Home সায়েন্স ফিকশন প্রফেসর

প্রফেসর

(গত সংখ্যার পর)

‘না সে রকম কিছু নেই, তার সব কাজইতো গত কয়েক বছরে।’ বললেন ভিসি।
আর কথা বাড়ালেন না নীলা। ভিসিকে ধন্যবাদ দিয়ে বের হয়ে এলেন তার অফিস থেকে। গাড়িতে উঠে সোজা চললেন জাতীয় বিজ্ঞান পরিষদে। ঢুকলেন রেকর্ড উইংয়ে। খোঁজ নিলেন সময়ের সবচেয়ে আলেচিত বিজ্ঞানী প্রফেসর আজিম সম্পর্কে। রেকর্ডে দেখা গেল প্রফেসর আজিম সাত-আট বছরে হঠাৎ করেই শীর্ষ বিজ্ঞানী হিসেবে আবির্ভূত হন। এর আগে তার কোন গবেষণা কর্মের রেকর্ড নেই বিজ্ঞান পরিষদে। বের হয়ে গেলেন নীলা। চললেন পুলিশ স্টেশনে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে খুলে বললেন তার সন্দেহের কথা। সব শুনে পুলিশ অফিসার বললেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এতবড় একজন ব্যক্তিত্বের নামে তিনি মামলা নিতে পারবেন না। কোন প্রমাণ জোগাড় করতে পারলে তবেই মামলা নেবেন।
নীলা বললেন, ‘ঠিক আছে আমিও মামলা করতে চাই না। আমি এসেছি ডায়েরি করতে। পরবর্তীতে কোন প্রমাণ জোগাড় করতে পারলে তবেই মামলা করবো।’
এবার পুলিশ অফিসার রাজি হলেন। তবে শর্ত দিলেন এ ডায়েরির কথাও গোপন রাখতে হবে। কারণ এতে প্রফেসর আজিমের সম্মানহানি হতে পারে।
রাজি হলেন নীলা।

