Home নিয়মিত ম্লান হয়ে পড়ছে ক্রিকেট

ম্লান হয়ে পড়ছে ক্রিকেট

হাসান শরীফ…

হেভিওয়েট মুষ্টিযুদ্ধে কে চ্যাম্পিয়ন? স্কোয়াশে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কে? অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কে? প্রশ্নগুলোর জবাব খুবই সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু সহজ প্রশ্নের উত্তরগুলোও খুব কম লোকের জানা আছে।
মোহাম্মদ আলী নয়, মাইক টাইসন পর্যন্ত মুষ্টিযুদ্ধের দাপট ছিল। কে চ্যাম্পিয়ন হলেন, কে হারলেন সে খবর সবাই রাখত। জাহাঙ্গীর খান ও জানশের খান যত দিন খেলতেন তত দিন স্কোয়াশের খবর বাংলাদেশে আসত। রিকি পন্টিং পর্যন্ত সবাই অস্ট্রেলিয়ার খবর রাখতেই হতো। কিন্তু এখন? হ্যাঁ ট্রিপল সেঞ্চুরির পর ক্লার্কের নামটি অনেকের জানা হয়ে গেছে। কিন্তু তবুও কি পন্টিংকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন?
অন্য খেলাগুলো বাংলাদেশে খুব একটা প্রচলিত নয়। ক্রিকেটই বাংলাদেশের প্রধান খেলা এবং আমাদের সবার মনোযোগ এদিকেই। বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেকোনো ধরনের খবরই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। কিন্তু তবুও আগে যে আলোড়ন সৃষ্টি হতো, তা কি হয়?
অতি সম্প্রতি জ্যাক ক্যালিস ডবল এবং পন্টিং সেঞ্চুরি করে লাইমলাইটে এসেছেন। তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল, তা কিছুদিনের জন্য হলেও ভালোভাবে উতরে যেতে পেরেছেন। শচিন টেন্ডুলকার যেকোনো দিন হয়তো তার শততম সেঞ্চুরিটি করে ফেলবেন। কিন্তু তারপর? আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন যাচ্ছে খুবই দুঃসময়। বলা যায়, একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। প্রায় প্রতিটি দলই একটা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তন সব সময়ই হয়, তবে এক সঙ্গে প্রায় সব দলে এ ধরনের পরিবর্তন খুব বেশি দেখা যায়নি। অবশ্য এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খেলাধুলা মানেই তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। প্রবীণেরা বিদায় নেবে, নতুনেরা আসবে। আজকে যাদের অপরিচিত মনে হচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যেই তারা খ্যাতিমান হয়ে উঠবে।
গত দশকটি ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল যুগ। অনেকগুলো দলেই ছিল সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের ভিড়। ফলে তাদের অনুপস্থিতি চোখে লাগছে।
সবচেয়ে বেশি রূপান্তরিত হচ্ছে ভারতীয় দল। সৌরভ গাঙ্গুলি, অনিল কুম্বলে অনেক আগেই চলে গেছেন। শচিন টেন্ডুলকার যেকোনো দিন অবসর নেবেন। রাহুল দ্রাবিড় একদিনের আন্তর্জাতিক থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলি, অনিল কুম্বলের দলের যে দাপট ছিল, সেই দাপট কি এখন আছে? সাফল্যের পরিসংখ্যানে হয়তো বর্তমান দলই এগিয়ে আছে, কিন্তু সার্বিকভাবে এই দলটি বেশ অপরিচিত।
শ্রীলঙ্কা দলও ম্লান। মুত্তিয়া মুরালিধরনের কাছাকাছি মানেরও কেউ নেই। অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অরবিন্দ ডি সিলভার ক্রেজ সনৎ জয়াসুরিয়া, মুরালিধরনরা অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু এখন সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনের পরে আর কেউ নেই।
ওয়াসিম আকরাম, ইনজামাম উল হক, সাইদ আনোয়ারেরা বিদায় নেয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট যে শূন্যতায় পড়েছিল, তা থেকে এখনো বের হতে পারেনি। বিশ্বরাজনীতির মারপ্যাঁচে দেশটির অবস্থা এখন খুবই নাজুক। তাদের দেশেই এখন আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয় না। দলে এখন শহিদ আফ্রিদিই সবচেয়ে বেশি পরিচিত খেলোয়াড়। তবে তিনি ওয়ানডে আর টি-২০ ক্রিকেটেই মেতে আছেন। এমনকি দলটির অধিনায়ক কে তাও বোঝা যায় না। প্রায়ই সংবাদ সম্মেলনে মিসবাহ উল হকের বদলে হাজির হন হাফিজ।
স্টিভ ওয়ার আমলে অস্ট্রেলিয়া দলটি সর্বকালের সেরা দল হিসেবে পরিচিতি পেত। স্টিভ ওয়া, শেন ওয়ার্ন, রিকি পন্টিং, গ্লেন ম্যাকগ্রারা যেকোনো বিচারে ছিলেন বিশ্বের সেরা। তাদের কারোই বিকল্প হয়নি, হওয়ার কথাও নয়। পন্টিং চলে যাওয়ার পথেই রয়েছেন। তবে পেশাদারিত্বের আবরণে ঢাকা থাকায় তাদের অবস্থা কখনো খুব বেশি খারাপ হবে না।
