Home সাক্ষাৎকার আমার স্মৃতিশক্তি

আমার স্মৃতিশক্তি

আসাদ চৌধুরী…..

১. স্মৃতিশক্তি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। নাম ভুলে যাই প্রায়ই আজকাল। আমার  ছোটবেলাই খুবই সুন্দর কেটেছে। আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। পুরনো জায়গা নয়, মুঘল আমলে বোধহয় এ এলাকাটায় জনবসতি গড়ে ওঠে। তার আগে জলাভূমি ছিল। বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বপুরুষের কিছুটা ভূমিকা ছিল। এখন তো আমাদের গ্রামে যোগাযোগব্যবস্থা, যাতায়াতব্যবস্থা খুবই ভালো। যদিও নদী ভেঙে  আসছে। একেবারে কাছাকাছি নদী। এখানে আমার বেশ কিছুটা সময় কেটেছে। আমার  আব্বা যখন এমএলএ ছিলেন, মো: আরিফ চৌধুরী ৪৬-এর নির্বাচনে তিনি মিউনিসিপাল অ্যাসেম্বলি মেম্বার হন, তারপর আমরা ৪৭-এর বছরই ডিসেম্বর মাসেই বার্ষিক পরীক্ষার পর ঢাকায়  চলে আসি। বছর তিনেক ঢাকায় ছিলাম। তারপর আবার গ্রামে যাই। কাজেই আমার কৈশোরের স্মৃতি বলতে কিছুটা গ্রামের ও কিছুটা শহরের। ঢাকার সবচেয়ে মজার হচ্ছে আমি কোনো স্কুলে ভর্তি হইনি সে সময়। গ্রামের জুনিয়র মাদ্রাসায় (প্রাইমারি স্কুল) পড়তাম। কাজেই ঐ সময়ের জীবন যাপনটা আমার খুবই প্রিয় ছিল। ঢাকায় থাকা অবস্থায় বাবা-মা এখনকার মতো এতো খুঁতখুঁত করতেন না। আমি কাস টুতে পড়ি- একা একা বলে গেছি সূত্রাপুরে,  লালবাগে- থাকতাম পুরান ঢাকায়। সদরঘাটে নৌকায় থাকতাম কারণ তখন ঢাকায় কোনো বাড়িঘর ছিল না। সেখানে কয়েক মাস থাকার পর বাবুবাজারে চলে আসি। আমরা সাঁতার কেটেছি। কেউ মানা করেনি। বুড়িগঙ্গার ওপারে না গেলেও প্রায় কাছাকাছি গেছি- চৈত্র-বৈশাখের দিকে। এখন অবশ্য বলি, হ্যাঁ নদী কতবার পেরোলাম। তবে সে সময়টা খুব এনজয় করেছি। I have enjoyed a lot.
২. কিভাবে আর কাটবে। এখন  সাধারণত আমার বয়সী যারা লেখালেখি করেন তারা সামাাজিকতায় যেতে চান না।  আর আমি ঢাকা থেকে বেরোতে পারলে খুব খুশি হই। সে যেখানেই হোক।  কারণ এইতো আমি সিলেট থেকে এলাম। তার আগে নারায়ণগঞ্জ এবং তার একদিন আগেই আমি বাসায় পৌঁছেছি। আমি ঘুরতে ভালোবাসি। আর বাসায় যদি থাকি তো রাতটা একটু পড়াশোনা করি। লেখালেখি করার চেষ্টা করি। এখন  মেইনলি পড়াশোনা করি। অনেক বই কেনা ছিল। সময়ের অভাবে পড়া হয়নি। যেখানেই যাই আমার বন্ধুরা নতুন লেখকরা অনেক বই দেন আমাকে। সেগুলো পড়ার চেষ্টা করি। কখনও কখনও মতামত দেয়ার চেষ্টা করি যে তারা কী লিখছেন। আমি আমার মতই বলি, যা আমার কাছে মনে হয়। তবে আমি বলি না যে আমার মতামতটাই ঠিক। আমি মতামত দিচ্ছি সে চাচ্ছে বলে। এভাবে সময় কাটে। উঠি, ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাই সাধারণত। এরপর ১১-১২টার আগে কখনোই ওঠা হয় না বিছানা থেকে। কাজ থাকলে অবশ্য ভিন্ন কথা।
৩. আমি কাস টু থেকে গল্পের বই পড়তাম। আমাদের একটা রেডিও ছিল। সে সময়ের রেডিওটা খুব বেশি বাড়িতে দেখা যেত না। গ্রামে বড় বড় ব্যাটারি দিয়ে জনকল্যাণ সমিতিতে রেডিও বাজানো হতো। তবে রেডিও খুব বেশি শুনতাম তা নয়, বই আমাদের একমাত্র বিনোদন ছিল। আমাদের বাড়িতে নাটক হতো, গান-বাজনা হতো। কিন্তু বই ছিলো আমার সবচেয়ে প্রিয় বিনোদনের মাধ্যম। আমি প্রাচ্য-অপ্রাচ্য বহু আজেবাজে উপন্যাস, গল্প, ছড়া এমনকি কবিতা পড়েছি। কাস