Home স্মরণ সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী

অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান

ঊনবিংশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি হিন্দুর নবজাগরণের সূচনা। এ নবজাগরণের প্রধান প্রাণপুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)। ঐ সময় বাঙালি হিন্দুর নবজাগরণে যাঁরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন, তাঁদের মধ্যে প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর (১৮১৪-৮৩), দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭-১৯০৫), পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-৯১), অক্ষয় কুমার দত্ত (১৮২০-৯৬), মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-৭৩), ভূদেব মুখোপাধ্যায় (১৮২৫-৯৪), দ্বীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-৭৪), বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-৯৪) প্রমুখ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

নানা কারণে বাঙালি মুসলমানের নবজাগরণ শুরু হয় অনেক পরে অর্থাৎ ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্থে। বাঙালি মুসলমানের নবজাগরণের মূলে যাঁদের বিশেষ অবদান ছিল তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হলেন – মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৮-১৯১২), মোহাম্মদ কাজেম অল কোরেশী ওরফে কায়কোবাদ (১৮৫৮-১৯৫১), শেখ আব্দুর রহীম (১৮৫৯-১৯৩১), শেখ রেয়াজ অল দীন মাশ্হাদী (১৮৬০-১৯১৯), কবি মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩), মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ (১৮৬০-১৯২৫), মুনসী মহম্মদ মেহেরউল্লাহ (১৮৬১-১৯০৭), মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ (১৮৬২-১৯৩৩), মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (১৮৭৫-১৯৫০), মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৯), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭৯-১৯৫৩),  সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী (১৮৭৯-১৯৩১), বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২), ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫-১৯৬৯), কবি শাহাদৎ হোসেন (১৮৯৩-১৯৫৩), প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ (১৮৯৪-১৯৭৮) কবি গোলাম মোস্তফা (১৮৯৫-১৯৬৪),  কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪-১৯৭০), আবুল কালাম সামছুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮), আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৭-১৯৭৯) এবং এ নবজাগরণের শ্রেষ্ঠ ফসল কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) প্রমুখ।

বাঙালি মুসলমানের নবজাগরণের অন্যতম প্রধান প্রাণ-পুরুষ সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে ৫ আগস্ট (বাংলা ২০ শ্রাবণ, ১২২৬) সিরাজগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, লেখক, গীতিকার, সাংবাদিক, পর্যটক ও সর্বোপরি একজন অনন্যসাধারণ বাগ্মী। জন্মের পর নানা বাবু খান ও নানী গোলাপ বানু তাঁর নাম রাখেন যথাক্রমে ‘রুস্তম’ ও ‘সেরাজুদ্দীন’। কিন্তু মা নূরজাহান খানম প্রদত্ত ‘ইসমাইল হোসেন’ নামেই তিনি পরবর্তীতে পরিচিত হন।

১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ছয় বছর বয়সে নানার বাড়ির অদূরে সাহেবউদ্দীন পণ্ডিতের পাঠশালায় তাঁর বিসমিল্লাহখানি হয়। পাঠশালায় পাঠ খতম করে তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের জ্ঞানদায়িনী মধ্য ইংরাজি স্কুলে ভর্তি হন। ঐ সময়েই তাঁর কবিতা লেখায় হাতেখড়ি এবং স্কুলের বিতর্ক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবার এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন।