ইংল্যান্ড দল অবশ্য অন্য পথ বেছে নিয়েছে। নাসের হুসেনের আমলেই একজন বা দু’জন খেলোয়াড়ের ওপর ভরসা না করে সব খেলোয়াড়ের নিজ নিজ সামর্থ্য পুরোপুরি কাজে লাগানোর কাজ শুরু হয়। প্রতি ব্যাটসম্যান গোটা চল্লিশেক রান এবং প্রতিটি বোলার দুই-তিনটা উইকেট নিলেই ম্যাচে লড়াই করা সম্ভব। তারকা সৃষ্টির পথ অনেকটাই বন্ধ। তবে তাদের সাফল্য আছে আগের চেয়ে বেশি।
দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এখন আর হ্যান্সি ক্রনিয়ে, শন পোলক, জন্টি রোডসের মতো কেউ আসেনি। জ্যাক ক্যালিস অবশ্য জানিয়েছেন, ২০১৫ সাল বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি খেলে যাবেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেক আগেই সোনালি যুগ শেষ করে ফেলেছে। মনে হয় না তারা আবার তাদের প্রধান দলের কাছাকাছি ফিরে আসতে পারবে। নিউজিল্যান্ড কোনোকালেই সেরা দল ছিল না। ড্যানিয়েল ভেট্টরিই ছিলেন সবচেয়ে তারকা খেলোয়াড়। জিম্বাবুয়ের অবস্থাও ভালো নয়।
শুধু খেলোয়াড় নয়, ক্রিকেটের ভূগোলও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এক সময়ে ক্রিকেট নতুন নতুন দেশে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কানাডা, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি দেশে ক্রিকেট জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। আফগানিস্তান ও নেপালে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়। ক্রিকেট এখন ১০টি টেস্ট প্লেয়িং দেশেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এগুলোর মধ্যে আবার উপমহাদেশের চারটি দেশেই ক্রিকেট এক নম্বর খেলা। অন্যান্য দেশে ক্রিকেট কোথাও দুই, কোথাও তিন নম্বর খেলা।
বিপিএলের বিকিকিনি সম্পন্ন
আন্তর্জাতিক বাজারের আলোকে দাম খুব বেশি না হলেও বেশ ঢাকঢোল পিটিয়েই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বিকিকিনি (ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির নিলাম) গত ১০ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। ছয় বছরের জন্য মোট ৬.৪৯ ডলারে ছয়টি দলের কেনাকাটা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছে চট্টগ্রাম। এস কিউ স্পোর্টস ১.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনে নিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা। ১.১০ মিলিয়ন ডলারে খুলনা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা কিনেছে ওরিয়ন গ্র“প। ডিজিটাল অটো কেয়ার রাজশাহীর মালিকানা পেয়েছে ১.০৭ মিলিয়ন ডলারে। ১.০৫ মিলিয়ন ডলারে ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে ইউরোপা। ওয়ালটন ১.০৬ মিলিয়ন ডলারে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে। সবচেয়ে কম দামে (১.০১ মিলিয়ন ডলারে) ও কম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিক্রি হয়েছে বরিশালের ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফেব্র“য়ারি মাসে শুরু হবে টুর্নামেন্টটি। আশা করা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এর মাধ্যমে।

মেসি আবারো সেরা
আর্জেন্টিনার খুদে জাদুকর লিওনেল মেসি আবারো বিশ্বের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। ৯ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে এ গ্রহের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো ‘ফিফা বর্ষসেরা’ বা ফিফা ব্যালন ডি অ’র পুরস্কারটি জিতে নেন। বিভিন্ন দেশের কোচ, অধিনায়ক এবং নির্বাচিত গণমাধ্যমের দেয়া সর্বোচ্চ ৪৭.৮৮ % ভোট পেয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড মেসি জিতে নেন ২০১১ সালের বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি। ২০০৯ এবং ২০১০ সালেও তিনি এ পুরস্কার জিতেছিলেন। এবার রোনাল্ডো ২১.১% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং জাভি ৯.১৩ % ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

SHARE

Leave a Reply