Home জানার আছে অনেক কিছু দৈনিক পানি পানের মাত্রা

দৈনিক পানি পানের মাত্রা

মানবদেহের দুই-তৃতীয়াংশই পানিপূর্ণ। দেহের প্রায় সব বিপাক ক্রিয়াই পানি ছাড়া অচল। এ কারণেই পানির অপর নাম জীবন বলা হয়। পানির এ বিষয়টি, জীবন রক্ষার্থে নিবেদিত ব্যক্তিরা, যেমন- চিকিৎসক, নার্স এমনকি ওষুধের দোকানদারও প্রায়ই রোগীদের স্মরণ করিয়ে দেন। এই উপদেশে রকমফের আছে। চিকিৎসক হয়তো লিখে দিলেন, ‘বেশি করে পানি খাবেন’। কতটুকু বেশি তা জানার জন্য রোগী হয়তোবা নার্সের কাছে যায়, নার্স বলল ‘কতটুকু বেশি’ মানে যত পারেন খাবেন। সব অসুথ প্রস্রাব হয়ে বেরিয়ে যাবে। রোগীও তখন ঘুম থেকে উঠেই দেখা গেল দুই সের পানি খেয়ে ফেললেন অথবা রাতে ঘুমানোর আগে খেলেন তিন সের। তখন নতুন উপসর্গ দেখা দেয়। হয়তো সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে বাসে কিংবা রিকশায় প্রস্রাব চাপে। কিংবা রাতে ঘুমের মধ্যে দুই-তিনবার বাথরুমে যেতে হয়- যা বিরক্তিকর।
আমরা যে পানি খাই, তা শরীরে বিপাক ক্রিয়ায় তৈরি আরো পানির সাথে মিশে রক্তের মধ্য দিয়ে শরীরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ায়। এক পর্যায়ে তা কিডনীর ছাঁকনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সব বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে নির্গত হয়। তাই পানি খেলে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের না হলে শরীরে জমে গিয়ে শরীর ফুলে যাবে। ফলে বুঝতে হবে কিডনি বিকল হয়ে পড়েছে।
পানি পানে রোগ নিরাময়ের ধারণার উদ্ভব কিভাবে হয়, তা বলা কঠিন। চিকিৎসাশাস্ত্রে এমন কোনো রোগ নেই, যা অতিরিক্ত পানি পানে নিরাময় বা প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু জনমনে বেশ দৃঢ় মত যে, পানি পানে শরীরের প্রতিটা অঙ্গ, বিশেষত কিডনি খুব সুস্থ, সবল থাকে। উল্লেখ্য, যদি কারো কিডনি সুস্থ থাকে তবে বেশি পানি পানে তার বাথরুমের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, আর যদি কিডনি নষ্ট থাকে তবে সে পানি তার শরীরে জমে রোগের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। প্রস্রাবে ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে তাই আগে থেকেই পরিমিত পানি পান ও মূত্রত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
মূলত চিকিৎসাশাস্ত্র মতে, একজন সুস্থ মানুষের ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিনে প্রায় তিন লিটার পানির প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে দেড় লিটার পানি পান করা উচিত- যা মাঝারি গ্লাসের ৮ গ্লাস পানির সমান। বাকি দেড় লিটারের মধ্যে এক লিটার আমরা যে খাবার খাই তার মধ্যে পাওয়া যায়। আধা লিটার পানি শরীরের অভ্যন্তরে বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এই পানির মধ্যে প্রায় দুই লিটার প্রস্রাব হিসেবে বেরিয়ে যায়। কিছু পানি বেরিয়ে যায় মলের সাথে। প্রায় ১ লিটার পানি আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে ও শরীরের ঘামের মাধ্যমে নির্গত হয়। যদি কোনো কারণে ঘাম খুব বেশি হয়, তবে এভাবে পানির ব্যয় বেড়ে যায়, যেমন অত্যধিক গরমে পানি পান কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া ভালো। এ ছাড়া ডায়রিয়া বা প্রচুর বমি হলেও রোগীকে বেশি পানি পানের পরামর্শ দেয়া যায় বা স্যালাইনের মাধ্যমে পূরণের পরামর্শ দেয়া হয়। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে অর্থাৎ জ্বর হলে বিশেষত শিশুদের পানি পানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া উচিত নতুবা কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হ জে হুসাইন

SHARE

Leave a Reply