পরদিন সকাল। জাতীয় বিজ্ঞান পরিষদের কনফারেন্স রুমে প্রেসিডেন্টসহ সব বড় বড় কর্তা উপস্থিত। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও আছেন। নিউজ ডট কমের তরুণ রিপোর্টার নীলা সাবিহাও আছেন তাদের মধ্যে। প্রেসিডেন্টের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পর শুরু হল প্রফেসর আজিমের অভূতপুর্ব আবিষ্কার মহাজাগতিক প্রাণীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের কাজ। প্রফেসর আজিম তার কাজ শুরু করলেন। দেয়ালে বড় মনিটরে আটকে আছে সবার চোখ। কয়েকবার চেষ্টার পর একটি মহাজাগতিক সিগন্যাল ধরা পড়লো মনিটরে। অদ্ভুত ভাষায় দুই-তিনটি শব্দ লেখা। দশর্কদের মধ্যে হাততালি পড়ে গেল। সুপার কম্পিউটার নিকম্পের মাধ্যমে সেই ভাষাটা অনুবাদ করা হল। এবার মনিটরে লেখা উঠলো ‘স্বাগতম প্রফেসর আরেফিন।’
প্রফেসর আজিম কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন শুরু হল। তাড়াহুড়ো করে আরেকটি সিগন্যাল প্রেরণ করলেন প্রফেসর আজিম। আরেকটি মেসেজ এলো প্রতি-উত্তরে। নিকম্প সেটা অনুবাদ করতেই মনিটরে ভেসে এলো ‘মানবজাতিকে আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, প্রফেসর আরেফিন।’
মেরুদণ্ড সোজা হয়ে গেল নীলার, যা করার এখনই করতে হবে। দ্রুত উঠে রুমের বাইরে গেলেন। ফোন করলেন অফিসারকে। বললেন, ‘প্রফেসর আরেফিনকে হত্যার দায়ে এখনই প্রমাণসহ গ্রেফতার করা যাবে প্রফেসর আজিমকে।’ বলে আবার হল রুমে প্রবেশ করলেন নীলা। ঢুকে দেখলেন দর্শকদের উদ্দেশে কথা বলছেন প্রফেসর আজিম। ইতোমধ্যে মনিটর থেকে তার প্রোগ্রামটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, উপস্থিত ভদ্রমহোদয়গণ, সামান্য কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে মহাজাগতিক মেসেজের ভুল তথ্য আসছে। আসলে প্রায় দশ-বারো বছর আগে আমার সহকর্মী প্রফেসর আরেফিন মহাজাগতিক এই প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেছেন, তাই তারা এটাও প্রফেসর আরেফিনের সিগন্যাল মনে করেছে।’
চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলেন নীলা। প্রফেসর আজিমকে বললেন, ‘কিন্তু আপনি তো বলেছেন আপনার মস্তিষ্কের কোডিং করে এই যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। তাহলে তারা কিভাবে প্রফেসর আরেফিনের নাম বলবে?’
নীলার প্রশ্নে ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন প্রফেসর আজিম। কিছু বলতে পারলেন না। নীলা আবার বললেন, ‘আমরা জানতে চাই এই আবিষ্কারটি কি সত্যিই আপনার নাকি অন্য কারও?’
‘এই মেয়ে কী সব ফালতু কথা বলছো তুমি!’ চটে গেলেন প্রফেসর আজিম। ‘আমার নয় তো কার?’
‘না এটি আপনার আবিষ্কার নয়।’ এবার আরও চড়ে গেল নীলার গলা। প্রেসিডেন্টের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘মহামান্য স্যার, এই লোকটি আমাদের সবাইকে ধোঁকা দিচ্ছে। এই আবিষ্কারটি মূলত দশ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া বিজ্ঞানী প্রফেসর আরেফিনের। আমি নীলা সাবিহা, তার একমাত্র কন্যা। বিশ্বাস না হলে দেখুন এই প্রোগ্রামটি লগ ইন করার পাসওয়ার্ডটি আমার বাবা আমার নামেই দিয়ে ছিলেন। এবং আমি সন্দেহ করছি আমার বাবার নিখোঁজ হওয়ার জন্য প্রফেসর আজিমই দায়ী।’
বিস্ফোরিত চোখে নীলার দিকে তাকালেন প্রফেসর আজিম। যেন ভূত দেখছেন। প্রেসিডেন্ট একবার নীলার দিকে আর একবার প্রফেসর আজিমের দিকে তাকালেন।
চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট। প্রফেসর আজিমের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘প্রফেসর, এই মেয়েটি যা বলছে তা কি সত্যি?’
‘না স্যার, বিশ্বাস করুন একদম মিথ্যা কথা। সব ষড়যন্ত্র স্যার।’
‘আপনার প্রোগ্রামটি লগ ইন করার পাসওয়ার্ডটি আমাদের বলুন তো, তাহলে আমরা বুঝবো যে সেটা আপনার প্রোগ্রাম।’
‘আসলে স্যার… স্যার …’ কথা খুঁজে পেল না প্রফেসর আজিম।
প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘তার মানে এই মেয়েটি যা বলছে সব সত্যি!’
এ সময় মঞ্চের কাছে এগিয়ে এলেন পুলিশ অফিসার। প্রেসিডেন্টকে স্যালুট করে বললেন, ‘স্যার প্রফেসর আরেফিনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রফেসর আজিমকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যেই আমাদের কাছে একটি ডায়েরি করা হয়েছে।’ সাথে সাথে প্রফেসর আজিমকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট।
পরদিন দেশ-বিদেশের সব সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হলো প্রফেসর আজিম, তবে নায়ক নয় খলনায়ক হিসেবে। পুলিশ রিমান্ডে প্রফেসর আজিম স্বীকার করেছেন যে, প্রফেসর আরেফিনকে হত্যা করে তার মস্তিষ্ক কোডিং করেই মহাজাগতিক প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া প্রফেসর আরেফিনের মস্তিষ্কের কিছু সেল নিজের মস্তিষ্কে রিপ্লেসমেন্টও করেছেন, যার কারণেই তার হঠাৎ এতবড় বিজ্ঞানী হয়ে ওঠা।
খবরটা পেয়ে নিজের ডেস্কের ওপর ঝুঁকে পড়ে উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন নীলা। অভি এগিয়ে গেলেন সান্ত্বনা দিতে। ইশারায় তাকে থামিয়ে দিলেন নিউজ এডিটর।
(সমাপ্ত)

SHARE

3 COMMENTS

  1. দারুন !দারুন !এরকম গল্পই তো প্রিয় পত্রিকা কিশোর কন্ঠে চাই ।আর আমি কিশোর কন্ঠের এজেন্ট হতে চাই ।প্লিজ জানান ।

Leave a Reply