Home জেলা পরিচিতি জেলা পরিচিতি

জেলা পরিচিতি

নয়নাভিরাম জামালপুর

বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে গারো পাহাড়ের পাদদেশে নৈসর্গিক দৃশ্য ও নয়নাভিরাম  প্রাকৃতিক লীলাভূমি যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঝিনজিরাম, ঝিনাই ও বানার নদীর পলি বিধৌত অববাহিকায় বাংলাদেশের ২০তম জেলা জামালপুর। এই জেলার ইতিহাস সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারণা পেতে হলে প্রখ্যাত আউলিয়া হযরত শাহ জামাল (রহ) ও হযরত শাহ কামাল (রহ) এ দুই বুজুর্গ ব্যক্তির নাম স্মরণ করতে হয়। ইসলাম তথা মানবতার বাণী প্রচারের জন্য হযরত শাহ জামাল (রহ) দিল্লীর বাদশাহ আকবরের সময়কালে সুদূর ইয়েমেন দেশ থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য জামালপুরে তশরিফ রাখেন। জামালপুর শহরের আদি নাম সিংহজানী। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে এ পুণ্যবান ব্যক্তির পবিত্র নামেই এ জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
জেলার পটভূমি : জামালপুর ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে প্রথম মকুমা হিসেবে ১৮৪৫ সালে মর্যাদা লাভ করে। মহকুমা সৃষ্টি হওয়ার ১৩৩ বছর পরে ১৯৭৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর জেলার মর্যাদা পায়। ১৯১২ সালে লর্ড কার্জন জামালপুরকে জেলা করার ঘোষণা দেন। ১৯১৯ সালের দিকে ধনবাড়ীর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ধনবাড়ীকে জেলা সদর করে জামালপুর ও টাঙ্গাইলকে নিয়ে একটি জেলা করার প্রস্তাব করেন। ১৯২০ সালে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার কয়েকটি গ্রাম সরিষাবাড়ী থানার সাথে সংযুক্ত করা হয়। ১৯৩৮ সালে তৎকালীন বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের উদ্যোগে জামালপুরকে জেলা করার দাবি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। জামালপুর না টাঙ্গাইল কোথায় জেলা সদর হবে এ নিয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারও কোনো সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি। এ সময়ে বন্যা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইতাদি কারণে জামালপুর জেলার বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেই জামালপুরকে জেলা করার দাবি আবারো বেগবান হয়ে উঠে। অবশেষে ১৯৭৮ সালে ২৬ ডিসেম্বর জামালপুরবাসীর জন্য সেই আনন্দের দিনটি আসে। কারণ এ দিনে জামালপুরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ২০তম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সীমানা : বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে জামালপুরের অবস্থান। উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য (গারো পাহাড়), শেরপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা; পূর্বে শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলা; দক্ষিণে টাঙ্গাইল জেলা  এবং পশ্চিমে যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলা।
দর্শণীয় স্থান : হযরত শাহ জামাল (রহ)-এর মাজার শরীফ, জেলা সদর, হযরত শাহ কামাল (রহ)-এর মাজার শরীফ, দুরমুট, মেলান্দহ, দয়াময়ী মন্দির, লাউচাপড়া পিকনিক স্পট, বকশীগঞ্জ, পর্যটক/অবকাশ যাপনকারীদের জন্য পাহাড়ের যমুনা ফার্টিলাইজার, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ী, জিল বাংলা চিনিকল, দেওয়ানগঞ্জ।
শিল্প ও বাণিজ্য : এ জেলায় বেশকিছু শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানা যমুনা ফার্টিলাইজার লি:, দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা সুগার মিলস লি:, আলহাজ্ব জুট মিলস ও পপুলার জুট মিলস উল্লেখযোগ্য। জামালপুর জেলা শহরের দাপুনিয়ায় ২৬.৩০ একর জমিতে বিসিক শিল্প নগরী ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে স্থানীয় চাহিদা ও কাচামাল নির্ভর ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
খনিজ সম্পদ : জামালপুর জেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো খনিজ সম্পদ নেই। তবে জেলার সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জ  উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ধানুয়া, কর্ণঝুড়া ও সাতানীপাড়ায় উন্নতমানের লাল মোটা বালি এবং পাথর পাওয়া যায়। এসব বালি ও পাথর নির্মাণ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে বালি ও পাথর উত্তোলন করে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় তা রপ্তানি করা হয়। বালি ও পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত হয়ে বহু লোকের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বালি এবং পাথর মহল ইজারা দিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে।

SHARE

1 COMMENT

  1. আমি জামালপুর জেলার ইসলামপু থানার অধিবাসি. কিশোরকন্ঠে জামালপুর জেলাপরিচিতি পড়ে খুব ভাল লাগল। ধন্যবাদ কিশোরকণ্ঠ কতৃ্পক্ষকে!

Leave a Reply