Home খেলার চমক ওয়েস্ট ইন্ডিজে হলো না পাকিস্তানে হবে কি?

ওয়েস্ট ইন্ডিজে হলো না পাকিস্তানে হবে কি?

হাসান শরীফ..

অনেক প্রত্যাশা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ নিয়ে। আগের বার তাদের দেশে তাদেরকে হোয়াইটওয়াশ করার পর মনে হচ্ছিল এবার ঠিক সেটা না করতে পারলেও অন্তত সিরিজ জয় করা যাবে। কিন্তু না। একদিনের আন্তর্জাতিক ও টেস্ট- উভয় সিরিজেই হেরে গেল বাংলাদেশ। উভয় সিরিজে জয়ের আশাটা কিন্তু আকাশ-কুসুম কল্পনা ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন আর এমন কোনো দল নয়, যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জয় পেতে পারে না। কিন্তু সময়মতো জ্বলে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। একদিনের সিরিজে প্রথম দু’টি ম্যাচে হারার পর চেতনা ফিরেছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। আর টেস্ট সিরিজে প্রথমটায় বৃষ্টি বাধার সৃষ্টি না করলে হয়তো দারুণ কিছু করা যেত। কিন্তু যেখানে নিজেদের মেলে ধরার, কিছু একটা করার সুযোগ ছিল, সেখানে তারা কিছুই করতে পারেনি। ঢাকা টেস্টের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল মূলত প্রথম ইনিংসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৫ রানের বিপরীতে ২৩১ রানে অলআউট হয়ে পিছিয়ে ছিল ১২৪ রানে। তারপর নির্বিষ বোলিং এবং ক্যাচ ফেলার মহড়াও ২২৯ রানের পরাজয়ের জন্য দায়ী বলতে হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের বোলিং হয়ে পড়েছিল আরো নির্জীব। পরিণতিতে তারা রানের পাহাড় গড়ে তোলে। ৫০০ প্লাস রান তাড়া করে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান করে জয়ের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে ভাঙাচোরা একটি দল নিয়েও রেকর্ড গড়ে ফেলেছিলো। জয় পেতে হলে বাংলাদেশকে তার চেয়েও ৯০ রান বেশি করতে হতো। কাজেই সেই স্বপ্ন দেখাও ছিল বাতুলতা মাত্র। তবে প্রতিরোধ হয়তো সৃষ্টি করা যেত। কেউ কেউ দায়িত্বহীনতার পরিচয় না দিলে পরাজয়ের লজ্জাটা আরেকটু কম হতে পারতো। বিশেষ করে সদ্য সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আউট হওয়া নিয়ে কথা উঠেছে সবচেয়ে বেশি। অথচ এই সাকিবই কিন্তু বাংলাদেশকে ড্রয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে যেভাবে প্রতিরোধ সৃষ্টি করেছিলেন, সেটার পুনরাবৃত্তি করতে পারলে বলা যেত পুরো সিরিজটা ড্র হয়েছে। টি-২০ মিলিয়ে ছয়টা ম্যাচের মধ্যে উভয় দল দু’টি করে জিতেছে। কিন্তু ঢাকা টেস্টে পরাজয়ের পর সেটা বলার আর কোনো অবকাশ থাকেনি। তার পরেও সাকিবই সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন। প্রথম টেস্টে চার উইকেট এবং ৪০ রান। দ্বিতীয় টেস্টে ছয় উইকেট এবং ৭৩ ও ৫৫ রান করেছেন। মোট রান ১৬৮, মোট উইকেট ১০টি।
এভাবে পরাজয় বাংলাদেশের জন্য নতুনও নয়। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতা টেস্ট হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে। ২০০৬ সালে ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে জিততেও হেরে গেছে। ২০০৮ সালে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তীব্র লড়াই করে হেরেছে। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডকেও প্রায় হারিয়ে দিতে বসেছিলো। অন্য দিকে ২০০৩ সালের পর এই প্রথম দেশের বাইরে টেস্ট সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ২০০৮ সালের পর এই প্রথম দেশের বাইরে টেস্ট জিতল দলটি।
তবে বাংলাদেশের প্রাপ্তিও ছিল কিছু। একমাত্র টি-২০ ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ। তার চেয়েও বড় কৃতিত্ব ছিল সিরিজের তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে অল-আউট করে দেয়া।
এই প্রাপ্তিটুকু সম্বল করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো এই সিরিজেও টি-২০, একদিনের আন্তর্জাতিক ও টেস্ট সিরিজ রয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কিছু সুখস্মৃতিও রয়েছে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে জয়, ২০০৩ সালে মুলতানে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন সৃষ্টি ইত্যাদির মাধ্যমে উজ্জীবিত হতে পারে টাইগারেরা।
অবশ্য পাকিস্তানকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ, আর খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে পাতানো খেলার অভিযোগের মধ্যেও দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। নিজ দেশে খেলতে না পারলেও অন্য দেশেও তারা খারাপ করছে না। দুবাইতে শ্রীলঙ্কার মতো দলকেও তারা বেশ ভালো মতো চেপে ধরেছিল। তবে মুশফিকেরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলেই অনেক কিছু পাওয়া যাবে। সেটার প্রত্যাশা করছে সবাই।

SHARE

Leave a Reply