Home সাহসী মানুষের গল্প দোলে চাঁদ সাগর কোলে

দোলে চাঁদ সাগর কোলে

কায়েস মাহমুদ..

বিশাল পৃথিবী।
বিশাল আকাশ।
বিশাল সাগর-মহাসাগর।
এত যে বিশালÑতার চেয়েও বিশাল হতে পারে মানুষ এবং মানুষের হৃদয়। কাজই মানুষকে বিশাল এবং মহৎ করে। এই সত্য অবধারিত। এই সত্য-মহাসত্য।
এমনটিই প্রমাণিত হয়ে আসছে পৃথিবীর প্রথম থেকে। সৎ এবং মহৎ মানুষেরাই পৃথিবীকে আবাদ করে আসছেন। সত্যের ফসলে ভরে তুলছেন এই সবুজ পৃথিবী।
যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এই ফসলই ফলিয়েছেন। নিরন্তরভাবে। তাঁদের অনুসারীরাও একই চাষবাস করে গেছেন।
রাসূল মুহাম্মাদ (সা) তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন মহা নক্ষত্র।
আর তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন একেকটি নক্ষত্র।
এমনই এক নক্ষত্র ছিলেন আবু উমামা আসয়াদ।
আবু উমামা আসয়াদ-যিনি আসয়াদ আল-খায়র নামেও পরিচিত। মদীনার খাযরাজ গোত্রের নাজ্জার শাখার সন্তান। তাঁর পিতা যুরারা ইবন আদাস।
হযরত রাসূলে কারীমের (সা) নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে সমগ্র আরব উপদ্বীপ কুফর ও গুমরাহির অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। তবে এর মধ্যেও কিছু লোক বিশুদ্ধ স্বভাব বা ফিতরাতের দাবি অনুসারে তাওহিদ বা একত্ববাদের প্রবক্তা ছিলেন।
আসয়াদ ইবন যুরারা ছিলেন তাঁদেরই একজন।
ইসলাম-পূর্ব যুগেও মদীনার লোকেরা নিজেদের ঝগড়া বিবাদে কুরাইশদের সমর্থন লাভ এবং তা ফায়সালার উদ্দেশ্যে মক্কায় যাতায়াত করতো। তাছাড়া হজ ও উমরা আদায়ের জন্যও তারা সেখানে যেত।
অতঃপর মক্কায় ইসলামের অভ্যুদয় ঘটলো। এরমধ্যে হযরত রাসূলে কারীম (সা) নবুওয়াতি জীবনের বেশ ক’টি বছর অতিবাহিতও করেছেন।
মক্কার লোকদের ইসলামের দাওয়াত দানের সাথে সাথে বিভিন্ন মেলা ও হাটে-বাজারে উপস্থিত হয়ে ব্যাপকভাবে তিনি মানুষকে সত্যের দাওয়াত দিচ্ছেন।
বিভিন্ন উদ্দেশ্যে মক্কায় আগত বহিরাগত লোকদের নিকটও গোপনে কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও পালন করে চলেছেন।
এমনি এক সময়ে আসয়াদ ইবন যুরারা ও জাকওয়ান ইবন আবদিল কায়স নিজেদের একটি ঝগড়া নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে মক্কার কুরাইশ নেতা উতবা ইবন রাবীয়ার নিকট যান।
এই উতবার নিকট তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা) সম্পর্কে কিছু কথা শুনতে পান।
গোপনে তাঁরা দু’জন রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে দেখা করেন।
হযরত রাসূলে কারীম (সা) তাঁদের সামনে ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন এবং পবিত্র কুরআন থেকে কিছু তিলাওয়াত করে শোনান।
এই সাক্ষাতেই তাঁরা দু’জন ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট থেকে উতবার কাছে আর না গিয়ে সোজা মদীনায় ফিরে যান।
অন্য এক সূত্রে বলা হয়, আসয়াদ ইবন যুরারা সেই লোকগুলোর একজন যাঁরা নবুওয়াতের দশম বছরে অনুষ্ঠিত আকাবার প্রথম বাইয়াতে শরিক হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর তিনি নবুওয়াতের একাদশ ও দ্বাদশ বছরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাইয়াতেও উপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি ছিলেন একজন পূর্ণ আকাবী ব্যক্তি।
ইয়াসরিববাসীরা তাঁকে কামিল উপাধি দান করে।
বীরত্ব, সাহসিকতা, কাব্য প্রতিভা, বংশ মর্যাদা, সম্মান-প্রতিপত্তি, মোটকথা সর্বগুণে গুণান্বিত ব্যক্তিকে সে যুগের আরবরা কামিল উপাধি দান করেছিলো।
মদীনাবাসীদের মধ্যে রাসূলুল্লাহর (সা) দাওয়াত লাভ ও কুরআন শোনার সৌভাগ্য সর্বপ্রথম তাঁরই হয়। এটা এক বিরাট সৌভাগ্য তাঁর। এমন সৌভাগ্য ক’জনের ভাগ্যে জোটে!
