Home নিয়মিত হুঁশিয়ার

হুঁশিয়ার

রকিবুল ইসলাম রিয়াদ

এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমানে এ এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রভাব বেড়ে চলেছে। তাই রাত বারোটার পর যদি কাউকে বাইরে দেখা যায়, সঠিক কারণ না বলতে পারলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।

হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার!

এর কিছুদিন পরের ঘটনা। জিও সাহেবের বাসায় ঘটল চুরি। আনুমানিক ধারণা অনুয়ায়ী, রাত ১২টা ৩০ মিনিটে রান্নাঘরে ভেন্টিলেটার কেটে ভেতরে ঢুকেছে চোর। দুর্ভাগ্য যে, সেদিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার মনে হয় আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কেউ এটা করেছে কিন্তু তিনি বুঝতে পারছেন না যে কে সেই ব্যক্তি। তার ঘরের মেঝের নিচে ছোট একটা বাক্স ছিল, তাতে ৫৭টি গোল্ডেন কয়েন ছিল, আর ১২ ভরি সোনার একটা নেকলেস ছিল। চুরির কথা শুনে জিও সাহেব দুই-একবার অজ্ঞান হয়ে গেছেন। তিনি তার কনিষ্ঠ বন্ধু সিজাকে জানান। তিনি একজন ওসি। পরদিন সকালে মুমু এসে এসব ঘটনা আমাদের বলে। মুমু জিও সাহেবের ছোট ছেলে। ওরা দুই ভাই ও এক বোন। বড় ভাই কানাডা থাকে ও বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে। আপুরা অস্ট্রেলিয়া থাকে।

স্কুল ছুটি হলে আমরা চারজন একত্রিত হলাম। চারজন হলো আমি, মুমু, শায়খ ও মঞ্জুর। আমরা চারজন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা চারজন মুমুদের বাড়িতে গেলাম। জিও সাহেব সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। আমরা তাকে সান্ত্বনা দিলাম যে আমরা তার সম্পদ উদ্ধারের যথার্থ চেষ্টা করব। তিনি বললেন, দেখ কিছু করতে পার কি না, বলে তিনি একটা ভারী নিঃশ্বাস ছাড়লেন। আমরাও উঠে পড়লাম। পরদিন আমরা জিও সাহেবের বাড়িতে গেলাম তাকে কিছু প্রশ্ন করতে। আমি প্রশ্ন করলাম, চাচা ঘটনা ঘটার আগের দিন আপনার সাথে কে কে ছিল? তিনি বললেন, আমার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু, নাম রবিন।

তার বাসা কোথায়?

এই তো আমাদের রোড দিয়ে সামনে গিয়ে জঙ্গল পড়ে, তার পূর্ব দিকে একটা পুরনো বাড়ি, তার পেছনে।

তার শরীর স্বাস্থ্য কেমন?

লম্বা খোঁচা খোঁচা দাড়ি, আর লম্বা চুল।

ঠিক আছে চাচা আজ উঠি।

আমরা বাইরে বেরিয়েই দেখি লম্বা, খোঁচা খোঁচা দাড়ি কিন্তু চুল বড় নয়, এমন একটা লোক ঐ রোড দিয়ে জঙ্গলের ভেতরে ঢুকছে। শায়খ বলল, চল। আমরা গিয়ে দেখি তিনি ঐ পুরনো বাড়িটাতে ঢুকছেন।

