ধ শুঁকে পথ চলে। বাদুড় যেমন চোখে দেখে না, শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে প্রতিবন্ধকের অবস্থান নির্ণয় করে। ঐ প্রাণীগুলোও গন্ধ শুঁকে প্রতিবন্ধকের অবস্থান নির্ণয় করে। তাদের হাতে ছিল লোহার তৈরি চুড়ি। তারা ক্রমেই রবিনের নিকটবর্তী হতে লাগল। রবিন কী করবে কোনো উপায় পাচ্ছে না। যখন প্রাণীগুলো রবিনের নিকটে এল তখন তাদের হাত থেকে চুড়িগুলো রবিনের গায়ে লেগে গেল। এতে করে রবিন এবং প্রাণীগুলো ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু রবিনের বুঝতে কষ্ট হলো না। সে বুঝল তার শরীরে চৌম্বক জাতীয় কোনো পদার্থ আছে, যা লোহার তৈরি চুড়িগুলোকে আকর্ষণ করে নিয়ে এসেছে। রবিন তাড়াতাড়ি শরীর থেকে চুড়ি খুলে প্রাণীগুলোর দিকে ছুড়ে মারল। এতে করে একটা প্রাণী পড়ে গেল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার উঠে দাঁড়াল।
‘ওদেরকে এভাবে মারা যাবে না। অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।’ রবিন চিন্তা করতে লাগল। কিন্তু কী করবে? কোনো বুদ্ধি মিলছে না। প্রথমবার একটি সিলিন্ডারের উসিলায় বাঁচা গেল। বাকি আছে আরেকটি সিলিন্ডার।
তাই চিন্তা না করে রবিন সিলিন্ডারটি বের করল। সে দেখল সিলিন্ডারের ওপর লেখা আছে ঘ২ড়। নাইট্রাস অক্সাইড। চন্দন স্যার বলেছেন এ গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে হাসির উদ্রেক হয় এবং অতিমাত্রায় গ্রহণ করলে অচেতন হয়ে যায়। কিছু না ভেবে রবিন সিলিন্ডারে মুখ খুলে দিলো। যেহেতু প্রাণীগুলো জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। তাই অতি সহজে গ্যাসগুলো তাদের নাকে ঢুকল এবং তারা হাসতে হাসতে অচেতন হয়ে গেল। এই সুযোগে রবিন চলে গেল।
এভাবে রবিন অনেক দুর্ভেদ্য জায়গা ভ্রমণ করে একটা বই লিখল। এই বইটা গবেষকদের গবেষণার কাজে অনেক সাহায্য করতে লাগল। তাই বাংলাদেশ সরকার তাকে অভিনন্দন জানানোর লক্ষ্যে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রবিনের ডাক পড়ল। রবিন ওঠ না বাবা, অনেক তো ঘুমালি। ওঠ বাবা। রবিনের মা রবিনকে ডাকতে লাগলেন।
আচমকা ঘুম থেকে উঠে রবিন তার শরীরের দিকে তাকাতে লাগল। তার মা বললেন, কী খুঁজছিস?
মুচকি হেসে রবিন বলল, তাহলে এতক্ষণ আমি স্বপ্ন দেখছিলাম।
মা বললেন, আজকে না তোর ফলাফল দেবে, স্কুলে যাবি না?
রবিন বলল, স্বপ্নে দেখেছি পদার্থ বিজ্ঞানে ফেল করেছি। হয়ত সত্যিকারার্থে ফেল করব। মোবাইলটা দাও ঝগঝ করে দেখি।
না, রবিন ফেল করেনি বরং সে GPA ৫ পেয়েছে।

SHARE

2 COMMENTS

Leave a Reply