Home জানার আছে অনেক কিছু ঝরনাধারা

ঝরনাধারা

হঠাৎ দেখা গেল এক জায়গায় মাটির বুক ফুঁড়ে আকাশকে হাতছানি দিচ্ছে জলধারা। পরক্ষণেই কিন্তু নেমে আসছে তার জন্মভূমিতে। আর তখন আমরা তার নামকরণ করলাম ঝরনা। দৃশ্য তো আশ্চর্য বটেই, ঝরনার ব্যাপারটাও কম আশ্চর্যের নয়। ঝরনা অনেক রকমের হয়। কাচের মতো ঝকঝকে, সুশীতল, সুপেয়। আবার অস্বচ্ছ তার পানির চেহারা, উষ্ণ প্রস্রবণ-ধারা, অপেয়। কখনো গরম কখনো বা অতি কাতর ঠাণ্ডার প্রকোপে। তবে গরম ঝরনাকে সাধারণত আমাদের দেশে ‘কুণ্ড’ বলা হয়ে থাকে।

বৃষ্টির যে জলধারা মাটিতে ঝরে পড়ে, তার কিছু অংশ উড়ে যায় বাষ্প হয়ে নতুন করে আবার বৃষ্টি হওয়ার জন্য। কিছু পানি গড়িয়ে যায়, সমৃদ্ধ করে খাল-বিল, ডোবা-নালা ও নদী। আর কিছু ক্রমাগত তলিয়ে যায় মাটির গভীরে। এ যে পরিমাণ পানি মাটির গভীরে আত্মগোপন করলো, মাটি কিন্তু তা কখনোই সবটা রাখে না। পানি গড়িয়ে যখন নিচে নামতে থাকে, তখন এক সময় তাকে বাধা দেয় কঠিন পাথরের স্তর। সেখানে পানি জমা হতে থাকে। কিন্তু কতক্ষণ? আরো যে পানি নেমে আসছে। ওই পানির তখন প্রয়োজন পড়ে সেই মাটির বাঁধন থেকে ছাড়া পাওয়ার। পাথরের স্তরের ওপর দিয়ে যেতে যেতে যেখানে একটি ফাটল পায়, সেখান দিয়ে তীব্র গতিতে সেই পানি বের হয়ে আসে। এটাই ঝরনা। কখনো মাটি থেকে উঠে যায় আকাশের পানে, কখনো শুকনো পাথরের পল্লবের ফাঁক দিয়ে দেখা দেয় উচ্চকিত হাসির মতো এই ঝরনা। তাই ঝরনা পাওয়া যায় পাথুরে দেশে, পাহাড়ের উপত্যকায় বা কদাচিৎ রুক্ষ বালুর ওপর।

ঝরনা অনেক সময় কিছু পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রণেও দেখা দিতে পারে। এর ইংরেজি নাম হলো ‘স্পা’ (Spa), একে সালফার স্প্রিংও (Sulphur Spring) বলা হয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এমন এক স্প’কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিরাট শহর বাথ  (Bath) এবং আঠারো শতকে এখানে বান ডেকেছিল শিল্প-সাহিত্যের।

সালফার স্প্রিং তৈরি হয় যখন মাটির তলায় বয়ে যেতে থাকে, তখন তার যাওয়ার পথে অনেক খনিজ পদার্থ; বিশেষ করে গন্ধক আহরণ করে। অনেক সময় ঝরনার পানি বহু রোগের প্রতিষেধক, কখনো বা বিষ। তবু ঝরনা প্রকৃতির বিচিত্র দানসম্ভারের এক আশ্চর্য বিস্ময়!

হ জে হুসাইন

SHARE

Leave a Reply