ফোরে পড়াকালীন উপন্যাস, গল্প, ছড়া এমনকি কবিতা পড়েছি। কাস ফোরে পড়াকালীন আমাকে একজন অগ্নিবীণা ও বিষের বাঁশি দিলেন। তখন এ দুটো ব্যান্ড ছিল। ইন্ডিয়াতে ৪৭-এর পরপরই তারা ব্যান্ড তুলে ফেলে কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে এ সময়ও ব্যান্ড তোলা হয়নি। কাজেই কাগজ দিয়ে মুড়ে সেগুলো লুকিয়ে রেখেছি। সে সময়ই কামাল পাশা (কবি কাজী নজরুল ইসলামের) কবিতাটি আমি রেকর্ড করি। আমি অবাক হয়েছি প্রদীপ ঘোষও ওই ভঙ্গিতেই রেকর্ড করেছেন। এটা আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। তো আমি প্রচুর কবিতা পড়তাম। মাঝে মাঝে শ্লেট পেনসিলে যে লিখিনি তা নয়। আমার ভাই সালাহউদ্দিন চৌধুরী, তিনিই প্রথম আমাকে আধুনিক কবিতার স্বাদ দিলেন। আমি কৃতজ্ঞ তার কাছে। আর হঠাৎ করে প্যাট্টিস লুমুম্বা মারা যাবার পর (আমি তখন ঢাবির ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র) আজাদ সুলতান (বরিশালের একটা এমদাদিয়া লাইব্রেরি ছিল। ঢাকাতে একটা বইয়ের দোকানে কাজ করতেন) তিনি আমাকে একটা কবিতা দিতে বলেন, মনে হয় আমি যেন কত কবিতা লিখি? আমি ওই ব্যক্তির দোকান থেকে বিশেষ করে নজরুল ইসলামের অনেক বই নিয়েছিলাম। যাই হোক, আমি একটি কবিতা লিখে দিলাম তার হাতে। এক ভদ্রলোক (পরে জানতে পাারি তার নাম রনেশ দাশ গুপ্ত) আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজাদ ভাই কবিতাটা তার হাতে দিলেন। তিনি সেটা পকেটে নিলেন, কোনো মন্তব্য করলেন না। আমার দিকে কায়েকবার তাকালেন। পাজামা, ফুলশার্ট পরা। একটা খদ্দরের চাদর গায়ে ছিল। তিনি আস্তে আস্তে হেঁটে চলে গেলেন। পরের দিনই কবিতাটা সংবাদে ছাপা হলো। কিন্তু সাহিত্য পাতায় না, সম্পাদকীয় পাতায়। এবং রাতারাতি খুব পরিচিতি পেয়ে গেলাম- সাহিত্য পাতায় ছাপা হলে হয়ত সেটা হতো না। এরপর বিভিন্ন সময়ে সম্পাদকের তাগিদে ও প্রকাশকদের তাগিদে লিখতে থাকি। নিজের তাগিদেও লিখি না তা নয়।
৪. কবিতা পড়া। আমি যদি ভালো লিখতে পারি, এক ধরনের তৃপ্তি পাওয়া যায় এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ সময় আবৃত্তিই থেকে যায়। যেভাবে লিখতে চাইলাম সেভাবে লিখতে পারলাম না, যেভাবে বলতে চাইলাম যেভাবে বলতে পারলাম না। অথবা কায়দা করে বলতে গিয়ে বিষয়বস্তু থেকে সরে গেলাম। এগুলো আমার মনঃপীড়ার কারণ ঘটে।
তবু লিখতে ভালো লাগে। তবে কবিতা পড়তে আমি খুব ভালোবাসি। বাংলা, ইংরেজি, কিছু উর্দু কবিতা, অনুবাদ। প্রচুর ইংরেজি কবিতা পড়ি।
৫. শিশুদের প্রতিভা বলতে কোনটা? যদি আমরা গান-বাজনা ধরি, এখন অনেকগুলো টিভি চ্যানেল আছে। তারা বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা করে এমনকি চৌকস নাচ, ছবিআঁকা, গান গাওয়া, অভিনয়, আবৃত্তি, বক্তৃতাÑ নানারকম প্রতিযোগিতা। সেখানে বেশ অঙ্কের মতো নয়, পুরস্কার দেয়া হয়। তবে আজকাল এটা মানতেই হবে আগাকার দিনের বাবা-মারা যতটা এখন উৎসাহিত করেন এবং দেখেন. আমাদের সময় এমন একটি পত্রিকাও ছিল না (ছিল আজাদের ছোট্ট একটা মুকুলের মাহফিল, ইত্তেফাকের কচিকাচা, সংবাদের খেলাঘর অবশ্য ছিল) তবে আমি তখন অলরেডি হয়ে গেছি। এখন তো কত পত্রপত্রিকা! এখন শিশু-কিশোরদের জন্য বইমেলাতে আলাদা স্থান করে দেয়া হয়। বাবা-মা বই কিনে দেন। আমাদের