অসীম সাহসিকতার সাথে তিনি দীনি দাওয়াতের কাজ করতেন।
আল্লাহর রাস্তায় কাজ করতে করতেই তিনি ইন্তিকাল করেন।
সুওয়াইদ সর্বপ্রথম মুসলমান হলেও মদীনায় ফিরে ইসলামী দাওয়াতের কাজ শুরু করার সুযোগ পাননি।
সম্ভবত আসয়াদ ও জাকওয়ানই প্রথম দুটি ব্যক্তি যাঁরা সর্বপ্রথম মদীনায় ইসলামের তাবলিগের কাজ শুরু করেন।
মদীনায় পৌঁছে সর্বপ্রথম তিনি আবুল হায়সামের সাথে দেখা করেন এবং তাঁর কাছে নিজের নতুন বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করেন। আবুল হায়সাম সাথে সাথে বলে ওঠেন, “তোমার সাথে আমিও তাঁর রিসালাতের প্রতি ঈমান আনলাম।”
অনেকে এই আবুল হায়সামকে মদীনার প্রথম মুসলমান বলে মনে করেছেন।
নবুওয়াতের দশম বছরে প্রতিবছরের মত ইয়াসরিববাসীরা হজ উপলক্ষে মক্কায় আসে। তাদের মধ্য থেকে ছয় ব্যক্তি হজ শেষে গোপনে মিনার আকাবা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর হাতে বাইয়াত করেন।
এ ছয়জনের মধ্যে আসয়াদও ছিলেন।
পরের বছর হজের মওসুমে ইয়াসরিব বাসীরা আবার মক্কায় আসে।
তাদের মধ্য থেকে বারোজন লোক গোপনে, আকাবায় রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে মিলিত হয়ে বাইয়াত করেন।
এই বারোজনের মধ্যে আসয়াদও ছিলেন।
এই আকাবার পর মদীনায় যখন ইসলামের তাবলিগ ও দাওয়াতের সম্ভাবনা অনেকটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট একজন শিক্ষক দাবি করেন, যিনি তাদেরকে কুরআন ও দীন শিক্ষা দেবেন।
তাঁদের দাবি অনুসারে রাসূল (সা) মুসয়াব ইবন উমাইরকে (রা) ইয়াসরিবে দায়ী বা আহবায়ক হিসেবে পাঠালেন।
মুসয়াবের মদীনায় যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেখানে আসয়াদ ইবন যুরারা নামাযের ইমাম ছিলেন।
তারপর মুসয়াব ইমাম হন।
মুসয়াব শুধুমাত্র তাদের কুরআনের তালিম দিতেন।
আসয়াদ হযরত মুসয়াবকে মদীনায় নিজ গৃহে অতিথির মর্যাদায় আশ্রয় দেন।
হযরত মুসয়াবের মদীনায় যাওয়ার পর আসয়াদ ইবন যুরারা তাঁকে সঙ্গে করে ব্যাপকভাবে দাওয়াতী তৎপরতা শুরু করেন। তাঁরা মদীনার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন।
একদিন আসয়াদ ইবন যুরারা মুসয়াব ইবন উমাইরকে সাথে করে বনি আবদিল আশহাল ও বনি যাফারের দিকে বের হলেন। তাঁরা বনি যাফারের একটি বাগিচায় প্রবেশ করে মারাক নামক একটি কূপের ধারে প্রাচীরের ওপর বসলেন।
তাঁদের চারপাশে লোকজন জড় হলো।
সাদ ইবন মুয়াজ ও উসাইদ ইবন হুদাইর ছিলেন বনি আবদিল আশহালের নেতা। তখনও তারা পৌত্তলিক ছিলেন। সাদ ছিলেন আসয়াদের খালাতো ভাই। আসয়াদ ও মুসয়াবের আগমনের কথা জানতে পেরে সাদ উসাইদকে বললেন :
উসাইদ, তুমি এ দু’ব্যক্তির কাছে যাওতো।
তারা আমাদের বাড়ির ওপর এসে আমাদের দুর্বল লোকগুলিকে বোকা বানিয়ে যাচ্ছে। তুমি তাদেরকে নিষেধ করে এসো। যদি আমার খালাতো ভাই আসয়াদ না থাকতো তাহলে তোমার প্রয়োজন হতো না। আমিই তাদের তাড়িয়ে দিতাম।
উসাইদ বল্লম হাতে নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে গেল।
আসয়াদ তাকে দেখে মুসয়াবকে বললেন এ ব্যক্তি তার গোত্রের একজন নেতা, আপনার কাছে এসেছেন।
হযরত মুসয়াব তার সাথে কথা বললেন।
আল্লাহর ইচ্ছায় সেই বৈঠকেই উসাইদ মুসলমান হয়ে গেলেন।
আসয়াদ ও মুসয়াবের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মদীনায় ইসলামের এত ব্যাপক প্রসার হলো যে মাত্র এক বছর পর নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরে হজের মওসুমে তিহাত্তর মতান্তরে পঁচাত্তর জন নারী-পুরুষের একটি দল আবার মিনার আকাবায় গোপনে রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে মিলিত হন।