মাইনর স্কুলের শিক্ষা শেষ করে শিরাজী সিরাজগঞ্জ বনোয়ারীলাল হাইস্কুলে (B. L High School) সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ঐ সময় রেয়াজউদ্দিন মাশহাদীর লেখা ‘সমাজ ও সংস্কারক’ গ্রন্থটি পড়ে তিনি বিশ্ববিখ্যাত প্যান ইসলামী আন্দোলনের নেতা প্রাচ্যের অগ্নিপুরুষ সৈয়দ জামালউদ্দীন আফগানীর জীবনী পড়ে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হন। এরপর তাঁর ধারণা হয় যে, আফগানীর মতাদর্শ ব্যক্তিত্ব ও অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হলে তাঁকে দেশত্যাগ করতে হবে। অতঃপর ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ষোল বছর বয়সে তিনি তুরস্কে যাবার সঙ্কল্প নিয়ে গোপনে গৃহত্যাগ করে কলকাতা রওনা হন। কলকাতায় ৯ নং কড়েয়া গোরস্তান লেনে ‘ইসলাম-প্রচারক’ পত্রিকার অফিসে সম্পাদক রেয়াজউদ্দীন আহমদের নিকট তাঁর সঙ্কল্পের কথা ব্যক্ত করেন। কিন্তু তুরস্কে যাবার কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় শিরাজী  ৪২ দিন কলকাতা অবস্থানের পর বাড়ি ফিরে পুনরায় লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন।

শিরাজী যখন বিএল স্কুলে নবম শ্রেণীর ছাত্র তখন বাংলার তৎকালীন প্রখ্যাত ইসলাম-প্রচারক, সমাজ-সংস্কারক, লেখক ও বাগ্মী মুনসী মহম্মদ মেহেরউল্লা সিরাজগঞ্জের বড়ইতলা মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তৃতা করেন। সে সভায় তরুণ শিরাজী তাঁর লেখা ‘অনল-প্রবাহ’ কবিতা আবৃত্তি করেন। দরাজকণ্ঠে ওজস্বিতাপূর্ণ কবিতা পাঠ শুনে মুনসী মেহেরউল্লা মুগ্ধ হন এবং  নিজ ব্যয়ে তিনি বাংলা ১৩০৬ সনে উক্ত কবিতাটি পুস্তিকাকারে প্রকাশ করেন। এরপর ১৩০৬-০৭ সনে ‘ইসলাম প্রচারক’ পত্রিকায় যথাক্রমে তাঁর লেখা ‘কাজীর বিচার’, ‘মালাবারে ইসলাম-প্রচার’, ‘আইয়ুব নবীর স্ত্রী’, ‘সুলতান মাহমুদ’ ইত্যাদি প্রবন্ধ এবং ‘শোকোচ্ছ্বাস’, ‘অতীত-কাহিনী’, ‘উদ্গাথা’, ‘শোক-লহরী’, ‘আবর’, ‘আশুরা’, ‘চোখ গেল’ ইত্যাদি কবিতা প্রকাশিত হয়। অতঃপর ১৩০৭ সনে ‘অনল-প্রবাহ’ কবিতাসহ মোট ৯টি কবিতা নিয়ে ‘অনল-প্রবাহ’ কাব্য প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের অগ্নিঝরা বাণী, ভাব ও ভাষার ওজস্বিতা অবিভক্ত বাংলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কবি হিসাবে শিরাজী সর্বত্র স্বীকৃতি লাভ করেন।