তো গল্পের বই পড়াটাই একটা চেঁচামেচির ব্যাপার ছিল। এত গল্পের বই পড়ে, পড়াশোনা করে কখনÑ এ রকম কথা শুনতে হতো। কিন্তু এখন তো সেটা নেই! তবে বচ্চাদের সবচেয়ে বড় অসুবিধা অকান্নবর্তী পরিবারটা সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের পর একেবারেই ভেঙে যাওয়া শুরু করে। এখন প্রতিবেশীর খবর কেউ বেশি রাখে না। যার ফলে খেলার মাঠে কেউ যাচ্ছে না। আমরা তো খেলাধুলাও করেছি। এমনকি ঢাকাতেও আমরা খেলাধুলা করেছি। এখন সে সুযোগটাও নেই। তার ফলে কম্পিউটারের মাউস নিয়ে টানাহেঁচড়া। আর কাস ফ্রেন্ডদের সাথে ফোনে গল্প-স্বল্পÑ এদেরকে এখন প্রচুর পড়তে হয়। একই বাচ্চাকে এখন ছবি আঁকতে, গান শিখতে, নাচ শিখতে, অভিনয় করতে পাঠানো হয়। এদের ওপর যে প্রচণ্ড চাপ পড়ে সেটা স্বীকার করতেই হবে। কাজেই আমার মনে হয় এ দিকটা আমাদের দেশের যারা মনীষী ব্যক্তি আছেন তাদেরকে চিন্তা করতে হবে।

৬. আমি শুধুমাত্র ঈদের সুযোগ-সুবিধা দিতে চাই না আমি মনে করি যে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক নয়। আজকে যারা কোটি কোটি টাকা রোজগার করছেন আর যে টোকাইগিরি করে মাকে একটু খেতে দেয়, আমার কাছে এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনে পার্থক্য নেই। কাজেই শুধু ঈদের দিনের ব্যাপার নয়, আমি মনে করি যে এদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া আমার দেশের, আমাদের সরকারের, আমাদের সমাজের দায়িত্ব এদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেয়া। খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে মনে করলেই যে এটা পাওয়া যাবে তা তো নয়, কিন্তু এই স্বপ্নটা থাকতে হবে। এই কর্তব্যবোধটা প্রতিটি শিক্ষিত নাগরিকের মনে গেঁথে যাওয়া উচিত। এবং এটি নিয়ে একটা আমি আন্দোলন বলব না, খবরের কাগজের ভাষায় যাকে ক্যাম্পেইন বলে সেটা থাকা উচিত। আমার খুব ভালো লাগছে কিশোরকণ্ঠ অন্তত এই বাচ্চাদের ব্যাপারে ঈদের দিনে কোনো চিন্তা করছে। আমি কিন্তু ৩৬৫ দিনের জন্যই চিন্তা করতে বলব। কিভাবে করা যায়, এটি আমাদের কর্তব্য। এটি আমি দেখেছি, অনেকেই আছে কিছু কিছু মানুষ (সংখ্যায় তারা খুব যে কম তা নয়) সত্যি সত্যি জাকাত দেয় এবং প্রতিবেশীদের মতো খবরের কাগজ, টিভির সামনে এসে জাকাত দেন না। তারা গোপনেই দেন। আমি নিজে দেখেছি। আমি দু-একটি ছেলেকে জুতা কিনে দিয়েছি। কাপড় কিনে দিয়েছি কি না মনে নেই। এগুলো যারা প্রতিবেশী আছে তারা যদি একটু নজর দেন (সামান্য) তাহলে এটা মানতেই হবে- এক সময় নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে টুপি না থাকায় কাগজ ভাঁজ করে গান্ধি টুপির মতো বানিয়ে তাতে নকশা করে তা মাথায় দিয়ে নামাজ আদায় করত। এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা মোটেও ভালো না, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবস্থা যে খুব একটা আহামরি তাও না, কিন্তু তবুও অনেক দেশের চাইতে মানুষ বেশ সচ্ছল। সে হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের কর্তব্য বোধটা যদি সত্যি সত্যি জাগ্রত হয়, প্রত্যেকে যদি একটু চিন্তা-ভাবনা করি তাহলে অনেক সুরাহা করা যায়। সম্প্রতি ভারত বোম্বেতে একটা উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে টোকাইদের ২টা জিনিস শেখানো হবে- স্রেফ ইংরেজি আর কম্পিউটার শেখানো। ভাবতে খুব ভালো লাগে যারা পড়ালেখা করে না তাদের মধ্যে হঠাৎ কেউ পড়ালেখা শুরু করলে তাদের মধ্য থেকে দু-একজন দারুণ জিনিয়াস বেরিয়ে আসে। এটা সেখানে এনজিওকে দেয়া হয়েছে। আমার দেশে সরকার সে রকম চিন্তা করে বলে আমার মনেই হয় না। আমার দেশের বাবা-মারা তাদের সন্তানদের একটু খা; স্কুলে যা’ বলে সাধতেছে। তারা কি একটুও ভাবে না ওই বয়সী অন্য একটি ছেলে বা মেয়ে বাসাবাড়িতে কাজ কর বাবা- মাকে টাকা পাঠাচ্ছে? আরেকটি ছেল টোকাইগিরি করে মায়ের জন্য একটা রুটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এই বোধটা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।
৭. উপদেশ দেয়ার ক্ষমতা আমি রাখি না। আমি খুব স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি যে ওরা ওদের মতো করে বড় হোক। বাপ-মা সবসময় ‘এইভাবে চলো, এইভাবে করো, এইভাবে খাও’- এতসব খবরদারি না করে ওদেরকে পড়াশোনা করতে দেন, ওরা শিখুক। সঙ্গে সঙ্গে নিজেরাও জীবনটাকে শিখুক। বর্ষাকালের উপরে ঊংংধু বই দেখে লিখুক আপত্তি নেই, কিন্তু বৃষ্টিকে একটু পড়তে শিখুক। শীতকালটা একটু পড়তে শিখুক। দুঃখটাকে একটু ভাবতে শিখুক। মানুষ যে অপমানিত হচ্ছে, এই অপমানটাকে পড়তে শিখুক। শুধু বই থেকে না, জীবন থেকে শিখুক। বাপ-মা যেন এই সুযোগটা দয়া করে দেন। তার কারণ, সবসময় বাবা-মা তার সন্তানকে আগলে রাখতে পারবেন না। একটা সময় তাকে বাস্তবতায় আসতে হবে। জীবিকা নির্বাচন করতে হবে। এবং তখন যে ভয়াবহ স্বার্থপর লোভী একটা সমাজের মুখোমুখি হবে সে তাল সামাল দিতে পারবে না আগলে রাখলে। কাজেই তাকে তার মত করে বাঁচতে দিতে হবে। এ ঠিকই বেড়ে যাবে। আর একটা কথা আমি মনে করি, যেহেতু আমরা সবাইকে শিক্ষিত করে ভুলতে পারছি না, শিক্ষা সবাইকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, অন্তত আমাদের ধর্মীয় শিক্ষাগুলো যেন তারা পায়। তাহলে মানবিক মূল্যবোধ কিছুটা হলেও তাদের মধ্যে আসবে। বিশেষ করে আমাদের স্যোসাল ইসলামের কিছু হাদিস যেগুলো ওয়া আমিলুস সালিহাতকে সমর্থন করে, কুরআনে আল্লাহ বারবার বলেছেন, রাসূল (সা) তো একটা দৃষ্টান্ত, শুধু ধর্মের ক্ষেত্রে নয়, জীবন যাপনের সবগুলো ক্ষেত্রেই, সেই হাদিসগুলো একটু সুন্দর করে একটু ব্যাখ্যা করে যদি ওদেরকে বলা যায়, তবে আমার মনে হয় অনেক কাজ হবে। এ কাজগুলো বাবা-মাদেরও কেন, সবাইকে করা দরকার। আমি শুধু মুসলমানদের কথা বললাম কারণ আমি মুসলমান। নিশ্চয়ই হিন্দু, খ্রিষ্টান বা বৌদ্ধদের বেলায়ও এরকম কথা আছে। তারা যেন তাদের সন্তানদেরকে এভাবে তাগিদ করেন। বাংলাদেশে খাসিয়া, চাকমা, সাঁওতাল, মনিপুরী, হিন্দু, মুসলমান কেউ দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক নন। প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা আছে, সম্মান আছে। বেঁচে থাকার অধিকার আছে, এই কথাটা ছোটদের মনে যদি প্রথম থেকেই তৈরি করা যায় তাহলে তারা জঙ্গি ও হবে না, সাম্প্রদায়িকও হবে না, এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে। যেভাবে বেড়ে ওঠে একটা গাছ, একটা পাখি। স্বাভাবিক মানুষও সেভাবে বেড়ে উঠুক, এটা আমার আশা, উপদেশ নয়, এটি আমার আশা।

SHARE

Leave a Reply