এই তৃতীয় তথা সর্বশেষ আকাবায় আসয়াদও তাঁর দীনি শিক্ষক মুসয়াবের সাথে উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম যিনি রাসূলুল্লাহর (সা) হাতে হাত রেখে বাইয়াত গ্রহণ করেন সেই ভাগ্যবান ব্যক্তিটি হলেন আসয়াদ।
বাইয়াতের পর রাসূল (সা) বললেন, তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে বারোজন নকিব নির্বাচন কর, যাঁরা হবে ঈসার হাওয়ায়ীদের মত আপন আপন গোত্রের কাফিল বা দায়িত্বশীল।
আসয়াদ সায় দিয়ে বললেন : হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
রাসূল (সা) বললেন : তুমি হবে তোমার গোত্রের নকিব।
তারপর তিনি অন্য নকিবদের নাম ঘোষণা করেন।
এভাবে তিনি হলেন রাসূল (সা) মনোনীত বনি নজ্জারের নকিব।
প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন নিজ গোত্র বনী নাজ্জারের এক যোগ্য নকিব। তাই তিনি যখন মারা যান তখন বনি নাজ্জারের লোকেরা রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আবেদন করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আসয়াদ মারা গেছেন, তিনি ছিলেন আমাদের নকিব। এখন আপনি অন্য একজন নতুন নকিব নির্বাচন করে দিন।
জবাবে রাসূল (সা) বললেন : তোমরা আমার মাতুল গোত্র। আমিই তোমাদের নকিব।
এটা ছিল বনি নাজ্জারের জন্য বিরাট এক মর্যাদা।
রাসূল (সা) তাঁকে শুধু নকিবই মনোনীত করেননি, বরং নকিব আল-নুকাবা বা প্রধান দায়িত্বশীল বলেও ঘোষণা দেন।
একমাত্র জাবির ইবন আবদুল্লাহ ছাড়া আসয়াদ ছিলেন এই আকাবিদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
আকাবার তৃতীয় বাইয়াতের পর এক বিরাট দায়িত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি মদীনায় ফিরে যান।
বয়স অল্প হলে কি হবে! তাঁর ঈমানী জযবা বা আবেগ ছিল অতি তীব্র।
তিনি মদীনায় জামায়াতে নামায আদায়ের ব্যবস্থা করেন এবং চল্লিশজন মুসল্লি নিয়ে সর্বপ্রথম মদীনায় জুম’আর নামাযও আদায় করা শুরু করেন।
মদীনায় সর্বপ্রথম কে জুম’আর নামায কায়েম করেন সে ব্যাপারে মতভেদ আছে। হযরত রাসূলে কারীম (সা) মদীনায় পৌঁছার পর যদিও আবু আইউব আল-আনসারীর (রা) বাড়িতে ওঠেন, তবে তাঁর বাহন উটনীটি আসয়াদের মেহমান হয়। রাসূলুল্লাহর (সা) মদীনায় পৌঁছার প্রথম ক্ষণটিতে উটনীটি সর্ব প্রথম বসে পড়ে এবং পরে সে স্থানটি রাসূলুল্লাহর (সা) মসজিদ ও বাসস্থানের জন্য নির্বাচিত হয়।
সেই ভূমির মালিক ছিল সাহল ও সুহাইল নামক ইয়াতিম বালক। আর তাদের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন আসয়াদ ইবন যুরারা।
রাসূল (সা) বালক দু’টির মুরব্বি আসয়াদের নিকট ভূমির মূল্য জানতে চান।
বালক দু’টি সাথে সাথে বলে ওঠে, আমরা আল্লাহর কাছেই এর মূল্য চাই।
যেহেতু বিনা মূল্যে রাসূল (সা) ভূমি গ্রহণে রাজি হলেন না তাই হযরত আবু বকর (রা) তার মূল্য পরিশোধ করেন।
তবে কোন কোন বর্ণনায় জানা যায়, আসয়াদ ইবন যুরারা তাঁর বনি বায়দায় অবস্থিত একটি বাগিচা মসজিদের এই ভূমির বিনিময়ে ইয়াতিমদ্বয়কে দান করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) মদীনায় আগমনের পর আবু আইউবের বাড়িতে অবস্থানকালে আসয়াদ ইবন যুরারা এক রাত পর পর পালাক্রমে তাঁর জন্য খাবার পাঠাতেন।
আসয়াদের বাড়ি থেকে খাবার আসার পালার রাতে তিনি জিজ্ঞেস করতেন : আসয়াদের পিয়ালাটি কি এসেছে?