১৩১১ সনে ‘ইসলাম প্রচারক’ পত্রিকায় শিরাজীর লেখা ‘মহাশিক্ষা’ মহাকাব্যের ‘বন্দনা’ অংশ ও ‘মন্ত্রণা’ নামক প্রথম সর্গ প্রকাশিত হয়। ১৩১৪ সনে তাঁর রচিত ‘বোধন-গীতি’, ‘নব-উদ্দীপনা’ নামে তিনটি কাব্য প্রকাশিত হয়। প্রথম দু’টির মূল প্রেরণা হলো স্বাধীনতা, দেশাত্মবোধ ও মানবতা। তৃতীয় কাব্যটি প্রখ্যাত উর্দু কবি হালীর মুসাদ্দাসে হালীর অনুকরণে রচিত জাতীয় কাব্য। এতে মুসলিম জাতির অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গৌরবোজ্জ্বল বিষয়ের উল্লেখ করে বর্তমান মুসলিম জাতির প্রতি জাগরণের উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৩১৫ সনে (১৯০৮) ‘অনল-প্রবাহ’ পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত আকারে প্রকাশিত হলে পরবর্তী বছর সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে লেখককে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলে শিরাজী আত্মগোপন করেন। ঐ সময় তিনি ভারতের ফরাসী-অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে আট মাস অতিবাহিত করেন। তাঁকে ধরার জন্য ব্রিটিশ সরকার ৫০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারের সকল তৎপরতা ব্যর্থ করে তিনি আত্মগোপনে থেকে তাঁর ‘মহাশিক্ষা’ মহাকাব্য রচনার কাজ সমাপ্ত করেন ১৩১৭ সনের ২১ আষাঢ় তারিখে। অতঃপর তিনি কলকাতায় এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার বি সি চ্যাটার্জি। কিন্তু আদালত তাঁর ‘অনল-প্রবাহ’ কাব্যে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। অর্থাভাবে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেননি। দীর্ঘ কারাভোগের পর ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মে তিনি মুক্তি লাভ করেন। তাঁর ‘কারা-কাহিনী’ পরবর্তীতে মাসিক ‘সাধনা’ পত্রিকায় ধারাবাহিকতভাবে প্রকাশিত হয়।

১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ১৮ অক্টোবর ‘বলকান যুদ্ধ’ শুরু হয়। রাশিয়া ও ব্রিটেনের প্ররোচণায় বলকান শক্তিপুঞ্জ মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ক আক্রমণ করে। যুদ্ধে তুরস্ককে সাহায্য করার জন্য ‘অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল মিশনে’র সদস্য হয়ে শিরাজী  ২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ থেকে রওনা হয়ে বম্বে (মুম্বাই) যান। সেখান থেকে জাহাজযোগে সমুদ্র পথে তিনি ২৭ ডিসেম্বর মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া হয়ে ৩১ ডিসেম্বর তুরস্কের কনস্টান্টিনোপলে পৌঁছেন।

যুদ্ধের পর তিনি দেশে ফিরে তাঁর সফর-অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে ১৯১৩ সালে ‘তুরস্ক-ভ্রমণ’ গ্রন্থ রচনা করেন। এতে তাঁর সফরের বর্ণনা, বলকানদের অত্যাচার, তুর্কিবাহিনীর বিপর্যয়, রণক্ষেত্রের বিবরণ, নব্য তুর্কিদের উত্থান ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। এরপর তিনি স্বদেশ ও স্বজাতির সেবায় এবং সাহিত্য চর্চায় পূর্ণরূপে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর ‘স্পেন-বিজয়’ কাব্য প্রকাশিত হয়। এটি একটি ঐতিহাসিক কাব্য। মুসলমানগণ এক সময় সুদীর্ঘ সাত শ’ বছর স্পেনে রাজত্ব করেন। মুসলমানদের গৌরব যুগে সেনাপতি তারেকের নেতৃত্বে মুসলমানদের স্পেন বিজয়, মুসলিম আমলে স্পেনের উন্নতি, খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্রের ফলে মুসলমানদের পতন, এবং তাদের নিশ্চিহ্ন হবার মর্মান্তিক কাহিনী এতে ওজস্বিতাপূর্ণ, অলঙ্কারময়, কাব্যিক ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। এ কাব্যের বর্ণনায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাথ বধ কাব্যে’র বর্ণনার মিল লক্ষ্য করা যায়।

১৯১৫ সালে শিরাজীর ‘সঙ্গীত-সঞ্জীবনী’ প্রকাশিত হয়। এতে ৩৩টি গান সন্নিবেশিত হয়েছে। ১৯১৬ সালে তাঁর আরেকটি গানের সঙ্কলন ‘প্রেমাঞ্জলি’ প্রকাশিত হয়। এতে ১২৮টি গীতিকবিতা স্থান পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি অনুসারে তিনি প্রেমাঞ্জলি লেখেন। তাঁর আগে মুসলমান কবিদের মধ্যে মুনসী মেহেরউল্লাহ গান লিখে ও জনসমাবেশে তা গেয়ে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

