Home নিয়মিত সাকিব-তামিম সত্যিকারের দুই টাইগার

সাকিব-তামিম সত্যিকারের দুই টাইগার

হাসান শরীফ

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক বেশি মর্যাদাসম্পন্ন জায়গায় পৌঁছেছে। প্রত্যাশা আরো বেশি থাকলেও এখন পর্যন্ত অসাধারণ যেসব সাফল্য এসেছে, তার অন্যতম নায়ক সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের টাইগার তারাই। টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ – সব ধরনের ক্রিকেটেই তারা সাবলীলভাবে বিচরণ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের একজনের বয়স ২৪, অপরজনের ২২। এই বয়সেই তাদের হাতে জাতীয় দায়িত্ব বর্তেছে আর তারা সেটা দক্ষতার সঙ্গেই বহন করছেন।

দলের সেরা বোলার, সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা ফিল্ডার- সবই সাকিব আল হাসান। এবং একইসঙ্গে দলের অধিনায়কও তিনি। একজন ক্রিকেটারের পক্ষে যা যা করা সম্ভব, সবকিছু করে যাচ্ছেন তিনি এবং সবকিছুতেই দলের আর সবার চেয়ে তিনিই এগিয়ে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে টেস্ট এবং একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হোয়াইটওয়াশ করার মাধ্যমে তিনি বিরল ধরনের অলরাউন্ডারের স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছেন। এরপর গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটান। কিউইদের বিরুদ্ধে তার পারফরম্যান্স কল্পনাকেও হার মানিয়েছিল। সিরিজের সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ উইকেট ও ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার নিতে যখন বারবার এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এখানেই তার স্বীকৃতি থেমে থাকেনি। গত বছর সাকিবকে বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের স্বীকৃতি দিয়েছে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত উইজডেন ক্রিকেটার সাময়িকী। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সেরা অলরাউন্ডারের স্বীকৃতি পেয়েছেন।

প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন এবং সফলও হয়েছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে এতদিন পাকিস্তান, ভারত আর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের ভিড় দেখা যেত, সাকিব বাংলাদেশের জন্য দরজাটি খুলে দিলেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তিনিই প্রথম সফল বাংলাদেশী। তার আগে আবদুর রাজ্জাক, মাশরাফি মতুর্জা খেললেও তারা ভালো কিছু দেখাতে পারেননি। সাকিব চমৎকার পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। মায়ের অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরতে না হলে তাকে হয়তো আরো ভালো অবস্থানে দেখা যেত। কলকাতা নাইট রাইডার্সে তার যোগ দেয়ার পরই দলটি প্রথমবারের মতো সেরা চারে পৌঁছতে পেরেছে। এটাও কম নয়। বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের নিয়ে আইপিএলে যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছিল, তিনি তার অবসান ঘটিয়েছেন। হয়তো আগামীবার আরো বেশি বাংলাদেশীকে ওই লিগে খেলতে দেখা যাবে। অর্থাৎ তিনি ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের পাশাপাশি আইপিএলের দরজাও বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।

সাকিবই এখন বাংলাদেশের সেরা বোলার। তার স্পিন বোলিংয়ের ওপর বাংলাদেশের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। আর ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে, আছে একাগ্রতা। তিনি প্রমাণ করেছেন, অধিনায়কত্ব তার জন্য বাড়তি কোনো বোঝা হয়ে দাঁড়ায়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে তিনি প্রস্তুত।

তামিম ইকবালের সবচেয়ে বড় পরিচয় আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে। যেকোনো মাঠে, যেকোনো দলের বিরুদ্ধে তার তাণ্ডব বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। মনে হয় খেলাটি তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের জন্যই আয়োজন করা হয়েছে এবং তিনিই মহানায়ক। আমরাও পারি – এটা প্রমাণ করাই যেন তার কাজ।

২০১০ সালের মে-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরকালে তামিমের ব্যাটিং পারফরম্যান্স তাকে ২০১১ সালের উইজডেন ক্রিকেটার্স আলমানাকের বর্ষসেরা চার ক্রিকেটারের একজনের স্বীকৃতি এনে দেয়। ২০১০ সালের অক্টোবরে তিনি উইজডেন ক্রিকেটার ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মান লাভ করেন। গ্রায়েম শন আর বীরেন্দর সেহবাগের মতো ক্রিকেটারদের পেছনে ফেলে তিনি এই স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের জন্য এটাই এ ধরনের সম্মান।

তামিম ইকবালের রক্তে মিশে আছে ক্রিকেট। তার চাচা আকরাম খানের হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নবযাত্রা শুরু হয়েছে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তার পরিণতিতে টেস্ট মর্যাদা পায়। এর আগে ক্রিকেট ছিল ফুটবলের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা। ওই এক টুর্নামেন্টে জয়ই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের প্রধান খেলা। তামিমের বড়ভাই নাফিস ইকবালও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। তবে এখন একটু পিছিয়ে পড়েছেন।

বাঁ হাতি ওপেনার তামিম ইকবালের ওপর বাংলাদেশের অনেক ভরসা। বাংলাদেশকে আরো অনেক দূর নিয়ে যেতে হবে। তিনি নিজেও তা জানেন এবং ওই প্রত্যাশা বাস্তবেও রূপায়নে যত্নবান।

এক নজরে

সাকিব আল হাসান

জন্ম : ২৪ মার্চ, ১৯৮৭, মাগুরা।

উচ্চতা : ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার)

ব্যাটিং স্টাইল : বাঁ হাতি

বোলিং স্টাইল : ডান হাতি অর্থোডক্স

টেস্ট অভিষেক : ১৮ মে, ২০০৭, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

ওডিআই অভিষেক : ৬ আগস্ট, ২০০৬, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে।

টি-২০ অভিষেক : ২৮ নভেম্বর, ২০০৬, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে।

রান : ২১ টেস্টে ১,১৭৯; ১১১ ওডিআইয়ে ৩,০৪৫।

উইকেট : টেস্টে ৭৫, ওডিআইয়ে ১৩৮।

তামিম ইকবাল খান

জন্ম : ২০ মার্চ, ১৯৮৯; চট্টগ্রাম।

উচ্চতা : ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)।

টেস্ট অভিষেক : ৪ জানুয়ারি, ২০০৮, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

ওডিআই অভিষেক : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে।

রান : ১৯ টেস্টে ২,৪৪৫; ৯৮ ওডিআইয়ে ২,৮৯৬।

SHARE

Leave a Reply