বলা হতো, হ্যাঁ।
তিনি বলতেন : তা হলে সেটি নিয়ে এস।
বর্ণনাকারী সাহাবী বলেন, তাতে আমরা বুঝে নিতাম তাঁর খাবারটি রাসূলুল্লাহর (সা) অত্যন্ত প্রিয়।
রাসূল (সা) মদীনায় আবু আইউবের বাড়িতে ওঠার পর একদিন জিজ্ঞেস করলেন : আবু আইউব, তোমার কি কোন খাট আছে?
উল্লেখ্য যে, মক্কায় কুরাইশরা খাটে ঘুমাতে অভ্যস্ত ছিল।
আবু আইউব বললেন : না।
এ কথা আসয়াদ ইবন যুরারার কানে গেল। তিনি একটি স্তম্ভ ও কারুকার্য করা পায়াবিশিষ্ট একটি খাট পাঠিয়ে দিলেন।
রাসূল (সা) তাঁর ওপর ঘুমাতেন।
অতঃপর রাসূল (সা) যখন আমার ঘরে চলে আসেন এবং আমার মা আমাকে যে খাটটি দেন তাতেই তিনি ঘুমাতেন।
হযরত তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ মক্কা থেকে মদীনায় হিজরাতের পর আসয়াদের বাড়িতে ওঠেন।
হযরত হামযাও তাঁর বাড়িতে ওঠেন।
মসজিদে নববীর নির্মাণকাজ তখন চলছে।
এমন সময় প্রথম হিজরির শাওয়াল মাসে তাঁর পরকালের ডাক এসে যায়। তিনি জাবহা নামক কণ্ঠনালীর এক প্রকার রোগে আক্রান্ত হন।
হযরত রাসূলে কারীম (সা) নিজ হাতে তাঁর আক্রান্ত স্থানে সেক দেন, তাঁর মাথায় হাত দেন; কিন্তু কোন উপকার দেখা গেল না।
তিনি মারা যান।
তাঁর মৃত্যুতে রাসূলুল্লাহ (সা) খুব ব্যথিত হন। তিনি বলেন, এখন তো ইহুদিরা বলে বেড়াবে যদি তিনি নবী হতেন তাহলে তাঁর সাথী মরতো না, অথচ আমি কি মৃত্যুর চিকিৎসা করতে পারি?
হযরত রাসূলে কারীম (সা) তাঁর জানাযার নামায পড়ান এবং মদীনার বাকী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করেন।
বলা হয়ে থাকে রাসূলুল্লাহর (সা) মদীনায় হিজরাতের পর এটাই প্রথম মৃত্যু। আর এটাও ধারণা করা হয় যে, এবারই সর্বপ্রথম রাসূল (সা) জানাযার নামায আদায় করেন।
আনসারদের ধারণা মতে বাকীতে দাফনকৃত প্রথম মুসলমান আসয়াদ আর মুহাজিরদের মতে উসমান ইবন মাজউন।
মৃত্যুকালে হযরত আসয়াদ দু’টি কন্যা সন্তান রাসূলুল্লাহর (সা) জিম্মায় ছেড়ে যান। রাসূল (সা) আজীবন তাদের দেখাশোনা করেন। মোতির দানা মিশ্রিত সোনার বালা তিনি তাদের হাতে পরান। এক মেয়েকে তিনি সাহল ইবন হুনাইফের সাথে বিয়ে দেন এবং সেখানে তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে আবু উমামা বিন সাহল।
হযরত আসয়াদ ছিলেন প্রকৃত অর্থে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন জোছনা প্লাবিত এক চাঁদ। যে চাঁদ দোলে সাগরের বুকেও।
তাঁর মত উন্নত চরিত্রের মানুষ হওয়ার জন্য আমাদের সকল সময় চেষ্টা করে যাওয়া প্রয়োজন।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to Mahmud Cancel reply