পূর্বসূরি লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিভিন্ন উপন্যাসে চরম মুসলিম-বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতা লক্ষ্য করে  শিরাজী সংক্ষুব্ধ হন। তিনি বঙ্কিমের ‘দুর্গেশ নন্দিনী’ উপন্যাসের জবাব হিসাবে ‘রায়-নন্দিনী’ উপন্যাস লেখেন। এর পর যথাক্রমে তিনি ‘তারাবাঈ’, ‘ফিরোজা বেগম’ ও ‘নুরুদ্দীন’ উপন্যাস লেখেন। তাঁর এসব উপন্যাসে স্বসমাজ, স্বদেশপ্রীতি ও ইসলামের মাহাত্ম্য তুলে ধরার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। তাঁর উপন্যাসের ভাষাও বঙ্কিমানুগ, অলঙ্কারবহুল ও ওজস্বিতাপূর্ণ।

শিরাজীর গদ্য রচনার মধ্যে ‘স্ত্রী শিক্ষা’, ‘তুরস্ক-ভ্রমণ’, ‘তুর্কী নারী জীবন’, ‘আদব-কায়দা শিক্ষা’, ‘সুচিন্তা’, ‘স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এসব গ্রন্থের ভাষা প্রাঞ্জল, অঙ্ককারবহুল ও ভাবাবেগপূর্ণ। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম অনুরাগ ছিল। তাঁর ‘সুচিন্তা’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘মাতৃভাষা ও জাতীয় উন্নতি’ প্রবন্ধের এক স্থানে তিনি লিখেছেন:

“মাতৃভাষা ব্যতীত কোনো জাতিই উন্নতি লাভ করতে পারে নাই।… বাঙ্গালা না জানায় শুধু আরবী-পারসী পড়া মৌলবী সাহেবদিগের সমাজের উপকার হওয়া দূরে থাকুক, অনুদিন ক্ষতি ও অবনতির মাত্রা বাড়িয়া চলিয়াছে।… বঙ্গভাষাকে হিন্দুর ভাষা মনে করিও না।…  হে মাদ্রাসার তালেব-এলেমগণ! মাতৃভাষা বাঙ্গালাকে সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করিতে সযত্ন হও।”

সাংবাদিক হিসেবেও শিরাজীর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৯১৯ সালে তিনি মাসিক ‘নূর’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। এতে কাজী নজরুল ইসলামের ‘মেহের-নিগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’ ও ‘রিক্তের বেদন’ ছোট গল্পসমূহ প্রকাশিত হয়। শিরাজীর মহাকাব্য ‘মহাশিক্ষার’ও কয়েকটি সর্গ ধারাবাহিকভাবে এতে প্রকাশিত হয়। ১৯২৩ সালে মওলানা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ও সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজীর যৌথ সম্পাদনায় নবপর্যায় সাপ্তাহিক ‘ছোলতান’ প্রকাশিত হয়।  এতে শিরাজীর কয়েকটি মূল্যবান প্রবন্ধ মুদ্রিত হয়। প্রবন্ধগুলোতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়সহ মুসলিম সমাজের উন্নতি-অগ্রগতি সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান লাভ করে।

বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা যথা-গীতিকবিতা, মহাকাব্য, গান, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসমাইল হোসেন শিরাজীর বিশেষ অবদান রয়েছে। তাঁর ভাষা সংস্কৃতানুগ, প্রাঞ্জল, অলঙ্কারবহুল ও ওজস্বিতাপূর্ণ। সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি স্বদেশ ও স্বজাতির উন্নতি কামনা করেছেন। সমকালীন বিশিষ্ট মুসলিম কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও সমাজনেতাদের সংস্পর্শে এসে এবং তাদের সহযোগে তিনি সমাজ উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী। বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজকে জাগাবার প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। জাতীয় জাগরণের অন্যতম নকিব হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন যথার্থই মুসলিম নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ।

SHARE

Leave a Reply