Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কোরআনের আলো

কোরআনের আলো

ইবাদত যে কারণে নষ্ট হয়

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“এমনও কিছু লোক আছে যারা এক কোণে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। অতঃপর যদি সে কল্যাণপ্রাপ্ত হয় তখন সন্তুষ্ট থাকে। আর যদি পরীক্ষার সম্মুখীন হয় তখন সে মুখ ফিরিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এটাই হলো তার স্পষ্ট ক্ষতি।” (সূরা হজ, আয়াত : ১১)

সুপ্রিয় বন্ধুরা
আল্লাহর একজন মু’মিন বান্দা ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কখনো কখনো ইবাদতের ওপর অটল না থেকে গড়িমসি করতে দেখা যায়। এটা মূলত দুর্বল ঈমানের পরিচয় বহন করে। যাদের অন্তরে ইসলাম পাকাপোক্ত হয়নি তারাই এমনটি করতে পারে। এক শ্রেণীর লোক আছে যারা ইসলাম গ্রহণের পর তাদের সন্তান-সন্ততি ও ধনদৌলতে উন্নতি দেখা দিলে তারা মনে করে এটাই তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আর যখন তাদেরকে কোন পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয় তখন তারা ব­ে না এটাতো প্রকৃত ধর্ম নয়। এই শ্রেণীর লোকেরাই ক্ষতির মধ্যে আছে। কারণ তারা ঈমান গ্রহণ করার পর যখন পার্থিব সুখ-শান্তি লাভ করে, তখন ঈমানের ওপর অটল হয়ে যায়। আর যদি পরীক্ষাস্বরূপ কোন বিপদ-আপদ তাদের ওপর আপতিত হয় তখন তারা পেরেশানিতে পতিত হয়।
এ জাতীয় দোদুল্যমান বান্দাদেরকে আল্লাহপাক সতর্ক করেছেন। ইসলাম গ্রহণের পর যারা ইসলামের আসল স্বাদ গ্রহণ করতে চায় আল্লাহপাক তাদেরকে নানা বিপদ-আপদ, সম্পদের হ্রাস, সন্তান-সন্ততির কমতি এমনকি জীবন-মৃত্যু দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। যারা সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং ঈমানের আসল ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে তারাই প্রকৃত ঈমানদার। বান্দার সচ্ছল-অসচ্ছল অবস্থা, লেখাপড়ায় কৃতকার্যতা-অকৃতকার্যতা ইত্যাদি সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। এ জন্য নিজেকে ঈমানের ওপর অবিচল রাখতে হবে। আর যারা সাময়িক কোন বিপদ-আপদ দেখে সেখান থেকে ছিটকে পড়ে কিংবা পেছনে ফিরে যায় তারা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তাদের এ ক্ষতির সীমা শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও। আসলে পার্থিব সুখ-শান্তি আল্লাহর হাতে। তিনি কাকে কখন সম্মানিত করবেন এটা তার ব্যাপার। তিনি চাইলে কাউকে সম্মানিত করতে পারেন অথবা অসম্মানিতও করতে পারেন। এ জন্য কল্যাণ-অকল্যাণ যা-ই আসুক না কেন সর্বাবস্থায় আল্লাহর হুকুম পালন বা ইবাদতের মধ্যে নিজেকে মশগুল রাখতে হবে।
প্রিয় বন্ধুরা,
এসো আমরা আল্লাহর এমন বান্দা হওয়ার চেষ্টা করি যাতে আমাদের ইবাদত নষ্ট না হয়।

গ্রন্থনায় : আবদুল কুদ্দুস মাখন

SHARE

1 COMMENT

  1. আলহামদুলিল্লাহ! মাখন ভাইকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিক।আমি যখন আয়াতটি পড়ছিলাম তখন মনে হল কেউ আমার দিকে আঙ্গুল দিয়ে আমার ভুল সংশোধন করে দিল।

Leave a Reply to Tahsin Ahmad Cancel reply