মঞ্জুর বলল, চলো সবাই। আমি মঞ্জুরের হাত ধরে থামিয়ে দিলাম, বললাম দাঁড়াও। ঐ দেখ লোকটা বেরিয়ে আসছে, সবাই সরে যাও। দেখলাম লোকটার হাতে একটা ব্যাগ। একা উঁচু করতে পারছেন না, তাই একটা রিকশা ডাকছেন। আমরাও সাইকেলে উঠলাম আর তাকে ফলো করতে লাগলাম। তিনিও বারবার পেছনে তাকাচ্ছেন। রিকশাটিকে দাঁড়াতে বললেন। তখন আমরা আর ফলো করতে পারলাম না। আস্তে আস্তে রিকশাটির আগে চললাম। হঠাৎ সামনে একটা বাস এসে দাঁড়ালো আর কিছু দেখতে পেলাম না। লোকটিও হাওয়া। তখন নিজেদের খুব আফসোস লাগছিল কিন্তু কিছুই করার নেই। পরদিন আমরা সবাই মাঠে খেলছিলাম। তখন নিজেদের ভুল-ভ্রান্তির জন্য মাঠে একটা খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। বড় দুই ভাইয়ার মধ্যে মারামারিও হচ্ছিল। তখন ঐ লোকটা এসে তা থামিয়ে দিলেন এবং সুন্দরভাবে তাদের বোঝালেন। কিন্তু তাদের মনে এখনও ক্ষোভ, ওদের মধ্যে একজন আর একজনকে মারতে কিছু লোক ভাড়া করে এনেছে। ওরা আবার অন্যজনের গ্রুপের লোক। ফলে যে তাদের ভাড়া করেছিল সে মার খেল। মারামারির সময় এক ছেলের পকেট থেকে একটা মানিব্যাগ পড়ে গেল। দেখে মনে হলো ও-ই তাদের নেতা। আমি মানিব্যাগ খুলে দেখি একটা ৫০ টাকার নোট আর একটা সিম। টাকায় একটা নম্বর লেখা, সিমেও ঐ নম্বরটা পাওয়া গেল। আমি মোবাইল করে জানতে পারি যে, ওটা একটা সোনার দোকানের নম্বর। আমরা সবাই সোনার দোকানে গেলাম। ম্যানেজার বললেন, ওখানে ৫৭টি গোল্ড কয়েন ও ১২ ভরি সোনা ছিল। আমি ওদের ২ কোটি টাকা দাম বলি কিন্তু তা তাদের পছন্দ হচ্ছে না বলে চলে গেল। আমরা বললাম, ঠিক আছে ধন্যবাদ। আমরা প্রত্যেক মুহূর্তের সব খবর ওসি সাহেবকে দিচ্ছি। বাইরে আসতেই দেখি ঐ লোকগুলোকে। যারা সেদিন মারামারি করেছে, দেখি তারা একটা হোটেলে ঢুকছে, সাথে একটা বিদেশী লোকও আছে। আমরাও ঢুকলাম। দেখি তারা খাতা-কলমে বিদেশী লোকটাকে কী বুঝাচ্ছে। যখন তারা উঠে গেল আর খাতার পেজটা ফেলে দিল। মঞ্জুর দ্রুত গিয়ে কাগজটি নিয়ে এল, তাতে একটা নকশা আর একটা সঙ্কেত লেখা। সঙ্কেতটা হলো G.H.5.30 কিন্তু আমরা কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে সঙ্কেতটার মানে কী। সেদিন ছিল সোমবার, আমরা গ্রামীণ হোটেলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ দেখি বড় একটা ব্রিফকেস হাতে বিদেশী লোকটা গাড়ি থেকে নামল। তখন সময় সাড়ে ৫টা। শায়খ বলল, পেয়েছি। সবাই বলল, কী পেয়েছি। ও বলল সঙ্কেতটা পেয়েছি। সবাই বলল কী? ও বলল শোন G তে Grameen, H তে Hotel, ৫.৩০টা হলো সময়। তখন সবাই বলল, শায়খ You are a brilliant boy. আমরা তৎক্ষণাৎ ওসিকে মোবাইল করলাম। পুলিশ ওদের হাতেনাতে ধরল। এরপর আমরা জিনিসগুলো নিয়ে মুমুর বাড়িতে গেলাম। ওর আব্বা তা দেখে খুবই আনন্দিত হলেন। পরদিন সকালে অশেষ কৃতিত্বসম্পন্ন চিত্র ও কাহিনী যখন সংবাদপত্রে উঠল, তখন আমাদের মন আনন্দে ভরে উঠল। মুমুর আব্বা বললেন, আমার ছেলে কোন খারাপ বন্ধু পছন্দ করেনি। বাবা তোমাদের সবার আমাদের বাড়িতে শুক্রবার দাওয়াত। আমাদের তখন খুব আনন্দ হচ্ছে।

SHARE

Leave a Reply